পড়শী পড়শীর আরশি শুভ হোক নবরূপা ‘পড়শী’র যাত্রা

শুভ হোক নবরূপা ‘পড়শী’র যাত্রা


সম্পাদক সাবির মজুমদার অনুরোধ জানালেন ‘পড়শী’র জন্যে লেখা শুরু করতে। দীর্ঘ ষোল বছর পরে আবার বেরুবে। শুনে খুশি হলাম। পড়শী’র প্রসঙ্গ মনে অনুরণণ তোলে। সুদূর অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোরনিয়া থেকে প্রকাশিত হতো। তিন হাজার ক্রোশ পাড়ি দিয়ে ডাকযোগে ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ডাকপিয়ন পৌঁছে দেবে ঘরের পোস্ট বক্সে। মোড়কের সাথে মিশে থাকতো দ্রাক্ষার আমেজ, বেদনার রং এবং খেজুরের তৃপ্তি। সবই পশ্চিম রাজ্যের। তড় সইতো না। উদগ্রীব হয়ে মোড়ক খুলতাম। মুদ্রিত পাতায় পাতায় জ্ঞানের মৃদু প্রবাহ। নতুনত্বের আহ্বান।

সাবির ভাই জানালেন এবারের পড়শী ঘরে ঘরে যাবে তড়িৎ গতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে। পড়শী হবে শুধু অনলাইন সাহিত্য ম্যাগাজিন। শুনে থমকে গেলাম। মনে মনে ব্যথা পেলাম। অবশ্যই আধুনিক একবিংশ শতাব্দীতে আমরা ক্রমে ক্রমে প্রযুক্তিকে আমাদের ঘরে প্রবেশ করতে দেবো আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজতর করে দিতে। প্রবেশ করতে দেবো রোবট চালিত ঝাড়ুদার। ঘর মেঝে সাফ করবে। প্রবেশ করতে দেবো হিসেব রক্ষাকারী রেফ্রিজারেটর। প্রতি সপ্তাহে মনে করিয়ে দেবে কি কি সব খাবার গ্লোসারি থেকে এনে শেলফে সাজিয়ে রাখবো আগামী সপ্তাহের তৃপ্তির জন্যে। অবশ্যই ডাকবো রোবট উবার গাড়ি চালককে। আমাকে দূরের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে। অবশ্যই চোখ রাখছি সজাগ মনের চতুর্থ অংশ আইফোনের স্ক্রীনে ইমেইল টেক্সট পড়া ও খবর জানার জন্যে। কিন্তু তাই বলে পড়শী’কে নত হতে হবে ছাপা কাগজের পরিচ্ছদ ঝেড়ে ফেলে বায়বীয় বৈদ্যুতিক প্লাটফর্মে উদিত হতে? প্রশ্ন রাখি নিজের মনে মাঝে।

২.
কেন কথা বলি? কেন গান করি? কেন কলম ধরি? কেন মেষের চামড়ায় বা শিলাখণ্ডে বা মাটির দেয়ালে নানা লিপি এঁকেছি? বৃষ্টি, ঝঞ্ঝা, বন্যা ও ভূমিকম্পে সে লেখা সেই জট সেই চিন্তা বিলীন হয়ে যাবে জেনেও।

কেন মানব সন্তানের কাছে মহান আল্লাহর প্রথম নির্দেশ এলো। লেখো। তুমি লেখো। তুমি লেখো কলম দিয়ে। যেই কলম তুমি ধরবে আঙুল দিয়ে। যে আঙুল তিনি গঠন করেছেন নিখুঁত পরিমাপে, বিশেষ স্থায়ী ও দেহ পেশীর নিপুণ বিন্যাসে। তাঁজা আপেল কাটতে গিয়ে ধারালো ছুড়িতে আমার তর্জনীর বেশ কিছু অংশ কেটে গিয়েছিলো। আমি শঙ্কিত হইনি। কিন্তু সার্জন হয়েছিলেন। তিনি জানালেন কাটা তর্জনীকে সফলতার সাথে সারিয়ে আনাই হলো শল্য চিকিৎসকের অনুপম দক্ষতা। আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করছেন একমাত্র তিনিই আঙুল সন্নিবেশিত করতে সক্ষম। সুতরাং তোমার আংগুল তোমার তর্জনী ক্ষুরধার, যখন তুমি ধরবে তোমার কলম মানব জাতির কল্যাণে।

