একজন মানুষের মৃত্যুতে তাঁর জীবন থেমে যায়; কিন্তু তাঁকে ঘিরে থাকা মানুষের জীবন আর কখনো আগের মতো থাকে না। বিশেষ করে সেই মৃত্যু যদি আকস্মিক হয় এবং শেষ কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন অনুত্তরিত থেকে যায়, তখন শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় অনিশ্চয়তা ও কিছু অনুচ্চারিত কষ্ট। স্বজনদের প্রতিটি স্মৃতির ফাঁকে ফিরে আসে নতুন নতুন প্রশ্ন। কী ঘটেছিল? কেন ঘটেছিল? কীভাবেই বা ঘটল? এসব সত্য কি কোনো দিন জানা যাবে?
ড. ইরফান আল-হুসাইনীর মৃত্যু আজ এমনই এক বেদনাদায়ক বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে তাঁর পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী ও সহকর্মীদের। তাঁরা হারিয়েছেন একজন প্রিয় মানুষকে। একই সঙ্গে অপেক্ষা করছেন তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য, বৈজ্ঞানিক ও প্রমাণভিত্তিক একটা ব্যাখ্যার।
এই অপেক্ষার প্রতিধ্বনি এখন একটি পরিবারের পরিসর অতিক্রম করে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুরু করে, মানব বন্ধন ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর আমেরিকাতেও। ওরেগনের পোর্টল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া সহ, টেক্সাসের অস্টিন আরও বহু শহর ও শিক্ষাঙ্গনে তাঁর স্মরণে মানুষ সমবেত হয়েছেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। কোথাও মোমবাতি জ্বলেছে, কেউ কেউ স্মৃতি চারণ করেছেন, কোথাও অনুষ্ঠিত হয়েছে নীরব স্মরণসভা। এসব সমাবেশের মূল আবেদন একটিই: ইরফানের মৃত্যুর একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।
একটি সম্ভাবনাময় জীবনের আকস্মিক সমাপ্তি
ইরফান ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান NVIDIA তে সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে কাজ করেন। সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক মাস আগে তিনি পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও ইরফানের একটি গভীর মানবিক পরিচয় ছিল। তাঁকে যাঁরা চিনতেন, তাঁদের স্মৃতিতে তিনি ছিলেন মেধাবী, বিনয়ী, সৎ, ধর্মপ্রাণ ও পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। তিনি ছিলেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিদ মালিক আল-হুসাইনীর সন্তান। একটি পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন বহু বছরের সাধনা ও স্বপ্নের কেন্দ্র; বন্ধুদের কাছে ছিলেন পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য একটি মুখ।
অসুস্থ দাদার পাশে রাত কাটানো, তাঁর ফিজিওথেরাপিতে সহায়তা করা, অথবা ছোটবেলায় দাদার সঙ্গে মসজিদে যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার মতো ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলো আজ নতুন তাৎপর্য বহন করছে। মৃত্যুর পর মানুষকে তাঁর পদবি দিয়ে নয়, এমন ছোট ছোট স্মৃতির মধ্য দিয়েই সবচেয়ে গভীরভাবে ফিরে পাওয়া যায়।
ইরফানের সামনে ছিল আরও সুদীর্ঘ পথ। গবেষণা, প্রযুক্তি ও পেশাগত উৎকর্ষে আরও অনেক কিছু অর্জনের সম্ভাবনা ছিল তাঁর। কিন্তু ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কয়েক ঘণ্টার একটি ঘটনাপ্রবাহ সেই সম্ভাবনাময় জীবনকে হঠাৎ থামিয়ে দেয়।
২২ জুলাই: যে সময়ের পূর্ণ বিবরণ প্রয়োজন
পরিবার, সহকর্মী ও স্মরণসভাগুলোর আয়োজকদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ২২ জুলাই সকালে ইরফান ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাসা থেকে কাজ করছিলেন। সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত তিনি সহকর্মীদের সামনে একটি অনলাইনে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
তাঁদের ভাষ্যমতে, সকাল ১০টা ০২ মিনিটে ইরফানের ফোন থেকে তাঁর কর্মস্থলে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে স্ত্রীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ঐ দিনের বাকি সময়ের জন্য ছুটি চাওয়া হয়। তার প্রায় ২০ মিনিট পর, সকাল ১০টা ২২ মিনিটে বাসা থেকে ৯১১ নম্বরে জরুরি কল করা হয়। জরুরি সেবাকর্মীরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এরপর টানা নয় দিন তিনি স্ট্যানফোর্ড মেডিকেল সেন্টারের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩০ জুলাই সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই বর্ণনায় সকাল ৯টা থেকে ১০টা ২২ মিনিট পর্যন্ত সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনলাইনে উপস্থাপনা শেষ হওয়ার পর কী ঘটেছিল? কখন তিনি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েন? তাঁর ফোন থেকে পাঠানো বার্তাটি কে লিখেছিলেন? কখন জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা প্রথম বোঝা গিয়েছিল? মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কতক্ষণ ব্যাহত ছিল?
এসব প্রশ্ন তোলা মানেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা নয়। আবার প্রশ্নগুলো অস্বস্তিকর বলে উপেক্ষা করাও যথার্থ হবে না। একটি গুরুতর ও অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঘটনাপ্রবাহের সঠিক সময়রেখা নির্ধারণ তদন্তের স্বাভাবিক অংশ।
দাবি, পাল্টা বক্তব্য ও প্রমাণের প্রয়োজন
ইরফানের পরিবার ও তাঁদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশকারী ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, মরদেহ করোনারের কার্যালয়ে নেওয়ার পর প্রাথমিকভাবে কেবল বাহ্যিক পরীক্ষা করা হয়েছিল; পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক অটপসি সম্পন্ন হয়নি। মরদেহের হেফাজত, দাফনের প্রাথমিক আয়োজন, পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছানোর সময় এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ অটপসির সম্মতি নিয়েও বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে।
এই দাবিগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, করোনারের প্রতিবেদন, চিকিৎসা রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত কোন ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যৌক্তিক বা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। যাঁদের সম্পর্কে প্রশ্ন বা অভিযোগ উঠেছে, তাঁদেরও বক্তব্য দেওয়ার এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এই কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার নয়, জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত। জনমত সত্য অনুসন্ধানের দাবি তুলতে পারে, কিন্তু অপরাধ বা দায় নির্ধারণ করতে পারে না। সেই কাজ করতে হবে আইনসম্মত কর্তৃপক্ষকে তথ্য, সাক্ষ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে।
সন্দেহ প্রমাণ নয়। কিন্তু সন্দেহ দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়ও নীরবতা নয়; বরং স্বচ্ছ অনুসন্ধান।
একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তে যা বিবেচিত হতে পারে
মৃত্যুর কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ নির্ধারণে চিকিৎসা নথি, হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ, জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতিবেদন, ৯১১ কলের রেকর্ড এবং ঘটনাস্থলের প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আইনসিদ্ধ পদ্ধতিতে ফোন, বার্তা, ইমেইল, কর্মস্থলের যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সময়রেখা যাচাই করা যেতে পারে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজন মনে করলে উপযুক্ত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও পূর্ণাঙ্গ অটপসি মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণও জরুরি। তদন্তের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণাকে সত্য প্রমাণ করা নয়; বরং প্রমাণ শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্তে নিয়ে যায়, সেটি গ্রহণ করা।
প্রমাণ যদি আত্মহত্যার দিকে নির্দেশ করে, তবে সেই সিদ্ধান্তের পেছনে মানসিক বা পারিবারিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য চাপ কিংবা প্ররোচনার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা আইন ও পেশাগত মানদণ্ড অনুযায়ী অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। যদি দুর্ঘটনা, চিকিৎসাগত কারণ, অবহেলা কিংবা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নির্দোষ ব্যক্তিকে অমূলক সন্দেহ থেকে মুক্ত করতে পারে। একইভাবে কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে, সেটিকে আড়াল থেকে বের করে আনতে পারে। অর্থাৎ তদন্ত শুধু জবাবদিহির জন্য নয়; সংশ্লিষ্ট সবার ন্যায়বিচার ও মর্যাদা রক্ষার জন্যও অপরিহার্য।
মোমবাতির আলোয় এক বৈশ্বিক সংহতি
ইরফানের স্মরণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলোর একটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। বুয়েটের যে প্রাঙ্গণে তিনি একদিন শিক্ষার্থী হিসেবে হেঁটেছিলেন, সেখানে যখন তাঁর জন্য মানুষ নীরবে দাঁড়ান, তখন ব্যক্তিগত স্মৃতি একটি বৃহত্তর সামাজিক আবেদনে রূপ নেয়। পোর্টল্যান্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইউএসসি ও অস্টিনে জ্বলে ওঠা আলো সেই আবেদনকে মহাদেশের সীমানা অতিক্রম করিয়েছে।
