বিজ্ঞান ভাবনা

Post Views: 275
12 min read

আমরা সবাই পৃথিবী নামের এক মহাকাশযানের নাবিক। এই মহাকাশযান স্থানকালে ঊর্ধ্বশ্বাসে চলেছে মহাবিশ্বের কোনো এক অজানা প্রান্তের উদ্দেশ্যে। এই জাহাজের সোয়ারীরা একে অপরকে চেনে না, বা চিনতে চায় না, কিন্তু মহাকাশযাত্রার এই জ্ঞান তাদের মধ্যে সঞ্চার করতে পারত এমন একটি একাত্মবোধ যা কিনা জাতি, রিলিজিয়ন, বর্ণের ওপরে উঠে মানবসমাজকে তার যৌথ ভবিষ্যতকে এই অসীম মহাশূন্যমাঝে দেখতে সাহায্য করবে।

কিন্তু এই যাত্রায় আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়তো বাইরের কোনো বিপদ নয়, বরং আমাদের নিজেদের মস্তিষ্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই সব ভ্রান্তি ও অযৌক্তিক বিশ্বাস, যা আমাদের চিন্তাকে করে দেয় অচলায়ন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূলে আছে প্রশ্ন করার সাহস, তথ্যপ্রমাণের দাবি এবং নিজের ধারণাকে ভুল প্রমাণের সুযোগ রাখা। একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কার্যকর কিনা, একজন জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য কিনা, কিংবা কোনো ধর্মীয় গুরুর অলৌকিক ক্ষমতা আছে কিনা— এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যও প্রয়োজন এই বৈজ্ঞানিক মনোভাব।

সমাজে ও প্রকৃতিতে পরিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে, জীবনকে সুসংহত, সুসাম্য ও সুন্দর করতে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন – এর জন্য বিজ্ঞানমনস্কতা প্রয়োজন, প্রয়োজন critical thinking বা যুক্তিনিষ্ঠ বিচারবোধ। একজন চিন্তাশীল নাগরিকের জন্য শুধুমাত্র সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যে বিজ্ঞান শিক্ষার দরকার তা নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর বুকে তার অস্তিত্বের গুরুত্ব ও গভীরতা বুঝতে সেই শিক্ষার দরকার আছে। প্রথমটি হল পৃথিবী নামের মহাকাশযানের ভেতরে কী ঘটছে আর দ্বিতীয়টি হল বাইরের বিশাল মহাকাশ সমুদ্রে সেই যানটির আপাত অবস্থান। এই মনোভাব ব্যক্তি বিশেষের সহজাত প্রবৃত্তি নয়, তা গড়ে ওঠে শিক্ষা ও চর্চার মধ্য দিয়ে। সেই অনুশীলন আমাদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে সাহায্য করে, বিজ্ঞানকে ছদ্মবিজ্ঞান থেকে আলাদা করতে শেখায়। কিন্তু ঠিক কোন মানদণ্ডে আমরা বলি একটি ধারণা “বৈজ্ঞানিক”, আর অন্যটি নয়, সেই প্রশ্নের একটি প্রভাবশালী উত্তর দিয়েছিলেন দার্শনিক কার্ল পপার।

১৯৫৯ সনে প্রভাবশালী অস্ট্রিয়ান দার্শনিক কার্ল পপারের ইংরেজী বই The Logic of Scientific Discovery প্রকাশ পায়। সেখানে পপার বললেন, বিজ্ঞানের দর্শনে ভ্রান্তিকরণের (falsifiability) ধারণা থাকতে হবে, অর্থাৎ একটি অনুকল্পকে (hypothesis) তখনই বৈজ্ঞানিক বলা যাবে যদি সেটিকে মিথ্যা বা ভ্রান্ত প্রমাণ করার কোনো সুযোগ থাকে। এর একটি বিখ্যাত উদাহরণ হল “সব রাজহাঁস সাদা” – এই বাক্যাটি। এটি একটি বৈজ্ঞানিক অনুকল্প কারণ রাজহাঁসকে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন কিছু নয়, এবং সেই পর্যবেক্ষণে একটি রাজহাঁসকেও যদি কালো বা অন্য রঙের দেখতে পাওয়া যায় তাহলে অনুকল্পটি মিথ্যা বা ভ্রান্ত প্রমাণ হবে এবং “সব রাজহাঁস সাদা” বাক্যটি একটি তত্ত্বে পরিণত হবে না। বিজ্ঞানে তত্ত্ব হল এমন একটা জিনিস যা সমস্ত পর্যবেক্ষণ উত্তীর্ণ হয়েছে, যেমন নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব।

