পড়শী মূল রচনাবলী সংযোগ ফাউন্ডেশন – নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে সুযোগে রূপান্তর করার প্রয়াস

সংযোগ ফাউন্ডেশন – নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে সুযোগে রূপান্তর করার প্রয়াস

Post Views: 344

বুয়েট থেকে পাশ করার পর আরো অনেকের মতো তারও সুযোগ ছিল বাইরে যেয়ে মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি করে সেটেল করার, কিন্তু মন সায় দেয়নি। বুকের ভেতর লালন করা একটা স্বপ্ন, দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কেন আমার দেশের ছেলে মেয়েরা প্রযুক্তিতে কিংবা সেবায় পৃথিবী সেরা হতে পারবে না, কেন মেধার সাথে সুযোগের সংযোগ ঘটানো সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে যে অবসাদ গ্রাস করেনা তা কিন্তু নয়, তারপরও হঠাৎ মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে ভাবতে থাকে, জীবনটা তো ছোটই , কিছু একটা করা দরকার।

প্লেনটা আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে, পেছনে পরে রইলো একটা শহর, অগণিত মানুষের কোলাহল, বাবা মার ক্লান্ত দৃষ্টি, প্রিয় শিক্ষকের একান্ত কিছু প্রত্যাশা কিংবা ক্যাফেটেরিয়ার ছোট্ট ছেলেটার না রাখা আবদার। মেঘের চিঠি পড়ার চেষ্টা প্লেনের জানালায়, ঝাপসা চোখ, টেলিপ্যাথি করে শহরের কাছে পৌঁছে দেয় দৃপ্ত অঙ্গীকার।

পেশাগত জীবনে বেশ প্রতিষ্টিত, সিলিকন ভ্যালিতে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে হয়ে গেলো অনেক বছর। পৃথিবীকে ঘুরে দেখার ইচ্ছা তার প্রবল তাই যখন বিভিন্ন দেশে পরিব্রাজক হয়ে যায় সে, তার সাথে অনেক বাংলাদেশির দেখা হয়ে যায়। কেউ কেউ খুব ভালো ভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন কিন্তু অনেকেই খুব লেবার ইনটেনসিভ জব করছেন যার জন্য তারা তাদের প্রাপ্য মর্যাদা কিংবা সম্মানী পাচ্ছেন না। বিশ্বায়নের যুগে যখন এআই এর মঞ্চে সবাই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, আমরা তখন কেন শ্রম নির্ভর মানব সম্পদে পিছিয়ে থাকবো। আজকে আমরা যদি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে টেকনোলজির মাধ্যমে ভ্যালু এডিশন করতে পারি তাহলে আমাদের আর অন্য দেশগুলোর পেছনে দাঁড়াতে হবে না, ইন্টারনেট এবং টেকনোলজি যে অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে আমরা কেবল তাতে দর্শক হয়ে থাকবো না। কিন্তু কি করা যায় যেন আমরা আমাদের দেশের এই নতুন প্রজন্মকে একটা প্লাটফর্ম দিতে পারি? কিছু আইডিয়া মাথায় আছে কিন্তু সুযোগের অভাবে সমন্নয় হচ্ছে না। এরকম কিছু গল্প নিয়েই সংযোগ ফাউন্ডেশনের যাত্রা।

সময়টা মহামারীর, ৭ জুন, ২০২০, অক্সিজিনের জন্য চারিদিকে হাহাকার। এমন সময় জাভেদ, সিজার, সোহান, কচি সহ কয়েকজন এগিয়ে আসলো, ৫টা সিলিন্ডার দিয়ে যেই মানবতার সংযোগ শুরু হলো আজকে তা বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠিত এনজিও এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫০১ সি (৩) আইআরএস নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান। সংযোগ ফাউন্ডেশন হচ্ছে এমনই একটা উদ্দ্যোগ যেখানে সকল নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে সুযোগে রূপান্তর করার প্রয়াস, যেখানে পদে পদে শুনতে হয়েছে কেন কিছু করা সম্ভব নয়, কেন অর্গানাইজেশন রেজিস্ট্রেশন করা কতটা কঠিন, কেন ফান্ড রেইজ করে কিছু করার কত বিড়ম্বনা; সেখানে আরও বেশি অনুপ্রেরণা নিয়ে সংযোগ টিম এগিয়ে গেছে দ্রুত থেকে দ্রুততর। সেদিন এহসান নাজিম সবাইকে অনুপ্রেরণা দিলেনা, বললেন “তোরাই পারবি, আমি তো আছি সাথে”, স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে এগিয়ে আসলেন সংযোগের বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক এবং উপদেষ্টারা, সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে দাঁড়িয়ে গেলো সংযোগ। একীভূত হলো আমাদের দায়িত্ববোধ, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেলো সংযোগ ফাউন্ডেশন। সংযোগ ফাউন্ডেশন মূলত চারটি প্রধান লক্ষ্যে কাজ করে, অবহেলিত তরুণ সমাজের দক্ষতা অর্জন, শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্রের অবসান, স্বাস্থ্যসেবাকে ঘরের দোড়গোড়ায় নিয়ে যাওয়া এবং দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

