পড়শী সাহিত্য ও শিল্প অতিক্রান্ত আলোর কাছে

অতিক্রান্ত আলোর কাছে

Post Views: 89

আমি বহু বছরের ধুলো কাঁধে নিয়ে এসেছি, অপরিচিত নগরের ভাঙা সিঁড়ি পেরিয়ে;
আমার চোখে জমে আছে অচেনা সভ্যতার শেষ সন্ধ্যার রঙ
যে ভাষাগুলো একদিন মানুষের ঠোঁটে জ্বলেছিল,
আজ তারা বাতাসের ভিতর নিঃশব্দে হারিয়ে গেছে।

তোমার সামনে এসে আমার সমস্ত দূরত্ব
হঠাৎ স্থির হয়ে থাকে।
মনে হয়, যে সময়কে এতদিন অনন্ত ভেবেছিলাম,
সে কেবল একটি জমে থাকা শিশিরবিন্দু।

আমি দেখেছি শক্তির পতাকা কতবার নিজের ছায়ায় জড়িয়ে গেছে
যে মুখগুলো পৃথিবীকে শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল,
তাদের নাম এখন কেবল অবহেলিত পাথরের গায়ে ক্ষয়ে যাওয়া অক্ষর।
কিন্তু একটি কোমল দৃষ্টি এখনও পরাজিত হয়নি।
তুমি কোনো অলৌকিকতার প্রতিনিধি নও, তবু তোমার নীরবতার ভেতর একটি অদৃশ্য বন জন্ম নেয়।
সেখানে ক্লান্ত পাখিরা ডানা মেলে বিশ্রাম নিতে জানে,
আর বাতাস নিজেকেই নতুন করে উচ্চারণ করে।
আমি কখনো বিজয় চাইনি,
চেয়েছিলাম অস্তিত্বের গভীরে একটি স্বচ্ছ অর্থ।
কিন্তু প্রতিটি উত্তরের পাশে আরও দীর্ঘ প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে।
সেই প্রশ্নের পথ ধরেই আজও আমি হেঁটে যাই।

এই পৃথিবী প্রতিদিন নিজের মানচিত্র বদলে ফেলে।
নদী একদিন পাহাড়কে ভুলে যায়,
মেঘ সমুদ্রের ঠিকানা হারায়,
মানুষ নিজের মুখের ভেতর অন্য মানুষের ছায়া খুঁজতে থাকে।
তবু বিস্ময় শেষ হয় না।
ভোরের প্রথম আলো কোনো ঘোষণা ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
একটি শিশুর হাসি সমস্ত ইতিহাসকে মুহূর্তের জন্য নিরস্ত্র করে দেয়।

আমি জানি,
অমর হওয়ার চেয়ে সত্য হওয়া অনেক কঠিন।
তাই আজও নিজের অসম্পূর্ণতাকে সঙ্গে নিয়ে দিগন্তের দিকে তাকাই।
যদি কখনো আমার নাম মুছে যায়,
তবু এই আকাঙ্ক্ষা রয়ে যাক,
যেন মানুষের হৃদয়ে আরও একটু স্বচ্ছতা জন্মায়,
আর যে আলো কোনো সূর্যের নয়,
সে আলো নিঃশব্দে এক আত্মা থেকে আরেক আত্মায় চলে যেতে থাকে।

২৫ জুন, ২০২৬


হিউস্টন, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র

বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকাশিত বই – ‘গোধূলির ছোঁয়া’ ও ‘প্রতিবিম্বের কাছাকাছি’। প্রকাশিত ছোট গল্পের ই-বুক – “যা কিছু গল্প হয়ে রয়”।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।