অন্যদিকে আমরা যদি বলি “এই ঘরটি এমন বিশেষ অদৃশ্য কণা দিয়ে ভর্তি যা কিনা কোনো পর্যবেক্ষণ দ্বারাই দৃশ্যমান হবে না” সেটি কোনো বৈজ্ঞানিক অনুকল্প হবে না, কারণ এই প্রস্তাবটি প্রথমেই বলে দিয়েছে যে, কোনো উপায়েই সেই কণা দেখা যাবে না, অর্থাৎ এই প্রস্তাবটিকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার কোনো পদ্ধতি নেই। এর মানে এই নয় যে, ওই ঘরে ‘বিশেষ অদৃশ্য কণা’ নেই, অদৃশ্য কণা থাকতেই পারে, কিন্তু ভ্রান্তিকরণের কোনো সুযোগ না দেবার জন্য অনুকল্পটি বিজ্ঞানের আওতায় পড়বে না।

এই ধারনার ওপর ভিত্তি করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির যে প্রক্রিয়াগুলি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা একমত হলেন তা হল (১) একটি অনুকল্পের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা ভাবীকথন (prediction) করবেন, (২) তারপর হয়ত একটি এক্সপেরিমেন্ট প্রস্তুত করবেন যার ফলাফল সেই ভাবীকথনকে সত্য বা মিথ্যা (অথবা এদের কোনো মিশ্রিত রূপ) প্রমাণ করবে এবং (৩) সেই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অনুকল্পটির পরিমার্জন করে আবার নতুন এক্সপেরিমেন্ট করা হবে। যেখানে এক্সপেরিমেন্ট করা সম্ভব নয় (যেমন জ্যোতির্বিদ্যা, ভূবিদ্যা ইত্যাদি) সেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে অনুকল্পটিকে প্রতিষ্ঠা বা পরিত্যাগ করার সম্ভাবনা রাখতে হবে। অবশেষে সমস্ত ভাবীকথন উত্তীর্ণ হলে অনুকল্পটি একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে theoryতে পরিণত হবে। বিজ্ঞানের বাইরে theory কথাটা মনে করা হয় অপ্রমাণিত একটি জিনিস, কিন্তু বিজ্ঞানে theory হল একটি প্রমাণিত নীতি।

ইদানিংকালে অবশ্য কিছু তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ‘ভ্রান্তিকরণ’ ধারণাটিকে উন্নত তত্ত্বের গবেষণাকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে বলে দাবি করছেন। যেমন আমাদের মহাবিশ্বর বাইরে অন্য মহাবিশ্ব আছে – যাকে বহুমহাবিশ্ব (multiverse) অনুকল্প বলা হয় – এই নিয়ে অনেক বিজ্ঞানী কাজ করছেন, কিন্তু এই ধারণাটিকে প্রমাণ বা অপ্রমাণ করার কোনো হাতিয়ার তাঁরা দিতে পারছেন না। তো ভ্রান্তিকরণ নীতি দিতে পারছেন না বলে তারা সমালোচনার মুখে পড়ছেন, তখন তাঁরা বলছেন ‘ভ্রান্তিকরণ’ নীতিটির পরিবর্তন দরকার। সমস্যা হল সেই অনুকল্পের সত্যতা যৌক্তিক অনুমানের ভিত্তিতে নির্ধারিত করতে হয়, ‘ভ্রান্তিকরণ’ নীতি সেখানে কাজ করে না। কিন্তু যেহেতু এই ধরণের প্রস্তাব বৃহত্তর বিজ্ঞানী মহলে এখনো গৃহীত হয়নি, তাই আমরা অনুকল্প, ভাবীকথন, এক্সপেরিমেন্ট বা পর্যবেক্ষণ, উপসংহার, নতুন অনুকল্প, পরিবর্তিত এক্সপেরিমেন্ট বা পর্যবেক্ষণ, নতুন উপসংহার – এই ধরণের ক্রমটিকেই আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে গ্রহণ করছি।

এই পদ্ধতিটির গুরুত্ব অবশ্য গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞান আমাদেরকে নতুনভাবে চিন্তা করতে শেখায়। প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ তার মধ্যে প্যাটার্ন আবিষ্কার করা; সূক্ষ্ণ পর্যবেক্ষন করে অনুকল্প প্রণয়ন করা এবং সেই অনুকল্পের সঙ্গে ফলাফলের তুলনা, প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে সত্যের কাছাকাছি যাওয়া বিজ্ঞানের এই যে প্রক্রিয়া সেটি অর্জন করা এক ধরণের স্কিল – সেটি মানবিকী কি কারিগরী উভয় ছাত্রর জন্যই সত্য।