কলমকে জাদুঘরে রেখে দেয়ার প্রক্রিয়া শুধু হয়ে গেছে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে। আইফোন মুখের সামনে ধরে ইমেইলে গিয়ে ইংরেজিতে কথা বললে, গড় গড় করে বলা সেই কথা, সাথে সাথে টেক্সট হয়ে স্ক্রীনে ভেসে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রতীকে চাপ দিয়ে অনুরোধ জানালে, গ্রামার ও বানান সব ঠিক করে দিচ্ছে। ভুল ভ্রান্তিহীন টেক্সট তর্জনী দিয়ে ‘পাঠাও’ টিপলেই, নিমিষে চলে যাচ্ছে। আগামী শতাব্দীতে মিডিয়া জগতে উজ্জ্বল প্রদীপ হতে হলে শুধু প্রয়োজন গলার স্বর, কথা বলার জন্যে জিহ্বা, এবং স্বর প্রবাহের জন্যে ওঠানামা করা দুটো ঠোঁট। প্রয়োজন নেই কাগজের। প্রয়োজন শুধু ব্যাটারী চালিত বিদ্যুতের। এবং আল্লাহ প্রদিত শব্দ তরঙ্গের প্রবাহ।

আমার ঘরে গত বার বছরে যতগুলো বই আছে, পুস্তিকা এবং ম্যাগাজিন আছে, সবই ডিজিটালে সংরক্ষিত। আমার ঘরে লাইব্রেরির আর দরকার নেই। বরং গত ষাট বছর ধরে সযত্নে সংগৃহীত ও রক্ষিত বইগুলোকে আবর্জনার ঝুলিতে ভরাট করে মাটি ভরতে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। অবশেষে লাইব্রেরি হতে পারে খেলার ঘর। বা শোয়ার ঘর।

৩.
সত্যিই কি বই হারিয়ে যাবে আধুনিক সভ্যতায় ক্রমবিকাশে? মানব জাতির জ্ঞান প্রবাহের ইতিহাসে ফিরে যেতে ইচ্ছা হল। কখন লিপির বিকাশ হলো সেই সত্য তথ্য এখনো অজানা। তবে ‘বিলিভ ইট অর নট’ এক তথ্যে জানাচ্ছে মানব জাতির প্রাপ্ত প্রথম লিখিত সংগীত ‘হুবিয়ান হোম নম্বর ৬’। ধারণা করা হয় খ্রিষ্ট্রপূর্ব ১৪০০ সালে মাটির ফলকে কিউনি ফর্ম লিপিতে ধারণ করা এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত সংগীত। অবশ্য আর কিছু লিপি আবিষ্কৃত হয়েছে যার বয়স দশ হাজার বছরের ওপরে।

৪.
কথা হলো কেন মানব সন্তান লেখার প্রয়াস করেছে বিস্মৃত আদিকাল হতে? মহাকাল হতে আদমকূল অপেক্ষা করেছে প্রতিটি আঁতুড় ঘরে উদগ্রীব প্রত্যাশায়। এবং শঙ্কায়। নবজাতক কি শ্রুত হবে। ওর স্বর কি ভেসে আসবে নবপরিসরে ঘোষণা দিয়ে নবজাতক এসেছে পৃথিবীতে তাঁর সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব বহন করে।

অধীর আদম কূল ওর স্বর শুনে। শুনে ওর কান্না। প্রথম কান্না। প্রার্থনা করে নবজাতকের আগামী যাত্রা শুভ হোক। ওর অবদান সভ্যতার ক্রমযাত্রায় শুভ হোক প্রভুর মহান মমতা ও পথ নির্দেশনায়। শত সহস্য বছর ধরে প্রতিটি জাতি প্রতিটি সভ্যতা প্রতিটি জন্মক্ষণে এই সহজাত প্রথা পালন করেছে। নবজাতকের প্রথম স্বরকে আমরা গণ্য করেছি কান্না হিসেবে। কোন কোন সভ্যতা গণ্য করেছে নবজাতকের উচ্চারিত স্বর হলো তাঁর আর্তনাদ। মায়ের পেটের স্বল্প পরিসরের স্নেহ হতে নাড়ী কেটে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আর্তনাদ। এবং বিশালতর বৃত্তে সৃষ্টিকর্তার অবিরল স্নেহশীলতায় প্রবাহ হতে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর আর্তনাদ। সত্যি কি?

