বাংলাদেশ অর্থনীতি বর্তমানে একটি ক্রান্তিকালের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছর একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরে দেশে আজ একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার শাসনভার গ্রহণ করেছে। পূর্বের আঠারো মাসে বাংলাদেশ অর্থনীতি মুখোমুখি হয়েছে একাধিক অন্তরায়ের। বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে সম্মুখীন হতে হচ্ছে নানান সমস্যার। আমাদের জাতীয় জীবনে এই সন্ধিক্ষণ তাই এক হিসেব-নিকেশের পালা – অর্থনীতির নিরিখে বর্তমানে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি এবং আগামী পথযাত্রায় বাধা হবে কোনগুলো।
বাংলাদেশ অর্থনীতির বর্তমান অন্তরায়ের মাত্রিকতাগুলো মোটাদাগে তিন ধরনের – স্থবিরতা, নাজুকতা এবং ভঙ্গুরতা। আমাদের অর্থনীতিতে এখন স্থবিরতার কাল চলছে। প্রথম স্থবিরতা হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে। সরকারের নানান অর্থনৈতিক সংস্থা থেকে শুরু করে এ দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদসহ আমাদের উন্নয়ন সহযোগী, কেউই মনে করছেন না যে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৩.৫ শতাংশের বেশী যাবে। কোনো নির্ণায়কের নিরিখেই এই হারকে একটি গতিময় হার বলা যাবে না। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের শ্লথতার কারণেই প্রবৃদ্ধির এই স্থবিরতা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১.৮ শতাংশ, যা পূর্বের বছরের ৩.৩ শতাংশের প্রায় অর্ধেক। একই সময়কালে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির হার ৫.০ শতাংশ থেকে ৪.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ভোগ-চাহিদার হ্রাস, শিল্পোৎপাদনের সঙ্কোচন, রপ্তানি শ্লথতার কারণে বিভিন্ন সেবার চাহিদা কমে গেছে। বাংলাদেশ অর্থনীতির সার্বিক খাতগুলোর শ্লথতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থবিরতাকে জোরদার করেছে।
দ্বিতীয় স্থবিরতার ক্ষেত্র হচ্ছে কর্মনিয়োজন। যেহেতু কৃষি ও সেবাখাত মিলে বাংলাদেশ অর্থনীতির ৮৩ শতাংশ কর্মনিয়োজন নিশ্চিত করে, তাই এই দুই খাতের হ্রাসকৃত প্রবৃদ্ধির কারণে অর্থনীতিতে কর্মহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে বেকারত্ব ও কর্মনিয়োজনের ঘাটতি একটি গভীর স্থবিরতার জন্ম দিয়েছে। দেশের ২৭ লাখ মানুষ আজ বেকার। তার মধ্যে ১০ লাখই তরুণ। তরুণদের মধ্যে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ ডিঙ্গিয়েছেন, তাঁদের ১৩ শতাংশেরই কোন কাজ নেই। দেশের ৮৩ লাখ তরুণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মনিয়োজনে কিংবা প্রশিক্ষণে নেই। প্রতি বছর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ৭ লাখ তরুণ সনদপ্রাপ্ত হন। কিন্তু কর্মনিয়োজনে স্থবিরতার কারণে মাত্র ৩ লাখ তরুন অর্থনীতিতে আত্মস্থ হন।
তৃতীয় স্থবিরতার ক্ষেত্রটি হচ্ছে বিনিয়োগ। অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নানান শিল্পখাতে একটি অস্থিশীলতা বিরাজ করছে। বিদেশী বিনিয়োগে বিরাট দ্বিধা আছে। ফলে দেশের উৎপাদন ভিত্তিও দূর্বল এবং উৎপাদনের ধারাবাহিকতাও নষ্ট হচ্ছে। বিনিয়োগের এই শ্লথতা একদিকে যেমন দেশজ উৎপাদনকে স্থবির করে দিচ্ছে, তেমনি কর্মনিয়োজনের স্থবিরতাকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে যেটুকু প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ অর্থনীতিতে ঘটছে, তা ‘কর্মশূন্য প্রবৃ্দ্ধি’ ভিন্ন আর কিছুই নয়।
বাংলাদেশ অর্থনীতির নাজুকতার ক্ষেত্র বিবিধ। দেশের ঋণভার এবং ঋণের ওপরে সুদ পরিশোধের চাপ একটি নতুন নাজুক মাত্রায় পৌঁছেছে। গত তিন বছরে আমাদের বৈদেশিক ঋণের পরিমান প্রায় তিনগুন বেড়ে গেছে। সরকারী ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঋণ পরিশোধে ব্যয়িত হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের ঋণভারের বজায়ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে যে এই অর্থনীতিতে নানান খাতে এবং নানান ভাবে যে ভর্তুকি দেয়া হয়, সে ভার কতখানি যৌক্তিক এবং সে ভার বইতে বাংলাদেশ অর্থনীতি সক্ষম কি না।
