পড়শী পড়শীর আরশি উপলব্ধি বা রিয়ালাইজেশন!

উপলব্ধি বা রিয়ালাইজেশন!

Post Views: 4
15 min read

বেশ কয়েকদিন থেকে এইরকম একটা পোকা মাথার মধ্যে হাঁটছে। কিন্তু বিষয়টা লিখতে কোথা থেকে শুরু করি, কিভাবে লিখি। চিন্তা এবং কালি ও কলমের সমন্বয় ঘটাতে পারছিলাম না। মাঝে, মাঝে মনে হয়, কোন কিছু শেখা এবং তার “উপলব্ধিতে” একটা দূরত্ব কিংবা ফাঁক আছে। এই দূরত্ব বা গ্যাপ মিলানোর ব্যাপারে উদ্যোমতা থাকলেও অনেক সময় সেটার একটা সুনিদৃষ্ট রূপ দেয়া কঠিন হয়ে যায়। এর একটা কারণ, শেখার সাথে উপলব্ধির ব্যবধান আছে বলে। আমরা প্রতিদিনই তো কত না কিছু শিখি, এর মধ্যে উপলব্ধি করি কতটা তার!

উপলব্ধিতে একটা গভীর চিন্তা ও ভাবনা যুক্ত থাকে। কোন কিছুর উপলব্ধি কেবল চোখে দেখাই না, বা কোন পরীক্ষার খাতায় কোন প্রশ্নের উত্তর লেখা না। ‘ফিল” করাটাও উপলব্ধির অন্তর্গত। মানে, অনুভবের অনুভূতিকে স্পর্শ করা, উপলব্ধি হতে পারে। ফিল করা বা অনুভব করার ব্যাপারে দেখা, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি এই সবকিছুর একটা মিশ্র কেমিস্ট্রি কাজ না করলে “উপলব্ধি” হয় কি! কোন কিছুর উপলব্ধির দুইটা স্তর হয়। একটা এর প্রাথমিক স্তর, অন্যটা একটু বিশদ বলতে গভীরের স্তর। প্রাথমিক স্তরে আমরা চট করেই একটা জিনিসের ব্যাপারে সেটা দেখার উপর নির্ভর করে একটা কিছু অনুমান বা উপলব্ধি করতে পারি “দ্রুত”।

কিন্তু একই জিনিস আমরা যখন সত্যিকার অর্থে “উপলব্ধিতে” আনতে চাইবো, তখন তার মধ্যে আমাদের দেখা, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, পড়াশুনা, চর্চা এবং এর উপস্থাপনার একটা সুগভীর স্তরায়ন থাকা দরকার। এটা কেমন বা কি রকম হয়! বোঝানো কষ্ট তবে খুব গভীরে গিয়ে অনুভব করা যায়। উপলব্ধির ব্যাকরণকে এমন একটা কিছু বলেও মনে করা হয়। আমাদের প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মধ্যে প্রায় সময় একটা ব্যবধান লক্ষ্য করি। এই ব্যবধানের সূচনা হয় আমাদের উপলব্ধির “অবুঝ” স্তর থেকে। তখন কেউ কেউ এটা “নিয়তির” কারণ বলেও মনে করি। সব সময় সেটা নিয়তি নাও হতে পারে যদি নিয়তির অজাগতিক দর্শন সম্পর্কে আমাদের কিছু পড়াশোনা ও প্রজ্ঞার চর্চা থাকে। অর্থাৎ অনেক “নিয়তি” আমাদের কাজের দ্বারাও পরিবর্তন হতে পারে, ভালো, খারাপ দুটোই হতে পারে। আমাদের কোন লক্ষ্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে চেষ্টা, সাধনা এবং পরিশ্রমের সামান্য ব্যবধানের কারণেও এই “নিয়তি” বদলে যেতে পারে প্রত্যাশা অনুযায়ী।

