একবার, ১৮৮৮ সালে, ভাই লুডভিগের মৃত্যুর পর এক ফরাসি পত্রিকা ভুল করে আলফ্রেড নোবেলেরই মৃত্যুসংবাদ ছেপেছিল, শিরোনামে তাঁকে ডাকা হয়েছিল ‘মৃত্যুর সওদাগর’। ডিনামাইটের আবিষ্কর্তা ও কারবারি সেই আলফ্রেড নোবেলই শেষ পর্যন্ত তাঁর সম্পদের সিংহভাগ লিখে দিলেন শান্তি আর জ্ঞানের পুরস্কারে। কী বলা যায় একে? ইতিহাসের পরিহাস?
এরপর ১৯০১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত নোবেল দেওয়া হয়েছে ৬৩৯ বার। বিজয়ী ১,০০০ জন মানুষ ও ২৮টি সংগঠন (এ বছরই ব্যক্তি-বিজয়ীর সংখ্যা হাজার ছুঁয়েছে ); একাধিকবার পাওয়ার কারণে মোট ‘প্রাপ্তি’ ১,০৩৬টি। পুরস্কারের অঙ্ক এখন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার। আজ তাহলে দেখা যাক, কার ঝুলিতে কত নোবেল, কে নিলেন না, আর কে পেলেন না।
নোবেলের তালিকা শুধু প্রতিভার তালিকা নয়; আমি বলব, প্রতিভা কোথায় পাওয়া যায়, তার একটা মানচিত্র। এই মানচিত্র দেখতে বসলে যে প্রশ্নগুলো মাথায় আসে-
নোবেলজয়ী রাষ্ট্র: কার ঝুলিতে কত
দেশভিত্তিক তালিকা নিয়ে সব সূত্র একমত নয়; যাঁর একাধিক দেশের সঙ্গে যোগ আছে, তাঁকে কোন দেশে ধরা হবে, তা নিয়ে একেক তালিকার একেক নিয়ম। তবে মোটা দাগে ছবিটা এক (সংখ্যা ২০২৫ পর্যন্ত; ২০২৬-এর হিসাব নিচে):
১৯০১ সালে বিজয়ী সবাই ছিলেন ইউরোপীয়। ১৯৩০-এর দশক থেকে নোবেল আটলান্টিক পেরোতে শুরু করে, আর যুদ্ধোত্তর যুক্তরাষ্ট্র গবেষণায় বিপুল অর্থ ঢেলে আজ এক নম্বরে। তবে মাথাপিছু হিসাব অন্যরকম, ২০১৩ পর্যন্ত প্রতি এক কোটি মানুষে যুক্তরাজ্যে ছিল প্রায় ১৯ জন, জার্মানিতে সাড়ে ১২ জন, যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১০.৮ জন নোবেলজয়ী।
আমাদের অঞ্চলে বাংলাদেশের ঝুলিতে একটিই, মুহাম্মদ ইউনূস (২০০৬, শান্তি)। পাকিস্তানের দুটি, আবদুস সালাম (১৯৭৯, পদার্থ) ও মালালা ইউসুফজাই (২০১৪, শান্তি)। ভারতের সংখ্যা গণনাপদ্ধতিভেদে ১০ থেকে ১৩।
২০২৬-এর আসর:
| পুরস্কার | বিজয়ী | দেশ | কীসের জন্য |
|---|---|---|---|
| চিকিৎসা | কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান, গেয়র্গ নাগেল | যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি | আলো ব্যবহার করে মস্তিষ্কের কাজ বোঝার প্রযুক্তি, অপটোজেনেটিক্স |
| পদার্থ | ফ্রান্সিস হালজেন | বেলজিয়ামে জন্ম, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত | আইসকিউব মান-মন্দির ও মহাজাগতিক উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণ |
| রসায়ন | অঁরি কাগান (৯৫), কেনসো সোআই (৭৬) | ফ্রান্স, জাপান | ‘আয়নার প্রতিবিম্ব’ অণুর ধাঁধা: অসম জৈব সংশ্লেষণে অ-রৈখিক প্রভাব ও স্বয়ং-প্রভাবনা |