৫.
আমার ধারণা নবজাতকের প্রথম স্বরের জাগরণ তাঁর আর্তনাদ নয়। বরং তাঁর জয়ের উচ্ছাস। তাঁর ঘোষণা। ‘আমি এসেছি তোমাদের কাছে নিজেকে উন্মোচিত করতে। আমাকে প্রকাশ করতে। আমার প্রদিত্ব বীজে তোমাদের পরিচর্যায় সহযাত্রায় আমার জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে’।

নবজাতক হয়তো আরো জানাতে চায়। ‘শুধু আমার নিজের প্রয়োজনে আমি জ্ঞান-চর্চা করতে অধীর নই। বরং আমার সম্মিলিত পরিবারের জন্য। আমার পরিধি ক্রমে বৃদ্ধি পাবে। আমার সমাজের জন্যে। আমার মিলে মিশে থাকা মিলিত গ্রামের প্রতিটি মানুষের জন্যে। আমার দেশের জন্যে। আমার জাতির জন্যে। আমার বিশ্ব গ্রামের প্রতিটি অধিবাসীর জন্যে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে’।

সত্যি কি নবজাতকের প্রথম উচ্চারিত স্বরে অতশত কথা বিবৃত হয়েছে? জানি না। কোন স্বর গবেষক আজ অবধি অর্থ নির্ণয় করতে পারেনি। কিন্তু নবজাতকের প্রথম স্বরের তরঙ্গ ধ্বনি একই স্বরে ও একই প্রবাহে বিন্যস্ত হয়েছে। হোক না জাপানে বা জাম্বিয়ায়।

৬.
মহাকাল হতে উচ্চারিত নবজাতকের স্বর ক্রম বিকশিত হলো। রূপান্তর এলো স্বরকে চেনার প্রয়াসে। অর্থবহ করতে। প্রতিটি সভ্যতায় বা ভূ অঞ্চলে ওদের স্বর, হাসি বা কান্নায় বা উচ্চারিত শব্দে, ক্রমে সেই সমাজের কাছে অর্থবহ হয়ে উঠলো। নান জনের বিকশিত স্বর এবং জিহ্বা দিয়ে উচ্চারিত স্বর। যুগপৎ কথা ও অনুভূতির মিশ্রণ ঘটিয়ে সৃষ্টি করতো ভাষা। উচ্চারিত আপন ভাষা। যে ভাষায় মায়ের সাথে কথা বলা যায়। যে ভাষায় বাবার কাছে আবদার করা যায়। যে ভাষায় বৃহত্তর সমাজের কাছে তাঁর প্রত্যাশা ব্যতিত করা যায়। সৃষ্টি হলো ভাষা। প্রতিটি গোষ্ঠির আপন আপন ভাষা। সেই ভাষা ব্যবহৃত হলো হাটে বাজারে কেনা বেচার প্রয়োজনে। সেই ভাষা গৃহীত হলো পাঠকেন্দ্রে শিক্ষকের কাছ হতে জ্ঞান আহরণের প্রয়াসে। সেই ভাষা ব্যবহৃত হলো মৌখিক কবিতা কবিতা আবৃত্তি করতে, সংগীত সাধনা করতে, এবং প্রেমিক প্রেমিকার কাছে ফুল দিয়ে প্রেম নিবেদনে।

৭.
অতীত বিবর্তনের যাত্রায় একটি সময়ে মানবকুলের উপলব্ধি এলো ওদের উচ্চারিত ভাষার কোন স্থায়িত্ব নেই। কিছু কিছু মানুষের স্মৃতিতে ওসব কথা ধরে রাখা যায় স্বল্পকালের জন্যে। ক্রমে স্মৃতি অপসৃত হয়। প্রয়াস এলো নিজ নিজ ভাষা সংরক্ষণের আগামী প্রজন্মের প্রগতির প্রবাহে। এলো ‘লিপি’। প্রথম স্তরে লিপি ছিল আঁকি উঁকি। সেই সব লিপি গ্রথিত হতো পাহাড়ে, পাথরে, মাটির দেয়ালে, মেষের শুকনো চামড়ায় পাতায়, শুকনো তালফলের পাতায়, প্যাপিরাসের পাতায়। শিল্পী নিজে আঁকিবুঁকি আঁকতেন। অনুসারীদের কাছে সেই আঁকিবুঁকি অর্থবহ করতেন। সমাজের জন্যে সেই আঁকি বুঁকি ক্রমে হয়ে উঠলো অর্থবহ লিপি।

