(২য় পর্ব – ৩ পর্বে বিভক্ত)
বইমেলার দ্বিতীয় দিন ছিল ৫ নভেম্বর ২০২২। আরো একটি সুন্দর বিকেল। সুসজ্জিত মঞ্চে দিনের প্রথম পর্বে ছিল কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ। শুরুতেই সম্ভাষণ জানান কবি জামাল হোসেন, এরপর নিজের লেখা একাধিক কবিতা পাঠ করেন—আরবী ভাষার Poet Ms. Nujoom Alghanem, Poet Adel Khozam, কলকাতা থেকে আগত কবি সুচরিতা ব্যানার্জী, কবি তানিয়া চক্রবর্তী, কবি কাকলি ঘোষ, বাংলাদেশের কবি তারিক সুজাত ও কবি শিহাব শাহরিয়ার এবং পর্বের সভাপতিত্ব ও কবিতা পাঠ করেন কবি কামাল চৌধুরী। পর্বটি সঞ্চালনা করেন শাহাদাৎ হোসেন নিপু ও মমতাজ আইয়ুব।
পরের পর্বটি ছিল— পরস্পরের প্রত্যাশা: লেখক-প্রকাশক-পাঠক মুখোমুখি’ পর্ব। এই পর্বে বেশ কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক অংশ নেন। দিনের তৃতীয় পর্বটি ছিল আকর্ষণীয় ও জমজমাট পর্ব। কবি জামাল হোসেনের সম্ভাষণায় ‘জীবনের গল্প ও গল্পের জীবন’ শিরোনামের একক বক্তৃতা করেন তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় ও তুখোড় লেখক সাদাত হোসাইন। সাদাত তার স্বভাবজাত বিনয়ী ভঙ্গিতে নিজের জীবনের গল্প বলতে বলতে দর্শক ও শ্রোতাদের গল্পের জীবনে নিয়ে যান। সেই মাদারীপুরের জন্মভিটার কথা বলতে বলতে দেশমাতৃকা, মানুষ ও সমাজের সুন্দরের বর্ণনা করেছেন। পর্বের সভাপতি কবি শিহাব শাহরিয়ার বক্তা সাদাতের বক্তব্যের সুতা ধরে টান দিয়ে নিয়ে যান লেখক ও পাঠকের একটি স্বপ্ন সিঁড়িতে। কীভাবে জীবনের গল্প বোনা যায়, কীভাবে নন্দনতত্ত্বের চর্চা করা যায় আর বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের গল্পই বা কী হতে পারে তাতে আলো ফেলার চেষ্টা করেন। এই পর্বেও সঞ্চালনা করেন ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু। চতুর্থ পর্বে ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থের আলোচনা পর্ব। এই দিনের বিভিন্ন পর্ব শেষে শুরু হয় আবৃত্তি, গান ও নৃত্য। সবশেষে র্যাফেল ড্র ও বইমেলার সমাপানী। সঞ্চালনা করেন—মোহাম্মদ নাজমুল হক।

‘প্রবাসে সাহিত্য-চর্চা’ এই শিরোনামের আলোচনা দিয়ে শুরু হয় তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দিনের প্রথম পর্ব। কবি জামাল হোসেনের স্বাগত বক্তব্যেও পর আলোচনায় অংশ নেন— জনাব নওশের আলি, কামরুল হাসান জনি, লুতফর রহমান, ওবায়দুল হক, ড. আব্দুস সালাম, ফরহাদ হোসেন। সব আলোচকের কথার একটা সুর ছিল, তা হলো তাদেরকে প্রবাসী লেখক বলা যাবে না, তারাও বাংলা মূল ধারার লেখক এবং তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে ও মর্যাদা দিতে হবে। পর্বের সভাপতি কবি ও গবেষক শিহাব শাহরিয়ার বলেন, কাজের প্রয়োজনে একজন লেখক বিভিন্ন স্থানে অবস্থানে করতে পারে তবে একজন লেখক সবসময় সমাজ ও মানুষের ভিতরের গল্প বলতে হবে, তা কবিতায়েই হোক, কথাসাহিত্যেই হোক এবং এতে থাকবে জীবনের গভীরে যাবার চেষ্টা। পর্বের সঞ্চালনা করেন ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু।
পরের পর্বে ছিল ‘বাংলা নাটকের গতি প্রকৃতি’ বিষয়ে একটি আলোচনা। সম্ভাষণ জানান কবি ও চিত্রশিল্পী জামাল হোসেন। মুখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যকার জনাব মাসুম রেজা, আলোচক ছিলেন অধ্যাপক সুচরিতা ব্যানার্জী, অধ্যাপক বেলা দাস, অধ্যাপক বরুণ জ্যোতি চৌধুরী। আলোচকরা বাংলা নাটকের আদি, মধ্য এবং বর্তমান ইতিহাস টেনে একটি তাত্ত্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেন। সভাপতিত্ব করেন ড. ইয়াসমিন আরা লেখা। সঞ্চালনা করেন ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু।