| সাহিত্য | অ্যান কারসন | কানাডা | ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপে সাহিত্যের নতুন রূপ গড়ার জন্য |
| শান্তি | নাভি পিল্লাই (৮৫) | দক্ষিণ আফ্রিকা | শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে |
| অর্থনীতি | রবার্ট হল (স্ট্যানফোর্ড), মাইকেল উডফোর্ড (কলম্বিয়া) | যুক্তরাষ্ট্র | সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সূক্ষ্ম-অর্থনৈতিক ভিত্তি; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদনীতির তাত্ত্বিক ভিত |
এই আসর যোগ করলে যুক্তরাষ্ট্রের খাতা আরও চার (ডাইসেরথ, হালজেন, হল ও উডফোর্ড; হালজেন বেলজিয়ামে জন্ম নিলেও কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানে), অর্থাৎ প্রায় ৪২৭ থেকে ৪৩৪। জার্মানি দুই; ফ্রান্স, জাপান, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা এক করে বাড়ল। ছয়টি পুরস্কারের তিনটিতেই (চিকিৎসা, পদার্থ, অর্থনীতি) মার্কিন নাম আছে। যুক্তরাজ্য এবার খালি হাতে।
ধর্মের হিসাব: নোবেলজয়ীরা কোন ধর্মে বিশ্বাসী?
নোবেল কমিটি বিজয়ীর ধর্ম জিজ্ঞেস করে না। তাই এ হিসাব আসলে গবেষকদের সংকলন। সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত বারুচ শালেভের গবেষণা (১৯০১–২০০০, মোট ৬৫৪ জন বিজয়ী) বলছে:
সাহিত্যে নাস্তিক-অজ্ঞেয়বাদীর হার লাফিয়ে প্রায় ৩৫%-এ ওঠে। শান্তি পুরস্কারে খ্রিস্টানদের ভাগ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৮%। ইহুদিরা বিশ্বজনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম, অথচ নোবেলে তাঁদের ভাগ পাঁচ ভাগের এক ভাগ। তখনকার বিশ্বে প্রতি পাঁচজনে একজন মুসলিম, কিন্তু নোবেলে তাঁরা এক শতাংশেরও কম। ২০০০-এর পর শিরিন এবাদি, ওরহান পামুক, মুহাম্মদ ইউনূস ও মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো কয়েকজন যোগ হয়েছেন, কিন্তু অনুপাত তেমন একটা বদলায়নি।
নারী ও পুরুষ: সাম্যের দুনিয়ায় অসাম্য?
১৯০১ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে নারীদের হাতে নোবেল গেছে ৬৮ বার; ২০২৬-এ অ্যান কারসন ও নাভি পিল্লাইকে ধরলে ৭০ বার। নারী বিজয়ী এখন ৬৯ জন (২০২৫ পর্যন্ত ৬৭), কারণ মারি কুরি দুবার পেয়েছেন: ১৯০৩-এ পদার্থে, ১৯১১-তে রসায়নে। ১,০০০ জন ব্যক্তির মধ্যে ৬৯ জন মানে ঠিক ৬.৯ শতাংশ। বাকি প্রায় ৯৩ শতাংশই পুরুষ।
বিজ্ঞানে ছবিটা আরও কঠিন। এএফপির হিসাবে ২০২৫ পর্যন্ত পদার্থে ২৩০ জনের মধ্যে নারী মাত্র ৫, রসায়নে ২০০ জনের মধ্যে ৮, চিকিৎসায় ২৩২ জনের মধ্যে ১৪, অর্থনীতিতে ৯৯ জনের মধ্যে ৩। নারীরা তুলনামূলক এগিয়ে শান্তি ও সাহিত্যে। এ বছর অ্যান কারসন সাহিত্যের ১৯তম নারী বিজয়ী, আর শান্তিতে ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। কিন্তু ২০২৬-এর চিকিৎসা, পদার্থ, রসায়ন ও অর্থনীতি, এই চারটি পুরস্কারের সব বিজয়ীই পুরুষ।
