বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা, সংঘর্ষ, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের খবর জনমনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। এসব ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, অভিযান, গ্রেপ্তার ও শাস্তির প্রশ্ন সামনে আসে। অপরাধ সংঘটিত হলে আইন প্রয়োগ এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু কিশোর গ্যাংয়ের মতো জটিল সামাজিক সমস্যাকে যদি আমরা শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখি, তাহলে সমস্যাটির গভীরতর কারণগুলো আমাদের দৃষ্টির বাইরে থেকে যাবে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ শুধু অপরাধ সংঘটনের পর প্রতিক্রিয়া দেখানো নয়; অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই তা কমানোও জননিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই আমাদের প্রাথমিক (primary) এবং মাধ্যমিক (secondary) অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে— পরিবার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা ও কমিউনিটি, স্কুল ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বৃহত্তর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত।
কিশোর গ্যাংকে শুধু ‘অপরাধী কিশোর’ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না
কোনো কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়লে প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় তাকে ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা। কিন্তু অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একজন কিশোরের অপরাধমূলক আচরণকে শুধু তার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। পরিবার, বন্ধু, স্কুল, neighbourhood, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক পরিবেশ এবং অপরাধ সংঘটনের সুযোগ—এসব বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
কৈশোর এমন একটি সময় যখন একজন ব্যক্তি নিজের পরিচয়, সামাজিক অবস্থান এবং অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের অর্থ খুঁজে নেয়। পরিবার ও স্কুলের বাইরে কোনো গোষ্ঠী যদি তাকে বন্ধুত্ব, মর্যাদা, নিরাপত্তা বা belonging-এর অনুভূতি দিতে পারে, তাহলে সেই গোষ্ঠীর প্রভাব শক্তিশালী হতে পারে। গ্যাংয়ের ক্ষেত্রে এই সামাজিক বন্ধন কখনো কখনো অপরাধমূলক আচরণকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।
এর অর্থ এই নয় যে অপরাধকে ক্ষমা করতে হবে। বরং এর অর্থ হলো—অপরাধ প্রতিরোধ করতে হলে কিশোরদের জন্য অপরাধমূলক গোষ্ঠীর বিকল্প হিসেবে ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক ও সুযোগ তৈরি করতে হবে।
জননিরাপত্তার প্রথম স্তর: পরিবার ও কমিউনিটি
অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে প্রাথমিক স্তর হলো পরিবার। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, স্কুলে তার উপস্থিতি কেমন, আচরণে কী পরিবর্তন হচ্ছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরিবারকে শুধু দায়ী করলেই হবে না; পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দিতে হবে।
অভিভাবকদের জন্য parenting support, digital literacy, conflict resolution এবং কিশোরদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন জগতের সঙ্গে কিশোরদের সম্পর্ক এখন পরিবার ও সমাজের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।
এর পাশাপাশি কমিউনিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি নিরাপদ neighbourhood এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারে যেখানে কিশোররা খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা, mentorship এবং দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে youth clubs, sports programmes, community centres এবং after-school activities অপরাধ প্রতিরোধের কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। অর্থাৎ জননিরাপত্তা শুরু হয় পুলিশের কাছ থেকে নয়; অনেক ক্ষেত্রেই এটি শুরু হয় পরিবার ও কমিউনিটি থেকে।
প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক প্রতিরোধকে আলাদা করে দেখতে হবে
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের অপরাধ প্রতিরোধের দুটি স্তরকে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রাথমিক প্রতিরোধ (primary prevention) হলো এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাতে অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই তা কমানো যায়। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারকে সহায়তা, স্কুলে ইতিবাচক সামাজিকীকরণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপদ public space, শিক্ষা এবং কর্মমুখী দক্ষতার সুযোগ তৈরি করা।
অন্যদিকে মাধ্যমিক প্রতিরোধ (secondary prevention) মূলত ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের নিয়ে। যারা স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে, সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হচ্ছে, মাদক বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ছে, অথবা অপরাধপ্রবণ পরিবেশে বসবাস করছে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনতে হবে। এখানে counselling, mentoring, family intervention, educational support এবং community-based programmes গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই ব্যবস্থাগুলোর উদ্দেশ্য কিশোরদের ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা নয়; বরং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই ঝুঁকি কমানো।
পুলিশের ভূমিকা: প্রতিক্রিয়া নয়, প্রতিরোধও
কিশোর গ্যাং মোকাবেলায় পুলিশের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আধুনিক জননিরাপত্তার ধারণায় পুলিশিং শুধু অপরাধ সংঘটনের পর অভিযান পরিচালনা বা গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পুলিশকে crime prevention-এর অংশ হিসেবেও কাজ করতে হয়।
কোন এলাকায় কোন ধরনের অপরাধ বেশি হচ্ছে, কখন হচ্ছে, কারা ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কোন স্থানগুলোতে অপরাধের সুযোগ বেশি এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে policing পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। অপরাধের ‘hot spot’ শনাক্ত করে সেখানে প্রয়োজনীয় নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ এবং আস্থা বাড়ানো জরুরি।
কারণ একটি কমিউনিটির মানুষ যদি পুলিশের ওপর আস্থা রাখেন, তাহলে তারা অপরাধের তথ্য, স্থানীয় বিরোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশকে জানাতে বেশি আগ্রহী হতে পারেন। তাই community policing এবং accountable policing জননিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে পুলিশি কার্যক্রম অবশ্যই আইনসম্মত, পেশাদার এবং মানবাধিকারসম্মত হতে হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের সময় তাদের বয়স ও বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
