কোথায় গিয়ে থামবে কী ভাবে

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
May 22, 2026
11 views
30 mins read

পশ্চিমবঙ্গে লড়াইটা বাহ্যত দাঁড়িয়ে গিয়েছিল দুই জাতীয়তাবাদের মধ্যে। হিন্দু জাতীয়তাবাদ বনাম বাঙালি জাতীয়তাবাদ। জয় শ্রীরামের বিরুদ্ধে জয় বাংলা। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি’কে একদা আগ বাড়িয়ে ডেকে এনেছিলেন তিনিই শেষ পর্যন্ত বিজেপি’র বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে এবং জোর গলায় ‘জয় বাংলা’ আওয়াজ দিয়ে। ইতিহাসের এ একটা মজাদার কৌতুক বটে। বিজেপি’র পূর্বপুরুষ হিন্দু মহাসভাপন্থিরাই একদা দাবি তুলেছিলেন মুসলমানদের সম্ভাব্য কর্তৃত্বের (আঞ্চলিক হলেও) রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে ভারতবর্ষকে দু’ভাগ করে ফেলতে হবে, এবং সে-দাবির প্রধান মুখপাত্র ছিলেন হিন্দুমহাসভার তখনকার সভাপতি পশ্চিমবঙ্গের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়; এত বছর পরে সেই পশ্চিমবঙ্গ থেকেই এখন আওয়াজ উঠেছে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের। পশ্চিমবঙ্গ আজ চাইছে তার বাঙালিত্বকে রক্ষা করতে, কারণ সেটি এখন বিপন্ন; এবং বিপদটা তথাকথিত ‘মুসলিম বাংলাওয়ালা’দের কাছ থেকে আসেনি, এসেছে সেদিন যারা ভাগ করে হলেও বাংলাকে নিজেদের মনগড়া মুসলিম বাংলার হাত থেকে বাঁচাবেন বলে অখণ্ড বাংলাকে কেটে দু’ভাগ করবার সর্বনাশা খেলাতে মেতেছিলেন, এবং শেষ পর্যন্ত সফলও হয়েছেন, কট্টর সেই হিন্দুত্ববাদীদের কাছ থেকেই।

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে শাসনক্ষমতা পেয়েছে, এটা ভেবে অবশ্যই সন্তুষ্ট হতে পারে যে রাজনীতিতে সেই পুরাতন সাম্প্রদায়িকতাকে, বলা যায় দ্বিজাতি তত্ত্বকেই তারা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। ভারতকে ঊনিশ শ’ সাতচল্লিশ তো বটেই, তারও আগের অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে সক্ষম হবে। সবটা এখনো পারেনি, তবে আশা করা যায় আগামীতে ওই রাজনীতিকে আরও উগ্র করে তুলে শ্রেণিবিভাজনের সত্যটাকে অবলুপ্ত করে দিয়ে ভারতকে একটি হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। জয় শ্রীরাম ভরসা!