যাঁরা নোবেল নেননি, নিতে পারেননি
নিজের ইচ্ছায় পুরস্কার ফিরিয়েছেন মাত্র দুজন। ফরাসি দার্শনিক জাঁ-পল সার্ত্র ১৯৬৪ সালে সাহিত্যে নোবেল ফিরিয়ে দেন, কারণ তিনি সব সরকারি সম্মানই প্রত্যাখ্যান করতেন। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনামের লে ডুক থো শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে দেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের আলোচনার জন্য তাঁর সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। থো-র যুক্তি ছিল, দেশে তখনো শান্তি আসেনি।
আরও চারজনকে নিতে দেননি শাসকেরা। হিটলার তিন জার্মান বিজয়ী, রিখার্ড কুন, আডল্ফ বুটেনান্ট ও গেরহার্ট ডোমাককে, পুরস্কার নিতে নিষেধ করেন। পরে তাঁরা ডিপ্লোমা ও পদক পেলেও টাকা পাননি। রুশ লেখক বরিস পাস্তেরনাক ১৯৫৮ সালে প্রথমে পুরস্কার গ্রহণ করেও সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের চাপে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন।
আর পাঁচজন শান্তি-বিজয়ী পুরস্কারের সময় ছিলেন বন্দী বা গৃহবন্দী- কার্ল ফন ওসিয়েৎস্কি, অং সান সু চি, লিউ শিয়াওবো, আলেস বিয়ালিয়াৎস্কি ও নার্গিস মোহাম্মদি। লিউর বেলায় অসলোর অনুষ্ঠানে তাঁর চেয়ারটি ফাঁকা পড়ে ছিল।
১৯৭৪ থেকে মরণোত্তর নোবেল নিষিদ্ধ। তার আগে দেওয়া হয়েছিল মাত্র দুবার- দাগ হামারশোল্ড (১৯৬১) ও এরিক আক্সেল কার্লফেল্টকে (১৯৩১)। ২০১১ সালে চিকিৎসার বিজয়ী রালফ স্টাইনম্যান ঘোষণার তিন দিন আগে মারা গিয়েছিলেন; কমিটি তা জানত না, তাই তিনি বিজয়ীই রয়ে যান। আর জর্জ বার্নার্ড শ ১৯২৫ সালে সম্মান নিলেও পুরস্কারের টাকা নিতে অস্বীকার করেন।
আমেরিকার নোবেল আমদানি
যুক্তরাষ্ট্রের সোয়া চারশ নোবেলের কতটা আসলে ‘আমদানি’? ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির (এনএফএপি) হিসাবে ১৯০১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত রসায়ন, পদার্থ ও চিকিৎসায় মার্কিন নোবেলের প্রায় ৩৬ শতাংশ গেছে অভিবাসীদের হাতে। ২০০০ সালের পর অনুপাত ৪০ শতাংশ, অথচ দেশের জনসংখ্যায় অভিবাসী প্রায় ১৫ শতাংশ।
২০২৫ সালে ছয় মার্কিন বিজ্ঞান-বিজয়ীর তিনজনই অভিবাসী- জর্ডানে জন্ম ওমর ইয়াঘি, যুক্তরাজ্যে জন্ম জন ক্লার্ক ও ফ্রান্সে জন্ম মিশেল ডেভোরে। এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২০১৬ সালে মার্কিন ছয় বিজয়ীর সবাই ছিলেন অভিবাসী। এবারও পদার্থের একক বিজয়ী হালজেন বেলজিয়ামে জন্ম নিয়ে আজ যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত। ইয়াঘির গল্পটা খুব ইন্টারেস্টিং- যে ছোট ঘরে তিনি বড় হয়েছেন, সেখানে পরিবারের গবাদি পশুও থাকত।
