পড়শী ⁠ব‍্যক্তিত্ব ও সাক্ষাৎকার সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের সাথে পড়শীর একান্ত সাক্ষাৎকার

সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের সাথে পড়শীর একান্ত সাক্ষাৎকার

Post Views: 114
15 min read

শ্রীকান্ত আচার্য-এর জন্ম ভারতের পশ্চিম বাংলার কলকাতায় হলেও মায়ের বাড়ি বাংলাদেশের (তদানিন্তন পূর্ব বাংলার) বিক্রমপুরে। তাই দুই বাংলার সাথেই তাঁর যোগসূত্র। ১৯৯৬ সালে যখন তিনি প্রথম চাকরিবাকরি ছেড়ে গান গাইবার সিদ্ধান্ত নেন, তখন থেকেই বাংলা গান পেয়ে গেলো একজন জাত শিল্পীকে। দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় এই শিল্পীর গান শোনেননি এমন শহুরে বাঙালী খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। তাঁর দরাজ কণ্ঠের রবীন্দ্রসংগীত অন্যরকম মোহ তৈরী করে, যেনো মুক্তোর খনি। অন্যদিকে তাঁর আধুনিক গান আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় গভীর ভাবনার সাথে। “এক ঝাঁক পাখি” কিংবা “বৃষ্টি তোমাকে দিলাম”-এর মতো জনপ্রিয় অ্যালবাম আমাদের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে বাংলা গানের অবারিত দ্বার। আজ পড়শী মুখোমুখি হয়েছে আধুনিক এবং রবীন্দ্রনাথের গানের শিল্পী, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং সর্বোপরি একজন আপাদমস্তক শিল্পীর সাথে। আসুন শুনে নিই তাঁর ভাবনা এবং জগৎ সম্পর্কে। শ্রীকান্ত আচার্যের সাথে এই একান্ত সাক্ষাৎকারটি পড়শীর পক্ষ থেকে নিয়েছেন মুন ইরা মীম, এহসান নাজিম, এবং সাবির মজুমদার।

2026.09 18 01 01
শ্রীকান্ত আচার্য

পড়শী: জীবনের কোন অভিজ্ঞতা কিংবা কৌতুহল আপনাকে গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল?

শ্রীকান্ত আচার্য: কৌতূহল বা অভিজ্ঞতা… কোনটাই নয়। একটু খুলে বলি। আমাদের পরিবারে গানবাজনার কোনো চর্চা ছিল না। অল্প বয়স থেকে একটি সঙ্গীত-প্রতিষ্ঠানে দশ বছর গান শিখেছি্… ওই পর্যন্তই। আলাদা ক’রে গানবাজনার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া… সেটা কখনই ঘটেনি। কারণ, কলেজের পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি ক’রে জীবন কাটাবো, সেটাই ভবিতব্য মেনেছিলাম। চাকরিতে ঢোকার পর প্রায় আট বছর আমি গানবাজনার সঙ্গে আর যুক্তই ছিলাম না। কিন্তু, কোনো এক মুহূর্তে এসে চাকরি করতে আর ভাল লাগছিল না। অগ্রপশ্চাৎ কিছু না ভেবে কিছুটা দুম্‌ ক’রেই চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছিলাম। ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত ছিল। তার খুব অল্প দিনের মধ্যেই আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষী দাদার মাধ্যমে তৎকালীন সাগরিকা মিউজিকের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। ঘরে বসে রেকর্ড-করা আমার কিছু গান তারা শোনেন, এবং আমার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তিও হয়। সেটা ১৯৯৬-এর মার্চের কথা। প্রথম দফায় দুটি অ্যালবামের রেকর্ডিং হয় এবং ওই বছরেই পুজোর গান হিসেবে তার একটি প্রকাশিত হয়েছিল, যার নাম ছিল ‘মনের জানালা’। আমার মতো এক অজ্ঞাতকুলশীল নামগোত্রহীন গায়কের অ্যালবাম কেউ শুনবে না, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু, আমাকে হতবাক ক’রে সেই গানের অ্যালবাম বিপুল জনপ্রিয়তা পেল। তার পর দেখলাম, রাতারাতি পরিস্থিতি আমাকে এমন জায়গায় এনে ফেলছে, যেখানে গানকেই আমার পুরো সময়টা দিতে হবে। গানকে পেশা করে নেওয়ার সেই হল শুরু।

