শিরোপার লড়াই সমীকরণ

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ – শিরোপার লড়াই এবং কিছু সমীকরণ

ইয়ামেন হক
June 16, 2026
42 views
31 mins read

ফুটবল বিশ্বকাপ, তথাকথিত ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’, আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ দূরে। প্রতিবারের মতই এবারও জমজমাট একটা ক্রীড়া উৎসব পেতে যাচ্ছি আমরা, এমনটা ধরেই নেয়া যায়। তবে এবারের আসর অনেকদিক দিয়েই তাৎপর্যপূর্ণ। এবারই প্রথমবারের ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে, যাদের ভাগ করা হয়েছে ১২টি গ্রুপে (এ – এল)। একই সাথে, স্বাগতিক দেশ আছে তিনটি — যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

এতগুলো দেশের অংশগ্রহণের অর্থ হলো, গ্রুপ পর্বে দুই একটা অঘটন ঘটলেও কোন বড় দলের বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে যুক্তি দেওয়া যায়। ফিফার জটিল ড্র-পদ্ধতি ১২টি গ্রুপের মধ্যে ভারসাম্য সর্বাধিক করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, তবে কিছু গ্রুপ নিঃসন্দেহে অন্যগুলোর তুলনায় বেশি কঠিন। তো এমন কিছু সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়েই আমার এই লেখা। গতানুগতিক ধারার বিশ্বকাপ নিয়ে লেখা ফিচারের থেকে আরেকটু আলাদা কিছু করার প্রয়াস বলা যেতে পারে।

বলে রাখা দরকার, আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বকাপের মত বড় টুর্নামেন্টের মুষ্টিমেয় দুই একটা ‘হট ফেভারিটের’ বাইরে আসলে কোন দল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা কষ্টসাধ্য। মাঝেমধ্যে সাম্প্রতিক ফলাফল (রিসেন্সি বায়াস) বিভ্রান্তিকর ধারণা দিতে পারে, আবার অনেক সময় কোন দল অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ মুহূর্তে উত্থান ঘটিয়ে ‘ডার্ক হর্স’ হয়ে উঠে (২০১৮ সালের রানার্স-আপ ক্রোয়েশিয়া দ্রষ্টব্য), তা আগে থেকে বলা অসম্ভব।

যদি একটা দলের সামর্থ্যর মানদণ্ড হিসেবে আমরা ফিফার র‍্যাংকিং ব্যবহার করি, তাহলে বিশ্বকাপের গ্রুপগুলোর মধ্যে কোনটা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সে বিষয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ হিসেবে নজরে রাখার মত এবার তিনটি সম্ভাব্য গ্রুপ রয়েছে। প্রথমেই চোখ বোলানো যাক গ্রুপ আই এর দিকে।

ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাক সমৃদ্ধ গ্রুপ আই নিঃসন্দেহে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবার সম্ভাবনা রাখে। ২০১৮-র চ্যাম্পিয়ন এবং গতবারের রানার্স-আপ ফ্রান্স যে কোন পরিসংখ্যানেই শিরোপার লড়াইয়ে ফেভারিটদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু যদিও নরওয়ের জন্য সূদীর্ঘ ২৭ বছর পর বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ঘটতে যাচ্ছে , তাদেরকে খাটো করে দেখার অবকাশ নাই। বাছাই পর্বে তারা ৮ ম্যাচের ৮ টাই জিতেছে, একই গ্রুপে চারবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইতালিও তাদের কাছে মোটেও পাত্তা পায় নাই। মিডফিল্ড প্লেমেকার ও অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড এবং ইউরোপের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ফিনিশার আর্লিং হালান্ডের দাপটে থাকা নরওয়েকে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এদিকে সেনেগালও আফ্রিকার সেরা দলগুলোর একটা, যারা প্রায় প্রতিবারই বিশ্বকাপে চমক দেখায়। সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন, ইসমাইলা সার, ইদ্রিসা গে, কালিদউ কুলিবালি, এডুয়ার্ড মেন্ডির মত ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় লীগগুলোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোওয়াড়ে সম্পন্ন সেনেগাল অনায়াসেই ফ্রান্স এবং নরওয়ের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে সক্ষম। তুলনামূলকভাবে ইরাক দুর্বল হলেও গত বিশ্বকাপে সৌদি আরববের আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।