প্রতিদিন আমরা দেখিতো অনেক কিছু। কিন্তু প্রতিদিন আমরা উপলব্ধি করি না সেই সবকিছু। অর্থাৎ সেই দেখার ভেতরে যে অদৃশ্য বার্তা থাকে, গভীরতা থাকে। শিক্ষা নেয়ার থাকে। এই বিষয়টা আমরা খালি চোখে দেখিনা কিন্তু সব সময়। আমাদের অন্তর চক্ষু বিষয়টা সব্বাইকে সমান ভাবে দেখায় কি! এখানেই উপলব্ধির একটা ম্যাজিক আছে। ম্যাজিকটা হল আমি কেন উপলব্ধি করব! উপলব্ধির মানে কি! এই কেমিস্ট্রিকে বোঝা। উপলব্ধি চট করে আসে না আবার খুব দ্রুত চলে আসতেও পারে।

এই ম্যাজিককে বুঝতে ব্যক্তির জীবনবোধের মানচিত্র কেমন, সেই জীবনবোধ কিভাবে চর্চা করি, দেখি, জানি, পড়ি। আমাদের চিন্তা এবং কাজে তার একটা সুসমন্বয়ের গুরুত্ব আছে। এটা ছাড়া আমরা উপলব্ধির ব্যাকরণ বুঝবোনা বা কিছু উপলব্ধি করতেও পারবো না। শিখতে পারবো, জানতে পারবো, বলতে পারবো, ব্যাখ্যা দিতেও পারবো। কিন্তু দিন শেষে সেটা “উপলব্ধির” জায়গায় একটা অদৃশ্য শূন্যতা রেখে যাবে। সেই শূন্যতা সঠিক উপলব্ধির একাংশ।

প্রশ্ন আসতেই পারে, “সঠিক” উপলব্ধি বলতে কি বুঝি! সঠিক উপলব্ধি, অন্যকে আঘাত না করা, অন্যকে বিপদে না ফেলা। অন্যকে অবজ্ঞা না করা। অন্যকে গুরুত্ব না দিয়ে যখন কেবল একার অবস্থান, স্বার্থ এবং নিরাপত্তা ও সুখকে অগ্রাধিকার দিই। তখন সেটা আমাদের সঠিক উপলব্ধির মধ্যে পরে না। এখানে উপলব্ধির সাথে দেখার ফাঁক থেকে যায়। বিজ্ঞানের এই অত্যন্ত সফলতার যুগেও আমরা দিনে, দিনে উপলব্ধির অনুভূতি থেকে সরে আসছি; দেখার অনুভূতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এটাও উপলব্ধির একরকমের শূন্যতা বলা যায়।

আমরা অনেকেই যখন কথা বলি, তখন কথার উপস্থাপনা এবং কথা বলার সময় আমাদের দেহভঙ্গি বা যেটাকে বলা হয়, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। এর গুরুত্বকে সেভাবে গনায় ধরিনা। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে তেমন কোনো উদ্বিগ্নতা সাধারণত দেখা যায় কম। কিন্তু আমরা জানি যে কোন ব্যক্তির কথা এবং তার কথার উপস্থাপনায় শ্রোতা এবং দর্শকের চোখ ও মনের পর্দায় এর একটা প্রভাব বক্তব্যকে ধারণ করে। এটা চট করে বোঝা যায় না কিন্তু পরে এটা উপলব্ধিতে বোঝা যায়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে দেশে-বিদেশেও আমাদের অনেকের বক্তব্য অত্যন্ত দৃষ্টিকটু এবং অমার্জিত হয়। সেই বক্তব্য বলার চাইতেও বেশি সেই বলার প্রকাশ ভঙ্গীর বিষয়টা ব্যক্তি উপলব্ধিতে গ্রহণযোগ্যতা হারায়।

উপলব্ধি এবং দেখার গ্যাপের কারণেও আমরা অনেকে বলি, ইতিহাস পড়ি, কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। কারণ, ইতিহাসকে আমরা উপলব্ধি করি না আমাদের “সত্তার” ভেতর থেকে। ইতিহাসকে আমরা কেবল বর্ণনার ভিত্তিতে বুঝতে চাই এর ছাপানো পৃষ্ঠা পড়ে। ইতিহাস কিন্তু কেবল বর্ণনা নয়, ইতিহাস অনেক অতীত এবং ভবিষ্যৎ দেখানোর ব্যাপারেও একটা অদৃশ্য “দর্শন” ব্যক্ত করে। এই দেখাটা খালি চোখে দেখা সব সময় সম্ভব হয় না। এই দেখাকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, প্রজ্ঞার ভিত্তিতে, সহনশীলতার ভিত্তি ও বিনয়ে বোধের মাধ্যমে দেখার আরেক বিজ্ঞানকে আমাদের বুঝিয়ে দেয়। যার নাম “উপলব্ধি”। তাই উপলব্ধি শুধু একটি ধারণা নয় মাত্র, এটা একটা বিজ্ঞান ও বটে।

