১
এক সময় ফেসবুক, ট্যুইটার (এখন এক্স), ইনস্টাগ্র্যাম কিছুই ছিলনা। অত্যন্ত সীমিত পরিসরে মডারেটর বা সঞ্চালকের দ্বারা ইমেইল নিয়ন্ত্রিত ইয়াহুগ্রুপ নামের একটি টেক্সট-ভিত্তিক প্লাটফর্ম এবং প্যালটক নামের একটি অডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ছিল। ইন্টারনেট ছিল টেলিফোন-নির্ভর। টেলিফোন বলতে ছিল শুধুই ল্যান্ডফোন। তার মানে, ইন্টারনেটের জন্য আলাদা লাইন না থাকলে ঘরের লাইন বন্ধ করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হতো। ইমেইল পড়া/জবাব দেওয়া এবং সীমিতসংখ্যক অনলাইন নিউজ-পোর্টালে সংবাদ পড়া ছাড়া ইন্টারনেটের ব্যবহারও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অতি সীমিত ছিল।
সেই যুগে উত্তর আমেরিকার সর্বত্র বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে ছাপা হতো মাসিক পড়শী, ডাকযোগে বিলি হতো সর্বত্র। নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পাওয়া যেত। ভেবে ভাল্লাগতো যে, মাস শেষে পাঠকরা পড়শীর জন্য অপেক্ষায় থাকতেন।
ইতোমধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি জগতে সংঘটিত বিপ্লব ফসল দেওয়া শুরু করেছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ওয়েবসাইট যখন তার বিশাল সম্ভাবনা ও চোখ ধাঁধাঁনো সম্ভার নিয়ে পাঠকদের ঘরে সরাসরি হানা দেওয়া শুরু করলো, তখন কাগজে ছাপা বইপুস্তকের মতো পড়শী অবহেলার শিকার হলো। সংক্ষিপ্ত এক ঘোষণার মধ্য দিয়ে একদিন কাগজে ছাপা পড়শীর প্রকাশনা গেলো বন্ধ হয়ে!
কিন্তু কথায় আছে, এক দরোজা যখন বন্ধ হয়, তখন সম্ভাবনার হাজার দরোজা উন্মোচিত হয়। পড়শীর বেলাতেও সেটা সত্য হলো। দীর্ঘ ষোল বছর শীত-ঘুমে থাকার পর অবশেষে তথ্য-প্রযুক্তির খোলা-জানালা দিয়ে এখন নতুন রূপে, নতুন আঙ্গিকে, আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়ে পড়শী অনলাইনে উঁকি মারছে বিশ্বময়।
২
পড়শী ছাপা সংস্করণের একটি আকর্ষণীয় পাঠকের পাতা ছিল। পাঠকরা তাদের মতামত, মন্তব্য, পরামর্শ, কিংবা সমালোচনামূলক লেখা ছাপার জন্য পাঠাতেন। নির্বাচিত লেখাগুলো ছাপা হতো। নতুন পড়শীর অনলাইন সংস্করণে সে পাতাকে আরও আকর্ষণীয় ও বহুমুখী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে পড়শীর আরশি। পড়শীতে, এবং পুরো বিশ্বসংসারে কী ঘটেছে, ঘটছে, এবং কী ঘটতে পারে- তার একটা সংক্ষিপ্ত ধারণা থাকবে এই বিভাগে।
পড়শীর আরশি একটি মিথষ্ক্রীয় ও প্রাণবন্ত বিভাগ। পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনা, একমত-ভিন্নমত-বিরুদ্ধমত – সবকিছুই পড়শীর আরশিতে স্বাগত। পাঠকের পাঠানো প্রশ্ন বা উদ্বেগের জবাব পেতে পাঠকদের পুরো একমাস অপেক্ষা করতে হবে না। এ বিভাগটি পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ। পাঠকদের সৃষ্টিশীল লেখা থেকে শুরু করে তাদের জীবনে সংঘটিত ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা, ভুলতে না পারা স্মৃতি, তাদের তোলা বৈশিষ্টমণ্ডিত আলোকচিত্র, কোনো চলচ্চিত্র বা বই নিয়ে মন্তব্য, কোনো ঘটনার সংবাদ বিশ্লেষণ- সবকিছুই হতে পারে পড়শীর আরশির উপজীব্য।
৩
পড়শীর আরশিতে পাঠানো লেখা হতে হবে:
(ক) মানসম্মত,
(খ) বিষয়নিবিষ্ট,
(গ) প্রাসঙ্গিক সূত্র উল্লিখিত,
(ঘ) যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত,
(ঙ) সবধরনের বিদ্বেষভাবনা মুক্ত,
(চ) নৈতিক দিক থেকে গ্রহণযোগ্য এবং
(ছ) যৌক্তিক কারণে সঞ্চালকের সম্পাদনাসাপেক্ষ।
