(১ম পর্ব – ৩ পর্বে বিভক্ত)
বচন বাংলা লোকসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। এর মধ্যে ‘ডাক ও খনার বচন’ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। প্রাচীন ও মধ্যযুগের কৃষিভিত্তিক বাঙালি সমাজের জীবনযাত্রা এতে ফুটে উঠেছে। এই বচনগুলো মূলত মৌখিক সাহিত্য। এগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল। কৃষি, আবহাওয়া, জ্যোতিষশাস্ত্র, মানবচরিত্র এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা উপদেশ এসব বচনে পাওয়া যায়।
‘বচন’ মানে উক্তি। ইংরেজিতে বলা হয় Proverb। তবে বচনের তাৎপর্য প্রবাদের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বচনের জন্ম। শুভ-অশুভ, নিয়ম-কানুন, নীতি ও উপদেশের কথা থাকে বচনে। বাংলা লোকসাহিত্যে ডাক ও খনার বচন সবচেয়ে বিখ্যাত। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির প্রধান পেশা কৃষি। এই কৃষিকাজ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কখন বৃষ্টি হবে, কখন বীজ বুনতে হবে, কোন মাটিতে কোন ফসল ভাল হবে, এসব জ্ঞান কৃষকের থাকা জরুরি। এই প্রয়োজন থেকেই ডাক ও খনার বচনের সৃষ্টি। হাজার বছর ধরে বাংলার চাষিরা এই বচনগুলোকে বেদবাক্যের মতো মেনে এসেছেন।
ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে, ডাক ও খনার বচন প্রাচীন যুগের সৃষ্টি। তবে মধ্যযুগের শুরুতে এর বিস্তার ঘটে। প্রথমে এর কোনও লিখিত রূপ ছিল না। এগুলো মৌখিক সাহিত্য হিসেবেই টিকে ছিল। বহু পণ্ডিতের মতে, এই বচনগুলো অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এগুলোকে বৌদ্ধ যুগের সাহিত্য বলে মনে করেন। অন্যদিকে ড. সুকুমার সেন মনে করেন, এগুলো প্রাচীন অবহট্ঠ ভাষাতেও প্রচলিত ছিল। কালের নিয়মে ভাষার পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক পণ্ডিতদের মতে, এগুলো মধ্যযুগের সাহিত্য। কারণ প্রাচীন চর্যাপদের ভাষার সঙ্গে এর তেমন মিল পাওয়া যায় না।
ডাক কে?
ডাকের পরিচয় নিয়ে মতভেদ আছে। প্রাচীনকালে এক শ্রেণির বৌদ্ধ তান্ত্রিকদের ডাক বলা হত। তিব্বতি ভাষায় ডাক শব্দের অর্থ জ্ঞানী। ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে, ডাক নামে একজন গোয়ালা এই বচনগুলো রচনা করেছিলেন। ডাকের বচনে জ্যোতিষ, মানবচরিত্র এবং নীতিকথার প্রাধান্য বেশি। অসমেও ডাকের বচন খুব জনপ্রিয়। সেখানে এটি ‘ডাকর কথা’ নামে পরিচিত।
খনা কে?
খনার বচন হিন্দু সমাজে সৃষ্টি। খনার পরিচয় নিয়ে বহু লোককাহিনি প্রচলিত। খনা ছিলেন একজন বিদূষী নারী। তাঁর আসল নাম ছিল লীলাবতী। কথিত আছে, তিনি সিংহলের রাজকন্যা ছিলেন। উজ্জয়িনীর মহারাজা বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় নবরত্নদের অন্যতম ছিলেন জ্যোতিষী বরাহমিহির। খনা ছিলেন বরাহমিহিরের পুত্র মিহিরের স্ত্রী। খনা জ্যোতিষশাস্ত্রে শ্বশুর বরাহমিহিরের চেয়েও পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তাঁর খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্বশুর বরাহমিহির ঈর্ষান্বিত হন। তিনি পুত্র মিহিরকে নির্দেশ দেন খনার জিভ কেটে ফেলার জন্য। পিতৃআজ্ঞা পালন করেন মিহির। লীলাবতী বোবা হয়ে যান। তখন থেকেই তিনি খনা নামে পরিচিত হন। জিভ কাটার আগে লীলাবতী কৃষি, আবহাওয়া ও ফলন সম্পর্কে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। সেগুলোই ‘খনার বচন’ নামে বাংলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গের বারাসতের দেউলিয়া গ্রামে এখনও ‘খনামিহিরের ঢিবি’ নামে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রয়েছে। তবে অনেক আধুনিক গবেষক মনে করেন, খনা লোকসাহিত্যের একটি কাল্পনিক চরিত্র।