কোভিডের সময় সংযোগের রাইডাররা মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে বাংলাদেশের ৫৪টি জেলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে গেছেন রুগীদের বাসায়, ১০০ হসপিটালে সংযোগ অক্সিজেন এবং পিপিই সেবা দিয়েছেন, যার বিনিময়ে আমরা শুধু মানুষের জীবনই বাঁচাইনি বরং গড়ে তুলেছি ১২০০ ভলান্টিয়ারের একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনবল যারা পরবর্তীতে প্রত্যেকটি দুর্যোগে অত্যন্ত সক্ষমতার সাথে ত্রাণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেছে। এই ভলান্টিয়াররাই আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দেয় কেয়ারগিভার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে। আমাদের অনেকেরই বাবা মা অসুস্থতার সময় সঠিক সেবাটা পান না, অনেকেরই সন্তানরা বিদেশে থাকেন বিধায় তাদের পক্ষে তড়িৎ সব কিছু ব্যবস্থা করাটা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমরা চিন্তা করলাম দেশের এত তরুণ তরুণী বেকার হয়ে আছে, তাদের যদি আমরা প্রযুক্তি ও সেবার প্রশিক্ষণ দিতে পারি তাহলে তারাই কেয়ার গিভিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিবে এবং সেই সাথে আমাদের প্রবাসীদের বাবা মাদের সেবা নিশ্চিত করতে পারবে। সেই ভাবনা থেকেই আজকে আমাদের কেয়ারগিভিং প্রোগ্রামে ১৫০ জনের অধিক সার্টিফাইড কেয়ারগিভার এবং সেই সাথে সংযোগ এনএসডিএর তালিকাভুক্ত প্রশিক্ষন সংস্থা। আমাদের কেয়ারহোমে ২০ জনের অধিক অতিথিকে আমরা সেবা দিচ্ছি, আমাদের তিনটি অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে চলে অবিরাম, আমরা একটি মডেল স্থাপন করেছি যেখানে এইসব প্রতিষ্ঠান একই সাথে স্বনির্ভর এবং সেবামূলক।

যে কোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের শুধু অনুদানের উপর নির্ভরশীল হয়ে স্থিতিশীল থাকাটা খুব কঠিন। এজন্যই অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠান একসময় স্থিমিত হয়ে পরে পর্যাপ্ত ফান্ডের অভাবে। আমরা যে মডেলটি প্রতিষ্ঠা করেছি তাতে অতি দরিদ্র ব্যক্তি যাদের এম্বুলেন্সের সেবা নেয়ার মতো সামর্থ নেই তাদের খরচটি যাকাত কিংবা অন্য ডোনেশন ফান্ড থেকে সমন্বয় করা হয়। আমাদের শিক্ষা বৃত্তি যেটা সাস (সনি আবরার স্কলারশিপ) নামে পরিচিত, সেখানেও আমরা একটি মানদণ্ড রেখেছি যেন বৃত্তি প্রাপ্তরা এর বিনিময়ে স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করেন এবং নিয়মিত ভাবে আপডেট দেন। আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় আমরা জেনেছি যে শুধু অর্থ অনুদানে জীবনের পরিবর্তন সম্ভব নয় যদিনা জবাবদিহিতা এবং বিনিময়ের যোগসূত্র না থাকে। এক্ষেত্রে যারা অনুদান দিচ্ছেন তাদের প্রাপ্তি আসেনা, যারা নিচ্ছেন তাদেরও ভাগ্যের পরিবর্তন আসে না। যদি সত্যি করে পরিবর্তন আনতে হয় তাহলে মানবপুঁজির বিকল্প নেই, সবচেয়ে বড় মূলধন এক্ষেত্রে হলো দক্ষতা। সংযোগ ফাউন্ডেশনের দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যেহেতু প্রকৌশলী, আমরা টেকনোলোজি দক্ষতা উন্নয়নেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছি। এক্ষেত্রে সংযোগ ফাউন্ডেশন কয়েকটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার সহযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাফিক্স ডিসাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং এর মতো ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং দিচ্ছে , এই বছরের শেষে এই প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চল সমূহের ১২০০ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ ও মেন্টরিংয়ের মাধ্যমে আইটি-দক্ষ জনবল/ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

