দীর্ঘ বিরতির পর পড়শী আবার ফিরে এসেছে এই বৈশাখ ১৪৩৩ (এপ্রিল ২০২৬) থেকে। এটি শুধু একটি পত্রিকার প্রত্যাবর্তন নয় — এ এক স্বপ্নের পুনর্জাগরণ। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মুদ্রিত মাসিক হিসেবে পড়শী তার পথচলা শুরু করেছিল। পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অনলাইনে থেকেও নানা কারণে থেমে যায়। কিন্তু স্বপ্ন থেমে থাকে না। মানুষের আকাঙ্ক্ষা, স্মৃতি ও ভালোবাসা তাকে ফিরিয়ে আনে। সেই শক্তিতেই আজ পড়শী আবার আমাদের সামনে।
গত পাঁচ মাসে (নভেম্বর–মার্চ) একদল স্বপ্নবাজ এবং নিবেদিত মানুষ নিয়মিত বৈঠক ও নিরলস আলোচনার মাধ্যমে এই পুনরারম্ভের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এসেছে উষ্ণ সাড়া। স্বেচ্ছাসেবক, সম্পাদক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও পাঠকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে। এই পথ চলা সবার। আপনিও এর অংশ হতে পারেন। আপনার চিন্তা, আপনার লেখা, আপনার সহমর্মিতাই আমাদের শক্তি।
পড়শী হতে চায় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক পরিসর। এখানে মতের ভিন্নতা থাকবে, তবু বিভাজন নয় — সংলাপই হবে প্রধান। ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা খুঁজব মানবিক মিলনভূমি। আমাদের প্রত্যাশা,পড়শী হয়ে উঠবে বিশ্ববাঙালির একটি সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল মুখপত্র।
এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান। তবে সেই স্বাধীনতা হবে শালীনতা ও দায়িত্ববোধের ভিতের ওপর দাঁড়ানো। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত আক্রমণ, বিদ্বেষ কিংবা অশালীনতার কোনো স্থান এখানে নেই। ভিন্নমত থাকবে — কিন্তু তা হবে যুক্তির, সৌজন্যের এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার।
বাংলা ভাষার শিকড় বহু প্রাচীন, আর এর বিস্তার আজ বিশ্বজুড়ে। এই ঐতিহ্য আমরা ধারণ করি। এর বিকাশকে আমরা দেখতে চাই সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিসরে। সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।
আমরা প্রায়ই বলি — পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যম আমাদের দূরত্ব কমিয়েছে। তবু মানুষের ভেতরের দূরত্ব কি সত্যিই কমেছে? এই প্রশ্ন থেকেই যায়। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিস্তার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আমাদের দায়িত্বও। এই সময় এবং পরিস্থিতি আমাদেরকে আরও সচেতন, আরও সংবেদনশীল হওয়ার দাবি রাখে।
আসুন, আমরা এমন একটি পরিসর নির্মাণ করি, যেখানে কথা বলার সাহস থাকবে, আবার শোনার ধৈর্যও থাকবে। সব বিষয়ে একমত হওয়া জরুরি নয়। জরুরি হলো — ভিন্নতাকে সম্মান করা, সংলাপকে এগিয়ে নেওয়া।
এই যাত্রা কেবল পড়শী’র নয় — আমাদের সবার।

সাবির মজুমদার | শার্লোট, নর্থ ক্যারোলিনা, যুক্তরাষ্ট্র
নির্বাহী সম্পাদক, পড়শী