পড়শী: রবীন্দ্রসঙ্গীত, আধুনিক বাংলা গান ও অন্যান্য ধারার সঙ্গীত প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনার নিজস্ব একটি পরিচয় তৈরি হয়েছে। এই পথচলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

শ্রীকান্ত আচার্য: আমি সবসময় চেষ্টা করেছি, আমার সাধ্য বা দক্ষতা কতটুকু, সেটা জেনে বা বুঝে তার মধ্যে থাকা, এবং যা’ই করি না কেন, একশো ভাগ সততার সঙ্গে করা। আমার এই মনোভাব যদি আমার কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয়, তাহলে অনুভবী শ্রোতাদের সমাদর পাবো বলেই আমার বিশ্বাস। তাদের সেই সমাদর আর ভালবাসাই আমার শক্তি, আমার প্রেরণা… আমাকে আগামীকাল আরও একটু ভাল কাজের উৎসাহ জোগায়। সচেতন ভাবে কখনও কোনো চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রাখিনি। গান গাওয়ার আনন্দে গেয়ে গিয়েছি, গেয়ে যেতে চাই। এইটুকুই।

2026.09 18 01 02
পুত্র, স্ত্রী, কন্যাসহ শ্রীকান্ত আচার্য

পড়শী: একজন শিল্পী হিসেবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার গায়কীতে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন?

শ্রীকান্ত আচার্য: সময় পাল্টাচ্ছে, আমার বয়েসও বাড়ছে। তিরিশ বছর আগে যখন শুরু করেছিলাম, সেই আমি আর আজকের আমি’র মধ্যে কিছু তফাত তো হয়েছে বটেই। অভিজ্ঞতা আর অনুভব… সব মিলিয়ে বলতে পারি, সুরকে আর একটু গভীরে গিয়ে দেখার চেষ্টা করি, যদিও কন্ঠে তার কতোটা আনতে পারি তা জানিনা। আর একটি বিষয়ে আমি আগের থেকে অনেক বেশী সংবেদনশীল হয়েছি বলে আমি মনে করি। সেটা হলো, শব্দের উচ্চারণ। গানের লিরিকের ভাষা সম্পর্কেও আমি আগের থেকে অনেক বেশি স্পর্শকাতর হয়েছি। এগুলো আমার গায়কিতেও একটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন অবশ্যই এনেছে।

পড়শী: আপনার গানের মধ্যে যে আবেগ ও মাধুর্য শ্রোতাদের আকর্ষণ করে, সেই অনুভূতি তৈরি করার পেছনে আপনার কী ভাবনা কাজ করে?

শ্রীকান্ত আচার্য: আমি যদি শিল্পী হতে চাই অথচ আমার মধ্যে যদি কোনো আবেগ না থাকে, তবে আর যাই হোক… শিল্পী হওয়ার পথে খুব বেশি দূর যেতে পারবো না। একটি গান গাইতে গিয়ে তার কথা-সুরসমেত যে ছবিটা আমার আবেগ মিশিয়ে আঁকতে চাইছি, ঠিক সেই ছবিটাই আমার শ্রোতার মনেও যদি এঁকে দিতে সক্ষম হই, তাহলে বুঝবো কোথাও একটা পৌঁছনো গেল। আমার ভাবনা ও লক্ষ্য থাকে সেটাই।

পড়শী: বর্তমান প্রজন্মের বাংলা গান ও নতুন শিল্পীদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

