কোমল ছোট্ট একটা হাত পিতার শক্ত একটি আঙুল আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলছে। সামনে দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিনন্দন ইমারত, যার দেয়াল জুড়ে রং-বেরঙের নানা চিত্রকর্ম। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে কচিমুখের একদল সোনামণি মাঠের মধ্যে খেলায় মেতে আছে। মাঠের চারিধার বাহারি রঙের ফুল গাছে মোড়ানো, একদল ইউনিফর্ম পরিহিত খুদে শিক্ষার্থী পরম যত্ন নিয়ে সেসব গাছে পানি দিচ্ছে। হঠাৎ ডং ডং শব্দে বেজে উঠল স্কুলের ঘণ্টা। মুহূর্তের মধ্যেই শিক্ষকমণ্ডলীর সুনিপুণ নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা মাঠের মাঝে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেল। সম্মানের সহিত সমস্বরে উচ্চারিত হতে লাগল জাতীয় সংগীত, এরপর শুরু হলো শরীরচর্চা। এই মনোরম দৃশ্য কোনো ব্যয়বহুল ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নয়, এটি ঢাকার গাবতলী বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ‘স্পন্দনবি বিদ্যালয়’-এর প্রাত্যহিক চিত্র।
একটি আদর্শ বিদ্যালয়ের যে কাল্পনিক অবয়ব আমার আপনার মানসপটে ভেসে ওঠে, ‘স্পন্দনবি বিদ্যালয়’ ঠিক সেই রূপটিকেই বাস্তবে রূপদান করেছে। ২০১১ সালে ঢাকা শহরের সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গাবতলী শাখায় প্রথম এই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা করলেও, আজ তা এক বিশাল মহীরূহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির মোট ৪টি শাখায় প্রায় ১,৬০০ জন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসম্মত আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করছে।
চার শাখায় ছড়াচ্ছে শিক্ষার আলো
স্পন্দনবি সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দিতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে তাদের ৪টি শাখার শিক্ষার্থী বিন্যাস নিম্নরূপ:
• গাবতলী শাখা: ৪৪১ জন শিক্ষার্থী (প্লে থেকে দশম শ্রেণি, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা)
• কল্যাণপুর শাখা: ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী (প্লে থেকে দশম শ্রেণি, কম্পিউটার ল্যাব ও ডিজিটাল শিক্ষা)
• মোহাম্মদপুর শাখা: ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী (প্লে থেকে দশম শ্রেণি, সহ-শিক্ষা কার্যক্রম)
• সূচনা শিক্ষা কেন্দ্র: ৩৫৯ জন শিক্ষার্থী (প্লে থেকে দশম শ্রেণি, কম্পিউটার ল্যাব ও ডিজিটাল শিক্ষা)
এই বিদ্যালয়গুলোতে প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার যাবতীয় খরচ যেমন খাতা-কলম, স্কুলব্যাগ, ইউনিফর্ম, জুতো থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও পুষ্টির সার্বিক দায়িত্ব এককভাবে বহন করে চলেছে স্পন্দনবি। পুষ্টির মান নিশ্চিতকরণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন টিফিনে ডিম, দুধ, ব্রেড, বিস্কুট, কলা এবং সবজি খিচুড়ির মতো স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। একই সাথে বিদ্যালয়ের দুটি শাখায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কম আয়ের পরিবারের এই শিশুরাও ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। এছাড়াও শিক্ষা বর্হিভুত কার্যক্রম হিসেবে গান ও ছবি আঁকা শেখা অন্যতম।
এসএসসির পরও থামে না দায়িত্ব: বৃত্তির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা
সাধারণত অনেক সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রাথমিক বা মাধ্যমিকেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু স্পন্দনবি-র দর্শন সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাধ্যমিক (এসএসসি) উত্তীর্ণ হবার পরেও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাদের কর্মক্ষম করে তুলতে আর্থিক সহযোগিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছে সংস্থাটি। স্পন্দনবি বিদ্যালয় থেকে সফলভাবে এসএসসি পাস করে রিদয়, শামসুদ্দিন, হাওয়া, সুনাম, শাকিল ও বন্যার মতো হাজারো শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য কলেজে পড়াশোনা করছে, যাদের সম্পূর্ণ পড়াশোনার আর্থিক ভার এখনো স্পন্দনবি-র কাঁধেই রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেকার। এই বেকারত্ব দূরীকরণে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্পন্দনবি গড়ে তুলছে একটি আধুনিক ‘স্পন্দনবি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার’, যা ইতোমধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) থেকে অনুমোদন লাভ করেছে। প্রাথমিকভাবে ৫টি টেকনিক্যাল ট্রেড নিয়ে এই সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।
আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মহৎ উদ্যোগ
স্পন্দনবি একটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা। ১৯৯৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একদল সমাজসচেতন প্রবাসী বাংলাদেশীর হাত ধরে মাত্র ১৫০ ইউএস ডলার দিয়ে এই মহৎ যাত্রার সূচনা যা একটি ৫০১(সি)(৩) দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত| এ সংস্থাটির আয়ের প্রধান উৎস আসে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থ থেকে| নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের উপার্জিত অর্থ নিজ দেশের কম আয়ের মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়ে তারা দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০১১ সালে সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে দাপ্তরিক নিবন্ধন (নিবন্ধন নম্বর: ২৬২৩) লাভ করে।
“Together we can build a better Bangladesh” এবং “A little help goes a long way”—এই দুটি মূল প্রতিপাদ্যকে বুকেই ধারণ করে এগিয়ে চলেছে স্পন্দনবি।
দেশজুড়ে বিস্তৃত মেধা বৃত্তি প্রকল্প
শুধুমাত্র নিজেদের স্কুলের শিক্ষার্থীদেরই নয়, দেশব্যাপী অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে স্পন্দনবি বেশ কিছু নামকরা বৃত্তি প্রকল্প পরিচালনা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশন স্কলারশীপ’। ২০০৪ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে সারাদেশের মোট ১৩টি ক্যাটাগরীতে প্রায় ১০০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তি প্রদান করে আসছে। এছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণে ২০০২ সাল থেকে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে ‘রূরাল ট্যালেন্ট অ্যাডভান্সমেন্ট প্রোগ্রাম’। পাশাপাশি চমন আরা মেধা বৃত্তি, ইফফাত আরা স্কলারশীপ, খমিরণ সাবান স্কলারশীপ, তাহের দেলোয়ার মেমোরিয়াল স্কলারশীপ, হোসনে আরা আতিক স্কলারশীপ, এ.এস.এম হাবিবুল আলম স্মৃতি বৃত্তি এবং আব্দুল আউয়াল স্মৃতি বৃত্তি সহ সমমনা প্রায় ৩৫টি বৃত্তির মাধ্যমে প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভাঙা থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে নীরব বিপ্লব, পিঙ্ক শাড়ি ও রেশমার গল্প
মানবসেবার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করতে স্বাস্থ্য খাতেও স্পন্দনবি রাখছে অনন্য অবদান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সংস্থাটির অন্যতম বড় সাফল্য হলো ‘পিঙ্ক শাড়ি প্রকল্প’, যার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত স্তন ক্যানসারে (Breast Cancer) আক্রান্ত ৩৪ জন অসহায় নারীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রদান করে তাদের পাশে রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সাথে যৌথ উদ্যোগে সংস্থাটি ‘বার্ন ভিকটিম সাপোর্ট প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করছে। এর একটি জীবন্ত উদাহরণ হলো রেশমা। হারিকেনের আগুনে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হওয়া ছোট্ট শিশু রেশমার জীবন যখন বিনা চিকিৎসায় প্রদীপ নেভার মতো উপক্রম হয়েছিল, তখন ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসে স্পন্দনবি। তার সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হয়। পরবর্তীতে গ্রামীণ জীবনে আলোর জন্য রেশমার বাড়িতে সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করা হয় এবং তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হয়। সেই রেশমা আজ এসএসসি পাস করে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। যে রেশমা একদিন অন্যের সেবায় সুস্থ হয়েছিল, সে আজ নিজেই দুস্থ মানুষের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করার স্বপ্ন দেখছে।
এছাড়াও, ২০০৬ সাল থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ ত্রিবন্ধনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি অত্যাধুনিক ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার। এই সেন্টারটি প্রতিষ্ঠার সময় স্পন্দনবি আমেরিকা থেকে প্রায় ২ লক্ষ মার্কিন ডলার সমমূল্যের আধুনিক ল্যাবরেটরি ও রক্ত সঞ্চালন সরঞ্জাম জাহাজের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সরবরাহ করেছিল, যার মাধ্যমে আজ হাজারো মুমূর্ষু রোগীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বল্প সময়ে রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
‘গ্রাম থেকে শুরু’ ও সামাজিক পুনর্বাসন
বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। গ্রামীণ জনপদের টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০২ সাল থেকে চালু রয়েছে ‘গ্রাম থেকে শুরু’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুড়িগ্রামের দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারগুলোর মাঝে বিনামূল্যে ঘর সহ গরু বিতরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পাশাপাশি, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় অবস্থিত ‘গোলাপ খাঁ শিশু সদন’-এর ৭০ জন এতিম ও অসহায় শিশুর আবাসন, খাবার, পোশাক ও শিক্ষার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে স্পন্দনবি। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির বাজেট ঘাটতির সময়ে টিনের ছাদ মেরামত ও আবাসন উন্নয়নের যাবতীয় খরচও স্পন্দনবি প্রদান করে আসছে।
দুর্যোগ ও মানবিক বিপর্যয়ে অগ্রসৈনিক
যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবিক বিপর্যয়ে স্পন্দনবি সবসময় প্রথম সারিতে দাঁড়িয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা কিংবা তীব্র শীতের প্রকোপ সবসময়ই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট লাঘবে কাজ করেছে সংস্থাটি। বন্যা কবলিত এলাকায় তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা, মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের সামগ্রী বিতরণ স্পন্দনবি-র নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ। অতি সম্প্রতি ২০২৪ সালের ফেনী জেলার প্রলয়ঙ্করী বন্যায় দুর্গতদের মাঝে বিশাল ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারা।
ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর আহত পোশাকশ্রমিক ও উদ্ধারকর্মীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছিল স্পন্দনবি। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে পঙ্গুত্ব ও কর্মহীনতার শিকার হওয়া প্রায় ৫৬ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে পুনর্বাসিত করে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা হয়।
বৈশ্বিক করোনা মহামারীর সময়ে যখন চিকিৎসকদের সুরক্ষা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, তখন স্পন্দনবি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪,০০০ মার্কিন ডলার মূল্যের এন৯৫ (N95) মাস্ক, পিপিই (PPE) ও স্যানিটাইজার সরবরাহ করে। একই সাথে দেশব্যাপী লকডাউন এলাকায় হাজার হাজার কর্মহীন পরিবারের ঘরে ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
কাগজের সীমানা ছাড়ানো কিছু অনুভূতি
শিক্ষা, চিকিৎসা, গ্রামীণ উন্নয়ন আর জরুরি মানবিক সহায়তার এই পরিসংখ্যানগুলোকে হয়তো খাতার পাতায় বা কম্পিউটারের স্প্রেডশিটে নিখুঁতভাবে সাজানো সম্ভব, কিন্তু এর মাধ্যমে যে লাখো মানুষের মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটেছে, তা কাগজে-কলমে লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব।
গ্রামের একজন ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক, প্রান্তিক চাষি, কিংবা দিনমজুর জেলে যার প্রতিদিনের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, সন্তানের পড়াশোনার খরচ যার কাছে এক আকাশকুসুম কল্পনা; তার সন্তান যখন স্পন্দনবি মেধা বৃত্তির সুযোগ পায়, তখন সেই বাবার চোখের কোণে যে আনন্দের অশ্রু জমায়, তার কোনো আর্থিক মূল্য হয় না। কিংবা ঢাকার ফুটপাতে রিকশা চালানো বাবা, দিনমজুর, কুলি, হকার কিংবা অন্যের বাড়িতে কাজ করা পরিচ্ছন্নতাকর্মী মায়ের সন্তানটি যখন নতুন স্কুলব্যাগ, চকচকে ইউনিফর্ম আর পায়ে নতুন জুতো গলিয়ে স্পন্দনবি বিদ্যালয়ে যায়, তখন তারা পরম মায়ায় বুক ভরে উচ্চারণ করে “ধন্যবাদ স্পন্দনবি”।
সুদূর প্রবাসে থেকে দেশের মাটি ও মানুষের জন্য প্রবাসীদের এই যে নিখাদ ভালোবাসা, তহবিল সংগ্রহ ও প্রেরণ এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার সঠিক বাস্তবায়ন তা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশী প্রবাসীদের দেশপ্রেমের এক অনন্য ও ঐতিহাসিক স্মারক হয়ে থাকবে।
৫ জুলাই, ২০২৬