খুব সাম্প্রতিক একটা দৃষ্টান্ত দিয়ে আমাদের দেখা ও উপলব্ধির একটা ব্যবধান দেখানো যেতে পারে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন যেভাবে দেখছে, ইরানকে। এখানে তাদের দেখার সাথে উপলব্ধির একটা বড় গ্যাপ আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এখনও উপলব্ধি করতে পারে না যে, ইরানকে ধ্বংস করা, ইরাকের মত সহজ হবে না। উপলব্ধি করে না, ইরান, ইরাক না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল দুইটি দেশ মিলে এমন কোন গরহিত ও অমানবিক হিংস্র কাজ করা থেকে দূরে থাকেনি যা সভ্যতা ও আধুনিকতার কোন সু-দৃষ্টির উপলব্ধি বলা যায়। হত্যা ও “ধ্বংস” করে পৃথিবী থেকে কোন জাতি গোষ্ঠীকে নির্মূল করা যায় না, যা ইজ্রাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র করছে এবং করতে চাচ্ছে! এখানে এটা বলা যেতে পারে যে, মানুষের সমষ্টিগতভাবে সীমিত দায়বদ্ধতার দেখাকে যদি উপলব্ধি বলি বা প্রজ্ঞা বলি। এটা ভুল হবে এবং হতে পারে। সঠিক উপলব্ধির শূন্যতা থেকে কোন কিছুর “সাময়িক অর্জন” হতে পারে কিন্তু সেটা বেশিদিন টেকসই হয় না।

অনেক বিশেষজ্ঞ এবং প্রাজ্ঞ গবেষক উপলব্ধি করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি মূলত নির্ভর করছে এর তিনটি প্রধান দেশের নিরাপত্তা এবং ইসরাইল ও আমেরিকার আধিপত্যের বাইরে এদের থাকার মধ্যেও। এই তিনটি রাষ্ট্র, লেবানন, ইরান ও প্যালেস্টাইন। এই তিন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার প্রতি হুমকি বিশেষ করে ইসরাইল এবং আমেরিকার সম্প্রসারণ বা আধিপত্য চাইলে এখানে কোনরকম শান্তি চুক্তি বলি, যুদ্ধবিরতি বলি। কিংবা নির্ভয়ে এদের সহবাস বলি। এইসব কার্যকর হবে না। মধ্য প্রাচ্যের অনেক দেশে বহু দিনের রাজতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ ও ইসরাইলের আগ্রাসী মনোভাবের নির্মম ইতিহাস সেই উপলব্ধির বার্তা দেয়।

আমাদের প্রায় অর্ধশত বছরের রাজনীতি এবং অর্থনীতির দিকে তাকালেও খুব স্পষ্টভাবে দেখি যে, আমাদের উপলব্ধির শূন্যতা কত বিশাল আকারে একটু, একটু করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যক্তির মধ্যে, পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে, এবং ছোট ছোট গোষ্ঠীর ভেতরেও। এই উপলব্ধি নীরবে বলে যা আমরা দেখছি, যা আমরা দেখি, যা শুনি ও শোনাতে চাই ও শোনাই। এর মধ্যেও একটা বড় শূন্যতা আছে আমাদের উপলব্ধির। ৭১-কে ২৪-এর সাথে মিশানো যায় না। একইভাবে ২৪-এর পুনরাবৃত্তি আর হবে না। এটাও সঠিক উপলব্ধি না। একাত্তরের পুনরাবৃত্তিও হতে পারে। যেভাবে সমাজ রাষ্ট্র ও রাজনীতি,অর্থনীতি ও আমাদের সার্বভৌমত্বের উপর চ্যালেঞ্জ আসছে।সেখানে আমাদের নিরাপত্তা প্রতিদিনই হুমকি এবং চ্যালেঞ্জের মুখে অগ্রসর হচ্ছে। এর অনেকটাই আমাদের উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা এবং সীমিত দায়বদ্ধতার কারণেও ঘটে এবং ঘটছে।