পরের বিষয় ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘আমার দেখা নয়াচীন’ গ্রন্থের আলোচনা পর্ব। এতে আলোচক ছিলেন কবি তারিক সুজাত। তিনি জাতির পিতার ৩২ বছর বয়সে চীন সফর ও সেই অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ গ্রন্থটি খুঁটনাটি তুলে ধরে কবি তারিক সুজাত বঙ্গবন্ধুর জীবনের অনেক বিষয়েও আলোকপাত করেন। সভাপতিত্ব করেন কবি কামাল চৌধুরী। তিনি বইটি নিয়ে বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক জায়গাতে ফোকাস করে বলেন, বঙ্গবন্ধু কেবল বাঙালির ভাগ্যদাতাই নন, ছিলেন একজন স্বপ্ন পুরুষ, যার হাত ধরে বাঙালি ধীরে ধীরে স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্ত মানুষ হয়েছে। পর্বের সঞ্চালনা করেন কবি শিহাব শাহরিয়ার।
বাঙালিরা উৎসবপ্রিয় জাতি। তা পৃথিবীর যে কোনো স্থানেই থাকুক, তারা উৎসবে, মেলায় কিম্বা বাংলা সংক্রান্ত আসরে এক এক করে মিলিতি হবেই। এরই প্রমাণ পাওয়া গেল দুবাইয়ের প্রথম বাংলা বইমেলা ও বঙ্গ-সংস্কৃতি উৎসবে। তথ্য নিয়ে জানা গেল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রায় এগার লক্ষ বাংলাদেশের বাঙালিরা বসবাস করেন। এমন অনেক দেশ আছে, যে দেশের মোট জনসংখ্যাও এতা নয়। সুতরাং আশাতীত স্বপ্ন তো বটেই, এতো শত বাঙালির শহরে, যদিও একেবারেই নতুন প্রজন্মটি ঐ শহরেই জন্ম। কিন্তু মনে করি, তাদেরকেও এবং বলা যায় শুধু তাদের জন্যই বাংলা বইমেলা ও বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসব জরুরি। তো দুবাইয়ে বইমেলায় গিয়ে সেই শিহরণ পেয়েছি। প্রথম দিনেই অধিবাসী বাঙালিদের উপচে পড়া ভীড় দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। বয়স্ক, মধ্য বয়সী, বাবা-মা’র সঙ্গে শিশু-কিশোর, কিশোরীদের আগমন, খুটিয়ে খুটিয়ে বাংলা বই, বাঙালি পোশাক, বাঙালি খাবার-দাবার ইত্যাদির সাথে মন বিনিময় করা—একটা দারুণ উদারণ তৈরি হলো পৃথিবীখ্যাত দুবাইয়ে। বহু আগে প্রখ্যাত নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের লেখা বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেখা নাটকের একটি সংলাপ দর্শকের মুখে মুখে শোনা যেত—‘টাকা দাও দুবাই যাবো’। আজ সেই দুবাইয়ে এসে বাঙালিদের উড়ন্ত অভিযাত্রায় আমি সত্যি মুগ্ধ। বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করা ২৭টি প্রকাশনা সংস্থা যেমন—অন্যপ্রকাশ, জার্নিম্যান বুকস, পাঠক সমাবেশ, অনিন্দ্য প্রকাশ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন লিঃ, অন্বয় প্রকাশ, পলল প্রকাশনী, কবি প্রকাশনী, সময় প্রকাশন, চারুলিপি প্রকাশন, চন্দ্রাবতী একাডেমি, ত্রয়ী প্রকাশন, কথাপ্রকাশ, অনন্যা, জয়তী, বাতিঘর, নালন্দা, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ, হার্দিক প্রকাশ, বর্ণপ্রকাশ লিমিটেড, শব্দশৈলী, দি রয়েল পাবলিসার্স, ভাষাচিত্র, দি আরবান রিডার্স, পালক এসপি ফাতেমা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ও পরিবার পাবলিকেশন্স এবং স্থানীয় ২টি প্রকাশনা সংস্থাসহ ২৯টি বইয়ের স্টল ও খাবার-দাবার, পোশাক, হস্তশিল্প, সংস্থা প্রমোশন, সংগঠন পরিচিতিসহ মোট ৭০টি স্টল সম্বলিত দুবাই বইমেলা হয়ে উঠেছিল এক মনের মেলা। শুধু বাঙালি বলবো কেন? আরব, পাকিস্তানি, ভারতীয় ও আফ্রিকাসহ অনেক দেশের