পড়শী মূল রচনাবলী ‘দ্য ক্রুয়েলেস্ট মান্থ’

‘দ্য ক্রুয়েলেস্ট মান্থ’

Post Views: 38
12 min read

১.
যে-পৃথিবীতে আমাদের বসবাস তা জাদুবাস্তবতাকেও হার মানায়। কৌতূহলবশত আমি চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করি, জাদুবাস্তবতা বলতে কী বোঝানো হয়? যে-উত্তরটি পেলাম তা চমকপ্রদ শুধু নয়, আমার অধরা ভাবনার অস্বচ্ছ অবয়বটিকেও বুঝতে সহায়তা করে। চ্যাটজিপিটি বলছে, ‘জাদুবাস্তবতা (Magical Realism) হলো এমন একটি সাহিত্যিক ও শিল্পরীতি, যেখানে বাস্তব জীবনের বর্ণনার মধ্যে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃত বা অসম্ভব ঘটনা এমনভাবে উপস্থিত থাকে যেন সেগুলো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। গল্পের চরিত্ররা এই অলৌকিক ঘটনাকে বিস্ময়কর বলে মনে করে না; বরং দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ হিসেবে গ্রহণ করে।’ আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একেবারেই উল্টো। নোবেলজয়ী সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ লাতিন আমেরিকার সাহিত্যে জাদুবাস্তবতা নামে কালজয়ী যে-শিল্পরীতির সূচনা করেছিলেন, আমাদের নৈমিত্তিক বাস্তবতা তাকেও ছাড়িয়ে গেছে বহু আগে। এখানে বাস্তবে যা ঘটে তা জাদুকেও হার মানায় এবং এ জনপদের বিদগ্ধ মানুষেরা সেগুলোকে মোটেও বিস্ময়কর বলে মনে করেন না! লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাদের চেয়ে তেমন একটা ভিন্ন নয়। সেদিক থেকে একই বাস্তবতার দুই রকম উৎসারণ নিঃসন্দেহে গবেষকদের কৌতূহলের বিষয় হতে পারে।

অবোধ্য কোনো কারণে আমার মাথার ভেতরে তখন আটকে পড়া মৌমাছির মতো ভনভন করছিল বহুল ব্যবহৃত কিন্তু অদ্ভুত ব্যঞ্জনাময় একটি পঙ্ক্তি, ‘সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!’ (ভারতবর্ষ/অন্নদাশঙ্কর রায়)। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭-৩২৫ সালে সেলুকাস গ্রীক বীর আলেকজান্ডারের (আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট) অন্যতম প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ভারত অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাজকীয় পদাতিক বাহিনীর। আমি আবারও চ্যাটজিপিটির শরণাপন্ন হই। জিজ্ঞেস করি, এ সংলাপটির কি কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা আছে? উত্তর আসে, না। বস্তুত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা বা বিভাজন-উত্তর বুকভাঙা বাস্তবতার গর্ভেই এ অসামান্য পঙ্ক্তিটির জন্ম। অন্নদাশঙ্কর রায় বাঙালি। তাঁর দেশ ভারত, কিন্তু হৃদয় তো বাঙালির! আমরা বিভাজিত বাংলার দুই বিপরীত প্রান্তের মানুষ। তিনি হুগলির, আমি চট্টগ্রামের। আমাদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান প্রায় ছয় দশকের। তা সত্ত্বেও তাঁর বেদনা কোথায় যেন আমার বেদনাকে স্পর্শ করে। তাঁর হৃদয়ের ক্ষত আমার হৃদয়ের গভীরতর এক ক্ষতকে জাগিয়ে দেয়। ইচ্ছে হয় চিৎকার করে বলি, এলিয়ট মহাশয়, আপনি ভুল লিখেছেন– এপ্রিল নয়, ওটা আগস্ট- নিষ্ঠুরতম মাস- “the cruellest month…” (The Waste Land/T. S. Eliot)।

অশান্ত হয়ে ওঠে হৃদয়। সব যুক্তিতর্কের সীমানা ছাড়িয়ে জীবনানন্দের সেই নিঃসঙ্গ চিলের মতো কেঁদে কেঁদে সে উড়তে থাকে জন্মদুঃখী এ জনপদের বিষণ্ন মানচিত্র ঘিরে। ধানসিঁড়ি থেকে মধুমতি-বাইগার দূরত্ব বেশি নয়। কী অদ্ভুত সংযোগ, এ মাটিরই দুই মহান সন্তান জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫) – যাঁরা নিজেদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছিলেন এ বাংলাকে – উভয়েরই মৃত্যু হয়েছে অকালে, অপঘাতে!বিস্ময়করভাবে প্রায় একই বয়সে। এটা শ্রাবণ মাস। একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। ভিজে মেঘের দুপুর। চারপাশে দম বন্ধ করা ভ্যাপসা গরম। বাংলার প্রকৃতির নিজস্ব একটি ভাষা আছে। সে ভাষা বুঝতে হলে কবিদের শরণ নিতে হয়। সেখানে রবীন্দ্রনাথ অদ্বিতীয়, অবিকল্প। কাকতালীয়ভাবে তাঁর কবিতায়ও শ্রাবণ শোকের মাস। হৃদয় তোলপাড় করা হাহাকারের মাস। তিনিই আমাদের সত্তার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন অবিচ্ছেদ্য অমলিন এক সুর। সে সুর বিরহের, সে সুর শোকের। একটি উদাহরণ দিচ্ছি:

আমি শ্রাবণ-আকাশে ওই দিয়েছি পাতি
মম জল-ছলো-ছলো আঁখি মেঘে মেঘে।
বিরহদিগন্ত পারায়ে সারা রাতি অনিমেষে আছে জেগে।
যে গিয়েছে দেখার বাহিরে আছে তারি উদ্দেশে চাহি রে,
স্বপ্নে উড়িছে তারি কেশরাশি পুরব পবন বেগে।
শ্যামল তমালবনে
যে পথে সে চলে গিয়েছিল বিদায়গোধূলি-খনে
বেদনা জড়ায়ে আছে তারি ঘাসে, কাঁপে নিশ্বাসে-
সেই বারে বারে ফিরে ফিরে চাওয়া ছায়ায় রয়েছে লেগে।
(রচনাকাল ১৯৩৭)

শ্রাবণ আমাদের কাঁদায়। কাঁদাবে যুগ যুগ ধরে।

২.
সত্যিই বড় বিচিত্র এই দেশ! চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করুন, ‘সব সম্ভবের দেশ’ বলতে কোন দেশটিকে বোঝানো হয়, তৎক্ষণাৎ উত্তর আসবে, ‘বাংলাদেশ’। এখানে কত কিছুই যে হয়! প্রতিদিনই তৈরি হয় নতুন নতুন ইতিহাস। অকস্মাৎ মাটি ফুঁড়ে গজিয়ে ওঠে ইতিহাস তৈরির অজস্র কারখানা। তরবারি উঁচিয়ে জনপদ কাঁপিয়ে ঘোড়া হাঁকিয়ে কেউ এসে বসলেন মসনদে, সঙ্গে সঙ্গে কারখানাগুলো সচল হয়ে যায়। উল্লাসমুখর নবরত্নসভা ব্যস্ত হয়ে যান নতুন ইতিহাস রচনায়। জারি হয় একের পর এক ফরমান। সেই ফরমান কার্যকর করার জন্য বুলডোজার আছে। আছে বন্দুক। সবার ওপরে আছেন নবরত্নসভা। ইতিহাস তাঁদের আজ্ঞাবহ! নিত্যনতুন ইতিহাস তৈরিতে তাঁদের দক্ষতা প্রশ্নাতীত। তাঁরা সব পারেন!

নবরত্নসভার চরিত্র বড় অদ্ভুত। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তাঁদের অভিযোগের অন্ত নেই। প্রায়শ উচ্চকণ্ঠে তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। সঠিক ইতিহাসটি কী সেটা তাঁরা মুখ ফুটে না বললেও একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জনগণ দেখে বাংলাদেশ নামে একটি দেশ আছে, কিন্তু সেই দেশটির জন্মের সঙ্গে যে-নামটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেই। যে-মানুষটি তাঁর ৫৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশই (১২ বছর ৩০২ দিন) কাটিয়েছেন কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে তাঁকেই উধাও করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে। সেই সঙ্গে উধাও হয়ে গেছে আটচল্লিশ থেকে একাত্তর পর্যন্ত বাঙালির দীর্ঘ গৌরবময় সংগ্রামের ইতিহাস। উধাও হয়ে গেছে বায়ান্ন-বাষট্টি-ছিষট্টি, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও সত্তরের নিবাচন। উধাও হয়ে গেছে সাতই মার্চের উত্তাল জনসমুদ্র। উধাও হয়ে গেছে সেই বজ্রকণ্ঠ, রক্তে ঝড় তোলা সেই উদাত্ত আহ্বান, ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু- আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি- তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ উধাও হয়ে গেছে ইস্পাতকঠিন সেই সংকল্প, ‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’ গোটা মার্চ মাসজুড়ে কার অঙ্গুলিহেলনে পরিচালিত হলো এ জনপদের কোটি কোটি মানুষ; কার নামে জীবন বাজি রেখে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়লেন মুক্তিযুদ্ধে? রূপকথার গল্পের মতো মুহূর্তে সব নেই হয়ে গেল?

উত্তরের আশায় আমি সর্বজ্ঞ নবরত্নসভার মুখের দিকে তাকাই। তাকিয়েই আছি দশকের পর দশক ধরে। পঁচাত্তরে বাংলার ইতিহাসের ঘৃণ্যতম একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল- সপরিবারে হত্যা করা হলো জাতির স্থপতিকে, তাঁরা নির্বিকার। কারাগারের অভ্যন্তরে নৃশংসভাবে খুন হয়ে গেলেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা, তবু তাঁরা নির্বিকার। না, নির্বিকার বললে ভুল বলা হবে। তাঁরা ইনিয়েবিনিয়ে ঘাতকদের পক্ষে বয়ান তৈরিতে তৎপর হয়ে উঠলেন। ঘাতকরা পেল দায়মুক্তি, পেল জাতীয় বীরের মর্যাদা। আর বাংলাদেশের যিনি প্রতিষ্ঠাতা তিনিই উধাও হয়ে গেলেন ইতিহাস থেকে! নিষিদ্ধ হয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের মূল রণধ্বনি ‘জয় বাংলা’। প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধ। খোলসটাই শুধু থাকলো, পদদলিত করা হলো তার আত্মাকে। সংবিধান থেকে ছুড়ে ফেলা হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। সাতচল্লিশের ভাঙা কেল্লার ওপর আবারও উড্ডীন করার চেষ্টা হলো দ্বিজাতিতত্ত্বের নিশান। কী এক অজ্ঞাত কারণে নবরত্নসভা বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। বড় আশা নিয়ে আমি তাঁদের মুখের দিকে তাকাই। তখন বয়স কম ছিল। তাঁদের নীরবতা দেখে অবাক হয়ে যাই। কিছুতেই বুঝে উঠতে পারি না, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে তুচ্ছ বিষয় নিয়েও যাঁরা তুলকালাম করেছেন, এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুধু নয়- দেশটাই বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে, তবু তারা নীরব কেন?

এখন বুঝি নবরত্নসভার কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস হলো সেটাই যেটাতে বঙ্গবন্ধু থাকবেন না। জয় বাংলা থাকবে না। থাকবে না মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি; এমনকি বাহাত্তরের সেই সংবিধানও! নাম বাংলাদেশ হলেও তার আত্মাটা হবে পাকিস্তানের। পঁচাত্তরের কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সেই অপচেষ্টাই চলে আসছে সর্বাত্মকভাবে। সফল হয়নি। সফল যে হবে না তা পঁচাত্তরের বীভৎস সেই সকালেই তাঁর ডায়রিতে লিখে রেখেছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দিন। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার ভয়াবহ সংবাদটি শোনার পর তিনি লিখেছিলেন, ‘মৃত মুজিব জীবিত মুজিবের চেয়ে অনেক বেশি বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবেন।’ কেন তাঁর এরকম মনে হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন:

“মৃত ব্যক্তি যখন নিছক একজন মৃত লোক না হয়ে একটি জাতির ভাবমূর্তিরূপে বিরাজ করেন তখন সেই মৃতের বিরুদ্ধে সংগ্রামে কখনও জয়ী হওয়া যায় না, কেননা তখন তিনি একটি আইডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক। তিনি বাঙালি জাতির স্বাধীনতার প্রতীক। তাঁর এ দু’টি প্রতীকী ভাবমূর্তি কখনও বিলীন হওয়ার নয়।“
[মিনার মনসুর ও দিলওয়ার চৌধুরী (সম্পাদিত), ‘আবার যুদ্ধে যাবো’, (চট্টগ্রাম, এপিটাফ প্রকাশনী, ১৯৮০)]

আবু জাফর শামসুদ্দিনের ভবিষ্যদ্বাণী অব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। মৃত মুজিবের উপস্থিতি এখন সর্বময়। এত রক্ত ঝরানোর পরও অসমাপ্তই রয়ে গেছে নবরত্নসভার স্বপ্নের বাস্তবায়ন। অর্ধশতকের ব্যবধানে পঁচাত্তরের ব্যর্থতার সেই আক্রোশই যেন ফিরে এসেছে বিপুল বিক্রমে! জাতীয় ও আন্তর্জার্তিকভাবে মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছে একাত্তর ও পঁচাত্তরের পরাজয়ের-ব্যর্থতার যত বেদনা ও গ্লানি। নিখুঁতভাবে টিপে দেওয়া হয়েছে ‘রিসেট বাটন’! ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি যখন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন ভদ্রমহিলা কাঁদছিলেন। তিনি আমার পূর্বপরিচিত। বয়সেও প্রবীণ। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা ছিল না। অদৃশ্য এক রক্তস্রোতে আমি নিজেই তখন ভেসে যাচ্ছিলাম। তবু আমার ভেতর থেকে কে যেন বলে ওঠেছিল, ‘বাংলাদেশটাই তো বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর। আর কোনো স্মারকচিহ্ন কিংবা জাদুঘরের কি দরকার আছে!’

আমার হঠাৎ বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেনের একটি কথা মনে পড়ে যায়। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর বাসায়। সঙ্গে কথাসাহিত্যিক রশীদ হায়দারও ছিলেন। সম্ভবত জেনারেল এরশাদ তখন ক্ষমতায়। তাঁর কৃপায় বঙ্গবন্ধুর শীর্ষ এক ঘাতক তখন সংসদে আসন গেড়ে বসেছেন। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সারা দেশ। কী প্রসঙ্গে যেন রশীদ ভাই কিঞ্চিৎ ক্ষোভের সঙ্গে বলছিলেন, ‘স্যার, বঙ্গবন্ধুর কোনো চিহ্নই তো মনে হয় ওরা রাখবে না এদেশে!’ রশীদ হায়দারকে থামিয়ে দিয়ে বিচারপতি হোসেন বলেছিলেন, ‘আপনারা তো আমার লেখাটা পড়েননি! ইট্স আ ভারডিক্ট (এটি একটি রায়)! আমি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি- সংবিধান অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু এখনো জাতির পিতা।’ রশীদ হায়দার মুখ ফসকে বলে ফেলেন, ‘দরকার হলে ওরা সংবিধানও ছুড়ে ফেলবে!’ বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেনের তাৎক্ষণিক উত্তরটা ছিল অবিস্মরণীয়, ‘বঙ্গবন্ধুকে ছুড়ে ফেলতে হলে বাংলাদেশটাকেও ছুড়ে ফেলতে হবে।’

৫ আগস্ট, ২০২৬

ঢাকা, বাংলাদেশ

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও প্রাবন্ধিক।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।