পড়শী পড়শীর আরশি হাসান ফেরদৌসের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নিয়ে কিছু কথা

হাসান ফেরদৌসের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নিয়ে কিছু কথা

Post Views: 35
11 min read

অনলাইন সাময়িকী ‘পড়শী’-র জুন ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বিশ্ব-রাজনীতি বিশ্লেষক হাসান ফেরদৌসের “যুদ্ধের ভেতর আরেক যুদ্ধ” নিবন্ধটি একটি সময়োপযোগী, তীক্ষ্ণ এবং গভীর পর্যবেক্ষণমূলক রচনা। লেখাটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশেষত তৎকালীন মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাতের বহুমুখী মাত্রাকে উদঘাটিত করেছে। নিবন্ধটি কেবল যুদ্ধের ময়দানের গোলাগুলির হিসেব-নিকাশ পেশ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সামরিক জয়ের চেয়ে রণকৌশলগত (Strategic) টিকে থাকা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক সমীকরণ বদলে দেয়—তা চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছে।

নিবন্ধের মূল ভিত্তি গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রখ্যাত তত্ত্ববিদ জন মিয়ার্শহাইমারের (John Mearsheimer) ধারণাকে কেন্দ্র করে: “কোন সামরিক সংঘর্ষে অধিকতর দুর্বল দেশ যদি অধিক শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে যায়, তাহলে তার জন্য সেটি হবে স্ট্র্যাটেজিক বা রণকৌশলগত বিজয়।” এই তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ককে সামনে রেখে হাসান ফেরদৌস যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাকটিক্যাল জয় এবং ইরানের স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত চালগুলোকে সুনিপুণভাবে ব্যবচ্ছেদ করেছেন।

আমার মতে হাসান ফেরদৌসের পর্যালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি মৌলিক বিষয়। এগুলো হলো:

ক) ট্যাকটিক্যাল বনাম স্ট্র্যাটেজিক জয়: নিবন্ধকার শুরুতেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক ও সামরিক জয়ের ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করেছেন। ইরানের প্রায় ১৩,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো, সেদেশের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যা করার মতো সামরিক সাফল্যকে তিনি স্বীকার করেছেন ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা তাৎক্ষণিক সাফল্য হিসেবে। কিন্তু এর বিপরীতে, ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে না পারা এবং ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র প্রদত্ত শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে না পারাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখেছেন।

খ) অসম যুদ্ধ (Asymmetric Warfare) ও হরমুজ প্রণালি: সামরিক শক্তিতে বহুদূরে পিছিয়ে থাকা ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিকে নাস্তানাবুদ করছে, তা দেখাতে গিয়ে লেখক ‘অসম যুদ্ধ’ ব্যবস্থার কথা বলেছেন। এক্ষেত্রে ইরানের সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড হলো হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই অতিসংবেদনশীল রুটকে অবরুদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করে ইরান কীভাবে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে, তা লেখক নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

গ) যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক সংকট: সংঘাত কীভাবে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্তে সীমাবদ্ধ না থেকে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন (মধ্যবর্তী নির্বাচন), প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, চীনের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলন এবং অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—তার একটি বিশ্বাসযোগ্য চিত্রায়নে লেখক নিঃসন্দেহে সফল হয়েছেন।

তবে একজন নিরপেক্ষ পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে হাসান ফেরদৌসের এই নিবন্ধটির শক্তিশালী দিকগুলো এবং এসকই সাথে কিছু দুর্বলতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

লেখক অন্তত সফলভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি জটিল তত্ত্বকে (Mearsheimer’s Realism এবং Asymmetric War Thesis) কোনো ভারী প্রাতিষ্ঠানিক পরিভাষা ছাড়াই সাধারণ পাঠকের বোধগম্য ভাষায় পেশ করতে পেরেছেন। এছাড়া আমার যে বিষয় সবচেয়ে ভালো লেগেছে তাহলো যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরায়েল, জার্মানি (চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মেরজের মন্তব্য) এবং বিশ্ব অর্থনীতির (তেলের দাম) আন্তঃসম্পর্ককে লেখক খুব সংক্ষেপে কিন্তু কার্যকরভাবে একটি সূত্রে গেঁথেছেন যা শক্তিকারী অর্থে খুব কঠিন একটি কাজ। এখানে আরো যে বিষয়টি উল্লেখ করা দরকার তাহলো নিবন্ধটি কোনো আবেগী বা একপেশে ন্যারেটিভ নয়। লেখক ইরানকে এককভাবে ‘নায়ক’ বা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘খলনায়ক’ বানিয়ে রূপকথা লেখেননি; বরং স্পষ্ট করে বলেছেন যে সামরিকভাবে ইরান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব হারিয়েছে। তবে রাজনীতি ও কৌশলের সমীকরণে যে তারা এখনো বেঁচে আছে—এটাই বাস্তবভিত্তিক সত্য।

