পড়শী হাসতে নেই মানা আস্ত খাসির রোস্ট এবং বরের দুঃখ

আস্ত খাসির রোস্ট এবং বরের দুঃখ

Post Views: 24
13 min read

তালতলা গ্রাম তখনো বিকেলের আলোয় ঝিমুচ্ছিল। তবে গ্রামের বাতাস ভরপুর ছিল সুগন্ধি চালের পোলাও, জয়ত্রীর ফোঁড়ন আর নিখাদ বাঘাবাড়ির ঘির তীব্র ঘ্রাণে। উপলক্ষ সাধারণ নয়— জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ সাহেবের শুভ বিবাহ।

কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রাম থেকে বরযাত্রীর বহর রওয়ানা দিয়েছে আগেই। বর জুনায়েদ সাধারণ পাত্র নন; সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে বসে তিনি টোকিওর মেট্রোপলিটন ট্রেনের গতি মেপে মেপে টাকা উপার্জনের সাধনা করেন। তার গায়ে এখন আসমানী রঙের জমকালো শেরওয়ানি, মাথায় এক হাত উঁচু পাগড়ি আর মুখে গাম্ভীর্য।

বরযাত্রীর দল যখন তালতলা গ্রামে কনেবাড়ির বিশাল শামিয়ানার নিচে পদার্পণ করল, তখন সাউন্ডবক্সে বাজছিল শাহ আব্দুল করিমের কালজয়ী গান— বসন্ত বাতাসে রে বন্ধু…। কিন্তু বর জুনায়েদের মুখের অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছিল– তাকে বুঝি বিয়ে করতে নয়, বরং কোনো আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আসামি হিসেবে জবানবন্দি দিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

বরকে অভ্যর্থনা জানাতে কনেপক্ষের একদল উৎসাহী তরুণ-তরুণী লাল-গোলাপ আর রজনীগন্ধার তোড়া নিয়ে হাসিমুখে এগিয়ে এল। কনের মামাতো ভাই সজল অত্যন্ত নিখাদ গ্রামীণ আদরে গোলাপের তোড়াটি বরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল- “দুলাভাই, আপনাকে তোলপাড় করা শুভেচ্ছা!”

ঠিক তখনই প্রথম ভূকম্পনটি অনুভূত হলো। বর জুনায়েদ গোলাপের তোড়াটি হাতে নিয়ে সেটিকে একপ্রকার উদাসীন ও তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে উল্টেপাল্টে দেখলেন। তারপর পাগড়ির নিচ দিয়ে মাথাটা একটু বাঁকা করে এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললেন, “এগুলো কী ধরনের ফ্লাওয়ার? পাপড়িগুলোর এজ (প্রান্ত) তো শুকিয়ে কার্ল হয়ে গেছে! জাপানের গিনজায় যে রোজেস পাওয়া যায়, সেগুলোর ফ্রেশনেস দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। তোমরা কি শেষ মুহূর্তে বাজার থেকে রিজেক্টেড কটা গোলাপ কিনে আনলে?”

উপস্থিত সবাই মুহূর্তে বাকরুদ্ধ। কনেপক্ষের বরণ কমিটির প্রধান, যিনি সম্পর্কে কনের বড় খালু হন, তার হাতের মিষ্টির প্লেট কেঁপে উঠল। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, “পাপড়ির এজ কার্ল মানে? গোলাপ তো গোলাপই, নাকি পাপড়ি সোজা করার জন্য এতেও ইস্ত্রির ঘষা দিতে হবে?”

