দু’টি কবিতা

ঝর্ণা ভট্টাচার্য্য
May 16, 2026
0 views
4 mins read

১.

বৈধব্য

তার ভেতরে কান্না ছিল পরান ছিল আটক।
কালনাগিনী বর খেয়েছিস এত কিসের কথা
তুই না নারী চুপ করে থাক সঙ্গে থাকুক ব্যথা।
বেশ তাহলে একটা হাসির মোড়ক পরি? সুখ আঁকা এক শাড়ি?
বুঝবে না কেউ কান্নাগুলো বজ্রপাতের বাড়ি।
নষ্ট মেয়ে সুখ দেখাবি আবার কোন মুন্ডু খাবি?
চোখের নিচে রাখ কালিমা নইলে নরক যাবি।
যাঁরা পাপী যাঁরা ভন্ড ভাঙছে পাঁজর ভাঙছে কাণ্ড
তাঁরাই কেবল জিতবে শুধু আমার ভোগে পিন্ড?
কে নেবে তোর পোড়া কপাল অলক্ষণের দায়
তোর বিলাসে বসবে সভা সবাই দেবে রায়।
আজকে আমার বিয়ের দিনে শপথ করি শোন
কি বলে রে বিধবারও বার্ষিকী না ঢঙ
ওরে সমাজ তোদের দিকে আঙুল তুলে বলি
ব্রহ্ম ছুঁয়ে বলিস দেখি বিবেকের দুই কলি।

২.

হারিয়ে যাওয়া এক অজুহাত

আমার পৃথিবী সহজপাঠ এর কাব্য
ইচ্ছেরা সব বড্ড সহজলভ্য।
গোপাল, বাঁটুল গপ্পো করে রোজ
মনেই পাওয়া সুয্যি মামার খোঁজ।
উপহারের মোড়ক সেথা প্রেম
কাঁথায় বোনা ভালবাসার হেম।
হারিয়ে গেল কাব্যকথার দেশ
রূপকথার এক স্বপ্ন ছিল বেশ।
এখন শুধু মোড়ক মোড়া বিষ
শব্দজোড়া কালনাগিনীর শিস।
ভয় পেয়ে যেই মায়ের আঁচল খুঁজি
ধুলোর ভিড়ে আনমনে চোখ বুজি।
আমার দেখা রাজ্যটা আর নেই
কঠিন কথায় হারাই পলকেই।
ঝিঁঝিঁর ডাকে আর আসে না তারা
দূষণ ভিড়ে হাসিরা ঘরছাড়া।
মনের ঘরে হাজার মানিক জ্বলে
মানুষ গাছে মানুষ যদি ফলে।
বিশ্বায়নের ধাঁধায় নকল আসল
ঠিক বুঝি না আমি নাকি পরমপিতা পাগল..


ঝর্ণা ভট্টাচার্য্য | কোলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

গীতিকার, কবি, লেখক এবং সমাজকর্মী।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

প্রচ্ছদ : জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ / মে ২০২৬

Next Story

চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল-এর সাথে পড়শীর একান্ত সাক্ষাৎকার