আমরা অবশ্য নিশ্চিত যে সেটা সম্ভব হবে না। প্রথম কারণ ভারত এক জাতির দেশ নয়, কখনো ছিল না, এখনো নয়। ভারতে বহুজাতির বসবাস। এবং প্রত্যেকটি জাতিরই রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। হিন্দু ও মুসলিম, এরা দু’টি আলাদা সম্প্রদায় ঠিকই; কিন্তু আলাদা জাতি নয়। বিজেপি’র বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সমর্থনের বড় কারণ মমতা যুগের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুণ্ঠনসহ ফ্যাসিবাদী তৎপরতা। নরেন্দ্র মোদিরা পশ্চিমবঙ্গে এসে হিন্দি ভাষায় বক্তৃতার তুফান ছুটিয়েছেন, বাঙালি সেটা লুফে নিয়েছে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের মোহে পড়ে। বাঙালিপ্রীতি দেখাতে গিয়ে মোদি রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দেবার চেষ্টা করেছেন, শুনে বাঙালি কানে আঙুল দিয়েছে, কারণ সেটা কেবল বিকৃত নয়, অশ্লীলও শুনিয়েছে। আগের দিনে একটা গল্প চালু ছিল, যার সারমর্ম হলো, রবীন্দ্রনাথ ১৯৪১ সালে মারা যাবার আগেও একবার মারা গিয়েছিলেন। কোনো মতে সেরে উঠেছিলেন। আর সেটা ঘটেছিল এক হিন্দিভাষীর প্রচণ্ড রবীন্দ্রপ্রীতির কারণেই। হিন্দিভাষী ওই ভদ্রলোক ছিলেন অপ্রতিরোধ্য কবিতাপ্রেমিক, তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতার অনুবাদ করেছেন, এবং প্রফুল্লচিত্তে তা রবীন্দ্রনাথকে শোনাতে গিয়েছিলেন। সেই যে চরণ রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির, “আমার মাথা নত করে দেও হে তেমার চরণ ধূলার তলে”, তার অনুবাদ তিনি করেছিলেন “পাটক দে মেরি শির তেরি টেঙরি পর”। আর সেটা শুনে অমন ধৈর্যমান মানুষ যে রবীন্দ্রনাথ তিনি তৎক্ষণাৎ প্রাণ-ত্যাগ করেছিলেন, হৃদ্কম্প স্তব্ধ হয়ে যাবার দরুন। হিন্দি বাংলায় এই তফাৎটা খুবই স্বাভাবিক ভাবে ঘটে, আর ওই স্বাভাবিকতাই তো জানিয়ে দিচ্ছে যে, ও-দু’টিকে এক করতে চাওয়াটা ভীষণ বিপজ্জনক। ভারতবর্ষের যে ঐক্য রবীন্দ্রনাথও কল্পনা করতেন সেটা রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক কোনো পর্যায়েই অর্জন সম্ভব ছিল না, বরঞ্চ বৈচিত্র্যের মাঝে যে ঐক্য গড়ে-ওঠে সেটাকে মেনে নেয়াটাই ছিল বাস্তবসম্মত। হিন্দি ও হিন্দুত্ববাদী মোদি মহাশয়েরা অবশ্য সেটা মানেন না। না-মেনে বিপদ ডেকে আনেন সাধারণ মানুষের জন্য, যাদের তাঁরা নেতা সেজে বসে আছেন।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে শেষ পর্যন্ত ‘জয় বাংলা’র শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছিলেন সেটা একটা শুভ সংকেত বৈ কি। ওই আওয়াজ তুলেই আমরা পূর্ববঙ্গের মানুষেরা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছিলাম। পাকিস্তান এক জাতির দেশ ছিল না। সেখানে অন্তত পাঁচটি জাতি ছিল, উর্দুভাষী মোহাজেরদেরকে বাদ দিয়েও; সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে যে মূল্যটা আমাদেরকে দিতে হয়েছে ইতিহাসে তার তুলনা বিরল। ভারতবর্ষের বাস্তবতাও বলছে যে, যে-পন্থাতেই হোক না কেন সেখানকার জাতিসমূহকে অবশ্যই একটা মীমাংসায় আসতে হবে, এমন মীমাংসা যাতে প্রত্যেকটি জাতি নিজ নিজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে উন্নত হতে পারে, একের উন্নতি অন্যের অবনতির কারণ না হয়ে; এবং মূল সমস্যা যেটি—শ্রেণি সমস্যা—সেটা যাতে বের হয়ে আসবার এবং মীমাংসার পথ খুঁজে পায়।

তা মমতা তো বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকা হাত তুলে নিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেও পার পেলেন না। তবে তিনি যে ওতেই সন্তুষ্ট ছিলেন তা নয়। তাঁর দৃষ্টি দিল্লির দিকেও প্রসারিত করার অভিপ্রায় ছিল। সেটা খুবই স্বাভাবিক। চলো চলো দিল্লি চলো, এটাতো বাঙালি অনেক কাল ধরেই বলে আসছে। এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের যেসব নেতা ও কর্মী দলত্যাগ করে এবং ছদ্মবেশে বিজেপি’তে নাম লিখিয়েছিলেন তাঁরা দিল্লি থেকে কিছু পাবেন এমন আশা বক্ষমাঝে লালন করেছেন। মমতার নিকটতম সহকর্মীদের একজন, নন্দীগ্রাম-বিজয়ী বলে যিনি খ্যাতি পেয়েছিলেন, সে-ব্যক্তি যে দল ছাড়লেন, কেবল ছাড়লেনই না নিজের নেত্রীকে এবার দুটি আসনে নির্বাচনে হারিয়ে দিয়ে আরেকটি রেকর্ড সৃষ্টি করলেন, তাঁরও নাকি আশা ছিল দিল্লির প্রসাদপুষ্ট হয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে আসীন হবার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁর আশাটি পূরা করেছে বিজেপি। বাঙালির জন্য দিল্লি সত্যি সত্যি অনেক দূরের রাস্তা। কংগ্রেসের প্রয়াত জ্যেষ্ঠনেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় দিল্লির সংলগ্ন হতে সক্ষম হয়েছিলেন, এমন কি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও হতে পেরেছিলেন শেষমেশ; কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী আর হওয়া হয়নি। আক্ষেপ করে বলেছেন, তাঁর ওই ব্যর্থতার মূল কারণ হিন্দি ভাষাটা ভালো না-জানা। মমতা দিল্লি দখল করে প্রধানমন্ত্রী হবার মনস্কামনা পূরণ হওয়া অসম্ভব বৈকি, বাঙালির জন্য প্রধান কারণ হয়তো হবে হিন্দি ভাষা ভালোভাবে রপ্ত করতে না-পারা। হিন্দি অবশ্যই অনেকে কিছুটা আয়ত্তে এনেছেন, ভবিষ্যতে হয়তো অর্জনকে অধিকতর উন্নত করতে সক্ষমও হবেন; কিন্তু বাঙালির হিন্দি সে তো আর খাঁটি নয়, সেটা কৃত্রিম হতে বাধ্য।