কিছুদিন আগে এখানে বাংলাদেশ বংশধ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ডক্টর মোহাম্মদ আতাউল করিম, তাঁর একটা লেখাতে পড়লাম। তিনি লিখেছেন,শক্তি এবং পদার্থের ক্রিয়া বিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ এই মহাবিশ্বের কথা সম্বন্ধে আমরা কমবেশি সবাই সচেতন। তবে সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম হচ্ছে আমাদেরই “ইন্দ্রিয় শক্তি”। ইন্দ্রিয়ের সদ্ব্যবহার এবং যুক্তির পর্যায়ক্রমিক উপস্থাপনাই আমাদেরকে, তথা হোমো সেপিয়েন্সদের এগিয়ে নিচ্ছে নিত্যনতুন বিজ্ঞানের পথে। বিজ্ঞান কোনদিনই জড় ছিল না এবং কখনোই থেমে থাকবে না। হ্যাঁ এই “ইন্দ্রিয় শক্তি” উপলব্ধির আরেক নাম।

মানুষ অনুসন্ধানিদের সাথে তাল মিলিয়ে ক্রমে এগিয়ে যায় ও যাবে সত্যের পথে। এটা মানুষের উপলব্ধির বিষয়। ‌যে কারণে অনুসন্ধিৎসু মানুষের কাছে তার এবং তার পারিপার্শ্বিকতার জন্ম রহস্য যথেষ্ট বিস্ময়ের। এটা শুধু প্রাকৃতিক না। এর সাথে যুক্ত আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের আরো অনেক কিছু। যেমন সম্পর্ক, রাষ্ট্র,সমাজ,পরিবার। রাজনীতি, অর্থনীতি, উৎপাদন কৌশল, উৎপাদন পদ্ধতি, সংস্কৃতি। ব্যক্তির এই সবকিছুর বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা আমাদের উপলব্ধির এক বিশাল পৃথিবী। আমাদের উপলব্ধিতে এই প্রত্যেকটা বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার বা ভাবার অবকাশ না থাকলে আমরা আসলে জীবনের কোন অভিজ্ঞতার কোন্ ও কি মানে ! সেটা উপলব্ধি করতে পারবো না।

এই আলোচনাকে খুব দীর্ঘ করার ইচ্ছা নাই। কারণ, উপলব্ধির বিষয় কেবল কথায় প্রকাশ করাও যায় না এটা বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দেখার স্তরায়নেও নির্ভর করে। তাই এটা নিয়ে বেশি কথা বলার প্রয়োজন নাই। পরিশেষে এতোটুকু বলি যে, যাপিত জীবন নিয়ে ব্যক্তিগত উপলব্ধি, যত দিন যাচ্ছে, তত বেশি খুব স্পষ্ট হয়ে আসছে আমাদের মধ্যে নিজেদের কাজকর্ম এবং সমাজ, মানুষ ও রাষ্ট্র গঠনে এসবের ভবিষ্যৎ নিয়ে উপলব্ধি কম। অতীত নিয়েও আমাদের উপলব্ধি খুব বিজ্ঞানসম্মত না। আমরা বর্তমান নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে মনে হয় অতীত, ভবিষ্যৎ বলে আর কিছু আর নাই, সবটাই বর্তমানে বন্দি।

মানুষের জীবনে যা কিছু প্রাপ্তি কিংবা অপ্রাপ্তি অধিকাংশ এর একটা মায়াবী পর্দায় মোড়ানো। একদিকে এর বাস্তবতাকে আমরা দেখি অন্যদিকে সেই বাস্তবতার স্থায়িত্বকে খুবই অল্প সময়ের জন্য আমরা অনুভব করি। মানুষের জীবনে কোন কিছুই খুব দীর্ঘস্থায়ী না। মানুষ বা ব্যক্তি নিজেই তো ক্ষণস্থায়ী। এখানে পারস্পরিক সম্পর্ক গুলি অনেক ক্ষেত্রে খুবই ভঙ্গুর। এখানে আমাদের ব্যক্তি অহংকার, জেদ বা অভিমান। এত বেশি তীব্র যে আমরা এর মধ্যে সহানুভূতিশীলতা, ধৈর্য এবং অপরপক্ষের বাস্তবতাকে না বুঝেই অনেক সিদ্ধান্তে চলে যাই। একটা পার্শিয়াল উপলব্ধি থাকে নিজের পক্ষে, সম্পূর্ণ উপলব্ধি থাকেনা একটা বিষয় বস্তুর জাগতিকতা এবং তার উপরে কিছু নিয়ে ভাবার ব্যাপারে।

