৯/১১ ও আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের একটি ডকুমেন্টারি সিরিজ দেখলাম। ডকুমেন্টারিটির নাম “টার্নিং পয়েন্ট”। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমি এই দেশেই ছিলাম। সেই মঙ্গলবার সকালের ভয়াবহতা, তারপরের আতঙ্ক, ক্ষোভ এবং আমেরিকার দ্রুত বদলে যাওয়া রাজনৈতিক আবহ— সবই কমবেশি মনে আছে। তাই এই লেখা নিছক ডকুমেন্টারির সারসংক্ষেপ নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে আমার নিজের দেখা সময় ও ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণও।
ডকুমেন্টারিটি ৯/১১ দিয়ে শুরু হয় না। বরং ফিরে যায় তারও আগে—আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের সময়টিতে। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে প্রবেশ করার পর যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদিনদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। আফগানিস্তান হয়ে ওঠে দুই পরাশক্তির প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্র। অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে মুজাহিদিনদের শক্তিশালী করা হয়। এই যোদ্ধাদের সবাই আফগান ছিলেন না; বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ সেই যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল।তখন ‘জিহাদ’ আমেরিকার কাছে হুমকি ছিল না; বরং সোভিয়েতবিরোধী একটি কার্যকর কৌশল। ধর্মীয় আবেগ, জাতীয়তাবাদ এবং ভূরাজনীতি একসঙ্গে মিশে কী ধরনের বিস্ফোরক শক্তি তৈরি করতে পারে, আফগানিস্তান তার বড় উদাহরণ। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি মুজাহিদিনদের হাতে মার্কিন স্টিংগার মিসাইল পৌঁছানোর পর সোভিয়েত বাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সোভিয়েতরা আফগানিস্তান ছাড়ে। ঠান্ডা যুদ্ধের সেই অধ্যায়ে আমেরিকা বিজয়ী হয়। কিন্তু ইতিহাসের সমস্যা হলো, তৈরি করা শক্তি সব সময় নির্মাতার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
সোভিয়েত প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানকে কার্যত তার নিজের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ভেতর থেকে উঠে আসে তালেবান। একই সময় আন্তর্জাতিক জিহাদি নেটওয়ার্কও শক্তিশালী হতে থাকে। ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদা হয়ে ওঠে সেই নেটওয়ার্কের সবচেয়ে পরিচিত মুখ।
তারপর আসে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১।
হামলার আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সতর্কসংকেত থাকলেও সেগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। চারটি ছিনতাই করা বিমান, নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ধ্বংস, পেন্টাগনে হামলা এবং পেনসিলভানিয়ায় আরেকটি বিমানের পতন—কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বদলে যায় আমেরিকা এবং পৃথিবী। আল-কায়েদার সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন ছিল বিপুল। কংগ্রেসে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদনের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন মাত্র একজন সদস্য।প্রাথমিক পর্যায়ে যুদ্ধ দ্রুত এগোয়। তালেবান সরকার ভেঙে পড়ে। ২০০১ সালের ডিসেম্বরের তোরাবোরা অভিযানে বিন লাদেনকে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু এরপর আমেরিকার দৃষ্টি ঘুরে যায় ইরাকের দিকে। আমার কাছে এখানেই ৯/১১-পরবর্তী ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘টার্নিং পয়েন্ট’।
ইরাককে আল-কায়েদা, সন্ত্রাসবাদ এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের হুমকির সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা হলো যে ৯/১১-এর আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ আমেরিকান সমাজে নতুন একটি যুদ্ধের রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়ে গেল। পরে দেখা যায়, যুদ্ধের পক্ষে ব্যবহৃত বহু যুক্তিই ছিল দুর্বল বা ভুল তথ্যের ওপর দাঁড়ানো। তৎকালীন মূলধারার মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বড় একটি অংশও এই যুদ্ধের বয়ানকে যথেষ্ট কঠোরভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি।
ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল ফ্রান্স ও জার্মানিসহ বহু মার্কিন মিত্র। প্রতিক্রিয়ায় একসময় মার্কিন কংগ্রেসের ক্যাফেটেরিয়ায় ‘French fries’-এর নাম পর্যন্ত বদলে ‘Freedom fries’ করা হয়েছিল। আজ ঘটনাটি হাস্যকর মনে হয়। কিন্তু সেই সময়ের রাজনৈতিক মানসিকতা বোঝার জন্য এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ‘ফ্রিডম’ তখন শুধু একটি মূল্যবোধ ছিল না; যুদ্ধকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি রাজনৈতিক শব্দও হয়ে উঠেছিল। ৯/১১-পরবর্তী আরেকটি অধ্যায় গুয়ানতানামো বে। কিউবায় মার্কিন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বন্দিশিবির স্থাপন করা হয়, যেখানে বহু মানুষকে দীর্ঘ সময় বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। বন্দিদের ওপর নির্যাতন এবং ‘enhanced interrogation’-এর নামে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ পরে ব্যাপকভাবে সামনে আসে।
আফগানিস্তানে অর্থের বিনিময়ে সন্দেহভাজন ‘সন্ত্রাসী’ ধরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—কতজন প্রকৃত সন্ত্রাসী ছিল, আর কতজন ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পুরস্কারের অর্থের কারণে বন্দী হয়েছিল? নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ। একজন মানুষকে পর্যাপ্ত চাপ দিলে সে অনেক সময় সত্য নয়, বরং জিজ্ঞাসাবাদকারী যা শুনতে চায় সেটিই বলবে।
ইরাক যুদ্ধের কারণে শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আফগানিস্তান যুদ্ধেও তার মূল্য দিতে হয়েছে। সামরিক মনোযোগ ও সম্পদের বড় অংশ ইরাকে চলে যাওয়ার সুযোগে তালেবান পুনর্গঠিত হতে থাকে। অন্যদিকে আফগানিস্তানে যে সরকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, তা ক্রমে দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়ে পড়ে। বিপুল বিদেশি সাহায্যের একটি বড় অংশ হারিয়ে যায় দুর্নীতি, কমিশন, অকার্যকর প্রকল্প এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ভেতরে।
একটি রাষ্ট্র বাইরে থেকে অর্থ দিয়ে তৈরি করা যায় কি না—আফগানিস্তান সেই প্রশ্নও আমাদের সামনে রেখে গেছে। ৯/১১ আমেরিকার বৈদেশিক নীতিই শুধু বদলায়নি, বদলে দিয়েছিল দেশের ভেতরের জীবনও।
নিরাপত্তার নামে সরকারি নজরদারি ব্যাপকভাবে বাড়ে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ভ্রমণ, আর্থিক লেনদেন—সবকিছুই নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আসে। মুসলিমদের জন্য পরিবর্তনটি ছিল আরও স্পষ্ট। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি, ৯/১১-এর পর মুসলিম পরিচয় বহু ক্ষেত্রে বাড়তি সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু দেশের তরুণ মুসলিম পুরুষদের বিশেষ নিবন্ধন কর্মসূচির মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছিল।
বুশের পর ওবামা ক্ষমতায় এলেও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের মৌলিক কাঠামোয় নাটকীয় পরিবর্তন আসেনি। তবে মার্কিন সৈন্যদের ঝুঁকি কমাতে ড্রোন হামলার ওপর নির্ভরতা বাড়ে। এই কৌশলের মূল্য দিয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বহু বেসামরিক মানুষ। প্রতিটি ভুল ড্রোন হামলা, প্রতিটি নিরীহ মৃত্যুই নতুন ক্ষোভ তৈরি করেছে। এবং সেই ক্ষোভই আবার সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তবে ওবামা আমলেই পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়। এটি নিঃসন্দেহে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর বড় সাফল্য।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—লাদেনের মৃত্যু কি সেই যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ করেছিল? এতো বছর পর দেখা গেল, উত্তরটি সহজ নয়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করেছে। যে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই তালেবানই আবার কাবুলের ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সমস্যা সম্ভবত ছিল— কেউ কখনো স্পষ্ট করে বলতে পারেনি ‘বিজয়’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে।
লাদেনকে হত্যা?
তালেবানকে ধ্বংস?
আফগানিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা?
একটি কার্যকর রাষ্ট্র নির্মাণ?