বরপক্ষের এই মৃদু তড়িৎ-আঘাত সহ্য করে কনেপক্ষ কোন রকম পরিস্থিতি সামাল দিল। বরকে নিয়ে বসানো হলো রাজকীয় আসনে। বর জুনায়েদ চেয়ারে বসে এক পলক সোফার কুশনের দিকে তাকিয়ে পকেট থেকে একটি ভেজা টিস্যু বের করে বসার জায়গাটা ভালো করে মুছে নিলেন। বরযাত্রীরা ততক্ষণে হালকা নাস্তা শেষ করে ক্ষিদে বাড়ানোর জন্য এদিক সেদিক বিক্ষিপ্ত হাঁটাহাঁটি করতে লাগলো। গ্রামের বিয়ের খাওয়া-দাওয়া মানেই এক যুদ্ধক্ষেত্র, আর সেই যুদ্ধের মূল অস্ত্র হলো ক্ষিধে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই কনেপক্ষের মুরুব্বিরা এসে ঘোষণা দিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বরপক্ষের খদ্দের খাবারের (এ এলাকার বিয়ে বাড়িতে বিশেষ ধরনের খাবার) টেবিল রেডি! জামাই বাবাজিকে টেবিলে নিয়ে চলেন।”

‘খদ্দের খাবার’— বাঙালির বিয়ের ইতিহাসে এই শব্দের ওজন কোনো পারমাণবিক চুল্লির চেয়ে কম নয়। বিশেষ করে জামাই এবং বরের বিশেষ বন্ধুদের জন্য রাখা এই বিশেষ টেবিলে যে আয়োজন থাকে, তা দেখে সাধারণ দাওয়াতীদের পেটে হিংসার অম্লরস নিঃসৃত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

বর জুনায়েদকে বসানো হলো বিশেষ চেয়ারটিতে। তার দুপাশে বরের দু’জন বিশেষ বন্ধু— জাপান ফেরত আরিফ আর নিয়ামতপুরের স্থানীয় উঠতি রাজনৈতিক নেতা রনি। টেবিলের ওপর লাল প্লাস্টিকের তোয়ালে বিছানো। একের পর এক পিতলের বড় প্লেট ও কাঁচের বাটি আসতে লাগল।

প্রথমে এল বাসমতী চালের ধোঁয়া ওঠা খাসির কাচ্চি। কাচ্চির ওপর ভেসে থাকা আস্ত আলুর গোলকগুলো যেন একেকটা পূর্ণচন্দ্র। এরপর এল মোরগ পোলাও, সাথে ডিম জর্দা, টিক্কা কাবাব, বোরহানি, আর সালাদের রাজকীয় ডেকোরেশন। বরযাত্রীরা মনের আনন্দে পেটপুরে খাচ্ছিল।

কিন্তু বর জুনায়েদ হাত ধুলেন না। তিনি টেবিলের চারপাশটায় একবার তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন। চোখ দুটো তার ছানাবড়া হলো, তারপরই কপাল কুঁচকে একটা বিশাল ভাঁজ তৈরি হলো। যেন তিনি টোকিওর কোনো সুশি বারে বসে দুর্ঘটনাবশত কাঁচা মাছের বদলে বাসি শুঁটকি পেয়ে গেছেন।

জুনায়েদ ডান হাতের তর্জনী দিয়ে কাচ্চির প্লেটটা একটু দূরে ঠেলে দিলেন। তারপর টেবিলের পাশে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবেশনকারী ছোকরাটিকে ডেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা ও ভারী গলায় জিজ্ঞেস করলেন- “হেই ইয়ংম্যান, হোয়ার ইজ দ্য আস্ত খাসি?”

ছোকরাটি অবাক হয়ে কাচ্চির বাটির দিকে নির্দেশ করে বলল, “কেন স্যার, এই যে কাচ্চির ভেতরে অঢেল খাসির মাংস! একদম চার নম্বর পাজরার নরম গোশত, চর্বি থিকথিক করছে!”

জুনায়েদ এক দৃষ্টে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে রইলেন। যেন কোনো আদিম মানবকে কোয়ান্টাম ফিজিক্স বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তিনি চেয়ার থেকে একটু উঠে দাঁড়ালেন। তার চোখের চশমাটি নাকের ডগায় নামিয়ে এনে অত্যন্ত নাটকীয় ভঙ্গিতে বললেন, “আই সেইড, হোয়ার ইজ দ্য ‘আস্ত খাসি’? একটা প্লেটে কাটা কাটা এক টুকরো-দুই টুকরো মাংস ভাসছে, আর তোমরা এটাকে খদ্দের খাবার বলছো? আস্ত খাসি কোথায়? আস্ত রোস্টেড মাটন?”

