পড়শী মূল রচনাবলী মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন – দ্বিতীয় প্রজন্মকে যুক্ত করা আমাদের একটি চ্যালেঞ্জ

মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন – দ্বিতীয় প্রজন্মকে যুক্ত করা আমাদের একটি চ্যালেঞ্জ

Post Views: 133

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এই কাজে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করা। গ্রামে বেড়ে ওঠার কারণে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি গরিব ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের কষ্ট, তাদের বঞ্চনা এবং শোষণের বাস্তবতা। শুধু দেখাই নয়, আমাদের নিজের পরিবারকেও অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বহুবার এমন দিন গেছে যখন এক–দুই বেলা পেট ভরে খাওয়া জোটানোও কঠিন ছিল, পেয়েছিলাম অনেক শোষণ!

স্কুল-কলেজ জীবনে দেখেছি, সামান্য আর্থিক অসুবিধার কারণে কত সুবিধাবঞ্চিত কিন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে যায়। তখন আমার মনে স্বপ্ন গড়ে ওঠে— একদিন যদি আমি প্রতিষ্ঠিত হই, তবে এই সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী তরুণ-তরুণী ও মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করব।

নিজে ইউনিয়ন পরিষদসহ নানা জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাকে বাস্তবতার কঠিন শিক্ষা দিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে ধর্ম, অঞ্চল বা রাজনীতির বিভাজনের বাইরে গিয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলেছে।

পরবর্তীতে আমি সুযোগ পাই বুয়েটে ভর্তি হওয়ার। আমার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়। পাশ করে এরপর চুয়েটে শিক্ষকতা, সিঙ্গাপুরে পিএইচডি, এবং দেশ-বিদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ভলান্টিয়ারিং ট্রেনিং— সব মিলিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। এই সময়ে বিভিন্ন সার্টিফিকেট ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

বিদেশে আসার কথা কখনো পরিকল্পনায় ছিল না, তবে বাস্তবতার কারণে আসতে হয়। এরপর বুঝতে পারি নর্থ আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃতি, এবং তাদের সাথে যুক্ত হয়ে ভলান্টিয়ারিং কাজ আরও বাড়াই। গবেষণায় কিছু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কারও আমার কাজের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করে।

porshi cover 2026.07 Manush img 1

২০১৩ সালে আমি “মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠা করি। শুরুটা ছিল শীতবস্ত্র বিতরণ দিয়ে। এরপর চিকিৎসা সহায়তা— একজন ৯০% দগ্ধ রোগীর মতো করুণ ঘটনা— এবং পরে শিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত হয়। তবে আমার কাছে শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনে। এভাবে ধীরে ধীরে একটি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে— মানুষের পাশে থাকা, এবং সেই কাজকে আরও বিস্তৃত করা।

প্রবাসীরা নিজের দেশের মানুষকে সাহায্য করতে চান— এটা আমি সবসময়ই উপলব্ধি করেছি। তবে একই সঙ্গে আমি লক্ষ্য করেছি, এই সাহায্য প্রক্রিয়ার কিছু দুর্বলতাও আছে। অনেক সময় সহায়তা বণ্টনে অঞ্চলভিত্তিক পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বড় ভূমিকা রাখে— যার ফলে নিরপেক্ষতা কমে যায় এবং অনেক যোগ্য ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বঞ্চিত থেকে যায়। এই বাস্তবতা আমাকে শুরু থেকেই ভাবিয়েছে।

এই কারণেই আমাদের ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আমরা সারা দেশের জন্য উন্মুক্ত করেছি। যদিও এতে চ্যালেঞ্জ অনেক বেড়েছে, তবে এটি প্রয়োজনীয় ছিল। মূল বিশ্বাস ছিল— সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের চেয়ে কম মর্যাদার নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা আরও বেশি সহানুভূতি ও সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। কারণ, তাদের শিক্ষাজীবন শুরুই হয় সীমিত সম্পদ, কম সুযোগ, অনুপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষাসামগ্রী, টিউটরিং কিংবা পুষ্টিহীনতার মতো অসংখ্য বাধার মধ্যে দিয়ে। তবুও বিস্ময়করভাবে অনেকেই এসব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পাবলিক পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল করে।