এই পদ্ধতির ইতিহাস পপারের বহু আগে শুরু। ইংরেজ দার্শনিক ফ্রান্সিস ব্যাকন (১৫৬১ – ১৬২৬) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির এই ক্রমটিকে লিপিবদ্ধ করেন। ব্যাকনকে অভিজ্ঞতাবাদের (empiricism) স্রষ্টাও বলা হয়। পরীক্ষা, সরাসরি পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎ অভিজ্ঞতা ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে জ্ঞানার্জন অভিজ্ঞতাবাদের মধ্যে পড়ে।

ব্যাকনের সমসাময়িক ইতালীয় গ্যালিলেও গ্যালিলেইকে (১৫৬৪ – ১৬৪২) আধুনিক অভিজ্ঞতাবাদের প্রথম বিজ্ঞানী বলা হয়। গ্যালিলিওর কথা বাংলায় (বা ভারতে) পৌঁছাতে দু’শ বছর মত লেগেছিল, ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা বিদ্যাসাগর (১৮২০ – ১৮৯১) ইংরেজী বইসমূহের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লিখলেন (১৮৪৯ সনে) কয়েকজনের জীবনী, তাদের মধ্যে ছিলেন কোপের্নকাস, গ্যালিলেও, নিউটন ও হার্শেল (ইউরেনাস গ্রহের আবিষ্কর্তা) প্রমুখ। দুঃখের বিষয় অন্যান্য অনেক ভ্রান্ত ধারনার মত, যেমন সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, কিংবা পৃথিবী মোটামুটিভাবে সমতল, ভারি বস্তু হাল্কা বস্তুর চাইতে দ্রুত মাটিতে পড়ে এই ধারনাটি হাজার হাজার বছর ধরে যেমন বিরাজ করেছে, এমনকী আধুনিক যুগেও সমস্ত ধরনের শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এই ভুলগুলি আমাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাস করে। এটা ভাগ্যের পরিহাসই বলতে হবে যে, বর্তমানে বিশ্বায়নের উন্নত প্রকৌশলের সময়, এই ভ্রান্ত ধারণার প্রচার আন্তর্জালের মাধ্যমে আরো বেশি প্রচার পাচ্ছে।

গ্যালিলেওর আকাশ পর্যবেক্ষণ নিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র লিখলেন –

“গ্যালিলেয় [ঈশ্বরচন্দ্রর বানান], এই দৃষ্টিপোষক নলাকার নূতন যন্ত্র নভোমণ্ডলে প্রয়োগ করিয়া, দেখিতে পাইলেন, চন্দ্রমণ্ডলের উপরিভাগ অত্যন্ত বন্ধুর; সূর্যমণ্ডল সময় সময়ে কলঙ্কিত লক্ষ্য হয়; ছায়াপথ সূক্ষ্মতারকাস্তবকমাত্র; বৃহস্পতি পারিপার্শ্বিকচতুষ্টয়ে পরিবেষ্টিত; শুক্রগ্রহের চন্দ্রের ন্যায়, হ্রাস বৃদ্ধি আছে; শনৈশ্চরের উভয় পার্শ্বে পক্ষাকার কোনো পদার্থ আছে। ওই পক্ষ এক্ষণে অঙ্গুরীয় বলিয়া সিদ্ধান্তিত হইয়াছে।”

কোপেরনিকাসের সৌরকেন্দ্রিক মহাজগতের কথা প্রচার করে গ্যালিলেও ক্যাথলিক চার্চের রোষানলে পড়লেন, ঈশ্বরচন্দ্রের ভাষায় “যাজকেরা তাঁহার নামে ধর্মবিপ্লাবক বলিয়া উপস্থিত করাতে, ১৬১৫ খৃঃ অব্দে, তাঁহাকে রোমনগরীর ধর্মসভার সম্মুখে উপস্থিত হইতে হইল।” গ্যালিলেওর এই ভাগ্যকে ঈশ্বরচন্দ্র নিজের সঙ্গে তুলনা করতে পেরেছিলেন কিনা জানি না, কিন্তু তাঁর বিধবা বিবাহ প্রচলন ও বহু বিবাহ রোধের প্রস্তাবনা রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের কাছ থেকে যে প্রতিরোধ পেয়েছিল সেটিকে সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমে ইউরোপে ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ১৬৩৩ সনে গ্যালিলিওকে যখন আবার রোমে ডাকা হল তাঁর বিজ্ঞান ধারণাকে পরিত্যাগ করার জন্য, যাজক বিচারকরা গ্যালিলিওকে বললেন (ঈশ্বরচন্দ্রের ভাষায়) –