পুরো ডাইনিং হল মুহূর্তে থমথমে হয়ে গেল। পাশে বসা বরের বন্ধু আরিফ খাসির একটি হাড় মুখে পুরতে গিয়েও থেমে গেল। পরিস্থিতি যে এমন এক অভূতপূর্ব মোড় নেবে, তা কেউ ঘুর্ণাক্ষরেও ভাবেনি।

খবর পেয়ে ছুটে এলেন কনের বাবা শফিক মিঞা। কপালে তার দুশ্চিন্তার ঘাম। শফিক মিঞা হাত দুটি জোড় করে বললেন, “বাবা জুনায়েদ, কোনো ভুল হলো নাকি? কাচ্চি কি ভালো হয়নি? দরকারে আরেক ডেক খাসির গোশত আনাচ্ছি!”

জুনায়েদ অত্যন্ত ঠান্ডা অথচ বরফশীতল কণ্ঠে বললেন, “আংকেল, ইউ ডোন্ট গেট দ্য পয়েন্ট। প্রসেসিংয়ে ভুল আছে। আমি বর। প্রথা অনুযায়ী বরের খদ্দের খাবারের পাতে একটা আস্ত মেরিনেটেড, ফুল-রোস্টেড খাসি শুয়ে থাকার কথা। তার পেটের ভেতর থাকবে আস্ত ডিম, ড্রাই ফ্রুটস আর মশলা। আমি হাত দিয়ে সেই আস্ত খাসির রানের গোশত ছাড়িয়ে খাব। এটাই ডেলিকেসি! অথচ আপনি আমাকে বাটিতে করে কাটা মাংসের ঝোল দিচ্ছেন? ইট ইজ অ্যান ইনসাল্ট টু দ্য ব্রাইডগ্রুম!”

কনের বাবা শফিক মিঞা জীবনে অনেক কিছু দেখেছেন। তিনি আশির দশকে ঢাকায় রেলস্টেশনে কুলিদের দেখেছেন, গ্রামের মাতব্বরি সামলেছেন, কিন্তু পাতে আস্ত খাসি না থাকায় কোনো বর যে রেগে গিয়ে ইংরেজি ঝাড়তে পারে, তা তার কল্পনার অতীত ছিল।

তিনি ঢোক গিলে বললেন, “বাবা, আস্ত খাসি তো ক্যাটারিংকে বলা হয়নি। আপনি যদি বিয়ের আগে একবার ফোন করে বলতেন, আমি কসবা বাজার থেকে সবচেয়ে মোটাতাজা খাসিটা কিনে আস্ত কাবাব বানিয়ে টেবিলে শুইয়ে দিতাম! এখন তো বিকেল পাঁচটা বাজে, এই অসময়ে আস্ত খাসি কই পাই?”

বর জুনায়েদ তার আসমানী রঙের শেরওয়ানির হাতাটা একটু গুটিয়ে ঘড়ির দিকে তাকালেন। তারপর অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, “দ্যাটস ইউর প্রবলেম, নট মাইন। পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজ করার অভ্যাস আমার নেই। জাপান আমাদের শিখিয়েছে কোয়ালিটি কন্ট্রোল আর প্রটোকল। যে পরিবার বরের পাতে একটা আস্ত খাসি নিশ্চিত করতে পারে না, তাদের প্রিপারেশন নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। খাসি না দিলে আমি এই টেবিলে এক ফোটা পানিও ছোঁব না, আর এই বিয়ের কোনো লজিকও আমি খুঁজে পাচ্ছি না।”

টেবিলে উপস্থিত কনেপক্ষের স্থানীয় মুরুব্বি ও গ্রাম্য ইউপি সদস্য আশিক মিঞা আর সহ্য করতে পারলেন না। আশিক মেম্বার তার বিশাল গোঁফে একটা তাও দিয়ে এগিয়ে এলেন।

