পড়শী স্বাস্থ্য কথা সিওপিডি নিয়ে কিছু বলি

সিওপিডি নিয়ে কিছু বলি

Post Views: 129
4 min read

সিওপিডি কী?

সিওপিডি হলো ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের সংক্ষিপ্ত রূপ, যা ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। এ রোগে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, এবং প্রতিনিয়ত অবনতির দিকে ধাবিত হয়। এ রোগটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। তবে এর চিকিৎসা রয়েছে এবং চিকিৎসা নিলে রোগটির অবনতির গতি শ্লথ করা সম্ভব। প্রতি বছর ৩.৪ মিলিয়ন লোক সিওপিডিতে ভুগে মারা যায়। মৃত্যুর কারণ হিসাবে সমগ্র পৃথিবীতে সিওপিডির অবস্থান তৃতীয়। বিশ্বজুড়ে শতকরা ৪ থেকে ৫ জন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয় প্রতি বছর। বাংলাদেশের শতকরা ১২ জন ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত। আক্রান্তের হারের হিসাবে নেপাল ও পাপুয়া নিউগিনির অবস্থান শীর্ষে।

সিওপিডি কাদের হয়?

শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে ধূমপানই এ রোগের জন্য দায়ী। বায়ুদূষণও সিওপিডির এক বড় কারণ। পরিবেশে ধোঁয়া এবং রাসায়নিকের উপস্থিতিতে সিওপিডির ঝুঁকি বাড়ে। তাই যাঁরা মাটির চুলায় রান্না করেন এবং চুলার ধোঁয়া সরাসরি যাঁদের শ্বাসনালীতে ঢোকে, তাঁরাও থাকেন ঝুঁকিতে। জিনগত কারণও দায়ী হয় কোনও কোনও ক্ষেত্রে। শৈশবে প্রায়শই শ্বাসনালীর সংক্রমণ হয়ে থাকলে পরবর্তীতে সিওপিডি হতে পারে।

সতর্কীকরণ লক্ষণ

  • দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি
  • দীর্ঘমেয়াদী কাশি
  • প্রায়শই জ্বর আসা
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • গলায় দীর্ঘ দিন ধরে অস্বস্তি অনুভব করা
  • দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা

 

চিকিৎসা

এসব লক্ষণ দেখা দিলে রোগনির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করলে রোগের গতিকে কমানো যায়। চিকিৎসার জন্য ইনহেলার এবং মুখে সেবন করার ওষুধ প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখতেও হতে পারে। এছাড়া সিওপিডির চিকিৎসার অংশ হিসাবে নিয়মিত ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার টিকা নেয়ারও প্রয়োজন পড়ে।

প্রতিরোধ

যেহেতু রোগটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তাই প্রতিরোধে সচেতন হওয়াই শ্রেয়। ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে হবে সবাইকে। প্রয়োজনে বাধা দিতে হবে আইনের সহায়তায়। জনসম্মুখে ধূমপানের জন্য দণ্ড কার্যকর করতে হবে। একজনের সিগারেটের ধোঁয়া অন্য একজনের ফুসফুসের রোগের জন্য দায়ী। তাই অন্যের সামনে সিগারেট খাওয়া সত্যিকার অর্থেই এক অপরাধ। সরকারিভাবে সিগারেট বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাও প্রয়োজন। সিগারেটের দাম বৃদ্ধিও একটি উপায় হতে পারে। তাছাড়া যেখানে মাটির চুলায় রান্না করা হয়, সেখানে এমন চুলার ব্যবস্থা করা উচিত যা থেকে নির্গত ধোঁয়া চিমনির সাহায্যে অনেক ওপরে ছড়িয়ে যায় (বন্ধু চুলা)। এছাড়া শৈশব থেকেই ফুসফুসের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। বারবার জীবাণুর সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ছোটবেলাতেই।

শেষকথা

সিওপিডি শ্বাসতন্ত্রের রোগ হলেও প্রকৃতপক্ষে দেহের সমস্ত অঙ্গে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এ রোগে হৃদপিণ্ড থেকে শুরু করে সব অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। রোগীর শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক ক্ষতি তাঁর পরিবারকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। প্রতিরোধের উপায়গুলো খুবই সহজ। তাই সিওপিডি থেকে বাঁচতে ব্যক্তি থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এ রোগের প্রতিরোধে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।

<em style=”color: var(–e-global-color-primary);”><strong>২৬ আগস্ট, ২০২৬</strong></em>


ঢাকা, বাংলাদেশ

অধ্যাপক, বক্ষব‍্যাধি বিশেষজ্ঞ। সভাপতি, বাংলাদেশ ইন্টারভেনশনাল পালমনোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড স্লিপ সোসাইটি (বিপস)।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।