পড়শী মূল রচনাবলী সেন্টার ফর হিউম্যানিটি (CFH) – বন্যার স্রোতের মাঝে আশার সেতুবন্ধন

সেন্টার ফর হিউম্যানিটি (CFH) – বন্যার স্রোতের মাঝে আশার সেতুবন্ধন

Post Views: 139

উত্তর বাংলাদেশের বদ্বীপ অঞ্চলে, যেখানে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদ অসংখ্য আঁকাবাঁকা পথে ভূমিকে জড়িয়ে রেখেছে এবং বর্ষাকালে প্রতিবছরের বন্যার প্লাবনে বিস্তীর্ণ জনপদ তলিয়ে যায়, সেখানে পানির স্তর বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায়ও আমূল পরিবর্তন ঘটে। যে পানি জীবিকা, যাতায়াত ও কৃষিকাজের সুযোগ সৃষ্টি করে, সেই পানিই আবার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের এক নির্মম মাধ্যম হয়ে ওঠে—গ্রাস করে নেয় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও গবাদি পশু। পানি নেমে যাওয়ার সময় নদীভাঙনের কারণে আরও অসংখ্য পরিবার তাদের বসতভিটা হারায়। একই সঙ্গে পানিবাহিত রোগ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে; ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে বাধ্য হয়। দিনে তিন বেলা সাধারণ খাবার জোগাড় করাই তখন বিলাসিতায় পরিণত হয়, আর অন্য সব প্রয়োজনীয় বিষয় অনিবার্যভাবেই অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়ে। যেখানে টিকে থাকাটাই অধিকাংশ মানুষের কাছে এক বড় জয়, সেখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক সচেতনতার মতো মৌলিক বিষয়গুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থেকে যায়। প্রতিরোধযোগ্য রোগব্যাধি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় রূপ নেয়, নিরক্ষরতা স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হয় এবং সামাজিক সচেতনতা তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। দারিদ্র্য, রোগব্যাধি এবং ভেঙে পড়া সামাজিক কাঠামোর এক দুষ্টচক্র দশকের পর দশক ধরে সেখানকার জনগোষ্ঠীর জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। বার্ষিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম গাইবান্ধায় প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে, যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করছে।

ড. শাহ হুদা গাইবান্ধার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে, নদীর তীরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে, যখন তিনি হাই স্কুলের ছাত্র, তখন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বার্ষিক বন্যা-ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গাইবান্ধায় ‘পদক্ষেপ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে তিনি একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৯০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পেশায় একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ড. হুদা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার উইনস্টন-সেইলেমে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Corning-এ একটি নেতৃত্বস্থানীয় পদে কর্মরত আছেন। তিনি বর্তমানে সপরিবারে নর্থ ক্যারোলিনার হাই পয়েন্ট শহরে বসবাস করছেন।

গাইবান্ধার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেড়ে ওঠার সময় প্রতিবছরের বন্যা এবং মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ তাঁর মনে গভীর দাগ কেটে যায়। সেই অভিজ্ঞতাই একদিন নিজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্তান প্রসবের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দরিদ্র গর্ভবতী নারীদের যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতো—যেমন নৌকায় টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টার যাত্রা, এরপর ভাঙাচোরা ও গর্তভরা রাস্তায় রিকশায় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা—তা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও অসহনীয়। স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুন মাসে ড. হুদা ‘সেন্টার ফর হিউম্যানিটি’ (CFH) নামে একটি অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। গাইবান্ধা শহর এবং দুর্গম চরাঞ্চলে—যেসব এলাকা থেকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন, প্রায় অসম্ভব এবং ব্যয়বহুল—স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগটি একটি আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