দর্শক, বইপ্রেমি মেলায় এসে পরিচিত হয়েছে, আহরণ করেছে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ঘ্রাণ। বাংলা ভাষায় উচ্চারিত আলোচনা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি না বুঝলেও, কানে শ্রবণ এবং চোখে দেখেছে সংগীত ও নৃত্যের মুর্ছণা। আলোড়িত করেছে নিশ্চয়ই কারণ মাটিগন্ধা বাঙালির গান, তা সে যে কোনো ভাষারই মানুষ হোক না কেন, তাকে টানবেই, টেনেছে নিশ্চিত। দেখেছি মধ্যরাত পর্যন্ত দর্শকশ্রোতা ঠাসা ছিল মঞ্চের সামনে। বইমেলার চরিত্র ঠিক ছিল, কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের একুশের বইমেলায় বিকিকিনির সাথে সাথে যেমন বাংলা একাডেমি গান, কবিতা, সেমিনার, আলোচনা, নাটক, নৃত্য ইত্যাদিও আয়োজন করে, এই দুবাইয়েও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এজন্য কনসাল জেনারেল বি এম জামাল হোসেনকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। তিনি যেমন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তেমনি সেখানকার ধনাঢ্য বাঙালিদের নানামাত্রিক সহযোগিতায় একটি সফল আয়োজন করে বাঙালিদের উচ্চতাকে আরো এগিয়ে নিলেন। বই কতগুলো বিক্রি হলো বা কার কতটুকু লাভ-ক্ষতি হলো সেটি বিবেচ্য নয়, বিবেচ্য হলো মরুর বালিতে বাংলা ফুটে উঠল ঝলমলে আলোয়। অনেক আরবীয় লেখক-পাঠক ও সাধারণ দর্শকরা এসেছে, তারা কনস্যুল অফিসে তিন দিনের বইমেলায় নিশ্চয়ই মিনি বাংলাদেশকে খুঁজে পেয়েছে। আমি কবি ও কূটনৈতিক জামাল হোসেনকে বলেছি, কনস্যুল প্রাঙ্গণে একটা বাংলা বুকশপ করেন, বাংলাদেশ থেকে আনা অবিক্রিত বই ও আরো অন্যান্য বই দিয়ে এই বুকশপ সাজিয়ে ফেলুন কারণ এখানে ভিসাসহ নানা কারণে প্রচুর বাঙালিরা আসে, তারা বাংলা বই দেখে যাতে বাংলাদেশের গন্ধ পায়। তিনি খুবই বিনয়ী মানুষ, এই প্রস্তাবটিও তিনি বাস্তবায়ন করবেন। কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁকে। জানি না, তিনি কতদিন থাকবেন দুবাইয়ে? তিনি চলে যাবার পর বইমেলা কি মরে যাবে? পাশাপাশি এই চিন্তাও কাজ করে কারণ পরের মানুষটি শিল্প-সাহিত্যেকে ভালবাসবেন? না শুধুই কূটনীতি করবেন? নিরাশা না আসুক আসায় বসতি গড়ি। স্বপ্নদ্রষ্টা কবি জামাল হোসেন তো আরো কিছু দিন সেখানে থাকবেন। দৌড়ের কাঠিটি তিনি নিশ্চয়ই দ্বিতীয় ব্যক্তি দিয়ে যাবেন? স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলে, আর কি কিছু থাকে? থাকে। বাঙলিরা ডুবতে ডুবতেই শাপলা ফুল ফুটায়। শেষ কথা আমার, আমাদের, যারা স্বপ্নবাজ জামাল হোসেনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ থেকে দুবাই বইমেলায় অংশগ্রহণ করেছিলাম, তাদের স্মৃতিতে, উচ্চারণ এই বইমেলা উজ্জ্বল থাকবে। আর দুবাই দেখার সাধ থাকবে চির অম্লান।
কবি, চিত্রকর ও দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল জামাল হোসেনের আমন্ত্রণে দুবাই বাংলা বইমেলায় যোগ দিতে দ্বিতীয় বারের মতো স্বস্ত্রীক উড়াল দিলাম মধ্যপ্রাচ্যের দ্বীপ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে, সেদিন ছিল ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩। ঢাকা থেকে বিমানে পাঁচ ঘন্টার পথ। খুবই স্মুথলি চলে গেলাম দুবাই বিমান বন্দরে। ইমিগ্রেশন শেষ করে কনসাল অফিস থেকে প্রেরিত গাড়িতে করে পৌঁছে গেলাম আমাদের জন্য ঠিক করে রাখােএকটি হোটেলে। এই পাঁচ তারকা হোটেলের মালিক চট্টগ্রামবাসী একজন বাঙালি। খুবই সুন্দর হোটেল রুম। আমরা একই সঙ্গে বিভিন্ন রুমে উঠলাম বাংলাদেশ থেকে আসা এবারের বইমেলার উদ্বোধক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আবৃত্তিশিল্পী আহকামউল্লাহ, কবি সজল আহমেদ, সংগীতশিল্পী তামান্না হক প্রমুখ। অনেক রাত পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা শেষে সকালে বুফে নাস্তা ৭টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত এটা জেনে ঘুমাতে গেলাম।