কিশোর অপরাধ এবং জবাবদিহিতা
একজন শিশু বা কিশোর অপরাধে জড়ালে তার জবাবদিহি থাকবে না – এমন নয়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে justice system-এর উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া হতে পারে না। তাদের সংশোধন, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃএকীভূত হওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের Children Act 2013 শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিচারব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার কাঠামোও শিশুদের ক্ষেত্রে diversion, বিকল্প ব্যবস্থা এবং সমাজে পুনঃএকীভূতকরণের ওপর গুরুত্ব দেয়। তাই উপযুক্ত ক্ষেত্রে কিশোরদের সরাসরি আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার গভীরে না নিয়ে counselling, family intervention, community-based programmes এবং অন্যান্য diversion ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।
অবশ্যই গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু শিশুর অপরাধের প্রতিক্রিয়া এমন হওয়া উচিত নয়, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও গভীরভাবে অপরাধমূলক পরিবেশের দিকে ঠেলে দেয়।
Rehabilitation মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো নয়
পুনর্বাসন নিয়ে আমাদের ধারণাতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। কোনো কিশোরকে একটি সংশোধন বা উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠিয়ে কিছুদিন পর আবার আগের পরিবেশে ফিরিয়ে দিলেই rehabilitation সম্পন্ন হয় নাI একজন কিশোর কোথায় ফিরবে, পরিবার তাকে কীভাবে গ্রহণ করবে, সে আবার স্কুলে যেতে পারবে কি না, তার কোনো vocational skill তৈরি হয়েছে কি না, সে কীভাবে ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করবে— এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
এখানে aftercare বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়ার পরও কিছু সময় ধরে পরিবার, community workers, social services এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষা বা কর্মসংস্থান সহায়তার সঙ্গে কিশোরকে যুক্ত রাখা দরকার। অন্যথায় পুনর্বাসন একটি স্বল্পমেয়াদি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হবে, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হবে না।
তদন্ত ও বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু prevention নয়, অপরাধ সংঘটিত হলে কার্যকর justice system-ও প্রয়োজন। তদন্তের মান, evidence collection, forensic capability, digital evidence এবং prosecution-এর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য তদন্ত না হলে গ্রেপ্তার বা কঠোর আইন একা কার্যকর ফল দিতে পারে না। একইভাবে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয়ের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সুতরাং জননিরাপত্তার একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামোয় prevention, investigation, adjudication এবং rehabilitation— চারটি স্তরকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
সমাধানটি কোথায়?
কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যার কোনো একক সমাধান নেই। পুলিশ দিয়ে এটি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়; আবার শুধু পরিবার বা স্কুলের ওপর দায়িত্ব দিয়েও সম্ভব নয়। আমাদের প্রয়োজন একটি whole-of-society approach—যেখানে পরিবার, স্কুল, কমিউনিটি, স্থানীয় সরকার, সামাজিক সেবা, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা এবং নাগরিক সমাজ পরস্পরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এই ব্যবস্থাকে অন্তত তিনটি স্তরে দেখা যেতে পারে।
প্রথমত, prevention—অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই পরিবার, স্কুল ও কমিউনিটির মাধ্যমে তা কমানো।
দ্বিতীয়ত, early intervention—ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের দ্রুত শনাক্ত করে counselling, mentoring, শিক্ষা এবং community support-এর সঙ্গে যুক্ত করা।
তৃতীয়ত, justice and reintegration—অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের ক্ষেত্রে কার্যকর তদন্ত, ন্যায়সংগত বিচার, প্রয়োজনীয় diversion এবং দীর্ঘমেয়াদি rehabilitation এবং aftercare নিশ্চিত করা।
জননিরাপত্তা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়
কিশোর গ্যাং নিয়ে আমাদের আলোচনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি সম্ভবত এখানেই প্রয়োজন। জননিরাপত্তা মানে শুধু রাস্তায় পুলিশ থাকা নয়। জননিরাপত্তা মানে এমন একটি সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা যেখানে একজন কিশোরের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে এবং সে ইতিবাচক ভবিষ্যতের সুযোগ পায়। বর্তমান বাস্তবতায় তাই আমাদের প্রচেষ্টা হতে হবে পরিবার থেকে কমিউনিটি, কমিউনিটি থেকে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং সেখান থেকে বৃহত্তর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক— দুই ধরনের prevention-কে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
অপরাধ সংঘটিত হলে অবশ্যই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু তার পাশাপাশি আমাদের দেখতে হবে কেন একজন কিশোর অপরাধের দিকে যাচ্ছে, কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠান তাকে সেখানে ঠেলে দিচ্ছে বা তাকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে, এবং কীভাবে তাকে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
কিশোর গ্যাং তাই শুধু একটি আইনশৃঙ্খলা সমস্যা নয়। এটি একই সঙ্গে জননিরাপত্তা, সামাজিকীকরণ, পরিবার, শিক্ষা, কমিউনিটি এবং বিচারব্যবস্থার প্রশ্ন।আমরা যদি শুধু অপরাধের পর প্রতিক্রিয়া জানাই, তাহলে সমস্যার একটি অংশ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সমাজ গড়তে হলে অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই কাজ করতে হবে। সেই কাজ শুরু হতে পারে পরিবার থেকে, বিস্তৃত হতে পারে কমিউনিটিতে এবং কার্যকর হতে পারে রাষ্ট্রীয় নীতি ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে টেকসই পথ তাই শুধু আরও কঠোর হওয়া নয়; বরং আরও আগে, আরও সমন্বিতভাবে এবং আরও দায়িত্বশীলভাবে প্রতিরোধ করা।


খুবই দরকারী একটা টপিক নিয়ে লিখছেন। আজকাল পাড়ায় পাড়ায় যে অবস্থা, তাতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া উচিত।