শ্রীকান্ত আচার্য: এই সময়ের নতুন বাংলা গানে আমি দুটি ধরণ দেখতে পাই। একটি হল একেবারেই সমকালীন পাশ্চাত্য সঙ্গীতের ছাঁদ, যেখানে নানা রকম form নিয়ে নানা রকম পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। কিছু কিছু নিরীক্ষা অবশ্যই সার্থক। আর একটি ধরণ হল, বিগত কয়েক দশক ধরে তৈরি হওয়া আধুনিক বাংলা গানের ধারাকে সমকালীন ধ্বনিচিত্রের (soundscape) মধ্যে এনে নতুন form সৃষ্টি করা। মুখ্যত এই দুটি ধারাতেই অনেক গুণী শিল্পীরা কাজ করছেন। আমি তাদের কাজের মূল্যায়ন করার কেউ নই। আশা করবো তাদের ভাল কাজগুলো আগামী দিনে মানুষ মনে রাখবে। এখানে একটি সঙ্কটের কথা বলতে চাই। সাহিত্য্ এবং সুর মিলেমিশে বাংলা গানের নিজস্বতার একটা সুন্দর পরিবেশ বা ecosystem ছিল। খুব প্রবলভাবেই ছিল। সেটা কোথাও যেন একটু একটু ক’রে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলা গানের শরীরকে অতিরিক্ত সাজাতে গিয়ে মাঝে মাঝে তাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি যে, তার আত্মাকে চেনা যাচ্ছে না। আধুনিক পৃথিবীতে মানুষের স্মরণশক্তিও ক্রমশ কমে আসছে। একটি গান একজনের মনে ভাল ভাবে দাগ কাটার আগেই কয়েকশো গান এসে তাকে মুছে দিচ্ছে। এ ভাবেই লক্ষ কাজের ভীড়ে সত্যিকারের ভাল কাজ অনেক সময় শ্রোতার কাছে পৌছনোর আগেই হারিয়ে যাচ্ছে।

পড়শী: আজকের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক মাধ্যম একজন শিল্পীর কাজের ধরণ কতটা বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন?

শ্রীকান্ত আচার্য: অনেকটাই। গান আগে শুধুই শোনার বস্তু ছিল, এখন আর তা নয়। অডিও-ভিসুয়ালের যুগে গায়ককে অনেক ক্ষেত্রেই দর্শনধারীও হতে হচ্ছে, কারণ, তার শ্রোতারা তো ওই অডিও-ভিসুয়ালের জমিতেই বসে আছেন। একে এড়িয়ে চলতে গেলে শ্রোতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার একটা দুশ্চিন্তা তো থাকবেই। অতএব, কেবল গান গেয়েই ক্ষান্ত হলে চলবে না, সে গানকে শ্রোতার কাছে কী ভাবে পৌঁছে দিতে হবে, এটাও এখন শিল্পীকেই ভাবতে হয়। মাত্র দু’ দশক আগেও ছবিটা এমন ছিল না। ডিজিটাল প্রযুক্তি আর সমাজমাধ্যমের যুগে অনেক শিল্পীর কাজের ধরণে সব থেকে বড়ো একটা বদল হল এটাই। তাকে সারাক্ষণ জানান দিয়ে যেতে হয়, তিনি আছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ. আই. এসে এই অস্তিত্বের সঙ্কটকে আরও জটিল ক’রে তুলছে।

পড়শী: মঞ্চে গান গাওয়ার আগে আপনার কোনো বিশেষ প্রস্তুতি বা অভ্যাস আছে কি?

শ্রীকান্ত আচার্য: না, আলাদা ক’রে তেমন কিছু নেই। একটু মনঃসংযোগের একটা ব্যাপার অবশ্যই থাকে। কোনো কোনো জায়গায় তার জন্য অনুকূল পরিবেশ পাই। কিন্তু, অনেক জায়গায় পাওয়া যায় না। তখন একটু অসুবিধে হয় বই কি।

পড়শী: একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবে নতুন প্রজন্মের গায়কদের জন্য আপনার কী পরামর্শ থাকবে?

