পড়শী খেলা খেলা বিশ্বকাপ ফুটবলে অভিবাসীরাই হতে পারেন বাংলাদেশের চাবিকাঠি

বিশ্বকাপ ফুটবলে অভিবাসীরাই হতে পারেন বাংলাদেশের চাবিকাঠি

Post Views: 9
13 min read

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবল ছিল সব দিক দিয়েই বিস্তৃত, বৈচিত্র্যময় এবং খুলে দেয় সম্ভাবনার নানান দুয়ার। ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসর তো শুধু ফুটবলের জয়গানই গায় না, একই সঙ্গে আমাদের দেখার চোখ উন্মীলিত, ভাবনার দিগন্ত প্রসারিত এবং বিবিধ উৎসের সন্ধান দেয়। একটি বিশ্বকাপের মধ্যে থাকে অনেক আলোর বিচ্ছুরণ। তার প্রভাব নানাভাবে পড়ে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে। খেলাধুলায় তো বটেই।

বিশেষ করে এবার একটা নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে। নতুন বলা হয়তো ঠিক হবে না, ইতোপূর্বেও ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেক বেশি ব্যাপ্তি পেয়েছে। এর কারণ, ফিফার নিয়ম এখন অনেকটাই নমনীয়। ফুটবলের নিয়মে অভিবাসী বা জাতীয়তা পরিবর্তনের খেলোয়াড় সংক্রান্ত আইন প্রথম বড় ধরনের শিথিল করা হয় ২০০৪ সালে। এই সংশোধনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের এক দেশ থেকে অন্য দেশে দল বা জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালেও ফিফা এই বিষয়ে নিয়মে আরও কিছু পরিবর্তন ও ছাড় দিয়েছে। বাবা-মা বা দাদা-দাদির সূত্রে অথবা পাঁচ বছর বসবাসের সূত্রে অন্য দেশের হয়ে খেলতে পারা যায়। যে কারণে অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেশ বেড়েই চলেছে। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ৪৮টি দল। অনুষ্ঠিত হয় ১০৪টি ম্যাচ। সব মিলিয়ে ছিলেন ১২৪৮ জন ফুটবলার। আর এই ফুটবলারদের মধ্যে ২৮৯ জনই অভিবাসী, অভিবাসী পরিবার বা নিজের জন্মদেশের বাইরের জার্সি পরে মাঠে নেমেছেন। অর্থাৎ প্রতি চার জনে একজন অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের সন্তান। সংখ্যাটা শতকরা ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান আধুনিক ফুটবলের একটি বাস্তবতা বৈকি। প্রশ্ন হলো, এই অভিবাসী আইন বাংলাদেশ কতটা কাজে লাগাতে পারবে? উত্তরটা অবশ্য ইতিবাচকই। এমনকি এটাই হতে পারে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুততম পথও। আগে জাতীয় দল মানে ছিল নিজের মাটিতে জন্ম নেওয়া ১১ জন খেলোয়াড়। এখন সেই সংজ্ঞা বদলে গেছে। অবশ্য অতীতেও খেলেছেন অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের খেলোয়াড়রা। তবে সেই সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। তাদের মধ্যে বিশ্বখ্যাত হয়েছেন স্পেনের আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, হাঙ্গেরির ফেরেঙ্ক পুসকাস, পর্তুগালের ইউসেবিও, ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা প্রমুখ।

এবার ৭০টি ভিন্ন দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় বিশ্বকাপ খেলেছেন। সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় ফ্রান্সের, ৯৬ জন। ফরাসি একাডেমিতে তৈরি হয়ে তারা এখন খেলছেন আলজেরিয়া, সেনেগাল, মরক্কো, তিউনিসিয়া ইত্যাদি দেশের হয়ে। হাল আমলে অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি প্রমুখ।

মাত্র ৮টি দল ব্রাজিল, কলম্বিয়া, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, পানামা, চেক রিপাবলিক, সাউথ আফ্রিকা ও সৌদি আরব পুরোপুরি নিজের দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় নিয়ে খেলেছে। অন্য দিকে কুরাসাও’র ২৬ জনের স্কোয়াডের ২৫ জনই নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া। ডি আর কঙ্গোর ২০ জন খেলোয়াড় জন্মেছেন বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডে। মরক্কোর ১৯ জন স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, কানাডার। আর ৮টি দলের তো অর্ধেকের বেশি খেলোয়াড়ই বিদেশে জন্ম নেওয়াদের নিয়ে গড়া হয়েছে। মরক্কো ২০২২ সালে অভিবাসী মডেল দিয়েই সেমিফাইনালে পৌঁছায়। সেনেগাল, আলজেরিয়া, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রও অভিবাসীদের কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী হয়েছে।

বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য এই দৃষ্টান্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ না করার কারণ নেই। কারণ বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ দেশের বাইরে থাকেন। অবশ্য এর মধ্যে সিংহভাগই অস্থায়ী। বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। স্থায়ী বা দ্বৈত নাগরিকত্বপ্রাপ্ত অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ হতে পারে। তাদের বড় একটা অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, ইতালি, গ্রিস, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। মূলত এই অভিবাসীদের মধ্যে থেকে বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। অবশ্য বাংলাদেশও এই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় দলে প্রবাসী বা অভিবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি শুরু হয় জামাল ভূঁইয়াকে দিয়ে। ডেনমার্কে বড় হওয়া এই ফুটবলার দীর্ঘদিন একমাত্র অভিবাসী খেলোয়াড় ছিলেন। এরপর আসেন ফিনল্যান্ড থেকে সেন্ট্রালব্যাক তারিক কাজী আর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কাজেম শাহ। তবে সামগ্রিক চিত্রটা ২০২৫ সালে এসে বদলে গেছে। ইংল্যান্ডের শেফিল্ড ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর অভিষেকের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। হামজা আসার পর প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে জাতীয় দলে খেলার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন কানাডা থেকে মিডফিল্ডার শমিত সোম, ইতালি থেকে লেফটব্যাক ফাহামিদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র থেকে লেফটব্যাক জায়ান আহমেদ, ইংল্যান্ড থেকে মিডফিল্ডার কিউবা মিচেল প্রমুখ। আরও কেউ কেউ অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া যুব পর্যায়ে কয়েকজন খেলতে এসেছেন। অর্থাৎ পাইপলাইন তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেটা এখনো বিচ্ছিন্ন, কোনো কাঠামোর মধ্যে নয়।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের গড় মান এশিয়ায় অনেক নিচের দিকে। একজন হামজা চৌধুরী ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একাডেমিতে যে ট্যাকটিক্যাল শিক্ষা ১০ বছর ধরে পেয়েছেন, দেশের ভেতরে সেটা তৈরি করতে চাইলে ন্যূনতম ১০ বছর সময় লাগবে। ব্যয় হবে বিস্তর টাকা। অথচ কোনো বিনিয়োগ না করেই অভিবাসী খেলোয়াড়দের পাওয়া যায় রেডিমেড। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটা হতে পারে সুবর্ণ এক সুযোগ। তাদের উপস্থিতিতে ফুটবলের সংস্কৃতি বদলাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রবাসী বা অভিবাসী খেলোয়াড়রা ড্রেসিংরুমে পেশাদারিত্বের আধুনিক মান অনুসরণ করেন। উন্নত দেশে বেড়ে উঠায় উপযোগী খাবার, জিম, রিকভারি, ম্যাচের আগে ভিডিও অ্যানালাইসিসের সঙ্গে তারা সহজাতভাবেই অভ্যস্ত। আর এই ছোট ছোট বিষয়গুলো অন্যদের সহজেই প্রভাবিত করে। জামাল ভূঁইয়া একসময় একাই তার রুটিন অনুসরণ করতেন। তার সঙ্গে ৪-৫ জন একসঙ্গে এই রুটিন মেনে চললে পুরো দল বদলে যেতে পারে। হামজা বা শমিতের এজেন্ট, কোচ, ক্লাবের কারণে বাংলাদেশের নামটা ইউরোপের স্কাউটিং নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটাও একটা পজিটিভ বিষয়। টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে এই প্রচার পাওয়া যায় না।

তবে একটা বিষয়ে সতর্কতার প্রয়োজন আছে বলে অনেকে মনে করেন। হয়তো কোনো একদিন কুরাসাও-এর মতো প্রায় ১০০ শতাংশ অভিবাসী দল দিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। তেমনটা হলে দেশের ফুটবল গোড়া আলগা হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবাসী বা অভিবাসী ফুটবলারদের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় ফুটবলের ভিতকে সুদৃঢ় করা অত্যাবশ্যক। অভিবাসী মডেলকে সাময়িক একটি সেতু হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। সেটাকে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান মনে করার কারণ নেই। কেননা, শুধু প্রবাসী বা অভিবাসী খেলোয়াড় নির্ভরতা দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

প্রবাসী বা অভিবাসী ফুটবলারদের পায়ের জাদুতে সাময়িক একটা চমক বা মুগ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ফুটবলকে স্বাবলম্বী করতে পারে না। প্রবাসী বা দ্বৈত নাগরিকত্বের ফুটবলারদের দলে টেনে মাঠে হয়তো ক্ষণিকের জন্য আলোড়ন তোলা যায়, কিন্তু তা মূলত এক চিলতে ধার করা আলো। দেশের মাটি থেকে যদি নতুন প্রতিভা জন্ম না নেয়, তবে এই সাময়িক মুগ্ধতা কেবলই এক মরীচিকায় পরিণত হতে পারে। তাছাড়া সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহে বড় হওয়া অভিবাসী খেলোয়াড় এবং স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত সমন্বয় তৈরি করাও সব সময় সহজ হয় না। দেশের ফুটবলের উন্নতি করতে এবং একে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে আমাদের নিজেদের মাঠ ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর উদ্যোগে এখন বিচ্ছিন্নভাবে অভিবাসী ফুটবলারের যে খোঁজ চালানো হচ্ছে, সেটাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। লন্ডন, টরন্টো, নিউইয়র্ক, মিলান, সিডনি যেখানে বাংলাদেশিরা বেশি, সেখানে একজন করে পার্টটাইম স্কাউট নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। যার কাজ হতে পারে প্রবাসী, অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী একাডেমি খেলোয়াড়দের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি ডাটাবেজ তৈরি করা। তাতে তরুণ ফুটবলারদের প্রোফাইল, বর্তমান ক্লাব, খেলার পজিশন ও পারফরম্যান্সের বিস্তারিত ও হালনাগাদ তথ্য থাকতে পারে। সেই আলোকে পূর্বের মতো ট্রায়াল ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকায় প্রতি ছয় মাসে একটি করে নিয়মিত স্কাউটিং বা ট্রায়াল ক্যাম্পের আয়োজন করা যায়। বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের ফুটবলারদের খুঁজে বের করতে বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা এবং প্রবাসী ও অভিবাসীদের সহযোগিতা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

