পড়শী সাহিত্য ও শিল্প নক্ষত্রের আলো

নক্ষত্রের আলো

Post Views: 20
2 min read

তুমি আমার জীবনের প্রথমেও ছিলে না
শেষেও নেই,
শুধু মাঝখানে কয়েকটি বছর
জীবনটাকে তোলপাড় করে দিয়ে গেলে।

যেমন হেমন্তের শেষে কোনো এক বিকেলে
নদীর বুক থেকে উঠে আসে কুয়াশা,
তারপর ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলে
চেনা পথ, গাছের ছায়া,
ফিরে যাওয়ার সমস্ত ইশারা।

তুমি চলে গেলে কিন্তু তোমার চলে যাওয়া
শুধু একটি মানুষের চলে যাওয়া ছিল না,
তার সঙ্গে চলে গেল
আমার কিছু অপ্রকাশিত সকাল,
কিছু নির্জন দুপুর,
আর সন্ধ্যার আকাশে জমে থাকা
অসংখ্য নীল পাখির ডাক।

এখনো কখনো ঘাসের ওপর শিশির নামলে
মনে হয়, তুমি বুঝি এসেছিলে এখানে,
কোনো এক অন্ধকারে পাখির মতো
নিঃশব্দে ছুঁয়ে গিয়েছিলে আমার ঘুমন্ত পৃথিবী।

কত বছর কেটে গেছে!
শহরের বাতিগুলো জ্বলে, নিভে যায়,
মানুষেরা ঘরে ফেরে,
নদী তার পুরোনো স্রোতে বয়ে চলে।
শুধু আমার ভেতরে একটি পথ আজও শেষ হয়নি।

সেখানে সন্ধ্যা নামে ধীরে,
একটি দোয়েল ডানা গুটিয়ে বসে থাকে,
আর দূরের কোনো অচেনা মাঠে একটি শব্দ বাতাসে ভেসে এসে আবার হারিয়ে যায়।

তুমি আমার প্রথম নও, শেষও নও
তবু জীবনের যে অল্প কয়েকটি বছর
তোমার ছায়ায় দাঁড়িয়ে
আমি নিজেকে চিনেছিলাম,
সেই বছরগুলোর কাছে
আজও আমার নীরব ঋণ রয়ে গেছে।

তুমি নেই,
কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত বিদায়ের পরেও
কিছু মানুষ থেকে যায়,
যেমন রাতের আকাশে থেকে যায়
একটি নিভে যাওয়া নক্ষত্রের আলো।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হিউস্টন, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র

বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকাশিত বই – ‘গোধূলির ছোঁয়া’ ও ‘প্রতিবিম্বের কাছাকাছি’। প্রকাশিত ছোট গল্পের ই-বুক – “যা কিছু গল্প হয়ে রয়”।


Previous
Next

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।