এবার নিবদ্ধটিতে যে বিষয়গুলো ঘাটতি আছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে সে বিষয়ে এবার আলোকপাত করছি।

ক) ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবিক ও অর্থনৈতিক ট্র্যাজেডির অনুপস্থিতি: নিবন্ধটি মূলত ‘ম্যাক্রো-পলিটিক্স’ বা বৃহৎ ভূ-রাজনীতি প্রেক্ষাপটে রচিত। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের রাজনৈতিক চাপের কথা এখানে বিশদভাবে এসেছে, কিন্তু প্রায় ১৩,০০০ সামরিক ও অবকাঠামোগত হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানের সাধারণ মানুষের দুর্দশা, সেখানকার মানবিক বিপর্যয় কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাস্তব চিত্র নিবন্ধে প্রায় অনুচ্চারিত থেকে গেছে। একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আলোচনায় কেবল ‘কৌশলগত জয়’ উদযাপিত হতে পারে না, যদি দেশের নাগরিকরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে যায়।

খ) ইসরায়েলের স্বতন্ত্র ভূমিকা অনুচ্চারিত: নিবন্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার কথা বলা হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইসরায়েলের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, নিরাপত্তা আতঙ্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাদের কৌশলগত চালগুলোর কোনো আলাদা বিশ্লেষণ লেখক উপস্থাপন করেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রেই এক হলেও পুরোপুরি অভিন্ন নয়—এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি নিবন্ধে কিন্তু স্পষ্ট করা হয়নি।

গ) বৈশ্বিক প্রভাবের আরও গভীরে না যাওয়া: তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে কেবল ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনেই প্রভাব পড়ে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতির (বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর) ওপর যে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ও মন্দার ছায়া ফেলে—তা নিয়ে একটি-দুটি বাক্য বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে নিবন্ধের পরিধি হয়তো আরও পূর্ণতা পেত।

ঘ) ন্যারেটিভ যুদ্ধ ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল: আধুনিক যুদ্ধের একটি বড় ক্ষেত্র হলো ‘তথ্যযুদ্ধ’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা বিজয়ের ঘোষণা আর ইরানের প্রতিরোধ লড়াইয়ের বার্তা—উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া জনমত গঠনে কীভাবে মিডিয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে, লেখক সেটির গভীর বিশ্লেষণে যাননি।

ঙ) ‘কৌশলগত বিজয়’ নির্ধারণের মানদণ্ড: নিবন্ধটির কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য হলো—সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান কৌশলগতভাবে টিকে আছে। তবে এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়ে যায়: একটি রাষ্ট্রের কৌশলগত বিজয় নির্ধারণের মানদণ্ড কী? কেবল শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা, নাকি ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্য অর্জন, ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সামর্থ্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের নিরাপত্তা—সবকিছুর সম্মিলিত মূল্যায়ন? ইরানের সরকার টিকে থাকাকে কৌশলগত সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা যায়; কিন্তু এটিকে একমাত্র সূচক হিসেবে গ্রহণ করলে যুদ্ধের ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষয়, অবকাঠামোগত বিপর্যয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আড়ালে পড়ে যেতে পারে। অতএব, ইরানের অবস্থানকে সরাসরি ‘কৌশলগত বিজয়’ না বলে ‘কৌশলগত পরাজয় এড়ানোর সক্ষমতা’ হিসেবে বর্ণনা করলে বিশ্লেষণটি সম্ভবত আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতো।