৮.
প্রতিটি মানবের ধমনীতে গ্রথিত রয়েছে পর্যটনের নেশা। দেশ হতে দেশান্তরে যাও। বিশ্বময় ঘুরে বেড়াও। মানব জাতির কল্যাণে বিশ্বগ্রাম তাঁর সৃষ্টিকর্তা গঠিত করেছেন সেটা বিশ্ব চড়ে দেখ, পর্যালোচনা করতে অধ্যয়ন করে জ্ঞানী হও। পূর্ব আফ্রিকার নীল নদের উৎসরণ স্থান হতে ক্রমে ক্রমে মানব জাতি ছড়িয়ে পড়লো বিশ্বময় গত পঞ্চাশ হাজার বছর ধরে। ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক’ সেই পথ যাত্রা নিরিখ করেছে। আমি পুনরাবৃত্তি করবো না। অনুসন্ধিৎসু পাঠক নিজেই অনুধাবন করুন।

৯.
উদার পর্যটনের ফলে অবশেষে মানব জাতি পেলো কাগজ। জানলো কি করে কাগজ তৈরি করতে হয়। পেলো কালি। স্বল্পকালীন স্থায়িত্বে বিমোচিত কালি। এবং অবিমোচিত কালি। লেখার জন্যে আর প্রয়োজন নেই ধারালো ধাতব অস্ত্র। ছুড়ি, কাস্তে ও হাতল। বরং প্রয়োজন সরল সহজ বাঁশের কলম। কাঠের কলম। পাখির ডানার কলম। কাগজের পাতা একের পর এক সাজিয়ে রেখে গঠিত হলো বই। প্রথিত হলো বিশাল কিতাব।

অভয় পেলো মানব জাতি। ওরা নিজ নিজ লিপি নির্ধারণ করেছে নিজ নিজ ভাষার জন্যে। ওরা কাগজ কলম পেয়েছে বড় বড় লেখার জন্যে। ওরা গ্রন্থাগার পাচ্ছে বিশালকার গল্প সংরক্ষণের জন্যে। প্রতিটি সভ্যতা প্রতিটি জাতির মাঝে তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু হলো জ্ঞান অর্জনের এবং জ্ঞান সংরক্ষণের। লেখা হলো বড়ো বড় কিতাব। নথি। বই। সংরক্ষিত হলো। অধ্যয়নের স্পৃহা তৈরি হলো প্রতিটি উন্নয়নী সভ্যতার কেন্দ্রস্থলে। উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ গঠিত হলো প্রাচীন শহরগুলোয়। মধ্যপ্রাচ্যে স্বীকৃত হলো গাজা, ফেজ, বাগদাদ, সমরখন্দ, দামাস্কাস, কায়রো, আন্দালুসিয়া, কর্ডোভা, জ্ঞানের শহর হিসেবে। পূর্ব দেশে স্বীকৃত হলো তক্ষৎশীলা, নালন্দা ও অনুরাধাপুরা। চীন দেশে চাংগনে, লুই ইয়াংগ। আধুনিককালে এলো ইয়োরোপীয় সভ্যতার জ্ঞানবাহী শহরগুলো এবং শিক্ষালয়। ওরা উদ্ভাবন করলো ছাপা বই প্রকাশ করার প্রযুক্তি। প্রিন্টিং প্রেস এলো ষোড়শ শতাব্দীতে জার্মানীতে। নতুন জোয়ার এলো প্রকাশনা শিল্পে। দুনিয়া বদলে গেল। ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত বই ও ম্যাগাজিন ছিল মানবজাতির জ্ঞান অর্জনের স্বাভাবিক মাধ্যম।

১০.
হয়তো বা বছর তিরিশ বা পঁয়ত্রিশ হয়েছে নতুনতর প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে ঘিরে রেখেছে। আশির দশকে ইমেইলকে আমরা স্বাগত জানিয়েছিলাম চিন্তা ও ধারণাকে আদান প্রদানের বাহক হয়ে বিশ্বময়। পথ দেখিয়েছে ‘আমেরিকা অন লাইন’। পরে পরে এলো ইয়াহু, হটমেইল, আরো কত কি। সহজতর হয়েছিলো অধ্যয়নের পরিবেশ।