দ্বিতীয় সম্ভাব্য ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ হিসেবে বলা যেতে পারে গ্রুপ এফ এর কথা। এই গ্রুপে আছে নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া এবং সুইডেন। আপাতদৃষ্টিতে এই গ্রুপকে অতটা শক্তিশালী না মনে হতে পারে, কারণ নেদারল্যান্ডসকে এখানে ফেভারিট ধরে নেয়া যায়। তবে একটু গভীরে গেলে দেখা যাবে নেদারল্যান্ডসের সাথে বাকি তিন দলের গুণগত পার্থক্য অতটাও বেশী না। সাধারণত নেদারল্যান্ডসকে আমরা যেমন ‘ডার্ক হর্স পাওয়ারহাউজ’ হিসেবে ধরে থাকি, এবারের দলটা অপেক্ষাকৃত দুর্বল। রক্ষণভাগের কর্ণধার লিভারপুলের ভার্জিল ভ্যান ডাইক এবং বার্সেলোনার মিডফিল্ড স্কিমার ফ্রেঙ্কি ডে জং এর বাইরে সত্যিকার অর্থে বিশ্বমানের ‘গেইম চেঞ্জার’ আসলে কাউকেই বলা যায় না। আর বিশেষ করে আক্রমণভাগ নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। লিভারপুলের কডি গ্যাকপো গোটা মৌসুম বাজে ফর্মে কাটিয়েছেন, আরেক স্ট্রাইকার মেম্ফিস ডেপে ইউরোপে কোন ক্লাব না পেয়ে এখন ব্রাজিলের ঘরোয়া লীগে খেলেন। নেদারল্যান্ডসের উঠতি তারকা জাভি সিমন্স নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি সেটা পূরণ করতে পারেন নাই বললেই চলে। অতএব গ্রুপ এফ এর বাকি তিন দলের আশাবাদী হবার যথেষ্ট কারণ আছে। জাপান, তিউনিসিয়া এবং সুইডেনের মধ্যে পার্থক্য খুব একটা বেশী না। জাপান বিশ্বকাপে বরাবরই ভালো খেলে, বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে। গত বিশ্বকাপেই তারা স্পেন এবং জার্মানি দুই পরম শক্তিধর দলকে হারিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। সুইডেন যদিও টেনেটুনে কোনমতে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব থেকে উত্তীর্ন হয়েছে, তাদের দলে আছে ইউরোপের সবচেয়ে দক্ষ স্ট্রাইকারের দুইজনঃ আলেক্সান্দার ইসাক এবং ভিক্টর ইয়োকেরেস। তিউনিসিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খেলোওয়াড় ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলে থাকে। জাপানের মতই তেমনভাবে দৃশ্যমান কোন তারকা না থাকলেও ‘দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ’ মনোভাবসম্পন্ন এই দল রেফারির শেষ বাঁশী পর্যন্ত প্রতিপক্ষের সাথে লড়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।  

তিন নম্বর সম্ভাব্য ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ হিসেবে আছে গ্রুপ এল, যেখানে আছে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা এবং পানামা। ইংল্যান্ড নিয়ে খুব বেশী কিছু বলার নেই। জার্মান কোচ থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড যে কোন টুর্নামেন্টেরই ফেভারিটদের তালিকার শীর্ষের দিকে থাকে। গত দুই ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের রানার্স আপ তারা, একই সাথে গত দুই বিশ্বকাপে তারা ছিল যথাক্রমে সেমিফাইনালিস্ট এবং কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট। ইংলিশ প্রীমিয়ার লীগ যারা দেখেন, তারা মাত্রই ইংল্যান্ড দলের গুণগত শক্তি এবং গভীরতা নিয়ে অবগত। এমনকি বলা যেতে পারে ইংল্যান্ডের কোচদের জন্য এই গভীরতাই কাল হয়ে দাঁড়ায়, কারণ কাকে বাদ দিয়ে কাকে খেলানো উচিত, একটা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সড দল খেলানোই অনেকটা দুষ্কর হয়ে পরে। তবে টুখেল যদি সঠিক ফর্মুলা বের করে ফেলতে পারেন, তাহলে ইংল্যান্ডকে এই বিশ্বকাপে আটকানো যে কোন দলের জন্যই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তবে ক্রোয়েশিয়া, পানামা ও ঘানার মুখোমুখি হওয়া সহজ কাজ হবে না। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় করেছিল ক্রোয়েশিয়াই। যদিও সেই দলের অনেকেই এখন অবসরে গেছেন, তারপরেও ক্রোয়েশিয়া এখনও ইউরোপের প্রথম সারির ঠিক নীচের দলগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে বিদায় করেছিল তারাই। ঘানা ছিল আফ্রিকার বাছাইপর্বের সবচেয়ে ইন-ফর্ম দলগুলোর একটা। তাদের গ্রুপে দশ ম্যাচের মধ্যে আটটি জয় এবং মাত্র একটি পরাজয় নিয়ে তারাই শীর্ষে ছিল। ওদিকে পানামা হলো গত কয়েক বছরে সবচেয়ে উন্নতি করা দলগুলোর একটি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে স্পেন ও উজবেকিস্তান ছাড়া আর কোনো দেশ পানামার চেয়ে বেশি ফিফা রেটিং অর্জন করেনি, ৬১ নম্বর র‍্যাঙ্কিং থেকে তারা বর্তমানে তারা ৩৩!

