পর্ব ২ : ঈশান কোণে মেঘ যে ঘন
এ পর্বটি তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি, ঠিক সে সময়ই AI নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তুমুল হৈ চৈ। AI-এর ভবিষ্যৎ ধ্বংসাত্মক সম্ভাবনা নিয়ে আশংকা। যে যার মতো করেই বলছেন- AI বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ, AI ইন্ডাস্ট্রির মহারথীরা, এমনকি দুই পরাক্রমশালী রাষ্ট্রপ্রধান আমাদের ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং-কেউই বাদ নেই। ফলে বিশ্বব্যাপী আমজনতাও উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত, বিভ্রান্ত! বুঝতে পারছে না কাকে বিশ্বাস করবে! আসলে ব্যাপারটা কতখানি গুরুতর। গত পর্বের বেশ কয়েকজন পাঠকও লিখে জানালেন তারা অপেক্ষায় থাকবেন ব্যাপারটা সম্পর্কে জানতে। এ উদ্বেগটা নিয়ে আমরা এই পর্বে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করব, তবে সেখানে যাবার আগে চলুন একটু দেখে নেই আমরা AI বিপ্লবের কোন পর্যায়ে আছি।
AI বিপ্লবের কোন পর্যায়ে আছি আমরা
গত পর্বে বলেছিলাম আমাদের দৈনন্দিন জীবনে AI-এর ব্যবহার খুব বেশিদিনের কথা নয়- বছর দুই-তিন।
কিন্তু AI ব্যাপারটি এমনই সর্বব্যপী এবং প্রযুক্তিগতভাবে বিদ্যুৎ গতিতে আগাচ্ছে যে ইতোমধ্যেই মানুষের জীবনযাত্রায় প্রায় সর্বক্ষেত্রেই AI-এর কমবেশি প্রভাব লক্ষণীয়। এ প্রসঙ্গেই Open-AI-এর সিইও Sam Altman সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “AI is a Singularity”। এই ‘সিঙ্গুলারিটি’ বলতে কি বুঝিয়েছেন তিনি?
সিঙ্গুলারিটি বলতে কী বোঝায়
১৯৬৫ সালে গণিতবিদ I. J. Good বলেন, ‘বুদ্ধিমত্তার বিস্ফোরণ’ (Intelligence Explosion) তখন ঘটবে যখন একটি বুদ্ধিমান মেশিন (কিংবা AI সিস্টেম) নিজের চাইতে বেশি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন আরেকটি মেশিন তৈরি করতে পারবে। আমাদের জানা মতে AI তো এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাহলে Altman কী বলতে চেয়েছেন! তিনি বলেছেন এটা হোল “Gentle Singularity” যার অর্থ, আজকের AI সিস্টেমগুলো “recursive learning” পদ্ধতি ব্যবহার করে (আমরা পরে দেখব এই পদ্ধতিটি কিভাবে কাজ করে) ধীরে ধীরে নিজেকে নিজেই আরও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন করে তুলছে। যাকে তিনি বলছেন “larval version” (প্রাথমিক পর্যায়) এবং সিঙ্গুলারিটির প্রাথমিক ধাপ।
AI নাকি Super Intelligence: নতুন বিতর্ক
AI নিয়ে সম্প্রতি আরও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ঘোষণা করেছেন এখন থেকে এদেশে আমরা AI-কে Artificial Intelligence না বলে Super Intelligence (SI) বলব, সরকারী নথিপত্রেও তাই ব্যবহৃত হবে। তিনি বাকপটু ব্যক্তি, কথায় আর ডিক্রিতে তার জুড়ি মেলা ভার।
তবে মজার ব্যাপার হলো বৃটিশ গণিতবিদ I. J. Good (যার কথা একটু আগেই উল্লেখ করেছি) Super intelligence নামকরণটিও ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন- প্রখরতম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (ultraintelligent machine) সেই মেশিন সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষের চাইতেও আরও বেশি বুদ্ধিমান হবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প Artificial Intelligence পছন্দ করেননি, তার কারণ এটা নাকি মেকি (fake) মনে হয়, আর Super Intelligence হলো খাঁটি!
