পড়শী ম্যগাজিনের নাম শুনলেই আমার একটা গল্প মনে পড়ে যায। বহুদিন আগে লেখক উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী এই গল্পটি বলেছিলেন তারই বাসার এক আড্ডার আসরে। ঘটনাটি ছিল এরকম–
একটি বাঙালী বাবু এলাহাবাদে ডাক্তারী করতেন। বাসায় এক উড়ে কাজের লোক কাজ করতো। কাজের লোকটি সবে গ্রাম থেকে এসেছে। সে তখনও শহরের চাল চলন ভাল করে শিখে নাই। একদিন ভোরে কাজের জন্য বাইরে যেতে দেখে ডাক্তার বাবু তার তাকে বল্লেন- আসার সময় একটা সন্দেশ নিয়ে আসিস।
সেই উড়ে অনেক্ষন পর কেনা-কাটা করে বাসায় সব কিছুই নিয়ে এলো ঠিকই, তবে সেই সাথে সন্দেশও নিয়ে এলো। বাবু প্রথমে অবাক হলেন তারপর জানতে চাইলেন- এটা কি?’ উড়ে সাহসে ভর করে বল্লো- আপনি না সন্দেশ আনতে বল্লেন? অত ভোরে দোকান খোলে না বলে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ সে তার দেরী হবার কারন ব্যাখ্যা করলো।
এবার বাবু রাগে চিৎকার করে বল্লেন- আমি তোকে সন্দেশ ম্যাগাজিন আনতে বলেছি, ছানার সন্দেশ নয়!
ঠিক তদ্রুপ, পড়শী পত্রিকা নিয়ে একই রকম ঘটনা না হলেও অনেকটা তার কাছাকাছি হয়েছিল। সেই ঘটনাটি এবার খুলেই বলি-
এক ভোরে এক সাহেব তার ছোট ভাইকে বাইরে যেতে দেখে বল্লেন- পডশী নিয়ে আসিস। ছোট ভাই নিজের কাজ শেষে বাড়ীতে আসার সময় তার মনে পড়লো ভাইয়া তো পডশী আনতে বলেছিলেন! সে তৎক্ষনাৎ পাশের বাসার তার কাকা কে সাথে করে নিয়ে এলেন।
পাশের বাসার মনি মিয়াকে দেখে বড় ভাইয়ের তো চক্ষু চড়ক গাছ। বড় ভাইয়ের অগ্নিমূর্তি দেখে ছোট ভাই আমতা আমতা করতে করতে বল্লো- আপনিই তো পড়শীকে আনতে বল্লেন?
এবার বড় ভাই ঘটনাটা বুঝতে পেরে বল্লেন- আরে পাগল, এই পড়শী সেই পডশী নয়! এটা হলো ম্যগাজিন পড়শী।
এই ঘটনাগুলি বলছি যখন পডশী ম্যগাজিন (বই) আকারে প্রকাশিত হতো ১৫-২০ বছর আগে। পড়শী কাগজের নামটি মানুষের মনে বিভ্রাট ঘটাতেও পারে, তাই বলে আমি পড়শী ম্যাগাজিনের কর্তিপক্ষকে দায়ী করবোনা। উনারা মনে হয় ম্যগাজিনের নামটি পডুয়াদের এক সুতোয় বাঁধার জন্যই এই নামকরণ করেছেন।
নামের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে এবার পড়শীর প্রচ্ছদের কথায় আসি। এ কথা বিনাদ্বিধায় বলতে পারি- ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ এক কথায় “লা জবাব”। কোন সময় রং তুলিতে আঁকা, যা দেখার মত সুন্দর ও পাঠকদের কাছে টানার মত; আবার কোন সময় বাস্তব অবস্হা অনুধাবন করে ম্যাগাজিনকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য নানান বিষয় বস্তুর উপর প্রচ্ছদ করা। বেশ ভাল লাগতো এবং পডুয়াদেরকে ম্যাগাজিনটির কাছে টানতো।
এবার আসি পড়শীতে লেখা প্রসঙ্গে। এখানে যে সব লেখা কবিতা, গল্প, উপন্যাস (ছোট), ভ্রমণ কাহিনী এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্টিকেল ছাপা হয় তা মন্দ নয়। কারন পড়শী কর্তিপক্ষ বিভিন্ন স্টেটে কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন ম্যগাজিনে ছাপার যোগ্য লেখা সংগ্রহ করার। যাচাই-বাছাই করার পরে কর্তিপক্ষ সেগুলোতে আবার ভালমত চোখ বুলান।
এখন গ্রাহক সংখ্যার কথায় আসি। আগের পড়শী যেমন ধীরে ধীরে গ্রাহক বাড়ানোর চেস্টা করেছিল, ঠিক তেমনি এবার পড়শি “অন লাইনে” প্রকাশ করে সফলকাম হবার প্রাণান্ত চেষ্টা করছে। তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে সব পডুয়া গ্রাহক আছেন, তাদের কল্যাণে পড়শী দ্রতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