অন্যদিকে বাস্তবতা আরও কঠিন। অনেক শিক্ষার্থী দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না—কারও পরিবারে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না, কেউ অল্প বয়সেই কাজ করে সংসারের দায়িত্ব নেয়, আবার কেউ একবেলা খেয়ে টিকে থেকে পড়াশোনাকে আঁকড়ে ধরে। এসব শিক্ষার্থীই সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ে, যদিও তাদের মধ্যেই থাকে অসাধারণ সম্ভাবনা।

সমাজের আরেকটি বৈপরীত্যও আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর উৎপাদিত ফসল বা সম্পদ খুব কম দামে বিক্রি হয়, অথচ সেই সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণি তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা ও মর্যাদা ভোগ করে। ফলে একটি অদৃশ্য বৈষম্য তৈরি হয়, যেখানে একদিকে থাকে ত্যাগ ও শ্রম, অন্যদিকে থাকে স্বীকৃতি ও সুযোগ। এই অসমতা আমাকে চেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করেছে— অন্তত শিক্ষাক্ষেত্রে এই ব্যবধান কিছুটা হলেও কমানো যায় কি না।

এই প্রেক্ষাপটেই আমাদের কাজের দর্শন গড়ে ওঠে। আমরা দেখাতে চেয়েছি যে সমাজের এই অসম রেখাকে কিছুটা হলেও ভাঙা সম্ভব, যদি সঠিকভাবে সহায়তা পৌঁছানো যায়। তবে এখানেও বাস্তব চ্যালেঞ্জ আছে। অনেক দাতা তাদের ছবি প্রকাশ করতে চান না, আবার কেউ কেউ উপকারভোগীর নাম প্রকাশে আগ্রহী থাকেন। আমি চেষ্টা করেছি এই মানসিকতার ভেতরেও একটি ভারসাম্য আনতে—যেখানে ফোকাস থাকবে ব্যক্তিগত পরিচয়ের উপর নয়, বরং মানবিকতার উপর।

আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা— শৈশবের অভাব, সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা— অনেক সময় সামনে এনেছি, যাতে মানুষ বাস্তবতাটাকে অনুভব করতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গল্প, তাদের সংগ্রাম এবং সাফল্য তুলে ধরেছি। কেউ সেটা নিয়ে দ্বিধান্বিত হলে আমি নিজেকেই তাদের সামনে নিয়ে আসি এবং বলি কেনো তোমরা আমাকে সম্মান করো? এটাই তাদেরকে আরো গভীরভাবে ভাবিয়েছে এগিয়ে আসার জন্য। এর পাশাপাশি বাগান করা সহ বিভিন্ন কিছু নিয়ে পরামর্শ দেই। ধীরে ধীরে এই গল্পগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে গভীরভাবে পৌঁছাতে শুরু করে। কারণ তাঁরা আমাকে ফেলে দিতে পারছে না, তবে অন্য কারো ক্ষেত্রে না করবে কেমনে?

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশে অনেকেই আমাদের কার্যক্রমে যুক্ত হন— কেউ কমিটি মেম্বার হিসেবে, কেউ বা ভলান্টিয়ার হিসেবে। সময়ের সাথে সাথে এই উদ্যোগ একটি সংগঠিত রূপ নেয় এবং আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল—মানুষের চিন্তায় পরিবর্তন আসা; সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের গল্প আর শুধু দয়া নয়, বরং সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখা শুরু হয়।