দ্বিতীয় নাজুকতার উৎসটি হচ্ছে, নানানভাবে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুচিন্তিত বিবেচনা না করেই তাদের শাসনকালের প্রান্তসীমায় এসে নানান বিষয়ের অর্থায়ন করেছেন, যা আগামী নির্বাচিত সরকারের ওপরে অকল্পনীয় চাপ সৃষ্টি করবে। এই যেমন, অতি সম্প্রতি সরকারী কর্মচারীদের বিপুল বেতন বৃদ্ধি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সব অপ্রত্যাশিত ব্যয় আগামী সরকারের জন্যে এক বিরাট দায় হয়ে উঠবে, যার ফলে অর্থনীতিতে একটি নাজুকতার সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ অর্থনীতির ভঙ্গুরতার প্রশ্ন যদি তোলা হয়, তাহলে তার একটি বিরাট উৎস হবে অর্থনীতি বহির্ভূত বিষয়গুলো – যেমন, সামাজিক অস্থিরতা ও অস্থিশীলতা এবং সেই সঙ্গে সামাজিক সংঘাত ও সহিংসতা। বাংলাদেশে সামাজিক অস্থিরতা আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে অনাস্থা এবং অবিশ্বাস, অসহনশীলতা, এবং অপপ্রচার নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দাবীর এক সংস্কৃতি, যেখানে অঘোষিতভাবে রাজপথ অবরোধ, মিছিল নিয়মে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এ জাতীয় একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। সেই সঙ্গে সমাজে বিস্তৃত হয়েছে ব্যাপক সংঘাত এবং সহিংসতা, যা অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রসার এমন একটি অনিরাপদ পরিবেশে ঘটছে না।
বাংলাদেশ অর্থনীতির ভবিষ্যত অন্তরায়ের দিকে যদি তাকাই, তাহলে মোটাদাগে তিন ধরনের অন্তরায়ের কথা বলা যেতে পারে। প্রথমত, প্রবহমান অন্তরায় – যে সব অন্তরায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে; দ্বিতীয়ত, ঘনীভূত অন্তরায় – যে সব অন্তরায়ের গভীরতা বেড়েছে; এবং তৃতীয়ত, আবির্ভূমান অন্তরায় – যে সব অন্তরায় নতুন করে আবির্ভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশ অর্থনীতির প্রবহমান অন্তরায়ের শীর্ষে রয়েছে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা। সামষ্টিক পর্যায়ে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের আপাতন গত তিন বছরে ১৮ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৩ কোটি ৬০ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে। আরও ৬ কোটি ২০ লাখ লোক দারিদ্র্য ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ব্যাষ্টিক পর্যায়ে নানান তথ্য-উপাত্ত থেকে দেশে প্রবহমান বঞ্চনা সম্পর্কে একটি ধারণা করা যায়। যেমন, নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ মানুষ দু’বেলা ভাত খেতে পায় না। তাঁরা একবেলা পাউরুটি কিংবা বিস্কুট খেয়ে কাটিয়ে দেয়। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে যাঁদের মাসিক আয় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে, তাঁদের তিন-পঞ্চমাংশ মানুষ আজকাল সকালের নাস্তা খান না, কারণ সেটা খাবার জন্যে প্রয়োজনীয় সামর্থ্য তাদের নেই। এ অন্তরায় প্রবহমান থাকলে পুষ্টিহীনতা একটি মানব উন্নয়ন সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে, বিশেষত শিশুদের মধ্যে।
বিদ্যুত ও জ্বালানী সমস্যা বাংলাদেশ অর্থনীতির একটি প্রবহমান অন্তরায়। একদিকে উচ্চ বিদ্যুত উৎপাদন ব্যয় একটি অন্তরায়, অন্যদিকে বিদ্যুত ও জ্বালানীখাতে দেয় ভর্তুকিও একটি ভাবনা। জ্বালানীখাতে যথাযথ সমন্বয়ের অনুপস্থিতি এবং সেই সঙ্গে টাকার অবমূল্যায়ন বিদ্যুত উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। জ্বালানী খাতের একটি প্রবহমান সমস্যা হচ্ছে যে, এই খাতে যে বিপুল পরিমান ভর্তুকি দেয়া হয়, তার ৫৪ শতাংশই যায় সমাজের উচ্চতম ৪০ শতাংশ সম্পদশালী গোষ্ঠীর কাছে।
তৃতীয় প্রবহমান অন্তরায়টি হচ্ছে কতগুলো মৌলিক কাঠামোগত সমস্যা। যেমন, বাংলাদেশ অর্থনীতিতে আর্থিক শৃঙ্খলা, বিধি-বিধানের প্রতিস্থাপন এখনও তেমনভাবে হয় নি। দৃশ্যমানতা এবং দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি এখনও আমাদের অর্থনীতিতে গভীরভাবে প্রোথিত করা যায় নি। আর্থিক খাতে কু-ঋণ, অদক্ষতা ও অকার্যকারিতা, দূর্বল ব্যবস্থাপনা প্রবহমান সমস্যা হিসেবে বিরাজ করছে। রাজস্ব খাতে কাঠামোগত সংস্কার এখনও করা যায় নি।
বাংলাদেশ অর্থনীতির ঘনীভূত অন্তরায়ের মধ্যে রয়েছে বৈষম্য ও অসমতা – নানান পরিপ্রেক্ষিতে এবং সুযোগে ও ফলাফলে। সম্পদের দিক থেকে বাংলাদেশের উচ্চতম ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠী দেশের মোট সম্পদের ৫৮ শতাংশের মালিক, যেখানে দেশের নিম্নতম অর্ধেক জনগোষ্ঠীর কাছে দেশের মোট সম্পদের মাত্র ৫ শতাংশ রয়েছে। তেমনি ভাবে, আয়ের ক্ষেত্রে, জাতীয় আয়ের ৪১ শতাংশ যায় উচ্চতম ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে, আর নিম্নতম ৫০ শতাংশ মানুষ জাতীয় আয়ের মাত্র ১৯ শতাংশ পায়। অসমতা রয়েছে শিক্ষার সুযোগে, স্বাস্থ্য সেবায়, এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও। দেশের উচ্চতম ২০ শতাংশ গৃহাস্থালীর তিন-চতুর্থাংশের আন্তর্যোগ (ইন্টারনেট) সেবায় প্রবেশাধিকার আছে, অথচ নিম্নতম ২০ শতাংশ গৃহাস্থলীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংখ্যাটি হচ্ছে মাত্র ৯ শতাংশ। সামাজিক সেবার গুণগত মানের বৈষম্য এ জাতীয় অসমতাকে আরও গভীরতর করেছে। উচ্চ মানসম্পন্ন সেবা সংরক্ষিত ধনিকশ্রেণীর জন্যে, এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে লভ্য নিম্নমানের সেবাসমূহ।
জলবায়ু বিপন্নতা বাংলাদেশ অর্থনীতির একটি ঘনীভূত সমস্যা। এর কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠী পরিবেশ-ভঙ্গুর ভূমির দিকে সরে যাচ্ছে আবাসন ও কৃষিকাজের জন্যে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন একদিকে যেমন ভূমির উর্বরতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে, তেমনি অন্যদিকে কৃষির উৎপাদনশীলতা এবং কৃষকের আয়ও হ্রাস করছে। দেশের পরিবেশ-নাজুক জেলাগুলোতে বিভিন্ন পীড়ার প্রাদুর্ভাব অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশী। এ সব অঞ্চলের মোট গৃহস্থালীর ৪৫ শতাংশই নানান পীড়ার শিকার।
বৈশ্বিক অঙ্গনে নানান ভূ-রাজনৈতিক বিষয়াবলী বাংলাদেশ অর্থনীতির জন্যে আবির্ভূমান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে এক ধরনের ‘অর্থনৈতিক জাতীয়তবাদ’, যেখানে বৃহৎ শক্তিগুলো একটি অন্তর্মুখী অর্থনৈতিক কাঠামো ও নীতিমালা অনুসরণ করছে। এর হাত ধরেই বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার বদলে একপাক্ষিক কিংবা দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা এসেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে, বিনিয়োগে এর উত্থান আমরা দেখতে পাচ্ছি। ফলে একদিকে যেমন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্থাগুলো এবং বিধিবদ্ধ নিয়মাবলী ভেঙ্গে পড়ছে, তেমনি একটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলো যে সুবিধা ও সুফল পেত, তা আর তারা পাবে না। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় নয়। দুই, গত বছরে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বাংলাদেশ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতেই থাকবে, তা সে শুল্কের যতই পরিমার্জনা করা হোক না কেন। সেই সঙ্গে অতি সম্প্রতি ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বাংলাদেশের নানান বাণিজ্য সুযোগ ব্যাহত হতে পারে। তিন, সকল বৈশ্বিক বিধিবিধানকে লঙ্ঘন করে পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক আগ্রাসন প্রক্রিয়ার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অভিঘাতও ব্যপ্ত হবে। বাংলাদেশ অর্থনীতির জন্যে এটাও এক ধরনের আবির্ভূমান সঙ্কট।
বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকার ইতিমধ্যে নানান অর্থনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ প্রবর্তন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকার ঋণ ও সুদ মাফ করে দেওয়া। কিছুদিনের মধ্যেই ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তিত হবে। এর জন্যে প্রয়োজন হবে বিপুল অর্থের। বর্তমান স্থবির অর্থনীতির জন্যে এটা একটা চাপের জন্ম দেবে। সেই সঙ্গে এ বছর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়টি বাংলাদেশ পিছিয়ে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির কথাও ভাবতে হবে। এক কথায়, বর্তমান সরকারকে বাংলাদেশ অর্থনীতির বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে, এবং সেই সঙ্গে ভবিষ্যত অন্তরায়গুলোরও মোকাবেলা করতে হবে। কাজটি কঠিন সন্দেহ নেই, কিন্তু সদিচ্ছা, অঙ্গীকার, এবং দক্ষতার সঙ্গে এগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলে এসব বাধাকে অতিক্রম করা সম্ভব।
(নিবন্ধটিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব।)

সেলিম জাহান | ঢাকা, বাংলাদেশ
অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক ও লেখক।