এ তো গেলো সম্ভাব্য ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ এর কথা। আরো কিছু আগ্রোহদ্দীপক গ্রুপের দিকে একটু তাকাই। আমেরিকাতে আছি প্রায় ২৬ বছর, তাই নিঃসন্দেহে তাদের ফুটবল দলের প্রতি একটা ভালো লাগা কিছুটা কাজ করে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে আমেরিকা অবশ্যই গ্রুপ ডি-তে কিছু সুবিধা পাবে। একই সাথে, এবার বেশ কিছু ভালো খেলোওয়াড় আছেন যারা ইউরোপের বেশ কিছু ক্লাবে ভালো করছেন। ইতালির এসি মিলানের উইংগার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের উপরে ভর করছে মার্কিন ফুটবলপ্রেমীদের সিংহভাগ আশাভরসা। এ ছাড়া মোনাকোর স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন, জুভেন্তাসের মিডফিল্ড এনফোর্সার ওয়য়েস্টন ম্যাক্কেনি, বোর্নমাউথের টাইলার এডামস, মার্সেই এর টিমথি উইয়াহরাও আছেন। এই ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’কে নিয়ে মার্কিন ক্রীড়ামাধ্যমে বেশ উচ্চাশা থাকলেও আর্জেন্টাইন কোচ মোরিসিও পচেত্তিনো তাদের নিয়ে কি করতে পারেন সেটা সময় বলে দিবে। কাগজে-কলমে, গ্রুপ ডি এর বাকি তিন দলের মধ্যে তুরস্ক বাদে অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ে থেকে আমেরিকাকে অবশ্যই বেশী শক্তিশালী বলা চলে, তবে সেটা খুব সামান্য ব্যবধানে। প্রতিটা ম্যাচই জমজমাট হবে তেমন আশা রাখছি।

‘গ্রুপ অফ ডেথ’ এর বিপরীতে চলে আসে তথাকথিত ‘গ্রুপ অফ লাইফ’ এর কথা। মানে এমন গ্রুপ, যেখানে চার দলের মধ্যে তুলনামূলক শক্তির ব্যাবধান অনেক বেশী। সেই হিসেবে অবশ্যই বলতে হবে গ্রুপ এইচ। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে এখানে দ্যর্থহীনভাবে ফেভারিট বলা চলে। সাথে আছে উরুগুয়ে, সৌদি আরব এবং নবাগত কেপ ভার্দে। সৌদি আরব আর উরুগুয়ে মূলত এই গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়াই করবে। যদিও সম্প্রতি উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসার সাথে দলের কিছু জ্যৈষ্ঠ খেলোওয়াড়দের টানাপেড়ন দেখা গেছে, সৌদি আরবকে হারিয়ে অন্তত দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হওয়া উচিত না। কেপ ভার্দেকে এই গ্রুপে শুধুমাত্র অংশগ্রহণ করে নিজেদের সেরা দেয়াটা নিয়েই খুশি থাকতে হবে খুব সম্ভবত। 

