সাহিত্য পুরস্কার এবং স্থগিত-বাতিল-প্রত্যাহার-প্রত্যাখানের নাটক

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৪ মার্চ, ২০২৬
April 16, 2026

নব্বই দশকে স্বসম্পাদিত ছোট কাগজ ‘প্রচ্ছদ’-এর দু’টি সংখ্যায় ধারাবাহিক লেখা প্রকাশ করেছিলাম— বাংলাদেশের সাহিত্যপুরস্কার নিয়ে। সেখানে পাঁচশতাধিক রঙের, জানা-অজানা পুরস্কারের তালিকা তুলে ধরে ছিলাম। এবং এক শ্রেণীর পুরস্কার ব্যবসায়ীরা নীলক্ষেত থেকে টিন বা পিতলের পঁচাত্তর টাকার ক্রেস্ট কিনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে তা প্রদান করে। তাতেও উভয় পক্ষ তৃপ্ত।

বিশ্বখ্যাত এবং বিশ্বের শীর্ষ নোবেল পুরস্কার নিয়েও বহু বিতর্ক আছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি বলি, তাহলে ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং তসলিমা বেগম যৌথভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখিয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। যা পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানে দেখাযায়। তসলিমা বেগম কোথায় হারিয়ে গেল, কেন হারিয়ে গেল? সেই খবর আমরা কি রেখেছি?

আমাদের বাংলাদেশে তিনটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার আছে—স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। এই জাতীয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিয়েও এখন প্রায় একই ঘটনা ঘটছে। স্বাধীনতা পুরস্কার ঘোষণার পর প্রতিবাদের পর অখ্যাত দুই কবি—জউদ্দিন আহম্মদ (২০২০) এবং আমির হামজা (২০২২) পুরস্কার সরকার বাতিল করতে বাধ্য হয়। [দ্রঃ বিবিসি, ১২ মার্চ ২০২০ এবং দৈনিক যুগান্তর, ১৮ মার্চ ২০২২, ঢাকা।] উল্লেখ্য, ভূয়া কবি রইজ উদ্দিন আহম্মদের পুরস্কার প্রত্যাহারের জন্য আমি বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলায় প্রতিবাদের ব্যানার নিয়েই দাঁড়িয়ে ছিলাম।

এসব ঘটনার শেষ নেই। বাংলা একাডেমি পুরস্কার থেকে বঞ্চিত জাতীয় কবি এবং পল্লীকবি! বঙ্গবন্ধুর বিশেষ উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নেয়া হয়। কবির বাকি জীবন বাংলাদেশেই কাটে। ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদানের সরকারি আদেশ জারি হয়। দীর্ঘ বার বছর বাংলাদেশে থাকলেও তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেয়া হয়নি।

২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বের চারদলীয় জোট সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে একসঙ্গে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জিয়াউর রহমানকে পুরস্কার দেয়ায় আপত্তি ওঠে এবং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকারের তাদের মন্ত্রিসভা কমিটি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কারটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে এবং তা কার্যকর হয়। [দ্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ঢাকা]।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে সমান্তরালভাবে লতিয়ে উঠার পেছেনের মানুষ সনজীদা খাতুন। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তি। তিনিই একাধারে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সঙ্গীতজ্ঞ এবং শিক্ষক। তিনিই বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ভারত থেকেও যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি পেলেও স্বদেশের স্বাধীনতা পুরস্কার তাঁকে দেয়া হয়নি। অথচ ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ থেকে রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার, দেশিকোত্তম পুরস্কার, ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি পেয়েছেন। জনৈক সুরমা জাহিদের মতো লেখিকা স্বাধীনতা পুরস্কার (২০২৩) জোগাড় করেনে; কিন্তু সনজীদা খাতুনের মতো ব্যক্তিত্বও জীবিতকালেই এবং মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়নি।

আবার শর্শিনা পীর আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ স্বাধীনতা বিরোধী এই ব্যক্তিকে দুইবার স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে। দুই সামরিক ও স্বৈরশাসক। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান জনসেবায় এবং ১৯৮৫ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য এরশাদ তাঁকে এই পুরস্কার দেন। যা পুরস্কারের নীতিমালার বহির্ভূত।

