তুমি আমার জীবনের প্রথমেও ছিলে না
শেষেও নেই,
শুধু মাঝখানে কয়েকটি বছর
জীবনটাকে তোলপাড় করে দিয়ে গেলে।
যেমন হেমন্তের শেষে কোনো এক বিকেলে
নদীর বুক থেকে উঠে আসে কুয়াশা,
তারপর ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলে
চেনা পথ, গাছের ছায়া,
ফিরে যাওয়ার সমস্ত ইশারা।
তুমি চলে গেলে কিন্তু তোমার চলে যাওয়া
শুধু একটি মানুষের চলে যাওয়া ছিল না,
তার সঙ্গে চলে গেল
আমার কিছু অপ্রকাশিত সকাল,
কিছু নির্জন দুপুর,
আর সন্ধ্যার আকাশে জমে থাকা
অসংখ্য নীল পাখির ডাক।
এখনো কখনো ঘাসের ওপর শিশির নামলে
মনে হয়, তুমি বুঝি এসেছিলে এখানে,
কোনো এক অন্ধকারে পাখির মতো
নিঃশব্দে ছুঁয়ে গিয়েছিলে আমার ঘুমন্ত পৃথিবী।
কত বছর কেটে গেছে!
শহরের বাতিগুলো জ্বলে, নিভে যায়,
মানুষেরা ঘরে ফেরে,
নদী তার পুরোনো স্রোতে বয়ে চলে।
শুধু আমার ভেতরে একটি পথ আজও শেষ হয়নি।
সেখানে সন্ধ্যা নামে ধীরে,
একটি দোয়েল ডানা গুটিয়ে বসে থাকে,
আর দূরের কোনো অচেনা মাঠে একটি শব্দ বাতাসে ভেসে এসে আবার হারিয়ে যায়।
তুমি আমার প্রথম নও, শেষও নও
তবু জীবনের যে অল্প কয়েকটি বছর
তোমার ছায়ায় দাঁড়িয়ে
আমি নিজেকে চিনেছিলাম,
সেই বছরগুলোর কাছে
আজও আমার নীরব ঋণ রয়ে গেছে।
তুমি নেই,
কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত বিদায়ের পরেও
কিছু মানুষ থেকে যায়,
যেমন রাতের আকাশে থেকে যায়
একটি নিভে যাওয়া নক্ষত্রের আলো।