বর্তমানে এই সংস্থার প্রায় সমস্ত অর্থায়ন ড. হুদা নিজেই করছেন। তবে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তা, পাশাপাশি ‘আমরা ৯২ ফাউন্ডেশন’ (AMRA 92 Foundation) এবং ‘বিএমএএনএ-সিসি’ (BMANA-CC বা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা—ক্যারোলিনা চ্যাপ্টার)-এর মতো দাতব্য সংস্থার মাঝারি পরিসরের অনুদান CFH-এর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণে এবং আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালে গাইবান্ধার ধুবনীতে একটি ‘চিলড্রেনস সেন্টার’ বা শিশু কেন্দ্র চালু করা হয়। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে এতিম ও আর্থিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, নিরাপদ বাসস্থান, শিক্ষা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দরিদ্র নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে CFH স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

porshi cover 2026.07 CFH 01

এমন বাস্তবতায় উত্তর ক্যারোলিনার হাই পয়েন্টভিত্তিক 501(c)(3) অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দ্য সেন্টার ফর হিউম্যানিটি (CFH) গাইবান্ধাকে কেন্দ্র করে একটি সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তাদের মূল বিশ্বাস হলো—স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে টেকসই উন্নয়নের অন্যান্য লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব।

CFH তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি, এসথার ডুফলো এবং মাইকেল ক্রেমারের গবেষণালব্ধ উন্নয়ন মডেলের আলোকে। ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী এই তিন গবেষক দেখিয়েছেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান করা। তাদের মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাই দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের সবচেয়ে শক্তিশালী অনুঘটক।

এই দর্শনকে সামনে রেখে CFH তিনটি প্রধান কর্মক্ষেত্রে কাজ করছে—স্বাস্থ্যসেবা, নারী উন্নয়ন এবং সামাজিক উন্নয়ন/শিক্ষা।

স্বাস্থ্যসেবা

porshi cover 2026.07 CFH 02

উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও মানসম্মত, নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এখনও অনেক মানুষের নাগালের বাইরে। দারিদ্র্য, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক কুসংস্কারের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসাসেবাও পান না। CFH এই সংকট মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা, লজিস্টিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা—এই তিনটি ক্ষেত্রে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটি নারী, শিশু, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সাশ্রয়ী বা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের একটি টেকসই মডেল গড়ে তুলছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় চিকিৎসার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। অত্যন্ত স্বল্পমূল্যের সেবার পাশাপাশি একেবারে অসচ্ছল রোগীদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা।

দূরবর্তী চরাঞ্চলসহ যেসব এলাকায় কোনো চিকিৎসাসেবা নেই, সেখানে নিয়মিত বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের দল নৌকায় করে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি CFH-এর কর্মীরা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর পরিচর্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলেন।

CFH-এর অন্যতম অগ্রাধিকার মানসিক স্বাস্থ্য। বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে মানসিক রোগকে এখনও সামাজিক কলঙ্ক হিসেবে দেখা হয় এবং অধিকাংশ এলাকায় এর চিকিৎসা কার্যত অনুপস্থিত। ফলে অসংখ্য মানুষ দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় কষ্ট ভোগ করেন। CFH বিশ্বাস করে, প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করলে অনেক মানসিক রোগের অবনতি রোধ করা এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ভবিষ্যতে দুর্গম এলাকায় স্যাটেলাইট স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করবেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা সাপ্তাহিক পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনে স্টারলিংক স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে থাকা হাজারো মানুষকে নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দ্রুত পৌঁছে দিতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি ডায়ালাইসিস ও রক্তসঞ্চালনের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দরিদ্র রোগীরা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রোগীদের পরিবহন ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা CFH বহন করবে।

নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন

porshi cover 2026.07 CFH 03

এই কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগ প্রদান করা হয়, যাতে তারা কুটির শিল্পভিত্তিক বাজারযোগ্য পণ্য উৎপাদন করে স্বনির্ভর হতে পারেন।

CFH তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত নারীদের শনাক্ত করে এবং তাদের উৎপাদিত হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে, বাজারজাত করতে সহায়তা করে। এসব পণ্যের বিক্রয়লাভের একটি অংশ একই সম্প্রদায়ে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় পুনর্বিনিয়োগ করা হয়।