শ্রীকান্ত আচার্য: আমি নিজে খুব ভাল ভাবে গান শিখতে পারিনি, তাই ভাল তালিমের প্রয়োজন সম্যক বুঝি। ওটাই আসল ভিত। মার্গসঙ্গীতের ভাল তালিমের কোনো বিকল্প নেই। আর একটি কথা, প্রচুর শুনতে হবে। শুধু গান নয়, যন্ত্রসঙ্গীতও। গানের সঙ্গে তবলার শিক্ষা হলে আরও ভাল হয়।

পড়শী: বাংলা সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার আশা ও প্রত্যাশা কী?

শ্রীকান্ত আচার্য: কিংবদন্তী সঙ্গীতস্রষ্টা সলিল চৌধুরীর বলা দুটি কথা আমি খুব মানি। এক, বাংলা কাব্যগীতির ধারায় কথা ও সুর সব সময় হাতে হাত ধরে চলেছে। একে অন্যকে পূর্ণতা দিয়েছে। এ এক অনন্য ইতিহাস। এই ধারাকে যদি তার মহিমায় উজ্জ্বল ক’রে রাখতে হয়, তবে বাংলা ভাষায় যারা মক্‌শো করা লিখিয়ে, তাদের গানের ক্ষেত্রে আসতে হবে। দুই, সঙ্গীত এক বহতা নদীর মতো। সব সময় সে একই চেহারায় থাকবে না। বাংলা গানও তাই। এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে মেনে নিতে হবে। ভবিষ্যতে যারা আসবেন, তারা নতুন গানের ভাষা ও ভঙ্গি তৈরি করবেন। কী তার অবয়ব হবে, কীই বা সুর হবে, কীই বা তার বাণী হবে… তা আমরা এই মুহূর্তে কেউই জানি না।

পড়শী: এত বছর পরেও গানকে ভালোবাসার সেই প্রথম দিনের অনুভূতিটা কি এখনও একই রকম আছে?

শ্রীকান্ত আচার্য: সেটা স্পষ্ট ক’রে বলা হয়তো মুশকিল। খুব অল্প বয়েসে গান নিয়ে এক ধরণের পাগলামি ছিল, সেটা এখনও আছে। গান গাওয়ার আনন্দ… সেটাও আছে। কিন্তু এখন তার সঙ্গে একটা অতৃপ্তিও থেকে যায় সারাক্ষণ। মনে হয়, আরও ভাল হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হচ্ছে না।

পড়শী: আজকাল প্রায় শোনা যায় শিল্পীদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা। সেটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

শ্রীকান্ত আচার্য: এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। কে কী উদ্দেশ্য নিয়ে শিল্পচর্চা করছেন, সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এ প্রশ্ন আমাকে করা হলে বলবো, যে সমাজে আমি বাস করছি, তার বাতাবরণকে সুন্দর রাখতে বা আরো একটু সুন্দর ক’রে তুলতে আমি অবশ্যই দায়বদ্ধ। আর সেই দায়বদ্ধতা আমি প্রকাশ করতে পারি কেবল আমার গান দিয়েই।

পড়শী: আপনার কি মনে হয় শিল্পীদের রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকতে পারে কিন্তু শিল্পীদের আসলে রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকাই ভালো?

শ্রীকান্ত আচার্য: একজন শিল্পী কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস রাখতেই পারেন, বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতেই পারেন। আসল কথা হল, তিনি তার কাজকে সত্যিকারের শিল্পের স্তরে উন্নীত করতে পেরেছেন বা পারছেন কি না। অন্তিমে সেটাই বিচার্য।

পড়শী: বাংলাদেশের গান কি শোনা হয়? শুনে থাকলে সাম্প্রতিক কালে কাদের গান ভালো লাগছে?

