রাতের খাবার খাওয়ার আগে ৮০ বছরের বৃদ্ধ ভদ্রলোক তাঁর স্ত্রীকে বলছে “বাবুকে একবার ফোন করবে? ও বোধহয় ভুলে গেছে আজ আমার জন্মদিন! তাই ফোন করেনি! একটিবার গলাটা শুনি! কিগো গিন্নি এর থেকে বড় জন্মদিনের উপহার কিছু হয়?”
স্ত্রী বলল “জানোই তো ওরা বিরক্ত হয় তাও তুমি অবুঝের মত করো, বাবুর জন্মদিনে আগে বাড়ি ভর্তি লোক আসতো। কি জানি এখন মাছের মাথা পায়েস এসব ওখানে হয় নাকি! দাঁড়াও ফোন করছি।”
তারপর অগত্যা বৌমাকে ফোন করলেন তার শ্বাশুড়ি- “কেমন আছো বৌমা? আমাদের নাতি ঠিক আছে তো? বাবু কে ফোনে পেলাম না, একবার বলবে ফোন করতে।”
“হ্যাঁ সবাই ভাল আছি। আপনারা ভাল তো? ফ্রি হলে ফোন করে নেবে।” ফোনটা কেটে দিল।
ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করছে- “কিগো, কি বলল?” ভদ্রমহিলার চোখের কোনটা চিক চিক করছে, “সময় হলে করে নেবে ফোন। এবার খেয়ে নাও, আজ তোমার প্রিয় পোলাও করেছি।”
ভদ্রলোক একবার চুপচাপ মুখে খাবারটা তুললো। তারপর টেবিলের ওপর হাতটা রেখে বলল “বুকে না একটু ব্যথা করছে।” ভীষন ঘামছেন ভদ্রলোক। ভদ্রমহিলা হাউস ফিজিশিয়ান কে কল করলেন।
প্রেসার স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। একটা মাইল্ড হার্ট এ্যাটাক হয়ে গেছে। “কি, প্রেসার এর ওষুধ খান?” ডক্টর জিজ্ঞেস করাতে স্ত্রী দেখে দীর্ঘ দিন ওষুধের বাক্সে হাত দেয় নি। ডক্টর শুনে জিজ্ঞেস করলেন- “কেন এমন করেছেন?”
বুড়ো উত্তর দিলেন শুকনো গলায়- “বাবু নাতি বৌমার কথা খুব মনে পড়ে; আমি আর আমার স্ত্রী, বড্ড একা লাগে। কি করবো বেঁচে!”
তার তো চিকিৎসা হল, উনি বেঁচেও উঠলেন। কিন্তু যদি বিপদ হত? সেটা কি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা? নাকি এটাই এখন রীতি!