porshi cover 2026.07 Songog img 1

আমাদের ট্রেনিং প্রোগ্রাম বিস্তৃত হয়েছে কক্সবাজার থেকে ফরিদপুর, মহেশখালী থেকে চুয়াডাঙ্গা। আরেকটি প্রজেক্টে সংযোগ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কিছু প্রত্যন্ত স্কুলে ইন্টারেক্টিভ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে, তার সুবাদে ডালাস এবং টরেন্ট থেকে হাইস্কুলের ছেলেরা পটিয়ার স্বপ্ননগর স্কুলে রোবোটিক্স এর প্রদর্শন করছে, পোর্টল্যান্ড থেকে এক্সপার্টরা সিরাজগঞ্জের চরে ইন্টারনেট সেফটির ক্লাস নিচ্ছেন। সংযোগের লক্ষ্য হলো আমাদের প্রবাসীদের এবং তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের সাথে বাংলাদেশের সেতুবন্ধন করা। পোর্টল্যান্ডের সৃজন পাঠশালার উদ্যোগে চট্টগ্রামের দুর্গম স্কুলে ক্লাসরুমের সস্থান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন রাজ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের কিশোরী আরিয়া প্রত্যেক বছর একটি দৌড়ের আয়োজন করে যার অর্থ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সারা বছরের স্কুলের সরঞ্জাম দেয়া হয়। পুরো বিশ্বে কিশোর এবং তরুণদের মধ্যে হতাশা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেকজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংযোগ আত্মহত্যা সচেতনতা ওয়ার্কশপ করেছে। আমেরিকার হাইস্কুলগুলোতে এআই নিয়ে সচেতনতা মূলক ওয়ার্ক শপের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া প্রবাসে পড়তে আসা বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীদের সকল প্রকার সহযোগিতা ও সচেতনতার লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি বেসড প্রোগ্রাম করে সংযোগ। সংযোগ বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানদের একটি যারা অটিজম এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে, আমরা এই বছর অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাব এর সাথে এমওইউ সাইন করেছি ডিজিটাল ইনক্লুশন নিয়ে কাজ করতে, আমাদের কেয়ার হোমে ৬ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্থায়ী ভাবে আছেন, যারা বিভিন্ন ট্রেনিং এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবেই আমরা প্রতিনিয়ত মানবতার বীজ বপন করছি আর আমাদের সংযোগ পরিবারে যুক্ত হচ্ছে নতুন মুখ, নবায়িত উদ্যমে।

একটা প্রশ্ন হয়তো উঠতে পারে, সংযোগের ফান্ডিং কোথা থেকে আসে?

দায়িত্ববোধ থেকেই হোক কিংবা মানবতার আহবানে, মানুষ স্বভাবগত ভাবেই পরোপকারে এক তৃপ্তি অনুভব করে। যে যে যার অবস্থান এবং সামর্থ থেকে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করে। তাই উত্তর আমেরিকাতে যে কোনো যোগ্য অলাভজনক কাজে বাংলাদেশী প্রবাসীদের অর্থ সাহায্য দিয়ে অংশগ্রহণ একটি স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপার। কিন্তু সবাই একটা বিষয় নিশ্চিত করতে চান যে তাদের অতি কষ্টার্জিত অর্থ সঠিক ও স্বচ্ছ ভাবে বিতরণ করা হবে এবং প্রাপ্য মানুষের কাছে পৌঁছাবে।সবচেয়ে কঠিন কাজটি হচ্ছে মানুষের আমানতের সঠিক বন্টন এবং একটি স্বচ্ছ ফিডব্যাক মেকানিজম যেন পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয়। সংযোগের শুরুর তিনটি বছর আমরা এই প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছি এবং একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে আমরা হিসাবরক্ষণ করে থাকি।

