চাই তরুণ, তরুণী ও তারুণ্য
২০০১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত পড়শী প্রকাশনা ও সম্পাদনায় নিযুক্ত আমরা সবাই তখন ছিলাম একদল স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী অথবা মাঝবয়েসী। এরই মধ্যে কালের পঞ্জিকা থেকে মহাকালে বিলুপ্ত হয়ে গেছে সিকি শতাব্দী।
এখন যারা পড়শীতে আছি তাদের বেশির ভাগ সেই পুরোনো নবীনেরাই। সেই সব নবীনের পালকে যুক্ত হয়েছে অভিজ্ঞতার দুর্লভ রূপালী পালক। তারা মনের দিক থেকে চিরতরুণ।
তবে এখনকার এই বিশ্বপরিসরে পড়শী সম্পাদকমণ্ডলীতে ও লেখক-লেখিকাদের সমাবেশে নতুন পুরাতনদের সম্মিলন ঘটেছে ও আরো ঘটতে যাচ্ছে। প্রখ্যাত ও উদীয়মান লেখকদের নিয়ে আমরা পড়শীকে সত্যিকার অর্থেই “বিশ্ববাঙালির মুখপত্র” হিসেবে পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চাই। তার জন্য নতুন প্রজন্মের লেখকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চাই। তারা তাদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, স্বপ্ন, সমস্যা এবং সমাধানকে নিজের ভাষায় তুলে ধরবেন।
ছোট কিংবা বড়- এমন কোনো সমস্যা ও সমাধান নেই যেগুলো নিয়ে এই নতুন-পুরাতনরা আলোচনা করেন না, বৈঠকখানায় ঝড় তোলেন না, বা ভাবিত হন না। সেগুলো আরেকটু গভীরে চিন্তাভাবনা করে ও পরিশীলিত ভাবে পড়শীতে লিখলে নিজের যেমন উন্নয়ন হবে, তেমনি উপকৃত হবেন পড়শীর পাঠকেরা। ধীরে ধীরে সেই উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে সমাজ ও দেশ, সর্বোপরি বিশ্ববাঙালি। পড়শী যেমন লেখালেখির একটা মাধ্যম, বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য, তেমনি যে কোনো বিষয় বা কর্মকাণ্ডের জন্য হতে পারে একেকটা করে স্ফুলিঙ্গ। সুচিন্তিত লেখালেখি খুলে দিতে পারে নতুন নতুন সম্ভাবনা, উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। সেটা দেশের জন্য যেমন, প্রবাসের জন্যও তেমনি প্রযোজ্য। আর দেশ-বিদেশ থেকে চিন্তাভাবনার সম্মিলন হলে, সমস্যার সমাধানটাও হতে পারে আরো বেগবান কিংবা আরো খুরধার।
ঐতিহাসিকভাবে দেখলে- আজকে যেটা শুধুমাত্র ভাবনা কিংবা লেখালেখি কিংবা স্বপ্ন, অর্ধশত বর্ষ কিংবা শতবর্ষ পরে সেটা বাস্তব হয়েও ধরা দিতে পারে। সেভাবেই তো সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়ন কিংবা আধুনিকায়ন হয়েছে যুগে যুগে এবং হতেই থাকবে যুগের প্রয়োজনে।
প্রশ্ন হলো- আমরা নিজেরা এখন কী করতে পারি, কীভাবে করতে পারি, কখন করতে পারি? কীভাবে পথ দেখাতে পারি? একলা চলার একটা আনন্দ তো আছেই এবং থাকবে। কিন্তু পড়শীর কারণে ও পড়শীদের সাথে কাজ করার আনন্দটা একটু বেশি হতে বাধ্য। চেষ্টা করে দেখুন। এজন্য চাই সব বয়সী তরুণ-তরুণীদের সমাহার ও তারুণ্য। সবার জন্যই খোলা আমন্ত্রণ রইলো।

সাবির মজুমদার | শার্লোট, নর্থ ক্যারোলিনা, যুক্তরাষ্ট্র
নির্বাহী সম্পাদক, পড়শী