অভিবাসী ফুটবলারদের কেউ কেউ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টের আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি বা নবায়নের আইনি ঝামেলার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়া নিয়ে বেশ সমস্যা তৈরি হয়। এমনকি বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদন করতে গিয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন হামজা চৌধুরী।

অভিবাসী খেলোয়াড়দের হঠাৎ করে ডাকার পর বোঝা যায়, প্রক্রিয়াটা আসলে স্বচ্ছ নয়। ফুটবলারদের দলভুক্ত করার ক্ষেত্রে যাতে জটিলতা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। মরক্কোর মতো বাফুফে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় মিলে একটা বিশেষ সেল করতে পারে, যারা দ্রুত সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের পাসপোর্ট দিয়ে দিতে পারে। প্রবাসী বা অভিবাসী খেলোয়াড়দের এনে শুধু হোটেলে রাখলেই হবে না। নতুন ভাষা, খাবার, আবহাওয়া, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, সব মিলিয়ে তাদের জন্য বড় একটা ধাক্কা হয়ে আসে। তাই তাদের জন্য দোভাষী, আলাদা খাবারের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করা যায়। নইলে তারা এসে আবার চলে যেতে চাইবেন।

জাতীয় দলের ২৬ জনের মধ্যে খুব বেশি প্রবাসী বা অভিবাসী খেলোয়াড় না রাখাটাই শ্রেয়তর। সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় ঘরোয়া লিগ থেকেই নেওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট একটা মেয়াদ পর্যন্ত এই নিয়মটা কার্যকর করা যেতে পারে। কারণ, প্রবাসী বা অভিবাসীদের নিয়ে পুরো দল গঠন করলে দেশের খেলোয়াড়রা লিগ আর জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নই দেখবেন না। তখন লিগটাই মরে যেতে পারে। পুরো দল প্রবাসী বা অভিবাসী দিয়ে দল গঠন করলে মাঠে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যায়। দেশের ও বাইরের মিলিয়েই খেলানো হলে দলটা শক্তিশালী হতে পারে।

বিশ্বকাপ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ফুটবলে এখন খাঁটি-অখাঁটি বলে কিছু নেই। ফ্রান্সে বড় হওয়া ৯৬ জন ফুটবলার এবার অন্য ১৬টি দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন। ওদিকে ব্রাজিল একজন অভিবাসীও না নিয়ে নিজেদের ঘরোয়া প্রতিভা দিয়েই লড়েছে। পার্থ্যকটা হলো একটা বাস্তবতা, আরেকটা আদর্শ। ফুটবলে এখন দুটো পথই খোলা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য পথটা মাঝখানে। আমাদের ঘরোয়া কাঠামো দুর্বল, কিন্তু দেশের বাইরে অভিবাসী মানুষের মধ্যে প্রতিভা ছড়িয়ে আছে। সেই প্রতিভাকে অবহেলা না করে, জাতীয় সম্পদ হিসেবে যদি ব্যবহার করা যায়, তাহলে হয়তো বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের স্বপ্নটা অবাস্তব মনে হবে না।

বিশ্বকাপের এই অভিবাসী স্রোত একটা সহজ সত্যই বলে দেয়, দেশ মানে শুধু জন্মের দাগ নয়, দেশ মানে সেই জার্সিটা, যার জন্য শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়তে রাজি থাকা। যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠা তরুণ ফুটবলার রাইট উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস, সেন্টারব্যাক জিদান ইউসুফরা সেই লড়াইটাই করতে চাইছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুলহাম ক্লাবে যোগ দেওয়া লেফট উইঙ্গার ফারহান আলী ওয়াহিদ, বারওয়েল ফুটবল ক্লাবের ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিমরা জ্বালাতে পারেন স্বপ্নের পিদিম। লাল-সবুজের জন্য তারা নিজেদের ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। তারা দরজায় কড়া নাড়ছেন। এখন দরজাটা খুলে দেওয়ার, তাদের আপন করে নেওয়ার দায়িত্বটা আমাদের। তা হলে স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হতে পারে।

২৭ জুলাই, ২০২৬

ঢাকা, বাংলাদেশ

ক্রীড়ালেখক ও ক্রীড়াবিষয়ক গবেষক। সম্পাদনার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন বিষয়ে লেখার প্রতি ঝোঁক রয়েছে। কয়েকটি গ্রন্থের প্রণেতা।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।