ডাক ও খনার বচন মূলত ছড়া বা কবিতার মতো। এগুলোতে চমৎকার ছন্দ আছে। ছন্দে ছন্দে বলা হত বলে এগুলো মানুষের সহজে মুখস্থ থাকত। খনার বচনে প্রচুর গাণিতিক পরিভাষা আছে। যেমন চাঁদা ১, পক্ষ ২, নেত্র ৩, বেদ ৪, বাণ ৫ ইত্যাদি। দুই থেকে চার চরণের বচনই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধ। মানুষের মুখে মুখে ঘুরেই বর্তমান রূপ পেয়েছে এগুলি।
ডাকের বচন মূলত নীতিমূলক এবং ব্যবহারিক জ্ঞানসমৃদ্ধ। মানুষের নিত্য জীবন, সমাজের নিয়ম-কানুন এবং চরিত্র বিশ্লেষণ ডাকের বচনের প্রধান বিষয়। হাজার বছর আগের বাঙালি সমাজ কেমন ছিল, তা ডাকের বচন পড়লে পরিষ্কার বোঝা যায়। মানুষের আচার-আচরণ দেখে তার মনের কথা বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল ডাকের।
তৎকালীন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ ডাকের বচনে ফুটে উঠেছে।
‘নিয়ড় পোখরী দূরে যায়।
পথিক দেখিয়া আওড়ে চায়।
পর সম্ভাসে বাটে থিকে।
ডাকে বলে ও নারী ঘরে না টীকে।’
মানে, যে নারী বাড়ির কাছের (নিয়ড়) পুকুর থেকে না নিয়ে দূরে জল আনতে যায়, রাস্তার লোকজনদের দিকে আড়চোখে তাকায় এবং অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলে, সেই নারী সংসারে মন দেয় না। এটি প্রাচীন সমাজের রক্ষণশীল মানসিকতার পরিচয় দেয়। সমাজ কীভাবে একজন আদর্শ নারীকে দেখতে চায়, তার ছবি এই বচনে ফুটে ওঠে।
‘ঘরে আখা বাইরে রাঁধে,
অল্প কেশ ফুলাইয়া বাঁধে।’
মানে যে নারী ঘরে উনুন (আখা) থাকতেও বাইরে রান্না করে এবং অল্প চুল ফুলিয়ে বাঁধে, তার মন চঞ্চল। সে লোক-দেখানো কাজ করতে পছন্দ করে। এই বচনগুলো থেকে সেকালের পারিবারিক নিয়মকানুন সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়।
বাঙালি মূলত কৃষিজীবী। তারা কীভাবে বাড়ি বানাবে, কোন দিকে কী গাছ লাগাবে এসব নিয়ে ডাকের বচনে সুস্পষ্ট ও বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশ আছে।
‘পুবে হাঁস, পশ্চিমে বাঁশ, উত্তরে কেলা, দক্ষিণে মেলা।’
বাড়ির পূর্ব দিকে পুকুর (যেখানে হাঁস চড়বে), পশ্চিম দিকে বাঁশঝাড়, উত্তর দিকে কলাগাছ এবং দক্ষিণ দিক খোলা (মেলা) রাখতে হবে। এর পেছনে চমৎকার বিজ্ঞান রয়েছে। দক্ষিণ দিক খোলা থাকলে গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত বাতাস আসে। পশ্চিমে বাঁশঝাড় বিকেলের কড়া রোদ আটকায়। উত্তর দিকের কলাগাছ উত্তরের শীতল হাওয়া থেকে ঘরকে রক্ষা করে।
ডাকের বচনে মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার নানা উপায় বলা হয়েছে। কেমন খাবার খেলে শরীর ভাল থাকবে, তার নিখুঁত বৈজ্ঞানিক উল্লেখ এখানে আছে।
‘উনা ভাতে দুনা বল, অতি ভাতে রসাতল।’
পেট একটু খালি রেখে (উনা) ভাত খেলে শরীরে দ্বিগুণ (দুনা) শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু অতিরিক্ত ভাত খেলে শরীর খারাপ হয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও পরিমিত আহারের কথা বলে। হাজার বছর আগে ডাক এই বৈজ্ঞানিক সত্যটিই প্রবাদের মাধ্যমে প্রচার করেছিলেন।
‘আগে খাবে মায়ে, তবে পাবে পোয়ে।’
মা যদি ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খান, তবেই সন্তান সুস্থ থাকবে। বুকের দুধ পান করানো মায়েদের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এটি জনস্বাস্থ্য সচেতনতার একটি চমৎকার উদাহরণ।
সমাজের মানুষের মধ্যে কেমন সম্পর্ক হওয়া উচিত এবং সমাজের ভেতরের রূপ কেমন, তা নিয়ে ডাক অনেক উপদেশ দিয়েছেন।
‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।’
একতা বা সংঘবদ্ধতার শক্তি বোঝাতে এই বচনটি আজও সমান জনপ্রিয়। সবাই মিলে কাজ করলে ব্যর্থতা এলেও লজ্জা নেই। সমাজের ভিত্তি হল একতা, এটাই ডাক বোঝাতে চেয়েছেন।
‘তেলা মাথায় ঢালো তেল, শুকনো মাথায় ভাঙ্গ বেল।’
যার আছে তাকে সবাই আরও দেয়। আর যার নেই, তাকে সবাই অবহেলা বা শোষণ করে। সমাজের এই চরম বৈষম্য ও নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে ডাক এই বচনের মাধ্যমে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন।
ডাকের বচন শুধু বাংলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বৃহত্তর বাংলা ছাড়িয়ে অসম ও নেপালেও এর ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়। অসমীয়া ভাষায় ‘ডাকভণিতা’ নামে প্রায় এক হাজার ডাকের কথা সংকলিত হয়েছে। অসমীয়া ডাকের কথায় মোট ১১টি প্রকরণ বা অধ্যায় আছে। এর মধ্যে জন্মপ্রকরণ, রন্ধনপ্রকরণ, নীতিপ্রকরণ, কৃষিলক্ষণ, গৃহিণীলক্ষণ ইত্যাদি প্রধান। তিব্বতি ভাষায় ‘ডাকার্ণব’ মানে হল জ্ঞানসাগর। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, ডাকার্ণব বাংলা ভাষার অন্যতম আদিগ্রন্থ। নেপালে প্রাপ্ত ‘বজ্রডাকতন্ত্র’-এও ডাকের বচনের মতো প্রবচনমালা রয়েছে। এসব থেকে প্রমাণিত হয় যে, ডাকের বচন প্রাচীন বাংলার সীমানা পেরিয়ে এক আন্তর্জাতিক লোকসাহিত্যের রূপ পেয়েছিল।
ডাকের বচনে সমাজ ও মানুষের কথা বেশি থাকলেও, খনার বচনের মূল বিষয় হল কৃষি। প্রাচীন বাংলায় কৃষকদের বিজ্ঞানসম্মত ক্যালেন্ডার বা আবহাওয়া দফতর ছিল না। খনার বচনই ছিল তাদের একমাত্র কৃষি-ম্যানুয়াল। মেঘের রূপ, বাতাসের গতি এবং পশুপাখির আচরণ দেখে খনা নিখুঁতভাবে আবহাওয়া ও ফলনের পূর্বাভাস দিতেন।
খনার বচনে বৃষ্টিপাত ও খরা নিয়ে চমৎকার সব পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
‘দিনে রোদ রাতে জল। তাতে বাড়ে ধানের বল।’
এটি একটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত কথা। দিনের বেলা প্রখর রোদ থাকলে ধানের চারা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় ভাল খাবার তৈরি করতে পারে। আর রাতে বৃষ্টি হলে মাটি ভেজা থাকে, যা ধানের গোড়া মজবুত করে। ফলন ভাল হয়।
‘যদি বর্ষে আগুনে, রাজা যায় মাগনে।’
আগুন বলতে এখানে অগ্রহায়ণ মাসকে বোঝানো হয়েছে। অগ্রহায়ণ মাসে মাঠে পাকা ধান থাকে। এই সময়ে বৃষ্টি হলে পাকা ধান পচে নষ্ট হয়ে যায়। দেশে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তখন রাজাকেও ভিক্ষা (মাগনে) করতে বেরোতে হয়।
‘যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজার পুণ্য দেশ।’
মাঘ মাসের শেষে বৃষ্টি হলে তা রবিশস্যের (সর্ষে, গম, ডাল) জন্য ভীষণ উপকারী। এতে ফলন খুব ভাল হয়। দেশ ধনধান্যে ভরে ওঠে। তাই মাঘের শেষের বৃষ্টিকে আশীর্বাদ বলা হয়েছে।
‘কী কর শ্বশুর লেখা-জোখা, মেঘের মধ্যেই জলের রেখা।’
খনার শ্বশুর বরাহমিহির পুঁথি ও পঞ্জিকা দেখে বৃষ্টির হিসাব করতেন। কিন্তু খনা পুঁথির চেয়ে প্রকৃতির ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিলেন। মেঘের রং ও বাতাসের গতি দেখেই তিনি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে পারতেন। এর মাধ্যমে পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে ব্যবহারিক জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝানো হয়েছে।
কোন ফসলের জন্য জমি কীভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং কীভাবে বীজ বুনতে হবে, তার নিখুঁত নির্দেশিকা খনার বচনে রয়েছে।
‘ষোল চাষে মূলা, তার অর্ধেক তুলা; তার অর্ধেক ধান, বিনা চাষে পান।’
জমি চাষ করার এই অনুপাতটি অসাধারণ। মুলোর জন্য মাটি খুব নরম হওয়া প্রয়োজন, তাই জমিতে ১৬ বার লাঙল দিতে হবে। তুলোর জন্য ৮ বার এবং ধানের জন্য ৪ বার চাষ দেওয়াই যথেষ্ট। অন্যদিকে, পান চাষের জমিতে লাঙল বা চাষের প্রয়োজন হয় না। মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী ফসলের এই বিভাজন আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানের সমতুল।
‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড়, তাতেই ভাত।’
কলাগাছ লাগানোর পর তার পাতা কাটা উচিত নয়। পাতা কাটলে গাছের খাদ্য তৈরিতে বাধা পড়ে এবং ফলন কমে যায়। পাতা না কাটলে কলাগাছে বড় কাঁদি ধরে। সেই কলা বিক্রি করেই কৃষকের সারা বছরের অন্ন-বস্ত্রের জোগান হয়।
‘কোল পাতলা ডাগর গুছি, লক্ষ্মী বলেন ঐখানে আছি।’
ধানের চারা রোপণের সময় একটি চারা থেকে অন্য চারার দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। খুব ঘন করে ধান বুনলে ধানের গুছি মোটা হয় না, ফলনও কমে। ফাঁক ফাঁক (কোল পাতলা) করে বুনলে ধানের ফলন বেশি হয়। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি আজও কৃষকরা মেনে চলেন।
‘সরিষা বনে কলাই মুগ, বুনে বেড়াও চাপড়ে বুক।’
আধুনিক যুগে যাকে ‘মিশ্র চাষ’ বা ‘সাথী ফসল’ বলা হয়, খনা হাজার বছর আগেই তা বলে গেছেন। সর্ষের জমিতে মুগ বা কলাই বুনলে দুটি ফসলই একসঙ্গে পাওয়া যায়। এতে কৃষকের লাভ দ্বিগুণ হয়, তাই সে বুকে চাপড় দিয়ে গর্ব করে বেড়াতে পারে।
‘আউশের ভুঁই বেলে, পাটের ভুঁই আটালে।’
মাটির গুণাগুণ বিচারে খনা ছিলেন অনবদ্য। আউশ ধান বেলে বা দোআঁশ মাটিতে ভাল হয়। অন্যদিকে পাটের জন্য প্রয়োজন এঁটেল (আঠালো) মাটি, যা জল ধরে রাখতে পারে।
প্রাচীন কৃষিব্যবস্থা পুরোপুরি বলদ বা গরুর ওপর নির্ভরশীল ছিল। গবাদিপশুর যত্ন নেওয়ার বিষয়ে খনা বিশেষ সতর্ক ছিলেন।
‘পূর্ণিমা অমাবস্যায় যে ধরে হাল, তার দুঃখ হয় চিরকাল। তার বলদের হয় বাত, ঘরে তার থাকে না ভাত।’
এটি একটি দুর্দান্ত শ্রম-নীতি। কৃষিকাজে বলদকে দিয়ে প্রতিদিন অমানুষিক পরিশ্রম করানো হত। খনা ধর্মীয় বিশ্বাসের মোড়কে (অমাবস্যা ও পূর্ণিমা) পশুদের ছুটির ব্যবস্থা করেছিলেন। মাসে অন্তত দুদিন বলদকে বিশ্রাম না দিলে তার বাতের ব্যথা হবে। বলদ অকেজো হলে কৃষকের ঘরে ভাত জুটবে না। পশুর প্রতি এমন মানবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই বিস্ময়কর।
‘চিনিস বা না চিনিস, খুঁজে দেখে গরু কিনিস।’
কৃষিকাজের প্রধান মূলধন হল গরু বা বলদ। তাই পশু কেনার সময় শুধু বিক্রেতার কথায় বিশ্বাস না করে, পশুর দাঁত, খুর ও স্বাস্থ্য ভাল করে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
২২ এপ্রিল, ২০২৬
চলবে…

দিব্যেন্দু ঘোষ | সাঁকরাইল (হাওড়া), পশ্চিম বাংলা, ভারত
সাংবাদিক, লেখক, প্রাবন্ধিক, বাচিক শিল্পী।

স্যার
খুবই আগ্রহের সঙ্গে পড়লাম।
শ্রদ্ধা জানাই ।
আরও জানতে চাই ,
আর
অনুমতি দিলে পড়শী র নিয়মিত পাঠক হয়ে যাই।
শ্রদ্ধান্তে