পড়শী সাহিত্য ও শিল্প তন্ময় নাগের দুটি কবিতা

তন্ময় নাগের দুটি কবিতা

Post Views: 14
3 min read

১.
নিয়ম

সূর্য ধোয়া সকাল ঘিরে চড়ুই পাখির কুচকাওয়াজ
বাবার ইচ্ছে পড়তে বসি, মায়ের ইচ্ছে গান রেওয়াজ
তারপরে স্কুল, ক্লাসের বাঁধন- টিফিন মাপা চু কিত কিত
বাড়ি ফিরেই আঁকার ক্লাসে খুঁজে বেড়াই দ্য ভিঞ্চি
সন্ধ্যাবেলা টিউশন স্যার, স্কুলের যত হোম ওয়ার্ক
খাওয়ার পরে ঘুমের আগে মুহূর্তরা একলা থাক।
দৌড়ে ইঁদুর প্রথম হবে, বাবা মায়ের ইচ্ছেতে।
রুটিন বাঁধা জীবন আমার, নিয়ম ভাঙার নিয়ম নেই।

আমার যদি থাকতো ডানা, মেঘের সঙ্গে বন্ধুতা
উড়ে যেতাম অচিন দেশে, করতো বাতাস সমঝোতা।
আকাশ নিজের বুকের মাঝে স্নিগ্ধ আলোর মসনদে,
আমায় দিত খেলার সময়, বাঁচতে দিত শৈশবে।
ওই যে মাঠে জমলে কাদা, বলে নিয়ে যায় ওই ছেলে-
আমিও যেতাম মাটির কাছে, ওদের সঙ্গে দল মিলে।
ঘুড়ির সুতো কাটলে কেমন যায় ভেসে যায় কোন কূলে
নিয়ম ভাঙার নিয়ম আমায় কে শেখাবে দাও বলে।


২.
বাবা

আমার বাবার ষোলো বছর বয়স হলো।
হয়তো সদ্য মাধ্যমিক পাশ করেছে,
নতুন স্কুলে, ক্লাস ইলেভেনে ভর্তি হয়েছে।
হয়তো এবার ইংরেজি মাধ্যম-
অথবা সরকারি কোনো বাংলা মাধ্যম স্কুলে।
সদ্য হয়তো রাজনীতির শব্দ বলতে শিখেছে।
হয়তো, বাবা
জেন-জি আন্দোলনে দিল্লী গেছে প্রবল উৎসাহে।

দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়া বসত বাড়ি,
বৃদ্ধ জীর্ণ মেঝে, ক্লান্ত ছাদ,
চিলেকোঠায় যত্নহীন থমকে থাকা ঠাকুরের আসন,
নির্বাক আমড়া গাছ-
আমার বাবার অনেক কষ্টে তৈরি সেই বাড়ি,
বাড়িতে জমিয়ে রাখা প্লাস্টিকের নতুন কত বালতি,
মগ, গামলা-
স্টিলের বাসন, চায়ের কাপ-
ভেঙে পড়তে চাওয়া আলমারিতে বইয়ের স্তূপ-

একাত্তর বছর পেরিয়ে,
এই নতুন ষোলো বছর বয়সে, বাবার ঠিকানা বদলে গেছে।

গভীর রাত চোখের পাতা ছুঁলে মনে হয়,
আমার বাবা এখন হয়তো মোবাইলের রিল দেখে,
খিল খিল করে হেসে উঠছে,
হয়তো নব্য প্রেমে ভেসে বেড়াচ্ছে
এক আকাশ থেকে অন্য পৃথিবী।
কয়েকটা নতুন মুখকে চিনে নিচ্ছে-
নতুন পরিবার…
আমার কথা আর মনে নেই বাবার-
মনে রাখার কোনো দায়ও তো নেই।

আমি তোমাকে মনে রেখেছি বাবা।
প্রতিবছর এই দিনটায় হিসাব করি,
তোমার নতুন বয়স কত হলো…

২৬ জুলাই, ২০২৬

মালাড পশ্চিম, মুম্বাই, ভারত

লেখক, চিত্রনাট্যকার এবং চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে বিগত প্রায় দেড়-দশক ভারতবর্ষের মুম্বাই নগরীতে কার্যরত।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।