দিল্লি থাকুক। মমতাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদই হারাতে হলো। এতে ক্রমাগত তাঁর জোরটা যে কমে আসতে থাকবে তা নিশ্চিত। বিজেপি’র হস্তক্ষেপ তো থাকবেই। বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকা ও ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিকে মমতা লড়াইয়ের মূল শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন সে-দু’টির প্রতি তাঁর কতটা আনুগত্য তারও পরীক্ষা ইতিমধ্যে তাঁকে দিতে হয়েছে বৈকি। বাংলাদেশের দিক থেকে তাঁর বাঙালিত্বের পরীক্ষাটা হয়ে গিয়েছিল তিস্তার পানি বিতরণের অপেক্ষমান প্রশ্নেই। নদীর জলপ্রবাহ বাঙালির অর্থনীতি ও সংস্কৃতি উভয়ের জন্যই বিশেষ অবলম্বন, তাকে প্রাণপ্রবাহ বললেও অতিশয়োক্তি করা হবে না, সেই প্রবাহ তিনি স্বহস্তে রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন, আর এপারের বাঙালি তাঁকে বাঙালির খাঁটি বন্ধু হিসেবে দেখবে এবং তাঁর বাঙালিত্বের দাবিটিও অবিকৃত থাকবে এতটা নিশ্চয়ই দুরাশা মাত্র। আমরা আশা করেছি যে বাঙালি জাতীয়তাবাদে নব্যদীক্ষিত মমতা দিদি কিছুটা নরম হবেন, কিন্তু ভরসা করবার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের জন্য মমতা দিদির বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরীক্ষা বেশ পরিষ্কার ভাবেই ঘটেছে, যখন দেখেছি বাঙালির তিনি আপনজন, শতকরা ১০ জন সুবিধাভোগীর (নিজের দলের লোকসহ) বাকি ৯০ জনকে মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীর? বাস্তবতা এটা নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ১০ জনের হয়েই কাজ করেছেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ‘জয় বাংলা’ আওয়াজ উভয়েই ফিকে হয়ে গেছে। দেখা গেছে যে তাঁর নিজের ও তাঁর দলের সঙ্গে বিজেপি’র যে প্রকাণ্ড প্রচণ্ড বিরোধ তার অন্তরালে দু’পক্ষের মধ্যে শত্রুতা নয়, ভীষণ অন্তরঙ্গতাই ছিল; যে-অন্তরঙ্গতার ভিত্তি হলো বস্তুগত স্বার্থ। তাঁরা, বিবদমান উভয়পক্ষই, পুঁজিবাদী উন্নতির সমর্থক, এবং সুবিধাভোগী মানুষদের সুবিধা দেখভাল করবার দায়িত্বে স্বেচ্ছায় নিয়োজিত। লড়াইটা ক্ষমতার। যুদ্ধটা ভাইবোনের। তাই বলে বাঙালি জাতীয়তাবাদটা যে মিথ্যা তা তো নয়। এটা ততোটাই সত্য যতোটা সত্য গুজরাটী, তামিল বা কাশ্মীরীদের জাতীয়তাবাদ।