সাদা দাগে তিন রকমের অনুদান নিয়ে আমরা কাজ করি – ১) যাকাত এবং ডোনেশন, ২) বিপর্যয়ের জন্য ফান্ড রেইসার, এবং ৩) আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রজেক্ট বিশেষে; এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের কিছু প্রজেক্টে আমরা অনুদান পাই যদি সিলেক্টেড হই, যেমন আমাদের কেয়ার গিভার এপ নিয়ে একটি অ্যাওয়ার্ড আমরা পেয়েছিলাম বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে। যেহেতু আমরা ৫০১সি(৩) প্রতিষ্ঠান, আমাদের খুব নিবিড় এবং নিখুঁতভাবে হিসাব রক্ষণ করতে হয় যেন প্রত্যেকটি ডলারের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব থাকে এবং আইআরএস এর বিধিমালা অনুসরণ করা হয়। প্রত্যেক বছরের ট্যাক্স ফাইল ফেডারেল ওয়েবসাইট এ আপলোড করা হয় এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। আরেকটা প্রশ্ন অনেকসময় আসে যে বাংলাদেশে কেমন করে ফান্ড পাঠায় আমেরিকান নন প্রফিট। আমেরিকা থেকে ফান্ড পাঠানো কিছুটা সহজ হলেও বাংলাদেশ থেকে রিসিভ করা অতটা সহজ নয়। যে কোনো ফান্ড ট্রান্সফার করতে হয় ব্যাংক দ্বারা এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন লাগে তা রিলিজ করতে। যেহেতু সংযোগ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকারের এনজিও ব্যুরোর এনলিস্টেড, তাই আমাদের সকল ব্যাংক লেনদেন থার্ড পার্টি দিয়ে অডিট করানো হয় প্রত্যেক বছর।

porshi cover 2026.07 Songog img 2

সত্যি বলতে আমাদের পরিচালন ব্যয়ের অধিকাংশই হচ্ছে এইসব ফি কারণ সংযোগের সকল ডিরেক্টররা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন এবং এর জন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না। আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন খরচ <৫% যা এইরকম নন প্রফিটদের জন্য খুবই বিরল। গত কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন খরচ ছিল শূন্যের কোঠায়, যেমন বন্যায় যত তহবিল উঠানো হয়েছিল তার প্রত্যেকটি পয়সা ভুক্তভুগির কাছে গিয়েছে। আমাদের সাস বৃত্তি প্রোগ্রামও তাই, আমাদের স্বাবলম্বী প্রজেক্টে প্রত্যেকবছর ৩০-৫০ জনকে স্বাবলম্বী করা হয় যার পুরো স্বচ্ছতা ফেইসবুক এবং ওয়েবসাইট এ দেয়া হয়। কোম্পানি ম্যাচিং এর ক্ষেত্রে খুব স্ট্রিক্ট কিছু প্রোটোকল আছে যা সব নন প্রফিটকেই মানতে হয়, যেমন কোনো প্রকার ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না, ব্যক্তিগত খাতে খরচ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ইত্যাদি আমরা বেনেভিটি সহ বাকি সবগুলো নন-প্রফিটের এফিলিয়েটেড, তাই যে কোনো অংশগ্রহণকারী কোম্পানিতে আমরা ম্যাচিং এলিজিবল।

২০২৬ সালের তরুণ প্রজন্ম হার মানা শেখেনি, তাদের করুণা বা দয়ার প্রয়োজন নেই। তাদের দরকার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ আর একটু উৎসাহ। সংযোগের কেয়ার গিভিং এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে সেই সব তরুণ তরুণীরা খুঁজে নিবে তাদের ভবিষ্যতের পাথেয়। আমরা কোনো ব্যক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠান নই, আমরা বিশ্বাস করি, যে স্বপ্ন জানালায় আঁকা আছে তা আজ হোক কাল হোক বাস্তব হবে, সেটা আমাদের হাত ধরে বা অন্য কারো, সংযোগ রয়ে যাবে মানুষের সংযোগে। যে স্বপ্ন জাভেদ জামাল আমাদের দেখিয়েছে এর রিপিল ইফেক্ট পৌঁছে যাবে পরবর্তী প্রজন্মে; সকলকে শুভেচ্ছা এবং সংযোগের পরিবারে স্বাগতম।

(www.songjogfoundation.org )

(https://www.facebook.com/songjog.org/ )

৪ জুলাই, ২০২৬


পোর্টল্যান্ড, ওরেগান, যুক্তরাষ্ট্র

সংযোগ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট। সিনিয়র প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার, ইন্টেল কর্পোরেশন। অবসরে হাইক করতে, গান গাইতে, লেখা লেখি করতে পছন্দ করেন। হরপ্পার বন্ধুরা নামে একটা ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা, ভোকালিস্ট, সুরকার।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।