পড়শী সম্পাদকীয় মন্তব্য সম্পাদকীয়: শ্রাবণ ১৪৩৩/জুলাই ২০২৬

সম্পাদকীয়: শ্রাবণ ১৪৩৩/জুলাই ২০২৬

Post Views: 143

১৯৭১, স্বাধীনতা এবং প্রবাসীরা

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার অন্যতম সুফল ছিল বেশি হারে বাংলাদেশীদের প্রবাসে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দেবার সুযোগ সৃষ্টি হওয়া! স্বাধীন দেশের রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন দূতাবাস চালু করার মধ্য দিয়ে সহজে ভিসা পাবার ধারাবাহিকতায় ৮০-র দশক থেকে শিক্ষিত এবং দক্ষ জনগোষ্ঠী বিদেশ মুখী হয় মূলত উন্নত জীবন ব্যবস্থার আকর্ষণে! এরপর, থিতু হবার পর প্রাবসীরা একটু একটু করে নিজেরা দলবদ্ধ হতে লাগলেন। উইকেন্ড গুলোতে শুরু হতে লাগলো দাওয়াতের সংস্কৃতি। সেই সব দাওয়াতে প্রবাসীরা চায়ের কাপে ঝড় তুলতে থাকলেন ফেলে আসা স্বদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, নানা রকম অসঙ্গতি নিয়ে!

হয়তো হতাশ হলেন দেশের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে! ভাবতে থাকলেন কি করা যায়? যদি একটু হলেও নিজের অবস্থান থেকে দেশের জন্য, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করা যায় তাহলে হয়তো দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি কিছুটা হলেও দায় শোধ করা যাবে! সেই ভাবনা থেকেই সৃষ্টি হতে লাগলো এক এক করে প্রবাসে বাঙালি পরিচালিত জনকল্যাণ মুলুক প্রতিষ্ঠানের! এই প্রতিষ্ঠানগুলো নানা রকম কর্মকান্ড যেমন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসার ব্যবস্থা, কেয়ার হোম নির্মাণ, নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণে জড়িত। প্রাবসীদের এই প্ৰচেষ্টা আসলে দেশের প্রতি ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। একটু হলেও ঋণ শোধের চেষ্টা, যদিও তারা জানেন দেশের ঋণ কোনোদিন শোধ হবার নয়।

আমরা চেষ্টা করেছি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে। হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে কিছু বাদ পড়ে গেছে, আমরা তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। এছাড়া বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাচের নিজেদের জনকল্যাণমূলক সংস্থা রয়েছে, আমাদের স্বল্প পরিসরে সবগুলোকে নিয়ে ফিচার করা সম্ভব নয়। সেই জন্য আরেকবার ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

সবশেষে, আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন। প্রাবসীরা কম বেশি দেশের জন্য কিছু করতে চান, কিন্তু অনেক সময়ই তারা দেশের থেকে নানান রকমের বাঁধার শিকার হন। বিশেষ করে নানান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রিতায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রবাসীরা হতোদ্যম হয়ে কিছু করবার ইচ্ছা থেকে সরে আসেন। আমাদের অনুরোধ রইবে, এই জটিলতা সহজ করে প্রবাসীদের দেশের প্রতি ঋণ শোধের পথটাকে সহজ করে দেবার জন্যে। দেশ কিন্তু প্রবাসীদের ভালোবাসা নিতে চায়, তাই সরকার যেন সেই ভালোবাসার কাজগুলোর প্রবেশের পথটাকে মসৃন করে দেয়।

শুভেচ্ছা নিরন্তর।

৩০ জুন, ২০২৬


পোর্টল্যান্ড, ওরেগান, যুক্তরাষ্ট্র

প্রকৌশলী, কবি, লেখক এবং সংগঠক। দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত “সৃজন পাঠশালা”র কাজে তার অবসর কাটে।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।