৯/১১ নামে পরিচিত যা একুশ শতাব্দীর শুরুতে আমেরিকার মাটিতে ঘটে যাওয়া সমস্ত বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়া একটা ঘটনা। হয়তো পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন এই ঘটনাটি আমেরিকানদের মনে ক্ষত হয়েই থাকবে। ২৫ বছর আগে সেই একটা দিনের ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মূল ঘটনাক্রম নিচে তুলে ধরা হলো:
- ৮:৪৬ সকাল: আল-কায়েদার ছিনতাই করা প্রথম বিমানটি (আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১১) নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে (নর্থ টাওয়ার) আঘাত হানে।
- ৯:০৩ সকাল: দ্বিতীয় বিমানটি (ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৫) বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের দক্ষিণ টাওয়ারে (সাউথ টাওয়ার) আঘাত করে। পুরো ঘটনাটি তখন সরাসরি টিভিতে লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
- ৯:৩৭ সকাল: তৃতীয় ছিনতাই করা বিমানটি (আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৭) ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত হানে।
- ৯:৫৯ সকাল: মাত্র ৫৬ মিনিট আগুন জ্বলার পর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারটি ধসে পড়ে।
- ১০:০৩ সকাল: চতুর্থ বিমানটি (ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৯৩) পেনসিলভেনিয়ার শ্যাংকসভিলে একটি ফাঁকা মাঠে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটির যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললে এটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে (সম্ভবত হোয়াইট হাউসে বা ক্যাপিটল ভবনে) আঘাত হানতে পারেনি
- ১০:২৮ সকাল: ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারটিও সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।
এই সমন্বিত আত্মঘাতী হামলায় ১৯ জন হাইজ্যাকারসহ মোট ২,৯৭৭ জন মানুষ নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। ৯/১১ হামলার পরবর্তী ঘটনাক্রম এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। সত্যি কথা বলতে এই ঘটনার পর পৃথিবীর রাজনীতিটা হঠাৎ করে বদলে যায়। তাই ৯/১১ এর ঘটনাক্রম শুধু মাত্র ওই একটা দিনেই সীমাবদ্ধ নয়, এই ঘটনার পরবর্তি পরিণীতি আসলে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও যুদ্ধ ডেকে আনে। শুরু হয় অনিঃশেষ ঘৃণা, অবিশ্বাস আর প্রতিশোধের আর প্রতিরোধের কাহিনী যা এখনো চলমান। এখানে শুধু আমরা বড় কয়েকটি ঘটনাআর ক্রম তুলে ধরছি –
অভ্যন্তরীণ ও নিরাপত্তা পরিবর্তন
- হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গঠন: মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়তে গঠন করা হয় নতুন মন্ত্রণালয় ‘ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’
- পেট্রিয়ট অ্যাক্ট (Patriot Act): হামলার মাত্র ছয় সপ্তাহ পর পাস হওয়া এই আইনের ফলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষের ওপর নজরদারি, ফোন কল ও ইমেইল ট্র্যাক করার ব্যাপক ক্ষমতা লাভ করে
- বিমান চলাচল নিরাপত্তা: বিমানবন্দরগুলোতে কড়াকড়ি ও তল্লাশি ব্যবস্থা আমূল বদলে যায়। এ সময় তৈরি হয় ‘Transportation Security Administration (TSA)’।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও সামরিক হস্তক্ষেপ
- আফগানিস্তান যুদ্ধ: আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনকে দমনের অজুহাতে হামলার এক মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আক্রমণ চালায়, যা দীর্ঘ ২০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ইরাক যুদ্ধ: ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের খোঁজে ও সাদ্দাম হোসেনের সরকারের বিরুদ্ধে ইরাক আক্রমণ করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট
- ওয়ার অন টেরর (সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ): বিশ্বব্যাপী উগ্রবাদী ও জঙ্গিগোষ্ঠী দমনের নামে যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত ‘ওয়ার অন টেরর’ ঘোষণা করে বৈশ্বিক রাজনীতিতে সামরিক আগ্রাসনের নীতি গ্রহণ করে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঘটনা
- ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু: ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর গোপন অভিযানে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হন
- অর্থনৈতিক ও মানবীয় ক্ষতি: এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধগুলোতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, হাজার হাজার সেনা ও লাখ লাখ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং মধ্যপ্রাচ্য চরম অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে।
এই ক্ষতির পরিমান হয়তো ডলারে হিসাব করা সম্ভব হলেও হতে পারে, কিন্তু মানুষের মনোজগতে যে ক্ষতিটা হয়েছিল তার পরিমাপ তারিখ, সময়, ক্ষণ দিয়ে কখনোই করা যাবে না।
[তথ্যগুলো মূলত: গুগল থেকে সংগ্রহ করা।]