নরেন্দ্র মোদির নির্মম আক্রমণ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী প্রতিরোধ, দু’য়ে মিলে কিন্তু এই সত্যটাকে সামনে ঠেলে এনেছে যে, ভারতের জন্য জাতি প্রশ্নের মীমাংসা না হলে অন্য প্রশ্নগুলোর সমাধান কঠিন হবে। তবে মস্ত বড় প্রশ্ন হলো মীমাংসাটা ঘটবে কাদের নেতৃত্বে? তৃণমূলের মতো সুবিধালিপ্সু দলের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদের বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট হবে, যেমনটা দেখা গিয়েছিল; কিন্তু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে তার চূড়ান্ত গন্তব্যে তারা যে নিয়ে যেতে পারবে এমন নয়। খুবই সম্ভব যে তৃণমূল ভেঙে যাবে, লোভে পড়ে কেউ কেউ টোপ গিলবে, মীরজাফরী করবে; অন্যদিকে, ব্যাপক জনগণ দলের সঙ্গে থাকতে চাইবে না, নেতৃত্বকে তারা নিজেদের স্বার্থবিরোধী হিসেবে ইতিপূর্বেই চিনে ফেলেছে।

পশ্চিম বাংলার বাঙালিকে মুক্ত করতে হলে কেন্দ্রের অন্যায় আধিপত্য থেকে যেমন বেরিয়ে আসা চাই, তেমনি চাই অভ্যন্তরীণ সামাজিক বিপ্লব; আর সে বিপ্লব অন্যকেউ করতে পারবে না, বামপন্থিরা ছাড়া। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শ্রীরামপন্থি ও মমতাপন্থিদের দাপটে বামপন্থিরা তো এখন বড়ই দুর্দশার মধ্যে আছেন, কাদার ভেতরে আশ্রয় নিয়েছেন গরমকালের মাছের মতো। আশা এই যে, অচিরেই তাঁরা বের হয়ে আসবেন, এবং জনবিচ্ছিন্ন না থেকে গভীর ভাবে জনসংলগ্ন হবেন। একটা বড় মুস্কিল এই যে, তাঁদের কথা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না; জাতীয়তাবাদীরা যা বলে লোকে সেটা সহজে বোঝে। কারণ তাদের কথাগুলো সোজা-সাপ্টা, চাঁছাছোলা। বামপন্থিদের কথা সে-রকম পরিষ্কার নয়। এর কারণ বামপন্থিরা যা বলতে চান তা সরল নয়, কিছুটা তাত্ত্বিক। তারচেয়েও বড় সত্য হলো, তাঁরা যা বলতে চান সেটা তাঁদের নিজেদের কাছেও খুব স্পষ্ট থাকে না। তোতলামিতে পায়। ভীষণ অভাব রয়েছে অনুশীলনের। পর্যাপ্ত পত্রপত্রিকা নেই, বইপত্র পাওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্টরা রাজনৈতিক কাজ করছেন সেই ১৯২০ সাল থেকে; রাজ্যে তাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন টানা ৩৪ বছর, কিন্তু জনপ্রিয়তায় আনন্দবাজার পত্রিকা’কে হারিয়ে দেবেন এমন কোনো দৈনিক পত্রিকা তাঁরা বের করতে পারেননি। সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে কাজও খুব সামান্য। প্রকাশনা কিছু আছে, কিন্তু তা হৃদয়গ্রাহী নয়। ধাক্কা দেয় না, ভাবিয়ে তোলে না। কমিউনিস্টরা জ্ঞানে, আবেগে, রুচিতে বুর্জোয়াদের চেয়ে উন্নত হবেন, এবং বুর্জোয়ারা যা করতে পারে না সেটা করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশিত। রাশিয়াতে ও চীনে যে বিপ্লব ঘটেছে তার পেছনে ব্যাপক ও গভীর সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি ছিল; সেটি না থাকলে বিপ্লব কিছুতেই সম্ভব হবার নয়। ওদিকে বামপন্থিরা সামনে না এলে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি ও তার ক্ষয়িষ্ণু প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলও থাকবে না, কেননা বিজেপি এবং তৃণমূলের জনবিরোধী, সময়ে সময়ে অশ্লীল, কর্মকাণ্ডে মানুষের মুক্তি আসবে কী উল্টো দুর্ভোগই বাড়বে। যেমনটা তো এখন ঘটছে।


নাম | ঢাকা, বাংলাদেশ

ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

মায়াবিনীর হেঁশেল

Next Story

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও সমাধান!

Latest from রাজনীতি

আমেরিকার অনিঃশেষ যুদ্ধ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। এই সময়েই “মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স” ... লিখেছেন তাসনীম হোসেন।

বাংলাদেশ নতুন পথের সন্ধানে

দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এক ভিন্ন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। - লিখেছেন ওমর কায়সার।

লীগের ভোট ও ভবিষ্যৎ

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে জিতে সরকার গঠন করেছে। বিরোধী দলের আসনে... - লিখেছেন তাসনীম হোসেন।