“তোমাকে আমাদের সম্মুখে আঁঠু পাড়িয়া ও বায়বল [বাইবেল] স্পর্শ করিয়া কহিতে হইবেক, আমি পৃথিবীর গতি প্রকৃতি যাহা যাহা প্রতিপন্ন করিয়াছি সে সমুদায় অস্বর্গ্য, অশ্রদ্ধেয়, ধর্মবিদ্বিষ্ট ও ভ্রান্তিমূলক। গ্যালিলেয়, সেই বিষম সময়ে মনের দৃঢ়তা রক্ষা করিতে না পারিয়া, যথোক্ত প্রকারে পূর্বনির্দিষ্ট প্রতিজ্ঞাবাক্য উচ্চারণ করিলেন। কিন্তু গাত্রোত্থান করিবামাত্র, আন্তরিক দৃঢ় প্রত্যয়ের বিপরীত কর্ম করিলাম, এই ভাবিয়া মনোমধ্যে ঘৃণারোষসহকৃত যৎপরনাস্তি অনুতাপ উপস্থিত হওয়াতে, তিনি পৃথিবীকে পদাঘাত করিয়া উচ্চৈস্বরে কহিলেন, ইহা এখনো চলিতেছে।”

‘ইহা এখনো চলিতেছে’ (ইংরেজীতে And yet it moves, ইতালীয় ভাষায় এপ্পুর সি মুয়েভে) মানুষের শত প্রতিরোধের মুখে সত্য প্রকাশের এক বলিষ্ঠ বাণী। বিপদের সম্মুখীণ হয়েও গ্যালিলেও বলতে চাইলেন, তোমরা যাই বল, পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে এবং সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, সে স্থির নয়, এই হল সত্য। এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, কিন্তু আমরা জানি এই বিচারের পরে গ্যালিলওকে বৃদ্ধ বয়সে আবার নির্বাসন ভোগ করতে হল। এটা ভাবা বোধহয় অযৌক্তিক হবে না যে, বিদ্যাসাগর গ্যালিলিওর সঙ্গে সহমর্মিতা বোধ করতেন। যদিও তাঁদের কর্মক্ষেত্র ভিন্ন ছিল, কিন্তু আমি বলব তৎকালীন সমাজের জড়বুদ্ধির আঁধার কাটাতে তাদের সেই কর্মের চরিত্র একই ছিল। গ্যালিলেও যে ব্যাকনীয় পন্থায় (অভিজ্ঞতাবাদের দৃষ্টিভঙ্গীতে) সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে ঈশ্বরচন্দ্রের কর্মপদ্ধতিকে অনেকটা সেই আলোকে দেখা যেতে পারে। এটি আমার একটি অনুকল্প, কিন্তু বিদ্যাসাগরের মানবিক কর্মকাণ্ডে গ্যালিলিয়র বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রভাব রেখেছিল সেটি মনে করা অযৌক্তিক হবে না।

বিজ্ঞানমনস্ক হবার জন্য আমাদেরকে বিজ্ঞানী হতে হবে না। বিজ্ঞানমনস্কতা আমাদেরকে প্রশ্ন করতে, প্রমাণ যাচাই করতে এবং নিজের ধারণাকেও সংশোধনের জন্য উন্মুক্ত রাখতে শেখায়। দেখা যায় একজন তথাকথিত বিজ্ঞানী বাস্তব জীবনে বিজ্ঞানমনস্ক নয়, শুধুমাত্র কিছু বিজ্ঞান প্রবন্ধ লেখার সময় সে ব্যাকনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে। কার্ল পপারকে শুধুমাত্র তার ল্যাবের গবেষণায় প্রয়োগ করে, কিন্তু বাইরের জগতে সেই প্রয়োগবিধিতে বিশ্বাস করে না। এই দ্বিচারিতা সমাজকে আরো বিভ্রান্ত করে, কারণ সাধারণ মানুষের কাছে একজন বিজ্ঞানীর দার্শনিক অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ; সাধারণ মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে বিজ্ঞানীকে উচ্চ আসনে রাখে। বিজ্ঞানী না হয়েও ঈশ্বরচন্দ্র বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন; তাই একজন সফল, কিন্তু দ্বিচারী বিজ্ঞানীর চাইতে সমাজ নির্মাণে তাঁর অবদান অনেক বেশি।

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মোরেনো ভ্যালি, ক্যালিফোর্নিয়া

শৈশব-কৈশোর ঢাকায়, বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ানিবাসী। জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যা নিয়ে তাঁর পড়াশোনা, গবেষণা ও অধ্যাপনা। লেখেন গল্প ও বিজ্ঞান কল্পসাহিত্য।


Previous
Next

1 Comment

  • শুভ্র

    গুরুত্বপূর্ণ লেখা। ভালো লাগলো। লেখককে ধন্যবাদ। শুভ্র।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।