“শোনেন প্রবাসী ভাই,” আশিক মেম্বার বজ্রকণ্ঠে বললেন, “খাসি কাটা হোক আর আস্ত হোক, পেটে গেলে সবই এক হয়া যায়! পেটের মধ্যে খাবারের প্রসেস তো আর জাপানি প্রযুক্তিতে ভিন্ন হয় না! আপনি একটা আস্ত খাসির লাইগা কি এই সুন্দর মেয়েটারে ফেলে চইলা যাবেন? এ কেমন ছাগলমার্কা আবদার?”

“এক্সকিউজ মি!” জুনায়েদ চেয়ার ছেড়ে চনমনে হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। “ডোন্ট কল ইট ছাগলমার্কা! ইট ইজ অল অ্যাবাউট রেসপেক্ট অ্যান্ড ট্র্যাডিশন! আপনারা আমাকে রেসপেক্ট দিতে পারেননি। যেখানে বরের পাতে আস্ত খাসি থাকবে না, সেই বিয়ের ফাউন্ডেশনই তো নড়বড়ে। খাসি নেই, তো বিয়েও নেই!”

ব্যাস! অগ্নুৎপাত ঘটে গেল।

বরের বন্ধুরা এতক্ষণ চুপচাপ কাচ্চির মাংস চিবোচ্ছিল, কিন্তু বরের এমন কান্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত দেখে তারা কাবাবের হাড্ডি হাত থেকে ফেলে দিল। বরের বন্ধু রনি জুনায়েদের হাত ধরে টেনে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, “আরে জুনায়েদ, তুই কি পাগল হইছিস? মেয়েটা দেখতে কত সুন্দর! সরকারি স্কুলের টিচার! একটা ছাগলের লাইগা তুই এমন একটা মেয়ে ছেড়ে দিবি? খাসি তো কালকেও কিনে খাওয়া যাবে!”

জুনায়েদ তার বন্ধুকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, “তুই বুঝবি না রনি। এটা ইগোর বিষয়। আজকে যদি আমি আস্ত খাসি ছাড়া কম্প্রোমাইজ করি, কালকে শ্বশুরবাড়িতে গেলে আমাকে এরা চাষের পাঙ্গাস মাছের লেজ খেতে দেবে! নো কম্প্রোমাইজ অন প্রটোকল!”

পর্দার আড়াল থেকে কনের বান্ধবীরা উঁকি মারছিল। কনে নিজে তখন লাল বেনারসি পরে, মাথায় বিশাল ওড়না টেনে আয়নার সামনে বসে অপেক্ষা করছিল। যখন এই ‘আস্ত খাসির ট্র্যাজেডি’ তার কানে পৌঁছাল, কনে এক মুহূর্ত স্থির হয়ে বসে রইল। তারপর ওড়নাটা সামান্য সরিয়ে তার বোনকে বলল, “যে লোক একটা আস্ত ছাগলের বদলে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে, সে বিয়ের পর একটা মুরগির ঠ্যাংয়ের জন্য আমাকে ঘর থেকে বের করে দেবে না— তার গ্যারান্টি কী? বলে দে বরকে চলে যেতে!”

কনেপক্ষের তরুণ যুবকদের মাথায় ততক্ষণে রক্ত চড়ে গেছে। গ্রামের যুবকদের নীতি সহজ— বিয়ে না করবি না কর, কিন্তু খাসির অপমান সহ্য করা হবে না! তাদের মধ্যে একজন চেঁচিয়ে উঠল, “বরেরে ধরে পিটা লাগা! খাসি খাবি তো? দাঁড়া, তোরে জ্যান্ত খাসির পালের সামনে নিয়া ছাইড়া দেই!”

