১.
নিজস্ব মানচিত্র
বদলে যাচ্ছে চারপাশ।
চাতালের ওপর
শুকনো পাতাগুলো
কোনো এক অদৃশ্য সভার
দিকে উড়ে যায়,
যেমন ওড়ে ছেঁড়া
কাগজের ঘুড়ি—
ওড়ে স্লোগান, প্রতিশ্রুতি, মিথ্যে প্রচ্ছদ।
সবাই একই চায়ের
দোকানে, বিপরীত বেঞ্চে।
কাপের চুমুকে, চামচের ঠুং-ঠাং শব্দ
ঝড় নামছে দেশে।
পতাকার চেয়েও
রক্ত-লাল শহরের মোড়গুলো—
ম্লান পতাকা, ব্যানার ঢেকে যায় নতুন
ব্যানারে,
যেন চেনা মুখের ওপর
বসে যাচ্ছে অচেনা কোনো মাস্ক।
কাল রাতে মিছিলে
আলোর মতো হেঁটে যাওয়া ছেলেটার
চোখে ছিল অনাগত
সকালের অগাধ বিশ্বাস—
আজ তার পায়ের
নীচের মাটিটুকুও
যেন এক আইনি অপরাধ!
খবরের প্রথম
পাতায় আগুন, বিবৃতি আর বিষণ্ণ শোকসভা।
মোড়ের ভাঙা
মাইকটা যেমন নিজের চিৎকার বিক্রি করে।
ক্ষমতার চটচটে ঘাম ঝরে
শব্দের ওপর,
শব্দ গড়িয়ে রক্তে।
আর আমাদের
হাততালি—
কখনো স্বেচ্ছায়, কখনো বা কোনো অদৃশ্য
নির্দেশে।
এই ক্ষয়ে যাওয়া শহরে
বুকের ভেতর এক
অদৃশ্য দেশ আগলে রেখে
আরেকজনের চোখের দিকে
তাকিয়ে নিঃশব্দে বলি—
সমস্ত ভাঙনের
শেষে, একদিন
ঠিক জেগে উঠবে আবার এই দেশ।
২.
জলমগ্ন রোদ
শ্রাবণ-বৃষ্টি!
সে শুধু মুছে দিতেই জানে—
পিচ-রাস্তার বুকের জমা কষ্ট,
চিঠির ভাঁজে ভেসে যাওয়া নীল অক্ষর,
যেখানে কখনো আমার নাম লেখা ছিল না।
শ্রাবণ এসেছে আবার। বেশ তোড়জোড়!
ধুয়ে যাচ্ছে মহাকাল, হারিয়ে যাচ্ছে তারিখের দাগ—
কোথায় ছিল গন্তব্য?
মাইলপোস্টের মরচেপড়া নামগুলো এখন ঝাপসা,
একাকার, স্রেফ জলজ।
অথচ বুকপকেটে!
বৃষ্টি কি সেখানেও পৌঁছায়?
না। সেখানে তো সযত্নে ভাঁজ করা
একটা নির্লিপ্ত আকাশ,
তার এক নিভৃত কোণে
জীবাশ্মের মতো লেগে আছে স্পর্শ—
একজোড়া চেনা আঙুল, তার অবিনশ্বর ওম।
মনে পড়ে, কোনো এক ফাল্গুনে
অবহেলায় ছুঁয়েছিল যে-হাত,
আজ এই ভরা শ্রাবণেও
সেই হাতেই যেন রোদ খেলা করে!
সব সমীকরণ শূন্য হয়ে যায় খেরোখাতায়,
তবুও এক চিমটি উষ্ণতা বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়;
বলে ওঠে—
মিথ্যে নয়, মিথ্যে ছিল না গল্পটা,
ভুল ছিল না এই রোদ-বৃষ্টির পথ!
এই তো ঢের!
বুকে এক আস্ত নীলিমা
আর হাতে এক মুঠো রোদ নিয়ে,
এই শ্রাবণে এবার,
অনায়াসে ফুরিয়ে যাওয়া যায়।