আমরা তাই হেরে গিয়ে সব সময় জিতে যাই না। আবার জিতে গেলে অন্যের হেরে যাওয়ার বিষয়টা অনুভব/উপলব্ধি করি না। যেমন ধরা যাক, আপনি আপনার যে কোন ভুল কিংবা না বোঝার ব্যাপারে একজনের কাছে আকুল ভাবে ক্ষমা চাইলেন। সেই ব্যক্তি আপনাকে ক্ষমা করলেন না, বা আপনার ক্ষমা চাওয়ার যে আন্তরিকতা, সেটাও সে উপলব্ধি করতে চাইলেন না। বা করল না। এমন তো হতেই পারে। এরকম কোন সিচুয়েশনে আপনার কি উপলব্ধি হবে জীবন সম্পর্কে! নেতিবাচক একটা কিছু, তাই না! কিন্তু এর সাথে আমাদের একটা উপলব্ধিও দরকার যে, ইচ্ছা করলেই সব চাওয়া পাওয়া বা ব্যর্থতার হিসাব মেলে না। একইভাবে যাই আমরা পাই, সেটাও চির দিনের না। পাওয়া মানে হারানো, আবার হারানো মানে অন্যভাবে পাওয়া। হতেও পারে। নির্ভর করে ব্যক্তির উপলব্ধিতে এই চাওয়া পাওয়ার সংজ্ঞা কি, উপলব্ধি বা রিয়ালাইজেশনটা কি!

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই বিশ্বের মহৎ যে কোন কাজের পেছনে ব্যক্তির বা কোন সঙ্গবদ্ধ গোষ্ঠীর একটা সতেজ দূরদৃষ্টির গভীরতার উপলব্ধি কাজ করে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের এমন অনেক রচনা আছে যা পড়লে বোঝা যায়, তাদের দৃষ্টিতে জীবন বোধের উপলব্ধি কি ছিল। আজকে আমরা সেই উপলব্ধি থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। তাই আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছেই কেবল। খালি চোখে যাই দেখি সেটার উপর নির্ভর করে আমরা একটা সিদ্ধান্তে চলে আসি। আমাদের মাথার মধ্যে মগজ আছে কিন্তু অনেক সময় তার কোন ফাংশন নাই বলেও মনে হয়। এটাও একরকম উপলব্ধি থেকে বলা।

কী জানি কী হল আজি, জাগিয়া উঠিল প্রাণ
দূর হতে শুনি যেন মহাসাগরের গান।
ওরে চারিদিকে মোর
এ কী কারাগার ঘোর-
ভাঙ, ভাঙ, ভাঙ, কারা, আঘাতে আঘাত কর।
ওরে আজ কী গান গেয়েছে পাখি,
এসেছে রবির কর।

পুনশ্চ: প্রিয় মাতৃভূমিতে গত ২৪-এ যে রাজনৈতিক পরিবর্তন আমরা ঘটিয়েছি। উপলব্ধি বলে, আমাদের সামগ্রিক শ্রেণী চরিত্র যদি না পাল্টায় তাহলে আবারো আরেক ‘২৪’র ভিন্ন সৃষ্টি হতেও পারে। পাশাপাশি, কোন জনপদ, সমাজ বা দেশকে ধ্বংস করে কি কোন সমস্যা বা সংকটের সমাধান সম্ভব কি! চলতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি। বর্তমান সভ্যতায় এক নতুন “উপলব্ধির” সূচনা করবে বলে মনে হয়।

২২ জুলাই, ২০২৬

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষক। সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করেন। আদি পড়শীতেও লিখতেন।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।