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বর জুনায়েদ তার শেরওয়ানির পেছনের দিকটা একহাতে চেপে ধরে দ্রুত কনেবাড়ির উঠানের দিকে হাঁটতে শুরু করলেন। কনের বাবা শফিক মিঞা হাত-পা ধরে কাঁদ-কাঁদ মুখে বললেন, “বাবা জুনায়েদ, যেয়ো না! দরকার হলে আমি কসবা থেকে একটা খাসি এনে এখনই গ্রিল করে দিচ্ছি!”

কিন্তু জুনায়েদ তখন অন্য গ্রহে। তিনি গম্ভীর গলায় বললেন, “দেরি হয়ে গেছে আংকেল। দ্য শিপ হ্যাজ সেলড।”

জুনায়েদ সোজা হেঁটে কনেবাড়ির গেইট পার হয়ে গিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানো তার বিয়ের সাজানো মাইক্রোবাসটিতে উঠে বসলেন। বরযাত্রীরা তখনও ডাইনিং টেবিলে অর্ধেক খাওয়া কাচ্চির দিকে করুণ নজরে তাকিয়ে ছিল। তারা না পারল পুরোটা শেষ করতে, না পারল বরের সাথে আত্মসম্মান বজায় রেখে হেঁটে যেতে। শেষমেশ তারাও প্লেটে আধখাওয়া মাংসের টুকরোগুলো ফেলে গোমড়া মুখে বরগাড়ির পেছনে গিয়ে উঠতে বাধ্য হলো।

মাইক্রোবাসের ভেতরে বসে বর জুনায়েদ তার পাগড়িটা খুলে পাশের সিটে রাখলেন। ড্রাইভারকে বললেন, “স্টার্ট দ্য কার। সোজা বাড়ীতে চলো।”

গাডি চলতে শুরু করল। তালতলা গ্রাম পেছনে পড়ে রইল। জুনায়েদ গাড়ির কাঁচ নামিয়ে বাইরের বাতাসের দিকে তাকালেন। গ্রামের কাঁচা রাস্তার দুপাশে কতগুলো সত্যিকারের ছাগল ঘাস খাচ্ছিল। তারা শান্ত দৃষ্টিতে বরগাড়ির দিকে তাকাল— যেন তারা মনে মনে ভাবছিল, “আমাদেরই একটার আস্ত রোস্ট না পাওয়ার জন্য বিয়েটা ভেঙে গেল? মানুষ সত্যিই অদ্ভুত জীব!”

জুনায়েদ পকেট থেকে নিজের দামী স্মার্টফোনটি বের করলেন। টোকিওর এক রেস্তোরাঁর ম্যানেজারকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ লিখলেন, “হাই ইয়ামাদা, আই এম কামিং ব্যাক সুন। বাংলাদেশ ইজ নট রেডি ফর আস্ত খাসি ইয়েট।”

ওদিকে তালতলা গ্রামে ততক্ষণে শোকের আবহ কেটে গিয়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। কনের বাবা চোখের জল মুছে ফেলে গ্রামের সর্বসাধারণকে ডেকে বললেন, “যা হইছে হইছে! বর ভেগে গেছে, কিন্তু কাচ্চির ডেক তো পূর্ণ আছে! গ্রামবাসী, আইসা পড়েন! বর ছাড়াই উৎসব হবে, যা কিছুই ঘটুক মাগার কাচ্চি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না!”

দশ মিনিটের মধ্যে কনেবাড়ির ডাইনিং প্যান্ডেল পরিপূর্ণ। যে আস্ত খাসির জন্য বিয়ে ভাঙল, সেই খাসির বাসমতী চালের কাচ্চি খেয়ে গ্রামের মানুষ ধন্য ধন্য করতে লাগল। শুধু পাশের বাড়ির এক মুরুব্বি শেষ পাতে জর্দা খেতে খেতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “জামাই তো না, যেন এক আধ-পাগলা খাসি”

২৬ আগস্ট, ২০২৬

ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারি চাকুরীজীবি, পাশাপাশি লেখালেখি ও গবেষণা কাজে লিপ্ত। ছোটগল্প, ছোট উপন্যাস ও রম্য রচনা প্রধানত লেখার মুলধারা।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।