ভবিষ্যতে নির্যাতিত নারীদের জন্য আইনি সহায়তা এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামাজিক উন্নয়ন

porshi cover 2026.07 CFH 04

CFH প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং অনাথ ও দরিদ্র শিশুদের বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা প্রদান করে।

গাইবান্ধার ধুবনী এলাকায় CFH চিলড্রেনস সেন্টার স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন গেট স্কুলের সহযোগিতায় আধুনিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার শিক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শিশুবিবাহ, মাদকাসক্তি এবং অন্যান্য সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত কাজ করছে। ভবিষ্যতে একটি আধুনিক মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কেন গাইবান্ধা?

গাইবান্ধা বাংলাদেশের অন্যতম দরিদ্র ও অবহেলিত জেলা। এখানে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে এবং প্রায় ৩৪ শতাংশ পরিবার চরম দারিদ্র্যে রয়েছে। বহু পরিবার নিয়মিত তিনবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খায়; মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা তাদের জন্য প্রায় অধরাই।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত এবং বেসরকারি চিকিৎসা অধিকাংশ মানুষের নাগালের বাইরে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। প্রতিবছরের বন্যা খাদ্যসংকট, জলবাহিত রোগ এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয় সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উৎস: গ্লোবাল ডেটা ল্যাব (Global Data Lab)

“স্থানীয় নেতৃত্ব, বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি”

CFH-কে অন্যান্য বহিরাগত দাতব্য সংস্থা থেকে আলাদা করে এর পরিচালনাদর্শন। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্থানীয় মানুষ, যারা গাইবান্ধার বাস্তব চাহিদা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বোঝেন, কিন্তু একই সঙ্গে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত মানদণ্ড নিয়ে কাজ করেন।

প্রতিষ্ঠানটির শক্তির মধ্যে রয়েছে সামাজিক উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে চার দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা, নামমাত্র পারিশ্রমিক বা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী চিকিৎসকদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং অত্যন্ত সীমিত প্রশাসনিক ব্যয়। ফলে সংগৃহীত অনুদানের সর্বোচ্চ অংশ সরাসরি মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা সম্ভব হয়।

আপনি যদি CFH এর মাধ্যমে মানব সেবা করতে চান তাহলে কীভাবে করবেন ? CFH তার কার্যক্রম আংশিকভাবে কর ছাড়যোগ্য অনুদান এবং স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে পরিচালনা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুভার্থীরা

  • Zelle (336.300.6878),
  • চেক (4353 Southern Oak Dr., High Point, NC 27265),
  • কর্পোরেট গিফট ম্যাচিং (Benevity) 

ব্যবহার করে অনুদান দিতে পারেন।

বিদেশি দাতারা PayPal (Center for Humanity CFH) অথবা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অনুদান দিতে পারেন—

Center for Humanity CFH,

Bank of America,

N.A., 222 Broadway, New York, NY 10038, USA,

Account No. 237051601742,

Routing: 053000196, Wire: 026009593,

SWIFT CODE: BOFAUS3N.

বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট –

CFH Healthcare and Diagnostic Center.

Current Deposit Com Acc No. 0100253401511.

Janata Bank PLC.

Bridge Road Branch (0764),

Gaibandha – 5700.

Swift/BIC Code: JANBBDDHJBC

Contact: info@cfhbd.org, +1.336.300.6878 (USA), +880.132.963.2825 (Bangladesh)
Web: www.cfhbd.org,
Facebook: https://www.facebook.com/share/g/15KLumUxwv/?mibextid=K35XfP
৮ জুলাই, ২০২৬
 


রলী, নর্থ ক্যারোলিনা, যুক্তরাষ্ট্র

লেখক, গল্পকার ও সাহিত্যকর্মী।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।