প্রথমতঃ স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী, দ্বিতীয়তঃ একই ব্যক্তি দুইবার এই পুরস্কার পেতে পারেন না,
তৃতীয়তঃ এই ভণ্ডপীর ১৯৭৪ সালে শর্শিনা মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেছেন। শুধু পাশ নয়, মাদ্রাসা বোর্ডে মেধা তালিকার প্রথম দিকেই তার নাম ছিল। কিন্তু তাকে পরীক্ষার খাতায় লিখতে হয়নি। তার পরীক্ষাগুলো দিয়েছিলেন উক্ত মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল মুফতি আমজাদ হোসেন। কেবল কামিল নয়— দাখিল, আলিম এবং ফাজিল কোনো পরীক্ষা তিনি নিজে দেননি। পীরের ভগ্নিপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ আলী হায়দারও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। (দ্রঃ শর্শিনা পীরের জালিয়াতি/ আরিফুর রহমান বাবুল, সামহোয়ার ইন ব্লক, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১১।)

স্বাধীনতার পর পর দালাল আইনে গ্রেপ্তার হওয়া খন্দকার আবদুল হামিদকে ১৯৭৭ সালে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য একুশে পদক দেওয়া হয়। হায় সেলুকাস! কি বিচিত্র এই দেশ!

১৯৬০ সাল থেকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত প্রায় শ’ খানেক সাহিত্যিককে পুরস্কৃত করা হলেও জাতীয় কবিকে দেয়া হয়নি এবং দীর্ঘ ১৪ [তালিম হোসেন, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আতাউর রহমান, আবদুল গনি হাজারী, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুফী মোতাহার হোসেন— এঁদেরকে কবিতায় পুরস্কার দেয়া হলেও] বঞ্চিত করা হয়েছে খ্যাতিমান কবি জসীমউদদীনকে! ক্ষোভে, অভিমানে, অপমানে ১৯৭৪ সালে দেয়া পুরস্কার পল্লীকবি প্রত্যাখ্যান করেন। মতান্তরে প্রকাশ, বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠনের প্রতিবাদে জসীমউদদীন বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক খ্যাতিমান শিক্ষক ও কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল তিনিও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেননি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে পুরস্কার প্রত্যাখানের তালিকা দীর্ঘ। বাম রাজনীতির অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার নিতে অপরগতা প্রকাশ করেন। আহমদ ছফা ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমির সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কবি ওমর শামস, ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।

আবার আদর্শের কারণে ১৯৮৬-এরশরাদের হাত থেকে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী একুশে পদক নেননি। ২০২২ সালে নীতিগত, মতবিরোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণে নাট্যাভিনেতা মামুনুর রশীদ বাংলা একাডেমির পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।

রাজনৈতিক মতবিরোধের জের এভাবে পুরস্কার ফিরিয়েছেন জাকির তালুকদার। তিনি ২০১৪ সালে পুরস্কারে ভূষিত হন; ১০ বছর পর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। ইতঃপূর্বে বদরুদ্দীন উমর ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০২৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

২০১৭ সালে অনুবাদে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান নিয়াজ জামান। তা ছিল বাংলা একাডেমির নীতিমালার বহির্ভূত। তাই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। তবে এ নিয়াজ জামানের পুরস্কার বাতিল করা হয়নি।

২০২৬ সালে কবি মোহন রায়হানের পুরস্কার বাংলা একাডেমি এবং সরকার স্থগিত/বাতিল করে। মোহন তার ফেসবুকে এক বার্তায় জানিয়েছেন: ‘গতকাল পুরস্কারপ্রাপ্তদের ডেকে এসএসএফ পুরস্কার গ্রহণের রিহার্সেল প্রদান করে। আজ অনুষ্ঠানের সূচনায়ও আমার নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পুরস্কার প্রদানের সময় আমাকে আর ডাকা হয়নি। জানতে পারলাম, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা আমার কবিতা ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়েছে—একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়েছে।’

অথচ কয়েক দিন আগে মোহনের নেতৃত্বে কয়েক লেখক তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবার আগেই তার সঙ্গে দেখা করে আসেন! ফলে জাতীয়তাবাদী কয়জন কবি ক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রির কাছে এই পুরস্কারের প্রতিবাদ করেন, অভিযোগ হচ্ছে—মোহন কর্নেল তাহেরকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন।

অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিলো শামসুর রাহমানের ক্ষেত্রে। ১৯৬৩ সালে শামসুর রহমানের দ্বিতীয় কবিতার বই ‘রৌদ্রকরোটি’-র জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার পান। এবং তিনি ও শহীদুল্লাহ কায়সার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের হাত থেকে এ পুরস্কার নেন। পুরস্কার প্রদানের পরদিন দৈনিক ইত্তেফাকে বেশ কয়েকজন প্রবীণ ও নবীন সাহিত্যিক প্রতিবাদ করে বিবৃতি দেয়। বিবৃতির একটিই কারণ—শামসুর রাহমানকে যেন না দেওয়া হয়। কারণ, আইয়ুবের বিরুদ্ধে লেখা ‘হাতির শুঁড়’ নামের কবিতা ‘রৌদ্রকরোটি’-তে ছিল। [দ্রঃ প্রথম আলো, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ঢাকা]।

এবার পুরস্কারপ্রাপ্ত কয়েকজন বন্ধুকে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছি— গত দুই বছরের চেয়ে এবার অনেকটা ভালো হয়েছে। দুই বছর আগে পুরস্কার ঘোষণার পর নানান নাটক হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হান্নান এবং শিশুসাহিত্যে ফারুক নওয়াজকে প্রথমে ঘোষণা দেয়া হলেও পরে তাদের পুরস্কার বাতিল করা হয়। কারণ, তারা বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের লেখক এবং কথিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর! এই নাটকের মধ্যেই নাটকীয়তা দেখান সেলিম মোরশেদ। তিনি স্থগিত হওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করেন। এখন অনেকেই দাবি, হান্নান-ফারুকের পুরস্কারও ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

যা হোক। আল মাহমুদ বঙ্গবন্ধু, এরশাদ, খালেদা জিয়াকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। ‘ভাত দে হারামজাদা’ নামে কবিতা লিখেছেন রফিক আজাদ, ‘হর্ষবর্ধনের হস্তি’ শিরোনামে কবিতা লিখেছেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। তবু তারা আওয়ামী আমলের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন, চাকরি পেয়েছেন। এবং সর্বশেষ কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বঙ্গবন্ধু-হাসিনাকে কবিতা লিখেছেন এবং খালেদা জিয়াকে নিয়েও লিখেছেন— ‘শস্য গন্ধি মাটির কন্যা’ এবং ‘লাঞ্ছিতের আহ্বানে’ কবিতা। তবু তিনিই কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত হননি।

কবি মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়াও এই ‘পুরস্কার’ শীর্ষক নাটকের নেপথ্যে আরও একাধিক দৃশ্য আছে। আমি সে দিকেও যাচ্ছি না। তবে অনেকেই বলছেন—অপমানের জন্য মোহনের উচিত ছিলো মানহানির মামলা করা।

অবশেষে মোহন পুরস্কার নিতে রাজি হয়ে একাধিক বার বিবৃতি দিয়েছেন, সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন, দেশবাসীর উদ্দেশ্যে পোস্ট দিয়েছেন, ফটোকার্ড প্রচার করেছেন। একবার বলেছেন হাস্যকর কথা—সার্বভৌমত্বের রক্ষায় তিনি বাতিল বা স্থগিতকৃত নিতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই পুরস্কারের সঙ্গে সার্বভৌমত্বের কি সম্পর্ক?

আবার বলছেন— ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই যেন আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারি’।
ফলে বিতর্কিত পুরস্কার এখন তিরস্কারের নামান্তর।


সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | টরন্টো, কানাডা

কবি, গবেষক ও সাংবাদিক। তিনি ২০২৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ শতাধিক।

Previous Story

দেখা হবে পৃথিবীর প্রান্তে

Next Story

অকথ্য গালি কেন স্লোগানের ভাষা?

Latest from সাহিত্য ও সংস্কৃতি

বেহাগ

গুছিয়ে রাখি চামড়া ঢাকা মনের গতি  অবহেলায় নিভতে পারে স্বপ্নবাতি। - ঝর্ণা ভট্টাচার্য্যের কবিতা।