নাকি এমন একটি দেশ তৈরি করা, যেখান থেকে ভবিষ্যতে আমেরিকায় হামলা হবে না? লক্ষ্য যত বিস্তৃত হয়েছে, যুদ্ধ ততই অন্তহীন হয়েছে। আমার মনে হয়, ২০০৩ সালে ইরাকে যুদ্ধ শুরু না করে যদি যুক্তরাষ্ট্র আল-কায়েদা ও আফগানিস্তানেই মনোযোগ ধরে রাখত, ইতিহাসের ফলাফল হয়তো ভিন্ন হতে পারত।
কিন্তু ইতিহাসে ‘যদি’ বলে কিছু নেই।
বিশ বছর পর বাস্তবতা হলো, আল-কায়েদা দুর্বল হয়েছে, বিন লাদেন নিহত হয়েছে; কিন্তু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ শেষ হয়নি। বরং নানা নামে, নানা অঞ্চলে, নানা সংগঠনের মাধ্যমে তা আরও ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ত্রাস এখন এক ধরনের বৈশ্বিক পণ্য।
বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্স, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকা— কোথাও এর ছায়া পুরোপুরি অনুপস্থিত নয়। সে অর্থে বলা কঠিন যে আমেরিকা এই যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে। বরং বিন লাদেনের কৌশলের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল— আমেরিকাকে এমন দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে টেনে নেওয়া, যা তার অর্থনীতি, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তবে যুদ্ধেরও বিজয়ী আছে। সেটা হচ্ছে মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স। অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা ঠিকাদার, নিরাপত্তা ব্যবসা, লজিস্টিকস কোম্পানি— দুই দশকের যুদ্ধ তাদের জন্য বিপুল ব্যবসা তৈরি করেছে। যুদ্ধ শুধু ভূরাজনীতি নয়; যুদ্ধ একটি বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও।
সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাইডেন নিয়েছেন তার টার্মের শুরুতেই। সিদ্ধান্তটি একসময় নিতেই হতো। কিন্তু যেভাবে আফগান সরকার ও নিরাপত্তা কাঠামো কয়েক দিনের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল, তা বিশ বছরের মার্কিন রাষ্ট্রনির্মাণ প্রকল্পের দুর্বলতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে।
তবে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার মানেই কি আমেরিকার যুদ্ধনির্ভর রাজনীতির অবসান? উত্তরটি অবশ্যই আমরা জানি। যুদ্ধের চেয়ে ব্যয়বহুল, বিপদজ্জনক পণ্য আমেরিকা তৈরি করেনি। আমরা সেই অনিঃশেষ যুদ্ধের আরেকটি পর্ব দেখছি ইরানে। ইরাক যুদ্ধের সিদ্ধান্তের জন্য কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি। প্রতিরক্ষা শিল্প ও রাজনীতির সম্পর্কও বহাল আছে। অর্থ, লবিং এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার এই সম্পর্ক বদলানো ছাড়া যুদ্ধের ব্যবসায়িক কাঠামো বদলানোর সম্ভাবনা কম।
তাই আফগানিস্তান, ইরাক এবং ইরানের পরে ভবিষ্যতে নতুন কোনো যুদ্ধ আসবে না— এ কথা বলার সুযোগ নেই। হয়তো নতুন কোনো দেশে ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা’ করতে হবে। হয়তো দূর দেশের কোনো শত্রুর হাত থেকে নিজেদের ‘স্বাধীনতা’ রক্ষা করতে হবে। আবার অস্ত্র যাবে, সৈন্য যাবে, অর্থ যাবে, মানুষ মরবে। শেষে দেখা যাবে, যুদ্ধ শুরুর সময় যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল সেটিই আর কেউ মনে করতে পারছে না। ওয়াইল্ড ওয়েস্টের কাউবয় স্টাইলের যুদ্ধ আধুনিক পৃথিবীতে অচল। একটি সরকারকে বোমা মেরে সরিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু একটি সমাজকে বোমা মেরে পুনর্গঠন করা যায় না।
একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, গোত্রীয় সম্পর্ক, ধর্ম, ক্ষোভ ও রাজনীতিকে সামরিক শক্তি দিয়ে নতুন করে লিখে দেওয়া যায় না।এই ডকুমেন্টারি দেখতে দেখতে সেই কথাটিই বারবার মনে হয়েছে।
৯/১১-এর ২৫ বছর পর হিসাবটি তাই খুবই বিষণ্ণ। সেদিন যে সন্ত্রাস আমেরিকার নগরীতে আঘাত করেছিল, সেই সন্ত্রাসের আদর্শ পৃথিবীর আরও বহু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। অসংখ্য মার্কিন সৈনিক, আফগান, ইরাকি এবং অন্য দেশের সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। যুদ্ধনির্ভর শিল্প আরও শক্তিশালী হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হেরেছে সাধারণ শান্তিকামী মানুষ। তবে আমেরিকাকে শুধু যুদ্ধবাজদের দেশ হিসেবে দেখলেও ভুল হবে। এই দেশেই বহু মানুষ যুদ্ধের উন্মাদনার মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতিবাদ করেছেন এবং নিজের বিবেকের মূল্য দিয়েছেন। ডকুমেন্টারি সিরিজে জেসন রাইট নামে এমনই একজন মানুষের দেখা পাওয়া যায়। তাঁর গল্প এখানে বলছি না। দীর্ঘ এই বিষণ্ণ ইতিহাসের মধ্যে তিনিই হয়তো দর্শকের জন্য সামান্য আশার জায়গা হয়ে থাকবেন। ডকুমেন্টারিটি দেখুন। কারণ ৯/১১-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত শুধু এই নয় যে সন্ত্রাস কতটা ভয়ংকর। সন্ত্রাসের জবাবও সন্ত্রাসের চেয়ে আরও ভয়ানক হতে পারে এবং চেইন রিএকশনের মতো আরো অনেক অনেক সন্ত্রাসের জন্ম দিতে পারে।

