পড়শী চুপ কথা মানবতার গান গাই

মানবতার গান গাই

Post Views: 15
4 min read

“আমি প্রধানত ক্যানসারের চিকিৎসক। কিন্তু মানুষের প্রাণ বাঁচানোটা আমার ধর্ম।”

ধর্ম যা ধারণ করে। এই উক্তিটি দিয়ে লেখা শুরু করার কারণ একটাই- কোন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান তার নৈতিকতা দিয়ে যখন মানুষের মঙ্গলে ব্রতী হয় তখন তা হয়ে ওঠে তীর্থস্থান- সেটাই প্রমাণ করার তাগিদে। উপরোক্ত উক্তিটি ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হসপিটালের কর্নধার ডক্টর অর্ণব গুপ্ত-এর।

এ প্রসঙ্গতে একটি ঘটনা একটু ছুঁয়ে না গেলে হয়তো বোঝা সম্ভব না, ডাক্তার নিজ গুনে কিভাবে ঈশ্বর হয়ে ওঠেন।
বাংলাদেশের এক নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে মায়ের ওপর রাগ করে অ্যাসিড খেয়ে ফেলা মেয়েকে নিয়ে মহানগরীতে এসেছিলেন নার্গিস। কয়েকটা বেসকারি সরকারি হসপিটালে ঘুরেও মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছিলনা মা।

এক বেসাকারি হাসপাতাল তো পাঁচ লাখ টাকা চেয়ে বসলেন নার্গিসের থেকে। এদিকে মেয়ে খাবার তো দূর, একগ্লাস জল খেতে পারছিল না। অবশেষে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হসপিটালের দ্বারস্থ হন নার্গিস। মেয়েটির অপারেশন হয় ২,২৭০ টাকায়। মেয়েটি সুস্থ হয়ে উঠতে থাকে। নার্গিস তো মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থাও শুরু করে দেন। মনে হচ্ছেনা- রূপকথার গল্প? না, এরকম ঘটনা আজও ঘটে। এরকম ঈশ্বরতুল্য ডক্টর ও আন্তরিক সেবা প্রতিষ্ঠান এখনও আছে এই শহরেই।

তবে এ প্রসঙ্গে ডক্টর গুপ্ত বলেছিলেন- “আমাদের হাসপাতালে সাধারণত ক্যানসারের চিকিৎসা হয়। কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী মেয়েকে নিয়ে এসে আমার সামনে হাতজোড় করেন ভদ্রমহিলা- যে করে হোক ওকে বাঁচিয়ে দিন। তাঁর আঁকুতি আমি ফেলতে পারিনি।”

১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই হসপিটাল। প্রয়াত চিন্তাহরণ দাসের দেওয়া একটুকরো জলাভূমিতে ২৫ শয্যার ক্যান্সার হসপিটাল শুরু করেছিলেন ডক্টর সরোজ গুপ্ত। শুনলে অবাক হবেন হসপিটালটি শিখা নামক একটি নাটক থেকে তারা প্রথম তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন- গ্রাম থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য। এবং গল্পটি লেখা ছিল ডক্টর সরোজ গুপ্ত-এর নিজেরই এবং এখানে উনি একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর ভূমিকায় নিজেই অভিনয় করেন।

আজ সেই হাসপাতালে I Communications কর্ণধার সৌম্যজিৎ দার আহ্বানে গিয়েছিলাম এক মহৎ এবং অভিনব কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হতে। ডক্টর গুপ্ত যেহেতু আমার পূর্ব পরিচিত ছিলেন তাই নিজের কিছু সমস্যা নিয়েও কথা বললাম। যাইহোক কেন গিয়েছিলাম সেটাই তো বলা হল না আপনাদের–

বংশগত ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর উদ্যোগে চালু হল জেনেটিক কাউন্সেলিং ক্লিনিক। এর ফলে পূর্ব ভারতে ক্যান্সার চিকিৎসা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে আশা কর্তৃপক্ষের। বংশগত ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের আধুনিক ও সাশ্রয়ী জেনেটিক কাউন্সেলিং সুবিধা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য এই চিকিৎসা কেন্দ্রের। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে এই কেন্দ্র।

ড. রাজীব সারিন এই ক্লিনিকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, “জেনেটিক কাউন্সেলিং ক্যান্সার নিরাময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বংশগত ক্যান্সারের ঝুঁকি শনাক্ত করে এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।”

একটি হাসপাতাল যদি মন্দির হয় এবং সেখানকার ডক্টররা যদি মানবতার পূজারী হন তাহলেই বোধকরি এমন কাজ করা সম্ভব।

১২ অক্টোবর, ২০২৬

কলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

গীতিকার, কবি, লেখক এবং সমাজকর্মী।


Previous
Next

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।