দক্ষিণ এশিয়ার চেনা নামও আছে। হরগোবিন্দ খোরানা (১৯৬৮, চিকিৎসা) ও সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর (১৯৮৩, পদার্থ) ভারতে জন্ম নিয়ে মার্কিন নাগরিক হয়েছিলেন।
বাংলার নোবেল: যাঁরা পেলেন, যাঁরা পেলেন না
বাংলাভাষী ঘর থেকে নোবেল এসেছে চারবার। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘গীতাঞ্জলি’র জন্য, প্রথম অ-ইউরোপীয় বিজয়ী। ২০০৪ সালে বিশ্বভারতী থেকে তাঁর নোবেল পদক চুরি যায়, বহু তদন্তেও যার হদিস মেলেনি। ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেন; শান্তিনিকেতনে জন্ম নেওয়া এই মানুষটির নাম নাকি রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। ২০০৬ সালে শান্তিতে মুহাম্মদ ইউনূস, গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে। আর ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়: মুম্বাইয়ে জন্ম, বাঙালি পরিবারের সন্তান, কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র।
কিন্তু না-পাওয়ার তালিকাটা আরও দীর্ঘ, আরও বেদনার।
জগদীশচন্দ্র বসু। ১৮৯৫ সালে কলকাতার টাউন হলে তিনি দূর থেকে তারহীন তরঙ্গে ঘণ্টা বাজিয়ে আর বারুদে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেখিয়েছিলেন। ১৯০৯ সালের পদার্থের নোবেল গেল মার্কনি ও কার্ল ব্রাউনের ঝুলিতে, বেতার-প্রযুক্তির বিকাশের স্বীকৃতিতে। বসুর ১৯০৪ সালের মার্কিন পেটেন্ট নিয়ে নোবেলজয়ী নেভিল মট নাকি বলেছিলেন, বসু সময়ের অন্তত ষাট বছর এগিয়ে ছিলেন। ২০১২ সালে আইইইই তাঁর মিলিমিটার-তরঙ্গের পরীক্ষাকে ‘মাইলফলক’ স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু নোবেল বসুর অধরা রয়ে গেছে।
সত্যেন্দ্রনাথ বসু। ১৯২৪ সালে আলোর কণার পরিসংখ্যান নিয়ে লেখা পাণ্ডুলিপি তিনি পাঠান আইনস্টাইনকে। আইনস্টাইন নিজে জার্মানে অনুবাদ করে সেটি ছাপার ব্যবস্থা করেন। কণার একটি গোটা শ্রেণির নাম হয়ে গেল ‘বোসন’, বসুর নামে (নামটি ডিরাকের দেওয়া বলে ধরা হয়)। বোস–আইনস্টাইন কনডেনসেটের পরীক্ষার জন্য নোবেল পেলেন কর্নেল, কেটারলে ও ওয়াইম্যান (২০০১), আর ‘হিগস বোসন’-এর তত্ত্বে এঙ্গলের্ট ও হিগস (২০১৩)। অথচ নোবেল আর্কাইভ বলছে, ১৯৫৬ থেকে ১৯৭২-এর মধ্যে বসু মনোনীত হয়েছিলেন ১১ বার। একবারও জেতেননি।
মেঘনাদ সাহা মনোনীত হয়েছিলেন ৭ বার (১৯৩০–১৯৫৫)। জন্ম ঢাকার সেওড়াতলীতে, আজকের গাজীপুরে। তাঁর ‘সাহা আয়নীকরণ সমীকরণ’ আজও নক্ষত্রের গঠন বোঝার ভিত্তি।
উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী কালাজ্বরের ওষুধ ইউরিয়া স্টিবামিনের আবিষ্কর্তা, চিকিৎসায় মনোনীত হয়েছিলেন দুবার।
নোবেলের মনোনয়ন-নথি ৫০ বছর গোপন থাকে; তাই এই ‘না-পাওয়া’র হিসাব আমরা জানতে পারি দশকের পর দশক পরে।
‘শান্তি’ এরপর কার?