উল্লেখ করি, এ বছরের বইমেলাটি আগের বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের গাজার নৃশংস হত্যা যজ্ঞের কারণ আরব আমিরাত সরকার কোনো প্রকার উৎসব অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেয়, সেকারণ আয়োজক কনসাল অফিস সেটি পিছিয়ে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসকে ঘিরে ১৫, ১৬ এবং ১৭ ডিসেম্বর বইমেলা ও তিন দিনের উৎসবটি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে আমরা ১৪ ডিসেম্বর সবাই চলে এসেছি। সবার ঘুম ভাঙলো সকালেই। তৈরি হয়ে নাস্তা করতে গেলাম। ফল-মুল ও আরবীয় কিছু আইটেমসহ অনেক ধরনের খাবার। বাইরে চমৎকার রোদ ফুটে উঠেছে, আমরা তিন তলায় বসেছি, লম্বা স্বচ্ছ গ্লাস দিয়ে দেখছি সকালের দুবাই, সুন্দর অনুভূতি খেলা করছে আমাদের ভিতরে। হোটেলের এই জায়গাটির নাম রিজ্ঞা আল বুতিন। নাস্তা সেরে আমরা গেলাম বাংলাদেশ কনসাল জেনারেলের অফিস আল ওয়াহেদাতে। সেখানে আগামী তিন দিনের উৎসবের কর্মসূচি চূড়ান্ত করলাম। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া হলো। সন্ধ্যার আগে আগে ঘুরতে বের হলাম। বিশাল বিশাল সড়ক আর রোড লাইট, বিপনী, বড় বড় অট্টালিকা আমি গতবারও দেখেছি কিন্তু স্ত্রীর জন্য প্রথম, তাই দুবাই শহর দেখে সে আনন্দিত হচ্ছে। কনসাল অফিস পাঁচ দিনের জন্য অতিথিদেরকে আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি গাড়ি ভাড়া করেছে, আমাদেরকেও একটি গাড়ি দিয়েছে সার্বক্ষণিকভাবে। আমাদের গাড়িতে আমরা দুজন ছাড়াও শিল্পী তামান্না হক ও দুবাইয়ে বসবাসরত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের যুবক কবি ও সাংবাদিক মেহেদি হাসান রয়েছে। মেহেদি খুব ভাল ও বিনয়ী, সে গতবারও আমাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছে, এবারও সময় দিচ্ছে এবং সে-ই ঘুরাতে নিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে আমাদের গাড়ি থামলো মেরিনাতে। মেরিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি জেলা । এটি একটি কৃত্রিম খাল ও শহর, যা পারস্য উপসাগরের উপকূলরেখার তিন কিলোমিটার প্রসারিত করে নির্মাণ করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সমুদ্রের ঠোঁট, রাতে আলো ঝলমল আর দিনে রোদে ঝলমল মেরিনা এক নান্দনিক দৃশ্যের ভিতর জ্বলে ওঠে। এখনও নিয়ন আলোর ভেতর খেলা করছে। গাড়ি থেকে নেমেই মনটা দৌড় দিলো অপূর্ব দৃশ্যের দিকে। বহু পর্যটক। তারার মতো ফুটে উঠেছে পুরো এলাকা। যে সব মানুষ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়, তার জন্য এ এক অসাধারণ স্পট। আগের বছর এখানে আসিনি, তাই প্রথম বার আমার জন্য ভালো লাগার। বিশেষ করে আমার স্ত্রীর জন্য অনেক অনেক আনন্দ আহরণের বিষয়।
২৯ এপ্রিল, ২০২৬
চলবে…

শিহাব শাহরিয়ার | ঢাকা, বাংলাদেশ
কবি, ফোকলোর গবেষক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, কলামিস্ট, উপস্থাপক। সম্পাদনা করছেন লোকনন্দন বিষয়ক পত্রিকা ‘বৈঠা’। তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৩১টি।