শ্রীকান্ত আচার্য: বাংলাদেশের সমকালীন বাংলা গান আমার খুবই কম শোনা হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে মতামত দেওয়া আমার উচিত হবে না।

পড়শী: দুই বাংলায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের চর্চা কমে যাচ্ছে এবং নানান ধারার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

শ্রীকান্ত আচার্য: দুই বাংলায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের চর্চা কমে যাচ্ছে, এ কথা আমি মানি না। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, বহু অনুষ্ঠানে মানুষ প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ করে এ গান শুনতে আসছেন। আমি নিজেই সে সব অনুষ্ঠানে কখনও গান গেয়েছি বা গাইছি, কখনও বা শ্রোতা হিসেবেও উপস্থিত থেকেছি বা থাকছি। চর্চা বা আগ্রহ কমে গেলে এটা ঘটতো কি? বাংলাদেশেও বহু ছেলেমেয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে এই গান এখনও শিখছে এবং পরিবেশন করছে বলেই আমি মনে করি।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রসঙ্গে বলি, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু পরিবর্তন আসবেই, আসাটাই স্বাভাবিক। বিগত সাত-আট দশকে আরও অনেক কিছুর সঙ্গে বদল এসেছে আমাদের বাচনভঙ্গীতে, গানের যন্ত্রানুসঙ্গের বিন্যাসে বা ভাবনায়। এই বদলের অভিঘাত সামগ্রিক ভাবে সঙ্গীতের ওপর নানা ভাবে পড়েছে। রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূল স্পিরিট’কে অক্ষুণ্ণ রেখে, তার বাণীগত ও সুরগত সমস্ত বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তাকে সসম্ভ্রমে অটুট রেখে তাকে সমকালীন সঙ্গীতের ধ্বনিচিত্রের মধ্যে নিয়ে আসার কাজটাই তো হওয়া উচিত, তাই নয় কি? না হলে তাকে তো একটা স্থবির গতিহীন প্রাগৈতিহাসিক বস্তু হিসেবে জাদুঘরে রেখে দিতে হয়! ঠিক এইখানেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার অবকাশ আছে ব’লে আমি মনে করি। সারাজীবন প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য সঙ্গীতের নানান ফর্ম ধরণ আর প্রকাশভঙ্গী নিয়ে রবীন্দ্রনাথের বহুবিধ পরীক্ষার ফসলই তো তাঁর গান। সমস্ত নিয়ম আর ব্যাকরণ জেনে আত্মস্থ ক’রে তার পর সে সব কড়াকড়ি ভেঙ্গে দেওয়া এক চরম র‍্যাডিকাল হলেন রবীন্দ্রনাথ। এ কথাটা আমি ভীষণ ভাবে মানি। আর মানি বলেই তাঁর গানকে সমকালীন সঙ্গীতের পরিসরে এক সজীব গতিশীল ধারা হিসেবে দেখতে চাই। এই প্রেক্ষিতে যে কোন সুস্থ, বুদ্ধিদীপ্ত ও সংবেদী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আমার সমর্থন আছে এবং থাকবে। কিন্তু সেই বাহানায় বা অছিলায় খোদার ওপর খোদকারিকে আমি সমর্থন করি না। আশা করি বোঝাতে পারলাম।

২৯ আগস্ট, ২০২৬

পড়শীর পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন…

porshi profile moon era meem

আইডাহো, যুক্তরাষ্ট্র

মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে অধ্যয়নরত। সঙ্গীত, আবৃত্তি, নাচ, বিতর্কের পাশাপাশি লেখালেখির চর্চাও ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠায় বিজ্ঞানের পাশাপাশি শিল্পকলায় ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।

porshi profile ehsan nazim

পোর্টল্যান্ড, ওরেগান, যুক্তরাষ্ট্র

প্রকৌশলী, কবি, লেখক এবং সংগঠক। দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত “সৃজন পাঠশালা”র কাজে তার অবসর কাটে।

porshi profile sabir majumder 1

শার্লোট, নর্থ ক্যারোলিনা, যুক্তরাষ্ট্র

নির্বাহী সম্পাদক, পড়শী


উত্তর আমেরিকার সবচে’ জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা ‘পড়শী’ এখন ডিজিটাল মাধ্যমে, অনলাইনে!


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।