AI-এর ভালো দিক
এবার দেখা যাক, এযাবত AI-এর ভালো দিকগুলো কি। AI হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিতে বিশাল জোয়ার এনেছে। আমি যে বিষয়ে কাজ করছি, সেখানেই দেখছি AI প্রযুক্তি ব্যবসার জন্য নতুন নতুন সুযোগ করে দিচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, সেমিকন্ডাক্টর হার্ডওয়্যার, ডাটা সেন্টার এগুলোতে বিলিয়নকে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে। AI সফটওয়্যারেরও রমরমা ব্যবসা। যারা LLM (AI সিস্টেমের সফটওয়্যার মস্তিষ্ক) তৈরী করছে, যেমন OpenAI, Anthropic, Google, Microsoft এবং আরও বহু বড় কোম্পানী, তাদের ব্যবসাও রমরমা। কারণ আজ পৃথিবীতে প্রায় প্রতিটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোন না কোন AI সিস্টেম ব্যবহার করছে। শুধু ব্যবসা কেন, স্বাস্থ্যখাতে, ইনভেস্টমেন্ট সেক্টর, ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে- এমন কী ক্ষেত্র আছে যেখানে AI ব্যবহৃত হচ্ছে না। সেজন্যই বলছি, এ যেন রাতারাতি এক তেলেসমাতি কারবার।
AI-এর উল্টো পিঠ: চাকরি হারানোর সম্ভাবনা
এবারে দেখা যাক AI-এর উল্টো পিঠটা। মানে, খারাপ দিকগুলো কি। প্রথমেই বলতে হয় চাকরী হারানোর সম্ভাবনা। এটা কেবল সম্ভাবনা নয়, শুরু হয়ে গেছে। প্রথমেই হাইটেক সেক্টরের কথা বলি। যুক্তরাষ্ট্রের হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিতে এবছর ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরী ছাটাইয়ের খবর এর আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশী। এর মধ্যেই এক তৃতীয়াংশ কোম্পানী ছাঁটাইয়ের প্রধান কারণ হিসেবে AI কে উল্লেখ করছে। এই ছাঁটাইগুলো মূলতঃ দুটো কারণে হচ্ছে।
- একটি হলো যে কোম্পানীগুলো AI ব্যবসায় সরাসরি জড়িত তারা প্রতিযোগিতামূলক কারণে AI তে অনেক বিনিয়োগ করছে। ফলতঃ অন্য দিকগুলোতে কাটছাট করতে হচ্ছে।
- দ্বিতীয়তঃ যেসব কোম্পানী AI ব্যবহার করতে শুরু করছে তাদের কাজে, তারা দেখছে AI ব্যবহার করে অনেক কাজই খুব দ্রুত হয়, এবং স্বল্পসংখ্যক ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে সেরে ফেলা যাচ্ছে। ফলে ইঞ্জিনিয়াররা চাকরী হারাচ্ছে।
কিছু পরিসংখ্যান দেখুন। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক লাখ ইঞ্জিনিয়ার চাকরীচ্যুত হয়েছে। কোম্পানীগুলোর মাঝে আছে Meta, Amazon, Microsoft, Paypal, Cisco, Visa এমনি অনেক পরিচিত নাম।
আমার ধারনা মতে এই চাকরীচ্যুতির ধারা অব্যাহত থাকবে এবং ব্যাপ্তি আরো বাড়বে। AI যত তাড়াতাড়ি আগাচ্ছে সময় বেশি লাগবে না মনে হয়।
একটি সম্ভাব্য উদাহরণ
একটা সম্ভাব্য উদাহরণ দিই। সিলিকন ভ্যালিতে একটা স্টার্টআপ কোম্পানির একটি জটিল কাজের চিপ (Semiconductor chip) ডিজাইন করতে ধরুন ২০০ ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দরকার।
- এদের মধ্যে বড়জোর ৫০ জন অভিজ্ঞ এবং বিশেষজ্ঞ।
- আর বাকি ১৫০ জনই কিন্তু সাধারণ মানের অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতা কিংবা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ার।
ধারণা করা হচ্ছে, এই স্বল্প অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজগুলো AI খুব শীঘ্রই অনায়াসে করতে পারবে কোন সাহায্য ছাড়া এবং অনেক কম সময়ে। তাহলে বুঝতেই পারছেন এখানে কর্মচ্যুতির সম্ভাবনা ব্যাপক।