porshi cover 2026.07 Manush img 2

সব তহবিল মূলত আসে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। আমাদের শিক্ষার্থীদের গল্প, ফান্ডিং প্রক্রিয়া, এবং প্রায় সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করার বিষয়গুলো ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। ফাউন্ডেশনে গত কয়েক বছর খুব সীমিতভাবে একজন স্টাফ রাখা হয়েছে, বাকিরা সবাই স্বেচ্ছাসেবক। প্রকল্পের বড় একটি অংশই শিক্ষার্থীরাই পরিচালনা করে— তাদের ক্যাম্পাস জীবন, চলাফেরা ও অগ্রগতি বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও অগ্রগতির ধারাবাহিক আপডেটও নিয়মিতভাবে সামনে আনা হয়—অনেকেই ক্লাসে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা সেরা দশের মধ্যে স্থান পায়, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬০–৭০%। পাশাপাশি তাদের ভলান্টিয়ারিং, স্কলারশিপ অর্জন এবং পেশাগত জীবনে প্রবেশ ও সাফল্যও তুলে ধরা হয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিসিএস ক্যাডার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিচারক, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আবার অনেকে বিদেশে মাস্টার্স ও পিএইচডি করছেন। সম্প্রতি ৪৭তম বিসিএসে দুইজন এবং ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীর সাফল্য আমাদের কাজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ। এসব অর্জন মনে করিয়ে দেয় যে, একসময় যারা সুবিধাবঞ্চিত ছিল, তারা সঠিক সুযোগ পেলে সমাজে আমার থেকেও ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

ফাউন্ডেশনের আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫০১(সি)৩ নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ট্যাক্স রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের কাঠামোতে আমেরিকায় ডিরেক্টর ও কমিটি, আর বাংলাদেশে ম্যানেজার, ভলান্টিয়ার সমন্বয়ক এবং ক্যাম্পাস ভলান্টিয়াররা কাজ করেন। ২০১৪ সালে যেখানে প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থী ছিল, এখন সেই সংখ্যা কয়েক লক্ষে পৌঁছেছে। শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই প্রায় ৭,০০০ এর বেশি শিক্ষার্থী যুক্ত, যেখানে মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০–৯০% ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সব স্তরের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা আছে, যাদের অনেকেই একই সঙ্গে ভলান্টিয়ার হিসেবেও কাজ করছে। আমেরিকা থেকে ডিরেক্টর ও কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থী ও ভলান্টিয়ারদের সাথে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন, প্রজেক্ট ও সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ উপেক্ষিত থাকে না— শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই একটি অফিশিয়াল সিস্টেমের মধ্যেই উত্তর পায়। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী এখন নিজেরাই ডোনার হয়ে গেছেন— কেউ কেউ চাকরির প্রথম মাস থেকেই এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন।

আমাদের কার্যক্রম মূলত কয়েকটি বড় খাতে বিস্তৃত— শিক্ষা (১২+ প্রকল্প, যেখানে এসএসসি পরীক্ষার ফি থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়, এককালীন থেকে ৭–৮ বছর মেয়াদি সহায়তাও রয়েছে), প্রাকৃতিক দুর্যোগ (৩টি প্রকল্প), চিকিৎসা (৩টি প্রকল্প), এবং নব আলো রিহ্যাবিলেশন ও কৃষি লাইব্রেরি (স্বাবলম্বীকরণভিত্তিক ২টি প্রকল্প)। নব আলো প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০০–৬০০ পরিবারকে প্রতিবছর স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করা হয়, বিশেষ করে যেসব পরিবারে স্কুল বা কলেজগামী শিক্ষার্থী আছে। সব মিলিয়ে নিয়মিতভাবে বছরে প্রায় ২,৫০০+ মানুষ এই কার্যক্রমের আওতায় থাকে। তবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, কোভিড বা শীতবস্ত্র বিতরণের মতো দুর্যোগকালীন সময়ে এই সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