নোবেলের হিসাবের গম্ভীর খাতা বন্ধ করার আগে একটু হাসা যাক, কারণ নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসটা একটা সিটকম ছাড়া আর কিছুই না।
১৯৭৩ সাল। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থামানোর আলোচনার জন্য দুজনকে শান্তি নোবেল দেওয়া হলো। একজন হচ্ছেন আমেরিকার হেনরি কিসিঞ্জার, অন্যজন ভিয়েতনামের লি ডাক থো। থো জানালেন, তার দেশে এখনো প্রকৃত শান্তি আসেনি এবং যুদ্ধ পুরোপুরি থামেনি। স্পষ্ট কন্ঠে বললেন “যখন প্যারিস চুক্তিকে সম্মান জানানো হবে, অস্ত্রগুলো নীরব হবে এবং দক্ষিণ ভিয়েতনামে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসবে, কেবল তখনই আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করার কথা বিবেচনা করব।” নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এই সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আর অন্য বিজয়ী, কিসিঞ্জার, মাত্র এক বছর আগে যিনি ভিয়েতনামে ইতিহাসের ভয়াবহতম কার্পেট বম্বিং এর নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি অবশ্য নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন! যদিও প্রবল প্রতিবাদের মুখে তিনি অসলোতে সশরীরে উপস্থিত হন নি শেষ পর্যন্ত।
২০০৯ সালে বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় নয় মাসের মাথায় পেয়ে গেলেন, কমিটির ভাষায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি জোরদারের ‘অসাধারণ প্রচেষ্টা’র জন্য। আমাদের ভাষায় একে বলে অগ্রিম বায়না! অসলোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই মেনে নিলেন, তিনি দুই যুদ্ধে জড়ানো এক দেশের সেনাপতি; অর্থাৎ শান্তির পদক নিচ্ছেন যুদ্ধের জুতো পায়ে! কি প্রহসন! এরপর ২০২৫-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকটি যুদ্ধ থামানোর দাবি করে প্রকাশ্যে বললেন, পুরস্কারটা তাঁরই প্রাপ্য। অথচ কমিটি দিল মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। এবারে, ২০২৬-এও ট্রাম্প পেলেন না। তাঁর আবেদন নাকি এখনো ‘পেন্ডিং’ ফোল্ডারে! এদিকে ঋণের টাকা বাকি থাকলে ঋণ গ্রহীতার বাড়ির গরু-ছাগল জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আসার অভিযোগ আছে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের নামে!
ওবামা, গ্রামীণ ব্যাংক আর কিসিঞ্জারের নজির থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আগামীর সম্ভাব্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের কিছু সুপারিশ:
নোবেল পাওয়ার টোটকা (Not on a serious note!)
তো, পরিসংখ্যান ঘেঁটে পাওয়া নোবেলজয়ের কিছু ‘টোটকা’ এখানে শেয়ার করছি, আপনারা যারা নোবেল পেতে আগ্রহী, তারা এগুলো কাজে লাগাতে পারেন:
শেষ কথা
তথ্যসূত্র ও টীকা
সব সংখ্যা ১২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। দেশভিত্তিক ও ধর্মভিত্তিক সংখ্যা সূত্রভেদে কিছুটা আলাদা; ২০২৬-এর ছয়টি পুরস্কারই ধরা হয়েছে।
- NobelPrize.org: Nobel Prize facts
- NobelPrize.org: নারী বিজয়ী
- NFAP: Immigrants and Nobel Prizes, 1901–2025
- নোবেল মনোনয়ন-আর্কাইভ: সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও মেঘনাদ সাহা
- List of Nobel laureates by country
- শান্তি ২০২৬: নাভি পিল্লাই (NPR) ও পদার্থ ২০২৬: ফ্রান্সিস হালজেন (আল জাজিরা)
- বারুচ শালেভ, 100 Years of Nobel Prizes (ধর্মভিত্তিক হিসাব)
- ২০২৬-এর বিজয়ীদের সরকারি পাতা: রসায়ন ও সাহিত্য।
- অর্থনীতি ২০২৬: জাপান টাইমস।


খুব সুন্দর গুছিয়ে লিখেছেন। নোবেল নিয়ে এত ডিটেইলস আর ডাটা এক জায়গায় পেয়ে বেশ ভালো লাগলো। এরকম ইনফরমেটিভ লেখা আরও চাই!
ধন্যবাদ সময় নিয়ে পড়ার জন্য। চেষ্টা থাকবে নিয়মিত লেখার।
অনেক অনেক তথ্য কিন্তু সুন্দর করে গুছিয়ে লেখা। আশা করি এমন লেখা অব্যাহত থাকবে ❤️