মোমবাতির আলো কোনো তদন্ত সম্পন্ন করতে পারে না। কোনো আদালতের রায়ও দিতে পারে না। কিন্তু মানুষকে মনে করিয়ে দিতে পারে যে জীবন হারিয়ে গেছে এবং সেই মৃত্যুকে ঘিরে থাকা যৌক্তিক প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া এখনো অজানা।
এই সমাবেশগুলো যেন অভিযোগ বা ঘৃণার মঞ্চে পরিণত না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ন্যায়বিচারের দাবি তখনই নৈতিক শক্তি ধরে রাখে, যখন তা প্রমাণ, সংযম এবং প্রত্যেক পক্ষের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। ইরফানের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার অর্থ হলো সত্যকে অনুসরণ করা, সত্য যেদিকেই নিয়ে যাক না কেন।
যে উত্তর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্টতা দেবে এবং এই বেদনাদায়ক অধ্যায়ের একটি সম্ভাব্য মানসিক সমাপ্তি টানতে সহায়তা করবে
কোনো তদন্ত ইরফানকে ফিরিয়ে আনবে না। তাঁর মা-বাবা আর কখনো ছেলের কণ্ঠ শুনবেন না, ভাইবোনেরা তাঁর সঙ্গে ভবিষ্যতের কোনো পারিবারিক মুহূর্ত ভাগ করে নেবেন না। বন্ধুদের আড্ডায় তাঁর স্থানটি শূন্যই থেকে যাবে।
তবু একটি পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রয়োজন। কারণ শোক হয়তো সময়ের সঙ্গে কিছুটা সহনীয় হয়; কিন্তু অনিশ্চয়তা মানুষকে বারবার একই মুহূর্তে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, মনে থেকে যায় অনুচ্চারিত কিছু প্রশ্ন “আমাদের সন্তানের শেষ সময়ে কী ঘটেছিল?” একজন মা-বাবার এই প্রশ্ন কোনো অযৌক্তিক দাবি নয়। এটি মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা।
ইরফানের মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের বিপর্যয় নয়; এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, আমাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং প্রমাণনির্ভর ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারেরও পরীক্ষা।
এই পর্যায়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। প্রথমত, ইরফানের মৃত্যুর ৩৫ দিন অতিক্রান্ত হলেও তাঁর মৃত্যুর কারণ ও শেষ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে প্রিয়জনদের কাছে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পৌঁছায়নি। এত দীর্ঘ সময় পরও এই অনিশ্চয়তা স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন করার যৌক্তিকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে । দ্বিতীয়ত, ইরফানের স্ত্রী এথেনা কিছুদিন আগে একটি স্বাধীন (Independent) অটোপসিতে সম্মতি জানিয়েছিলেন বলে জানা গেলেও, পরবর্তীতে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে ব্যক্তিগত, আইনি বা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে, যা অনুমান করা সমীচীন নয়। তবে মৃত্যুকে ঘিরে যখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অনুত্তরিত, তখন স্বাধীন অটোপসির মতো একটি সম্ভাব্য অনুসন্ধানী পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াও নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় নির্ভরযোগ্য তথ্য, চিকিৎসা ও ফরেনসিক নথি এবং প্রয়োজনীয় স্বাধীন পর্যালোচনার মাধ্যমে সত্যের যতটা সম্ভব কাছাকাছি পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বুয়েট থেকে পোর্টল্যান্ড, স্ট্যানফোর্ড ও ইউএসসি থেকে অস্টিন পর্যন্ত জ্বলে ওঠা প্রতিটি মোমবাতি শেষ পর্যন্ত একটিই কথা বলে:
কাউকে আগাম দোষী করা হবে না। কাউকে প্রমাণ ছাড়াই দায়মুক্তিও দেওয়া হবে না। ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হোক, প্রমাণ সংরক্ষিত থাকুক এবং সত্য প্রকাশিত হোক।
একটি জীবন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই জীবনকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলোর ন্যায়সংগত সমাপ্তি এখনো সম্ভব।
ইরফান আর ফিরে আসবেন না। তিনি আজ তার কথাও বলতে পারবেন না, কিন্তু তাঁর হয়ে মানুষ কথা বলবে, সত্য ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাবে। তাঁর প্রিয়জনদের কাছে অন্তত তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত সত্যটি ফিরে আসুক।

