১. মুদ্রার টংকার ধ্বনি
এই যে নীরধি বুকে মৌমাছির কোমল গুঞ্জন
সংগোপনে দেয় নাড়া , সকলই ব্যর্থ অভিলাষ
লালসালু ভেজা বর্ষা অহোরাত হৃদয় কাঁদায়
মল্লিকার মধুগন্ধ নিয়ে জেগে থাকে অনর্থক।
তুমি আসবে না জেনেও রাতভর বুনো বৃষ্টি ঝরে
উন্মাদের মতো রমণের রণে অবতীর্ণ হই
বুভুক্ষু যোনিতে তুলে রাখি তাপ বিগত যৌবন।
বিথোভেনের সিম্ফনি দেহময় জল-কলস্বর।
বুঝি টের পাই দূরে কোনো জলে নৌকা–ডুবি হলো
মুদ্রার টংকার ধ্বনি ধীরে ধীরে আঁধারে হারাল।
২. দুজন ভীষণ মুখোমুখি
তোমার আমার মাঝে
বেঠোফেন কি তৈরি করল সেতুবন্ধন!
প্রাচীন ধ্রুপদী আর এ যুগের চিত্তাকর্ষক সংগীতে!
কী জানি হবে হয়তো সত্যি!
আমিতো এখনো সেই সময়ের নাড়ির ভিতরে।
আছি পড়ে , কখনও বেরুতে পারব কি!
আমারও ইচ্ছে হয় মায়াকোভস্কির প্রেমের কবিতা হই
তোমার গীতিকাব্যের বিরহী ঠুমরি।
আমাকে কি তুলে নেবে তোমার সুর সঙ্গমে!
যখন ছাদ আকাশে নক্ষত্রেরা নেমে আসবে জোনাকির পালে
আমার ভিতর তুমি সুর তোলো নিজস্ব ভৈরবী।
না হয় এসব ছেড়ে ছুড়ে
চলো যাই শতাব্দীর স্বর্ণযুগে
রেমব্রান্ট বা ভার্মারের তুলিতে ফুটি
দুজন ভীষণ মুখোমুখি।
৩ জুন, ২০২৬

মাহবুবা চৌধুরী | চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
কাব্য গ্রন্থ ৬টি; উপন্যাস ১টি; গল্পগ্রন্থ ১টি; সম্পাদনা – “নীল কলম’ ম্যাগাজিন (ত্রৈমাসিক) ও শিখা হয়ে জ্বল (বাৎসরিক)