চ) ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্য বনাম প্রকৃত রাজনৈতিক লক্ষ্য: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত ব্যর্থতা মূল্যায়নের আগে তাদের ঘোষিত ও অন্তর্নিহিত যুদ্ধলক্ষ্যগুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। তাদের লক্ষ্য কি শুধু ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো, নাকি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা, আঞ্চলিক প্রভাব দুর্বল করা, ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল? যুদ্ধের লক্ষ্য যদি একাধিক ও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল হয়, তাহলে কেবল সরকার পরিবর্তন না হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ কৌশলগত ব্যর্থতা বলা কিছুটা সরলীকৃত হয়ে যায়। বরং কোন পক্ষ তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কতটুকু অর্জন করেছে এবং তার জন্য কী মূল্য দিয়েছে—সেই তুলনামূলক হিসাবই জয়-পরাজয়ের অধিক গ্রহণযোগ্য ভিত্তি হতে পারে।

ছ) আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজস্ব ভূমিকা: মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত সমীকরণকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের ত্রিমুখী সম্পর্ক দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নিজস্ব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। একইভাবে চীন এই অঞ্চলে জ্বালানি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-ছাতার ওপর নির্ভরশীল হলেও ইরানের সঙ্গে স্থায়ী সংঘাত তাদের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। ফলে ইরানের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য সহযোগিতাকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে না দেখে ঝুঁকি কমানো ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যায়।

যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে একটি পাল্টা প্রশ্নও এখানে উত্থাপন করা প্রয়োজন। যে রাষ্ট্রের সরকার টিকে থাকে, কিন্তু জনগণ, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তাকে কি নিঃশর্তভাবে বিজয়ী বলা যায়? আবার সামরিকভাবে শক্তিশালী পক্ষ যদি প্রতিপক্ষের সরকার উৎখাত করতে না পারে, কিন্তু তার সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা দীর্ঘ সময়ের জন্য দুর্বল করে দেয়, তবে সেটিকে কি পুরোপুরি ব্যর্থতা বলা যুক্তিসংগত? এসব প্রশ্নের কোনো সরল উত্তর নেই। বরং এগুলো প্রমাণ করে যে আধুনিক যুদ্ধে ‘জয়’ একটি চূড়ান্ত ও অবিসংবাদিত সত্য নয়; এটি নির্ভর করে সময়সীমা, নির্বাচিত মানদণ্ড এবং কোন পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার ওপর।

সবশেষে, হাসান ফেরদৌসের লিখনশৈলী বরাবরের মতোই সুখপাঠ্য, প্রাঞ্জল, ঝরঝরে এবং বিশ্লেষণাত্মক। অতি-সংক্ষিপ্ত হলেও তিনি কোনো অপ্রয়োজনীয় বাক্যের বিস্তার তার নিবন্ধে ঘটাননি। লেখাটির গদ্য অত্যন্ত সহজবোধ্য। “বিড়াল-ইঁদুর খেলা”, “নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানো”—এরকম কিছু সহজ দেশীয় প্রবাদের ব্যবহারে নিবন্ধটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুগম্ভীর বিষয় হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া অনুচ্ছেদ বিন্যাস এবং সাব-হেডিংগুলোর ব্যবহার (যেমন: ‘যুদ্ধ বনাম শান্তি’, ‘ট্যাকটিক্যাল বনাম স্ট্র্যাটেজিক’) পাঠককে নিবন্ধটির মূল ভাব দ্রুত ধরে রাখতে সাহায্য করে।

আমার সার্বিক মূল্যায়নে, হাসান ফেরদৌসের “যুদ্ধের ভেতর আরেক যুদ্ধ” নিবন্ধটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের যে একটি মাস্টারক্লাস বিশ্লেষণ তা নিয়ে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আধুনিক যুদ্ধ কেবল রকেট হামলা, ড্রোন কিংবা সামরিক বাজেট দিয়ে জেতা যায় না; আধুনিক যুগের যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত হয় মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক রুট নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষকে নিজস্ব রাজনীতিতে কোণঠাসা করার ক্ষমতার ওপর।


ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারি চাকুরীজীবি, পাশাপাশি লেখালেখি ও গবেষণা কাজে লিপ্ত। ছোটগল্প, ছোট উপন্যাস ও রম্য রচনা প্রধানত লেখার মুলধারা।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।