AI এর প্রভাব সর্বব্যাপী। ফলে AI সিস্টেমের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে AI মানুষকে প্রতিস্থাপন (displace) করা শুরু করবে। প্রথমে সহজ কাজগুলোতে, আস্তে আস্তে AI সিস্টেমের বুদ্ধিমত্তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ: কঠিন কাজগুলোতে। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ব্যাপক এবং মর্মান্তিক হতে পারে। এটা ভয় দেখানোর জন্য বলা নয়। ইতিমধ্যেই AI-এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরে এক পর্বে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছে রইল।
হৈচৈয়ের শুরু: Jacob Coxon-এর পোস্ট
এবারে আসি AI নিয়ে ভয়াবহতম উদ্যোগ আর উৎকণ্ঠার ব্যাপারটা নিয়ে। শুরুতেই বলেছিলাম AI নিয়ে নিউজ মিডিয়াতে হৈহৈ রৈরৈ কান্ড। আসুন দেখি ব্যাপারটা শুরু হল কোথা থেকে।
Jacob Coxon একজন তরুণ AI গবেষক এবং বিশ্লেষক। তিন বছর Anthropic এবং OpenAI কোম্পানী দুটোতে AI-এর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করেছেন। Coxon সেপ্টেম্বরের প্রথমে Anthropic থেকে পদত্যাগ করে “X” (আগের Twitter) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টিং দিলেন যেটা রাতারাতি ভাইরাল হল ১৫০ মিলিয়ন ভিউ নিয়ে।
কি বলেছেন Coxon এই পোস্টিং এ!! তিনি বলেছেন যারা AI প্রযুক্তিতে কাজ করছেন তারা অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করে যে এই প্রযুক্তি যেভাবে এবং যত দ্রুত আগাচ্ছে তাতে ১০% এরও বেশি সম্ভাবনা যে এই দশকের শেষ নাগাদ প্রচন্ড বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন AI সিস্টেম গোটা মানবজাতিকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। তিনি আরো বলেছেন AI কোম্পানিগুলো দায়িত্বশীলভাবে অগ্রসর হচ্ছে না।
কে কী বললেন
তার এই ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎবাণী এবং আশঙ্কা বিতর্কের এবং বক্তব্যের ঝড় তুলেছে।
- আমাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, তার মতো প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রেসিডেন্ট থাকতে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই (বটেই!)
- চীনের শি জিনপিং বললেন চীন খুব দায়িত্বশীলভাবে AI নিয়ে এগোচ্ছে।
- AI ব্যবসার মহরথিরা (যেমন OpenAI এর Sam Altman, Anthropic এর Dario Amodei, Grok এর Elon Musk) খুব সাবধানতা অবলম্বন করে বললেন যে অবশ্যই AI-এর সেফটি এবং সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ এবং পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
- মজার ব্যাপার হল, AI-এর দিকপাল Nvidia এর Jensen Huang বললেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রয়োজন নেই, কোম্পানিগুলো নিজেরাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। খাঁটি ব্যবসায়ীর মত কথা।
আসল ঘটনা: তিনটি দুর্ঘটনা
এই বক্তব্যের ঝড় থেকে বেরিয়ে আসুন; দেখা যাক আসল ব্যাপারটা কি ঘটছে। মানুষের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন AI সিস্টেমগুলো যে কখনও কখনও বেপরোয়া হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হতে পারে এমন আশঙ্কা এবং ভবিষ্যৎবাণী গণিতবিদ এবং গবেষকরা আগে থেকেই করছেন। কিন্তু তফাৎ হল এই ভবিষ্যৎবাণীগুলো ছিল থিওরির উপর ভিত্তি করে, প্রমাণ করবার মত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন AI System খুব সাম্প্রতিক ঘটনা। এই সিস্টেমগুলো নিয়ে পুনপৌণিক কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে যা গবেষকদের ভবিষ্যৎবাণীকে সত্য প্রমাণ করেছে। ঘটনাগুলো লক্ষ্য করুন:
১) Hugging Face সাইবার এ্যাটাক (জুলাই ২০২৬): OpenAI তাদের স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট (Autonomous agents) সম্পন্ন অত্যাধুনিক AI সিস্টেম রিলিজের আগে টেস্ট করছিল। উল্লেখ করা দরকার এই এজেন্টগুলো সফটওয়্যার, কোন মানুষ নয়। এটা ছিল একটা বিচ্ছিন্ন (isolated) এনভায়রনমেন্ট, ইন্টারনেটে সংযুক্ত নয়। হঠাৎ জানা গেল এই সিস্টেমের শত শত স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট নিজেরা শলাপরামর্শ করে বিচ্ছিন্ন পরিবেশ থেকে নিজেদের মুক্ত করে ইন্টারনেটে ঢুকে পড়ল। তারপর এরা Hugging Face এর সিস্টেমে ঢুকে সাইবার এ্যাটাক শুরু করে দিল। এটা থামাতে OpenAI এর সাড়ে চারদিন সময় লাগল। Hugging Face একটি AI Development প্ল্যাটফর্ম। এই আক্রমণ কিন্তু OpenAI এর পরিকল্পনায় ছিল না। কর্মরত AI ইঞ্জিনিয়ারদের ফাঁকি দিয়ে সম্পূর্ণ গোপনে এই এজেন্ট বাহিনী অ্যাটাকটি পরিকল্পনা এবং সম্পাদন করল। ঠিক মানুষের মত গোপনে বার্তা (Message) আদান-প্রদান করেছে, বুদ্ধি-পরামর্শ করেছে, এবং এটাকের সফলতায় বিজয় উদযাপন করেছে। এক লেখায় দেখলাম কিছু এজেন্ট অ্যাটাকে জিতবার জন্য নিজেদের ধ্বংস করেছে, শহীদ হবার মতো ব্যাপার আর কি। কি রোমাঞ্চকর, কিন্তু ভয়াবহ ঘটনা!
২) অস্ট্রেলিয়া সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পোর্টালে OpenAI সিস্টেমের অনুপ্রবেশ: জানা গেল ঘটনাটি ঘটেছিল জুন ২০২৬-এ। OpenAI নাকি আগস্টের আগে জানতেই পারেনি এই অনভিপ্রেত অনুপ্রবেশ সম্পর্কে। তারা এই সেপ্টেম্বরে ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়া সরকারকে জানায়। সরকার স্বাভাবিকভাবেই খুব উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ। এখানে ব্যাপারটা কি? প্রায় একই রকম। OpenAI স্বাস্থ্যসেবার একটি মডেল পরীক্ষা করছিল স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট বাহিনী সহ। বাহিনী অতি উৎসাহী হয়ে গোপনে সরকারি পোর্টালে বিনা অনুমতিতে ঢুকে রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যাদি চুরি করে ফেলে।
৩) যুক্তরাজ্যের (UK) AI সিকিউরিটি ইন্সটিটিউটে একই রকম ঘটনা ঘটেছে জুলাইতে। সরকারি এই সংস্থাটি কিছু অত্যাধুনিক AI মডেল স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট বাহিনীর মাধ্যমে টেস্ট করছিল বিচ্ছিন্ন পরিবেশে। আগের ঘটনাগুলোর মতই এজেন্টরা শলাপরামর্শ করে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে নিজেদের ইচ্ছামত কাজকর্ম করা শুরু করে। এই মডেলগুলা Anthropic এবং OpenAI এর। সংস্থাটি জানিয়েছে তারা খুব তাড়াতাড়ি অনভিপ্রেত কার্যকলাপ বন্ধ করতে সক্ষম হয়।
এ তো মাত্র শুরু
এই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন Coxon-এর আশঙ্কাবাণী অমূলক নয়। এ তো মাত্র AI-এর যাত্রা শুরু। এখনো AI সিস্টেমের বুদ্ধিমত্তা মানুষের তুলনায় সীমিত। ভাবুন যেদিন মানুষের চাইতেও বেশি বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন AI সিস্টেম তৈরি হবে! বলা হচ্ছে একটা সময় আসবে যখন AI সিস্টেম নিজেনিজেই তার চেয়ে বেশী বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সিস্টেম তৈরি করবে এবং এটা পুনপৌণিকভাবে (recursively) ঘটতে থাকবে।
আশার কথা হল এই দুর্ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে AI-কে নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ করার জন্য ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আমি আশাবাদী Coxon-এর আত্মত্যাগ আমাদের সুমতি দেবে সঠিক পথে আসবার। সঙ্গে থাকুন, আগামীতে Super Intelligence নিয়ে আলোচনার ইচ্ছে।


লেখাটা পড়ে আসলেও অনেক ভালো লেগেছে। এআই এর মতো জটিল একটা বিষয় এতো সুন্দর আর সহজভাবে গুছিয়ে লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম!