বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও সমাধান!

মাহমুদ রেজা চৌধুরী
May 22, 2026
10 views
31 mins read

উল্লেখিত বিষয় অত্যন্ত ব্যাপক আলোচনার অবকাশ রাখো। সংক্ষেপে এই বিষয়ে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ নিয়ে কিছু বলা এই লেখার উদ্দেশ্য। ডক্টর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী তাঁর এক লেখায়  বলেছেন, বাংলাদেশে শিক্ষা প্রসঙ্গে যত আলোচনা পর্যালোচনা হয়েছে এই রাষ্ট্রের জন্ম থেকে, আর কোনো বিষয়ে সেটা হয়নি”। ঠিক, প্রসঙ্গটা কমবেশি ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকেই স্পর্শ করে। সমাজের সকল স্তরে শিক্ষা সমানভাবে যায়নি, কিন্তু এই বিষয়ে আগ্রহ সর্বাত্মক এখনো আছে। এটাও সত্যি কথা যে, আমাদের শিক্ষা জগতে অসংখ্য সমস্যা বিরাজমান। এর কোনটা হালের, কোন কোনটা বহু পুরনোও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও আছে বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন মানের। পাশাপাশি সমাজে যত বিভিন্নতা ও বৈচিত্র, সবই প্রতিফলিত হয়েছে ইস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জগতে। 

সামগ্রিকভাবে আমাদের জাতীয় শিক্ষার দুরাবস্থা দেশের চিন্তাশীল অনেক মানুষকেই বাধ্য করেছে এই বিষয়ে সমস্যার বিভিন্ন দিককে যাচাই করতে ও প্রতিকারের কথা ভাবতে। এক সময় লেখাপড়ার লক্ষ্য ছিল বুঝি, বিত্তবান বনা-যেমন বলা হত লেখাপড়া করে যে গাড়ি ঘোরা চরে সে। অনেক ক্ষেত্রে এটা এখনো আছে। অর্থাৎ শিক্ষার সাথে বিত্তের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সমাজে আমরা তৈরি করে রেখেছি। শিক্ষাকে যতটা প্রজ্ঞা অর্জনের আলো বলে মনে করি, তার চেয়ে বেশি মনে করি শিক্ষা মানেই গাড়ি ঘোরায় চড়ার সুযোগ তৈরি করা। ধনী হওয়া। ভোগী হওয়া, ইত্যাদি বৈষয়িক অনেক কিছু। 

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা বড় সীমাবদ্ধতা এর লক্ষ্য, আদর্শ বা দর্শন! এই ব্যাপারটা কতটা জানি বা আদৌ জানি কিনা! কিম্বা যেটা জানি সেটা মানুষের শিক্ষার দীনতাকে বাড়ায় না আত্মপরিচয়  জানায়। শিক্ষা ব্যবস্থার  আদর্শ বা দর্শন বলতে কি বুঝি!   এখানে দর্শন বলতে, কিছু “দেখা”। মোটা দাগে বুঝি। আরো সোজা করে বলা যায়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি  পরনির্ভরশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, না আত্মনির্ভরশীলতার পথ দেখায় এবং অন্ধকারে আলো দেয়! ভাবা যেতে পারে। 

এই ব্যাপারে সাধারণ ইতিহাস চর্চা বলে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত আমাদের  পরনির্ভরশীল হতে শেখায়। ছোট্ট একটা দৃষ্টান্ত দিয়েই বোঝানো যায়। ছোট সময় থেকেই স্কুল থেকে আরম্ভ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি করি কেন! প্রধানত একটা ভালো চাকরি পাবার জন্য, অন্য কারোর দাসত্ব করবার জন্য। নিজের পায়ে দাঁড়াবার জন্য যতটা না। চাকরি করা, আমাদের শিক্ষার একটা বড় লক্ষ্য থাকে। আমাদের প্রচলিত শিক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষার আলোর পরশ থেকে আমাদের দূরে রাখে।

যেমন রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শনে বলা হয়, শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য মানুষকে প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ রাখা। এই “প্রকৃতির” অর্থ কিন্তু গাছপালা, ফুল লতাপাতা, পাহাড়, সাগর নদীই  না শুধু। এই “প্রকৃতির” অর্থ আরো ব্যাপক, আরো বিস্তৃত কিছু। কেবল পুঁথিগত শিক্ষা দিয়ে এই প্রকৃতিকে বোঝা কঠিন। এই শিক্ষাকে বুঝতে হলে স্বশিক্ষা’র  বিষয়টাকেও বুঝতে হয়। একই সাথে চিনতে ও তা জানতে হয়। সীমার মাঝে অসীম কে! অর্থাৎ নিজে কে জানা, নিজেকেও চেনা। সীমার মাঝে অসীমকে জানার এটাও একটা ধাপ বলা যায়। 

আমরা মানুষ হয়ে পৃথিবীতে জন্মেছি। সেই মানুষ বলতে কি বুঝি, কাকে বুঝি। কেন বুঝি!  আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যদি এই শিক্ষা আমরা রপ্ত করতে না পারি। তাহলে, আমাদের শিক্ষা দর্শনের মৌলিক ভাবনাতেই গন্ডগোল আছে বলে মেনে নিতে হয়। মানুষের সাথে প্রকৃতির যে সম্পর্ক, বা মানুষ ও প্রকৃতি নিয়ে শিক্ষার যে ধারণা, এই বিষয়ে ধারণার দুইটা প্রান্ত আছে। যেমন একদিকে প্রকৃতিকে ভাবা যায় যেন সে নিয়মের দ্বারা চালিত এক যন্ত্র। ভাবা যায় যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এটাই বের করতে চায় যে, প্রকৃতির যন্ত্রটা  কিভাবে কাজ করে বা কিভাবে তাকে নিয়ে কাজ করানো যায়। 

এই প্রকৃতিকে যদি আমরা যন্ত্র হিসেবে ভাবি তাহলে শিক্ষার ঝোঁক হবে ঐদিকে। অনেকে মনে করেন, শিক্ষা ব্যাপারটা অবশ্য আরো বেশি যান্ত্রিক ও বোধশূন্য হতে পারে। শিক্ষক অনেক সময় গতানুগতিক বিদ্যালয়ে অতি বোধহীন পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করে থাকেন বেশি। এরকম শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের দাসত্ব করতে শেখায় ও কাউকে প্রভু বানায়। কিন্তু কতটা “মানুষ” বানায় মনুষ্যত্ব এবং জ্ঞানের আলোকে! সেটা কম দেখা যায়। মানুষের সাথে প্রকৃতি সম্পর্কের আরেকটা দিক আছে। এক প্রান্তে যেমন যান্ত্রিকতা অন্য প্রান্তে তেমনি প্রকৃতি এমন একটা অবয়ব, যার ভেতর দিয়ে মানুষের প্রেম বিস্তার লাভ করতে পারে। এই বিষয়টা যদি শিক্ষায় ধরা না পড়ে, তবে সেই শিক্ষা সম্পূর্ণ নয়। 

আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় যতটা হিংসা, প্রতিহিংসা, লড়াই, অপপ্রতিযোগিতা। এইসব নেতিবাচক “দেখা” ও “দৃষ্টিভঙ্গি”  কাজ করে; ততটা মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা  করে না। দায়িত্ববোধ করে না। সভ্যতার সংস্কৃতিকে ছুড়ে ফেলে অসভ্যতার সংস্কৃতি বহন করে নিয়ে যাবার অ-সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যহীন “উচ্ছ্বাস” কাজ করে। তাই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভোগ-বিলাস শক্তিশালী, ত্যাগ ততটা না। এই শিক্ষাব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা বা বজায় রাখার প্রধান শ্রেণীশক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের পরনির্ভরশীল আর কিছু অন্যায় প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী শাসক সমাজ। যারা কোন ধরনের স্বাধীনতার স্বপক্ষের কেউ না বরং স্বাধীনতাকে বেশি দামে কিনে, অল্প দামে বেচার রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজনীতি নির্মাণে ব্যস্ত থাকেন সর্বদা।

এই বিষয়ে আমাদের অতি পুরাতন এবং দীর্ঘ যে সমস্ত সমস্যা, সেইগুলোকে সংক্ষিপ্ত আকারে বললে এভাবেও বলা যায়:  

১) আমাদের শিক্ষাদর্শন, শিক্ষা নীতি। বিজ্ঞান, ধর্ম, স্বকীয়তা ও আত্মদর্শন। ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের ভাষাভাষা জ্ঞান।

২) উল্লেখিত বিষয়ের কোন রাজনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা বা সঠিক বাস্তবায়ন নাই।

৩) আমাদের সাংস্কৃতিক ক্ষুদ্র দৃষ্টিভঙ্গি। 

৪) সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার কোন প্রতিফলন নাই। 

৫) পরীক্ষায় নকল প্রবণতা। 

৬) প্রাইমারি শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষার জাতীয় লক্ষ্য সুস্পষ্ট না। 

৭) মাদ্রাসা শিক্ষার সংকট অনেক, সমাধানের নীতি ও উদ্যোগ সীমিত। 

৮) আমাদের উচ্চতর কৃষি শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট। পাশাপাশি, আমাদের প্রযুক্তি শিক্ষাও এখনো অনেক পেছনে। ‌

৯) বেসরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা দুর্বল। যা সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তরায়। 

১০) আমাদের তথ্য ও প্রযুক্তির আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সীমিত ও জাতীয় সম্পদের অসম বন্টন সম্পর্ক।

১১) প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা অতি নিম্নমানের।

১২) স্বশিক্ষার প্রতি শিক্ষক এবং ছাত্রদের আগ্রহ কম। 

১৩) এক সময়ে গৃহ-শিক্ষকতা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কলঙ্ক ছিল। বর্তমান সময়ে সেটা এক ধরনের “কোচিং” প্রথায় রূপান্তরিত। এটাও প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের পথে বাধা। 

ইত্যাদি অনেকগুলো বিষয় আছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে যা বলা যায়। সংক্ষিপ্ত পরিসরে সেটা বলা কঠিন। তবে  আরেকটা দৃষ্টান্ত, আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার বিষয়ে। এই ব্যাপারে আমাদের একজন গুণী ব্যক্তিত্ব ও দার্শনিক লেখক, আহমদ ছফা তাঁর এক রচনায় লিখেছেন, “মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে অনেকে কথাবার্তা বলছেন। মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কারের নানা পরামর্শ অনেক ব্যক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মাদ্রাসার যারা ছাত্র এবং মাদ্রাসা সমূহে যারা শিক্ষকতা করছেন এ ব্যাপারে তাদের কোন মন্তব্য কিংবা পরামর্শ কোথাও চাওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই”। (বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, পৃষ্ঠা-১৪৫) উল্লিখিত লেখায় কি বোঝা যাচ্ছে! আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্যের বিষয়টা যে, সুস্পষ্ট। এই বৈষম্যমূলক শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা এক বড় অন্তরায় সমাজ ও রাষ্ট্রে “শিক্ষিত মানুষ” গড়ে তোলায়। 

এই আলোচনা থেকে এও বোঝা যায় যে, একটা সমাজ ও রাষ্ট্রের শিক্ষা দর্শন বা শিক্ষানীতি যে উদ্দেশ্যে বা যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই প্রণয়ন হোক না কেন, এর “ফলোআপ” কর্মসূচি গ্রহণ করে একটা সুসংহত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি এখনো। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, যাঁরাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসেন তাঁরা নতুন করে সব কিছু গোড়া থেকে শুরু করতে চান। শিক্ষা হচ্ছে তাদের মৃগয়ার প্রিয় বিচরণ ক্ষেত্র। ফলে সমাজ ও দেশকে দিতে হচ্ছে অপরিসীম মূল্য। ‘৭২ থেকে এই পর্যন্ত এর কোন সমাধান দৃশ্য তো দেখি না। 

সমাধান কি! প্রথমত: উল্লিখিত সমস্যা গুলি নিয়ে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক দলীয় উদ্দেশ্য না দেখে জাতীয় উদ্দেশ্য এবং জাতীয় সংস্কৃতিকে বোঝার চেষ্টা করা। সেই বোঝার বিষয়টাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিফলনের সব রকম উদ্যোগ নেয়া। 

দ্বিতীয়তঃ, আমাদের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য দাসত্ব ও প্রভুত্ব নয়। সেবা, ত্যাগ কিন্তু ভোগের সংস্কৃতি না। এই বিষয়টা শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শেখানো দরকার। 

তৃতীয়ত: শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব জায়গায় যত রকম বৈষম্য নীতি আছে তার সব অবসান ঘটানোকে কার্যত গুরুত্ব দেয়া। 

চতুর্থত: শিক্ষা সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও নীতিমালা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাবিদদের মতামত গ্রাহ্য করা এবং এই ব্যাপারে সরকারি প্রশাসন নীতি এবং দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা।

পঞ্চম: তুলনামূলকভাবে উচ্চ স্তরের শিক্ষার তুলনায় নিম্নস্তরের শিক্ষা ক্ষেত্রে মনোযোগ বেশি দেয়া। 

ষষ্ঠ: আমাদের শিক্ষা সংকটের আরেকটা বিষয় হচ্ছে পরিবেশের সংকট। সাম্প্রতিক কালে সমাজের শিক্ষিত মহলে, অভিভাবকদের মধ্যে, ছাত্র শিক্ষক সমাজে, রাজনৈতিক মহলে, গণ-মাধ্যমে, এমনকি সরকারি মহলে এই কথাটা প্রায়ই উচ্চারিত হচ্ছে যে, শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিবেশের নানান ব্যাখ্যাও হতে পারে। কারণ পরিবেশের ব্যাখ্যায় আমাদের অনেকের নিজস্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে। এটা সার্বজনীন কিনা, এটা আমরা কম চিন্তা করি। শিক্ষার পরিবেশ বলতে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে জাতীয় রাজনীতি এবং তার চর্চা। এই পরিবেশ অশান্ত এবং অস্থির করার ব্যাপারে বর্তমান সময় একটা বড় নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে। তাই শিক্ষাঙ্গন থেকে জাতীয় রাজনীতির সংগঠন ও প্রভাব দূরে রাখা জরুরি। 

সপ্তম: আমাদের উৎপাদন সম্পর্কের অসম বন্টন প্রক্রিয়া আমাদের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে আরেক অন্তরায়। মানব সমাজের সর্বাধিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমরা পাই মার্কস ও অ্যাঙ্গেলস বর্ণিত সমাজের গতি প্রকৃতির বস্তুবাদী ব্যাখ্যার মধ্যে। সমস্যা হচ্ছে, এই বস্তুবাদী সংস্কৃতিকে বুঝতে গিয়ে আমরা অদৃশ্য বস্তুকে উপেক্ষা করি। এই বিষয়টা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক গুণগত বৈশিষ্ট্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যে কারণে, সমাজে বিশ্বাসের চাইতে সন্দেহ ও সংশয়বাদ আমাদের শিক্ষাকে কিছুটা হলেও বিতর্কের দিকেও ঠেলে দেয়। এই সমস্যার সমাধানে মানুষের জ্ঞান যতই অগ্রসর হোক না কেন সবকিছুর জ্ঞান আয়ত্ত করাও মানুষের অসাধ্য। এই বিষয়টাকেও গুরুত্ব দেয়া দরকার। 

পরিশেষে, শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান স্যারের একটা লেখা থেকে উল্লেখ করি। “শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে সামগ্রিকভাবে একজন শিক্ষার্থীর চৈতন্যকে জাগরিত করা। একজন শিক্ষার্থী পাঠ্যপুস্তক এর সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। শিক্ষা হচ্ছে এক প্রকার আদান-প্রদান। যিনি শিক্ষা দিচ্ছেন এবং যে শিক্ষা গ্রহণ করছে এদের উভয়ের মধ্যে একটা সমঝোতা যখন নির্মিত হয় তখনই জ্ঞানের বিকাশ ঘটে।” 

এক কথায় আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় এই বিষয়টাও অনুপস্থিত। শিক্ষক ছাত্র সম্পর্কের মধ্যে। বিষয়টা মনে রেখে আমরা যদি শিক্ষা সংস্কারের প্রতি আন্তরিক হই যার যার অবস্থান থেকে প্রত্যেকে। তখন এই বিষয়ে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করি।


মাহমুদ রেজা চৌধুরী | নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক

সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষক। সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করেন। আদি পড়শীতেও লিখতেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

কোথায় গিয়ে থামবে কী ভাবে

Next Story

বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দুর্দিন! কী করণীয়

Latest from শিক্ষা

বাংলাদেশের শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: কিছু ভাবনা

শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের... - একটি জরিপের বিশ্লষণ করেছেন বি. এম. ফজলে রাব্বি & ড. সাবির মজুমদার।