জানলায় একফালি রোদ—
যেন বহু পুরনো কোনো চৈত্রমাস,
তার অপ্রকাশিত দীর্ঘশ্বাসটুকু নিয়ে
ঘরে এসে বসেছে নিঃশব্দে।
পর্দাটা সামান্য দুললে মনে হয়—
ওর ভাঁজেও কিছু কথা লুকিয়ে ছিল,
ঠিক যেমন বুকের ভেতর
চুপচাপ বড় হতে থাকে কিছু তীব্র অভিমান।
খাট, পালঙ্ক, কিংবা ওই জানলার ধারের
ক্লান্ত মানিপ্ল্যান্ট—
সবই তো চেনা, সবই তো ছুঁয়ে দেখা যায়,
অথচ এই চেনা ছকের ভেতরেই
কোথাও একটা থেকে যায় অচেনা, গভীর ফাঁক।
আমাদের এই যাপন, এই ভাত-তরকারির গন্ধমাখা ঘর,
কিংবা বালিশে লেগে থাকা ঘুমের অবশেষ—
সবটাই কি তবে অস্থায়ী?
দিনের শেষে মানুষ থাকে না,
থাকে না কোনো পোক্ত প্রতিশ্রুতি;
শুধু থেকে যায় একমুঠো বিষণ্ণতা,
যা বৃষ্টি আর রোদে ভেজা পুরনো দিনের গন্ধে
আমাদের ঘরবাড়ি ভরে রাখে।
অদ্ভুত এক জাদুকরি আবেশে
যা কিছু আমাদের হাত ফসকে যায়,
যাকে কোনোভাবেই আর ধরা যায় না—
সেই অনুপস্থিতিটাই আসলে দীর্ঘজীবী।
সারাজীবন আমরা যার পিছু ছুটে ক্লান্ত হলাম,
শেষে বুঝলাম— সে তো কোনোদিন ছিলই না!
অথচ তাকে হারানোর শোকেই
আমাদের এই বেঁচে থাকাগুলো আজও সার্থক হয়ে ওঠে।
যাকে আমি খুব বেশি ‘আমার’ ভেবে দু’হাতে জাপটে ধরি,
ছুঁতে গেলেই সে তার সমস্ত জৌলুস হারিয়ে
বড় বেশি সাধারণ হয়ে যায়।
আসলে যা কিছু সত্য, সে বড় অবাধ্য,
সে সবসময় ধরা-ছোঁয়ার অতীত;
বাকি সবটাই তো কেবল—
এই অশরীরী মায়ার আড়ালে সাজানো সুন্দর অভিনয়।
৩০ জুন, ২০২৬

