কথার কথা অনেকেই বলে, লোকসমাজে তার গুরুত্ব তেমন নেই। বাঁকা কথা তো লোকে একেবারেই সহ্য করতে পারে না। সোজা কথা মুখের উপর বললে, যারপরনাই রেগে যায় মানুষ। মিথ্যে কথা অল্পবিস্তর সকলেই বলে বটে তবে নিজে কারো থেকে মিথ্যে শুনতে মোটেও পছন্দ করে না। আর সত্যি কথা? সত্যি কথা লোকজনের প্রবল দুঃখের কারণ হয় বলে দেখেছি। কুকথা লোকসমাজে মুখরোচক খাদ্য, যদি সেটা নিজের সম্পর্কে না হয়। সুকথা বলার বা শোনার লোক এই সমাজে বড্ড কম। ওই কী যেন বলে? লুপ্তপ্রায় প্রজাতি।
কেউ কেউ আবার বালখিল্য কথা শুনে হাসি চাপতে পারে না। খুব গম্ভীর কথা লোকে ধৈর্য্য ধরে শুনতে পারে না। প্রেমের কথা একজনের ভালো লাগে আর বাকিদের সময় নষ্ট করে। বিরহের কথা সিনেমার চরিত্র ছাড়া কেউ কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করলে কারও ভালো লাগে না। অভিমানের কথা খরচের ইঙ্গিতবাহী বলে অনেকেই মনে করেন।
শেষকথা সম্পত্তির ভাগ বিষয়ক হলে শুনেছি লোকজন শ্রাদ্ধ শান্তি করতে অতি উৎসাহী হয়ে ওঠেন। কবির কথা লোকের মাথার উপর দিয়ে গেলে আধুনিক আর অর্থ না বুঝে ‘বলো বাবু, বলো’ বললে, রাবীন্দ্রিক। লেখকের কথা নিয়ে আর কি বলি- আগেকার লেখকদের কথা কলেজ স্ট্রিট চত্বরে দু-পাঁচ টাকায় বিকোয় আর বর্তমান লেখকরা দু-পাঁচ টাকায় নিজেদের কথা ছাপিয়ে শোনাতে চায়।
ব্যক্তিগত কথায় লোকজনের উৎসাহ দেখার মত- তবে সেটাতে পরনিন্দার খোরাক না থাকলে অর্থহীন মনে হয়।
এই এতরকম কথার মধ্যে, ঠিক কেন যে আমি এতগুলো কথা বললাম, এবং কেনো আপনি সে কথা পড়বেন, এই কথাটা আমি নিজেই বুঝে উঠতে পারলাম না।
তাই আপাতত: থাক– কথা পরে বলা যাবে।