পরপরই এলো নতুন ধরনের প্রযুক্তি এবং সমাজে কথোপকথনের নতুনতর মাধ্যম। এলো ই-বুক ই-ম্যাগাজিন, অনলাইন দৈনিক পত্রিকা, অডিও বা শ্রুতিগল্প। এলো ফেসবুক। প্রথমে ছিল গসিপ আদান প্রদানের আধার। এখন হয়ে উঠেছে সাহিত্য-চর্চায় প্রধান প্লাটফর্ম। বর্তমান যুগের স্বীকৃত সাহিত্যিকগণ উঠতি লেখক-লেখিকা এখন অহরহ লিখছেন ফেসবুকে। নিমিষে পৌঁছে যাচ্ছে পঞ্চাশ হাজার বা তার বেশি পাঠকের কাছে লাইক নির্দেশনার অপেক্ষায়।

আমাদের অভ্যাস আধুনিক প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে। আমরা কি আমন্ত্রণ জানাবো নতুন প্রযুক্তিকে? যেমন করে সম্পাদক সাবির মজুমদার তার আদৃত ‘পড়শী’কে অনলাইনে তুলে দিয়েছেন। না ঝটকা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেবো? তিনি হয়তো নতি স্বীকার করেছেন আধুনিক প্রযুক্তির বাণিজ্যিক পরিবেশ বিবেচনা করে। বা তিনি হয়তো বিচক্ষণ দূরদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছেন আগামী শতকের বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশে ছড়িয়ে পড়া সৃজনশীল বাঙালি প্রজন্মের মাঝে বাংলা প্রীতি ও বাংলা সংস্কৃতির প্রভাব বিকশিত করতে।

১১.
আমি, ব্যক্তিগতভাবে, হালকা জ্ঞানের প্রয়োজন হলে আশ্রয় নিই আধুনিক প্রযুক্তির। ব্যবহার করি আই ফোন, আইপ্যাড এবং ল্যাপটপ। ই-বুক পড়ার জন্য কিন্ডল ব্যবহার এখনো শিখিনি। যদিও আমার সদ্য প্রকাশিত উপন্যাস ‘রীথমস অব রেসিজট্যান্স’ বিতরিত হচ্ছে পাঠকের কাছে বিশ্বময় কিন্ডলের মাধ্যমে।

এখনো প্রকাশিত বই আমার গভীর অধ্যয়নের সাথী। সকালে ডেস্কে বসে পড়ার জন্যে। রাতে ঘুমের এক ঘন্টা আগে। নতুন বইয়ের পাতা উল্টিয়ে ইংরেজি বা বাংলা হরফগুলোকে নিরিখ না করলে রাতে আমার ঘুম আসে না। সকালে আমার মনে তৃপ্তি রচিত হয় না। গেল আট দশক ধরে বই আমার সাথী থেকেছে। প্রত্যাশা করি পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আগামী কয়েক বছর বইকেই আমার সাথী রাখবেন। এবং প্রত্যাশা করি আমাদের প্রজন্মের বই অবহেলায় এবং গ্রন্থাগারকে জাদুঘরে প্রেরণ করবেন না। কলম ও কিতাবকে স্থায়ী রাখবেন।

আমার স্নায়ু-চিকিৎসক বলেছেন, আমাদের মস্তিষ্ক প্রথমে নির্ধারণ করে কি চিন্তা আমরা অন্যের কাছে প্রকাশ করবো। সেই চিন্তা প্রকাশ করার নির্দেশ পায় আমাদের দুই ঠোঁট এবং জিহ্বা এবং একই সময়ে নির্দেশ পায় হাতের আংগুলের স্নায়ুগুলো। সেই নির্দেশিত চিন্তা মুখে উচ্চারিত হওয়ার আগেই আংগুল সচলিত হয়ে ওঠে স্নায়ুর নির্দেশে কাগজে লেখার জন্যে। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক নির্দেশনা ধরে রাখুক আমার কথা বলার শক্তি এবং আমার হাতে লেখার প্রবণতা।

সেই প্রত্যাশায় আমন্ত্রণ জানাই নবরুপা পড়শী’কে। গুটিয়ে আনুক বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা শত সহস্র লক্ষ্য বাঙালি পাঠককে পড়শী’র ছায়াতলে প্রতি মাসে। প্রতি বছরে।
শুভ হোক পড়শী’র যাত্রা।


ড: আবদুন্ নূর | বেথেস্ডা, ম্যারিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নীতি প্রনয়ন ও প্রয়োগ পরিকষ্পক। চল্লিশ বছর ওয়াশিংডন ডিসিস্থ্ বিশ্বব্যাংকে কাজ করেছেন।


Previous Post
Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *