ধর্মনিরপেক্ষতা তথা অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে একটি দূর্নীতি মুক্ত সাম্যভিত্তিক অর্থনীতির স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। যে অর্থনীতির মূল লক্ষ্য ছিল শোষিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। তাই ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফিরেই রেসকোর্স তথা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় দৃপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে, যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়, এই স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনের কাপড় না পায়। এই স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি এদেশের যুবকরা কাজ না পায়।’
পুঁজিবাদী অর্থনীতির কট্টর বিরোধী আবার মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী সমাজতান্ত্রিক কোন মডেলকেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের উপযোগী মনে করতেন না। তাই গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রেখে ধনী গরিবের বৈষম্য কমিয়ে কৃষক শ্রমিক আর খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি শোষনহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্য।
তাই বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছিলেন, ‘বিত্তবানদের উপর অধিক কর ধার্য করে, সেই অর্থ দিয়ে বিত্তহীন ও দরিদ্রদের কল্যাণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। সম্পদের মালিকানা হবে রাষ্ট্রীয়, সমবায় ভিত্তিক ও ব্যক্তিগত।’ ১৯৭২ সালের ২৬ শে মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া বেতার ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার সরকার অভ্যন্তরীণ সমাজ বিপ্লবে বিশ্বাসী। পুরাতন সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। পুরাতন ও অবিচার মুক্ত নতুন সমাজ ব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলবো’।
তিনি আরও বলেছিলেন, সম্পদের বন্টন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে, উচ্চতর আয় ও নিম্নতম উপার্জনের ক্ষেত্রে যে আকাশচুম্বি বৈষম্য এতোদিন বিরাজ করছিল, সেটা দূর করার জন্য আমি একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বিবেচনা করছি। আজ আমরা বিশ্ব সভ্যতার এক ক্রান্তিলগ্নে উপস্থিত। একটি নতুন বিশ্ব গড়ে তোলার স্বপ্নে আমরা বিভোর, একটি সামাজিক বিপ্লব সফল করার প্রতিশ্রুতিতে আমরা অটল, আমাদের সমস্ত নীতি- সমস্ত কর্ম প্রচেষ্টা এ কাজে নিয়োজিত হবে। আমাদের দুস্তর পথ, এ পথ আমাদের অতিক্রম করতেই হবে।”
একটি শোষণ বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকার সর্ব প্রথম প্রাধান্য দেয় কৃষি ও কৃষি ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে। সমবায় ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তৎকালীন বাংলাদেশের ৩৫ ভাগ ভূমিহীন কৃষককে উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় আনতে গ্রহণ করেছিলেন যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা। তারই অংশ হিসেবে পরিবারপিছু জমির সর্বোচ্চ সিলিং ১০০ বিঘায় নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁরই নির্দেশনায় ২৫ বিঘা অবধি জমির খাজনা আজীবনের জন্য রহিত করা হয়েছিল। এক ঘোষণাতেই পাকিস্তান আমলে দায়ের করা ১০ লক্ষ সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার করে কৃষককূলকে দায়মুক্তি দিয়েছিলেন।
অনেক সমালোচক আওয়ামীলীগকে বুর্জোয়া বা পেটি বুর্জোয়া শ্রেনীর রাজনৈতিক দল বললেও আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ অবিসংবাদিত জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু শোষিত, বঞ্চিত ও খেটে খাওয়া মানুষেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কৃষক, শ্রমিক মেহনতী মানুষের সাথে তাঁর ভালোবাসা ছিল নিঃশর্ত ও আত্মিক। তাই জীবনের প্রতিটি স্তরেই কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মানে নিরলস কাজ করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বীজ প্রত্যয়ন সংস্থা, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন সহ নানা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের যে উন্নয়নের বিপ্লব শুরু করেছিলেন, সেটি ছিল বাংলার কৃষক, দিনমজুর আর শোষিত মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসার জলন্ত নিদর্শন।
১৯৭৫ সালের ২৫ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচীর ব্যাখ্যায় তাঁর ভাষনে বলেছিলেন, সমবায় ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনার জন্য গ্রামে গ্রামে কো-অপারেটিভ হবে। আর এর মূল লক্ষ্য ছিল ভূমিহীন কৃষক, শ্রমিক,বেকার আর খেটে খাওয়া মানুষকে অংশীদারিত্বের আওতায় এনে সুষম বণ্টন ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন। আজীবন সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু বাংলার মাঠে প্রান্তরে ঘুরে অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে সংগঠিত করেছিলেন। মানুষের দূর্দশাকে হ্রদয় দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। কৃষি ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় কৃষকের বঞ্চনাকে জোতদার জমিদারদের শোষণের প্রক্রিয়া বলেই বিশ্বাস করতেন।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বক্তৃতা বিবৃতিতে আমলাতন্ত্রে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কৃষক শ্রমিকের সংগে সম্মানজনক আচরণের নির্দেশ দিতেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন এক সাক্ষাৎকারে তাঁর যোগদানের প্রথম দিনে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনার অভিজ্ঞতা বর্ননা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার সাথে দেখা করতে এসে কোন সাধারণ মানুষ যেন ফিরে না যায়। স্যুট, টাই পড়া ভদ্রলোকেরা যে কোন উপায়ে আমার সংগে দেখা করার ব্যবস্থা করে নিবে, সাধারণ মানুষ পারবে না। তাই সাধারণ মানুষের জন্য আমার দরজা যেন বন্ধ না হয়’।
৭ই জুন, ১৯৭২ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সমাজতন্ত্র আমি ভাড়া করে আনতে চাই না, এ সমাজতন্ত্র হবে বাংলার মাটির সমাজতন্ত্র। এ সমাজতন্ত্র বাংলার মানুষের সমাজতন্ত্র, তার অর্থ হলো শোষণহীন সমাজ, সম্পদের সুষম বণ্টন। বাংলাদেশে ধনীদের আমি আর ধন সম্পদ বাড়াতে দেবো না। বাংলার কৃষক, মজদুর, বাংলার বুদ্ধিজীবি, শ্রমিক এদেশে সমাজতন্ত্রের সুবিধা ভোগ করবে। এভাবে জীবনের সকল স্তরেই অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আর নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলেই বঙ্গবন্ধু বিশ্বের অবিসংবাদিত জাতীয়তাবাদী নেতা হয়ে উঠেছিলেন।
ভোগবাদী রাজনীতি কে বঙ্গবন্ধু চিরদিনই ঘৃণার চোখে দেখতেন। বিশ্বাস করতেন ভোগবাদী জীবনধারা সামাজিক সুশাসনের পথে বড় অন্তরায়। এমন জীবনধারা দুর্নীতি আর দুঃশাসনকে বাড়িয়ে দিয়ে তথাকথিত এলিট শ্রেণীর সৃষ্টি করে সামাজিক সুশাসনকে বিঘ্নিত করে, শোষণের পথকেই উম্মুক্ত করে। পাকিস্তান আইন পরিষদের ১৯৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু দৃপ্ত কন্ঠে বলেছিলেন, “If you want to earn money, you can earn outside but when you have come as representative of the people to serve the people, then you should not become rich at the expense of the poor, because it is the poor who give the taxes, it is their money; you have no right to enjoy at their expense.’
তাই ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে যুদ্ধ বিধস্ত দেশকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি দূর্নীতি নির্মূলেও আত্ননিয়োগ করেছিলেন। সুদ,ঘুষ চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, সমাজের সংহতি আর সুশাসনের জন্য প্রয়োজন একটি দূর্নীতি মুক্ত সমাজব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়নের জন্য যেটি অপরিহার্য।
১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমাদের নতুন প্রতিরোধ সংগ্রামে সর্বশেষ ও সর্বপ্রধান শত্রু চোরাকারবারী (স্মাগলার), কালোবাজারী, মুনাফাবাজ ও ঘুষখোরের দল। মানুষ যখন অনাহারে মারা যায়, তখনও এইসব নরপশুর দল বাংলার দুঃখী মানুষের গ্রাস অন্যত্র পাচার করে দিয়ে থাকে। বিদেশ থেকে ধার কর্জ, এমন কি ভিক্ষা করে আনা পণ্য ও বাংলার সম্পদ মজুদের মাধ্যমে এরা মুনাফার পাহাড় গড়ে তুলে। এদের কোন জাত নেই, নেই কোন দেশ।’ তাই ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ জাতীয় সংসদে দূর্নীতি নির্মূলের দিক নির্দেশনামূলক ভাষণে বলেছিলেন, ‘করাপশন আমার বাংলার কৃষক করে না। করাপশন আমার বাংলার মজদুর করে না। করাপশন করি আমরা শিক্ষিত সমাজ, যারা ওদের টাকা দিয়ে লেখাপড়া করেছি।’
দূর্নীতি দুঃশাসননের জন্ম দেয় ,সমাজব্যবস্থাকে কলুষিত করে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল নেতৃত্ব তৈরীর পথকে রুদ্ধ করে দেয়। শৈশব থেকেই বঙ্গবন্ধু নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। দ্বিধাহীন চিত্তে সকল রক্ত চক্ষু কে উপেক্ষা করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। চুয়ান্ন বছরের জীবনের এক চতুর্থাংশ সময়ই ছিলেন জেলবন্দী, পাকিস্তানের তেইশ বছরের শাসনকালের বারো বছরের অধিক সময় কারাগারেই কাটিয়েছেন। মুক্তি যুদ্ধের নয় মাস কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে থেকেও কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু নানা কারণেই ছিলেন ব্যতিক্রম। পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগের রাজনীতিতে সমাজের এলিট শ্রেণীর প্রাধান্যের কারণে সমাজের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ দলটিকে তাঁদের মতামত প্রতিফলনের সঠিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রহণ করতে পারেনি। দীর্ঘদিন এই দলটি পাকিস্তানকে শাসন করলেও পূর্ব বাংলার সাধারণ জনগন এই দলের নেতৃত্বকে এলিটদের প্রতিভূ হিসেবেই মনে করতেন।
মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগে উত্তরণ এবং পরবর্তীতে ১৯৪৮-এ আওয়ামী লীগের আত্নপ্রকাশের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব যখন বিকশিত হতে থাকে, তখন থেকেই এদেশের সাধারণ মানুষ রাজনীতিতে তাদের আত্নঠিকানা খোঁজে পায়। ধর্ম কে ব্যবহার করে এলিটদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব খর্ব হতে শুরু করে। দুই দশক বাংলার গ্রামে,গঞ্জে ঘুরে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত সমাজের কথা বলে কৃষক,শ্রমিক মেহনতী মানুষের নেতা হয়ে উঠেন বঙ্গবন্ধু।
১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬এর ৬দফা, ৬৯এর গনঅভ্যুত্থান, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচন এর পথ পাড়ি দিয় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম বঙ্গবন্ধুকে তাঁর কল্পিত সমাজব্যবস্থা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের মর্মান্তিক ঘটনা বাংলাদেশকে আবারো উল্টো পথে নিয়ে যায়। সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির উত্থান সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেয়, উর্দি শাসকদের আনুকুল্যে নব্য সুবিধাবাদী ধনিক শ্রেণী সৃষ্টি হয়। দূর্নীতি আর দুঃশাসনে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সকল পরিকল্পনাই বাঁধাগ্রস্থ হয়।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯৫, দুই দশক বঙ্গবন্ধুর প্রাণের সংগঠন আওয়ামী লীগ কে নিশ্চিহ্ন করে জাতির জনকের আদর্শকে মুছে দেয়ার সকল প্রচেষ্টাই অব্যাহত ছিল। অবশেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দুই দশক পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক পাল্টে যায়। দেশীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতাবাদ, সম্পদ বৃদ্ধির অসুস্থ প্রতিযোগীতায় গড়ে উঠা শোষক শ্রেণি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কে সামনে রেখে শেখ হাসিনা একনাগারে সতেরো বছর শাসন ক্ষমতায় থেকে অর্থনীতির নানা তথ্য উপাত্তে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করলেও, রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতাবাদ, দূর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধির অসুস্থ প্রতিযোগীতা, বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত বাঙালি সমাজব্যবস্থার পথে এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সাম্য ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার দাবি আদায়ে বঙ্গবন্ধু আজও কতটা প্রাসঙ্গিক, জুলাই আন্দোলনে এর দৃষ্টান্ত মেলে। তাইতো ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই’ এমন জ্বালাময়ী শ্লোগানে সেদিন রাজপথ উত্তপ্ত হয়েছিল। উপনিবেশবাদীদের রক্তচক্ষু আর ২৪-এর আন্তর্জাতিক আগ্রাসনবাদ আবারও নতুনভাবে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ ও তাঁরই দর্শনে অণুপ্রাণিত একটি সুসংগঠিত প্রতিশ্রুতিশীল প্রজন্ম। দৃঢ়চেতা, ত্যাগের রাজনীতির অন্যতম মহীরুহ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু দূর্নীতি, দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে শোষণ,বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা বিনির্মানের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সামাজিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটিই তাঁর উত্তরসূরীদের জন্য অন্যতম সামাজিক দর্শন !!