বাস্তবতা হলো, সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। ডোনার বা সাহায্যদাতা পাওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও দীর্ঘমেয়াদে সরাসরি কাজ চালিয়ে যাওয়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। দেশের ভেতরে থেকে নিয়মিত ভলান্টিয়ারিং করা, পাশাপাশি অ্যাকাউন্টিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা বেশ কঠিন কাজ। শিক্ষা, চিকিৎসা বা দুর্যোগ সহায়তার মতো খাতে কাজ করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে বিনা পারিশ্রমিকে নিয়ম, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রিপোর্টিং মেনে এগিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জটিল। তাই দীর্ঘমেয়াদে সম্পৃক্ত থাকতে আগ্রহী ভলান্টিয়ার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তবুও আমরা স্বচ্ছতা ও নিয়মিততার ওপর জোর দিই। আমাদের সংগঠন শুধু অর্থ সংগ্রহ ও বিতরণের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি চ্যালেঞ্জিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ দায়িত্ব, শৃঙ্খলা এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীরাও এখানে স্বল্প সহায়তার মাধ্যমে বাস্তব জীবনের কাজ শেখার একটি সুযোগ পায়, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক মূল্যবান অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

ডোনাররা যে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন বা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, কারণ আমাদের সব কার্যক্রমই নথিভুক্ত ও রেকর্ডভিত্তিক। শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুরু থেকেই বলা হয় যেন তারা প্রতিটি কাজের তথ্য লিখে রাখে। আমাদের সিস্টেমে ইন্টারভিউ, যাচাই ও অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা প্রয়োজন হলে যে কেউ পর্যালোচনা করতে পারেন।

শিক্ষার্থী ও সহায়তাকারীর মধ্যে সরাসরি পরিচয় সাধারণত করানো হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে তারা একে অপরকে না চিনলেও একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সম্পর্ক বজায় থাকে। যখন শিক্ষার্থীরা তাদের লক্ষ্য পূরণ করে বা প্রোগ্রাম শেষ করে, তখনই তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান তৈরি হয়, বিশেষ করে সহায়তাকারীর প্রতি শিক্ষার্থীর কৃতজ্ঞতা আরও গভীরভাবে প্রকাশ পায়। শুরু থেকেই আঞ্চলিক বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচয় করানো হলে শিক্ষার্থীর উপর সামাজিক চাপ তৈরি হতে পারত—সেটা আমরা এড়াতে চেষ্টা করি।

হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রেও আমরা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখি। আগে এটি স্প্রেডশিটভিত্তিক ছিল, যা সময়সাপেক্ষ হলেও সম্পূর্ণ ডকুমেন্টেড ছিল। এখন আমরা বাংলাদেশের একটি সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে একটি আধুনিক ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম তৈরি করেছি, যেখানে প্রতিটি লেনদেন ও বরাদ্দ উন্মুক্তভাবে দেখা যাবে। এটি খুব শিগগিরই চালু করা হবে, যা জবাবদিহিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

দ্বিতীয় প্রজন্মকে যুক্ত করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ভেতরে ভলান্টিয়াররা সক্রিয় থাকলেও বিদেশে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা তুলনামূলক কঠিন। তাই আমরা এমন একটি ডিজিটাল কাঠামো তৈরি করছি, যাতে বিভিন্ন কমিউনিটিতে থাকা স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ নিজ জায়গা থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা ও অনুসরণ করতে পারেন।

৩ জুলাই, ২০২৬


ইন্ডিয়ানাপলিস, ইন্ডিয়ানা, যুক্তরাষ্ট্র

বর্তমানে পারডু ইউনিভার্সিটিতে সাসটেইনেবল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সিনিয়র রিসার্চার হিসেবে এবং ইউনিভার্সিটি অব ইন্ডিয়ানাপলিসে এডজানক্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে কাজ করছেন। “মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনে”-এর তিনি ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট। বাগান, রান্না-বান্না, খেলাধুলা, লেখালেখি ও গান-বাজনা করতে খুব ভালোবাসেন। অবসরে বাঁশি বাজান।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।