এবারের বিশ্বকাপ ৩২ দল থেকে ৪৮ দলে সম্প্রসারিত হওয়ায় কোন প্রকার ‘গ্রুপ অব ডেথ’ থাকা বা খুব বড় কোন অঘটন ঘটার সুযোগ কমারই কথা। কারণ বেশী দল থাকায় গ্রুপ পর্বের মোট অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় অনেক ছোট একটি অংশ বিদায় নেবে। দুই-তৃতীয়াংশ দলই নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হবে, শীর্ষ দলগুলো গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে এবং তাই তাদের খুব বেশী আগে বাদ পরে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। প্রিয় পাঠক, আপনি হয়তো লক্ষ্য করবেন যে এই লেখায় এখন পর্যন্ত আমি অন্যান্য কিছু ফেভারিট দল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা জার্মানি নিয়ে কোন কিছুই উল্লেখ করি নাই। কারণটা খুবই সোজা, এই তিনটি দলের কারোরই তাদের নির্দিষ্ট গ্রুপে কোন প্রকার পচা শামুকে পা কাটার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। ব্রাজিলের গ্রুপ সি-তে রয়েছে মরোক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। একমাত্র মরোক্কো ছাড়া বাকি দুই দল নিয়ে বর্তমানের তুলনামূলকভাবে দূর্বল সেলেসাও এরও খুব বেশী কিছু ভয় পাওয়ার নেই। আর্জেন্টিনা আছে গ্রুপ জে-তে। সেখানেও আলজেরিয়া বা জর্ডানকে আপেক্ষিকভাবে দুধভাত বলা চলে, একমাত্র অস্ট্রিয়া কিছুটা বাঁধ সাধতে পারে। আর গ্রুপ ই-তে জার্মানির প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর আর নবাগত কুরাসাও, সেখানেও একই রকম অবস্থা। এই তিন গ্রুপেই যথাক্রমে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা জার্মানি কারোরই নকআউট পর্বে উঠা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তবে এসব হলো যুক্তিতর্ক বা পরিসংখ্যানের কথা। ক্রিকেটের মত ফুটবলও হলো গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। যার বিশেষত্বটাই হলো আপাতদৃষ্টিতে যাই মনে হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সঠিক উত্তরটা পাওয়া যাবে মাঠেই, নব্বই মিনিটের লড়াইয়ের পর। ২০১৪ সালে কোস্টারিকা সেটাই প্রমাণ করেছিল। তৎকালীন ফিফা র‍্যাংকিং এর সেরা দশে থাকা ইতালি, ইংল্যান্ড এবং উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত একটি গ্রুপে তারাই শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল। আর গেলবার কাতারে জার্মানি এবং স্পেন সমৃদ্ধ গ্রুপে তাদের টপকে জাপানের শীর্ষস্থান অর্জন কথা তো আগেই উল্লেখ করেছি। অতএব আমরা এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারি, বিশ্বকাপ ফুটবলে অনিশ্চয়তা এখনও বিদ্যমান, এবং ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ এর প্রাসঙ্গিকতা অতিসত্বর হারাচ্ছে না।

বাকিটা জানতে আপনি আমি এবং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ একই সাথে টেলিভিশনের পর্দার সামনে বুদ হয়ে থাকবো জুনের ১১ তারিখ থেকে, ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর অপেক্ষায়।


ইয়ামেন হক  | পোর্টল্যান্ড, ওরেগন, যুক্তরাষ্ট্র

পুরকৌশল প্রকৌশলী। বর্তমানে ইউএস আর্মি কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্সে চাকরিরত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এশিয়া কি বিশ্বকাপ ফুটবলের শোপিস?
Previous Story

এশিয়া কি বিশ্বকাপ ফুটবলের শোপিস?

বাবা আমার মাথার ছাতা
Next Story

বাবা আমার মাথার ছাতা

Latest from মূল রচনাবলী

এশিয়া কি বিশ্বকাপ ফুটবলের শোপিস?

এশিয়া কি বিশ্বকাপ ফুটবলের শোপিস?

বিশাল জনসংখ্যা ও অর্থনীতি থাকা সত্ত্বেও এশিয়া কি বিশ্বকাপ ফুটবলের শোপিস? বিশ্বকাপে এশিয়ার ব্যর্থতা, চ্যালেঞ্জ ও সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

বিশ্বকাপ ফুটবল: আনন্দ, উন্মাদনা ও স্মৃতির এক অনন্য উৎসব

অ্যান্থনি পিউস গোমেজের কলমে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে শৈশবের নস্টালজিয়া, সমর্থকদের উন্মাদনা ও বর্তমান প্রজন্মের বদলে যাওয়া বিনোদনের এক জীবন্ত চিত্র।
একটা মাসের ট্রাপিজ

একটা মাসের ট্রাপিজ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে সুহান রিজওয়ানের প্রবন্ধ 'একটা মাসের ট্রাপিজ'। ৪৮ দলের লড়াই, ফেভারিটদের সমীকরণ এবং বাঙালির ফুটবল উন্মাদনার এক জীবন্ত দলিল।
ফিফা বিশ্বকাপ

প্রাপ্তির খোঁজে কানাডা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ কানাডা দলের কৌশল, ইনজুরি শঙ্কা ও কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে নকিব আহমেদের প্রবন্ধ।