পড়শীর জন্য লিখতে ভাবনার সুনিপুন পথ খুঁজি সাগরের কাছে। প্রশান্ত বালুকায় খালি পায়ে হাটতে হাটতে বহুদুর যাবো বলে ঊর্মিকে পায়ের নুপুর করেছি ঝিনুক খূজবো বলে। সেই ঝিনুকটি যে বুকের মদ্ধে লালন করে একটি মুক্তো। সে মুক্তো মুক্তির নাকি বন্ধনের? হারিয়ে গিয়েছে। খুজছি তাকে যে ছিল স্বপন দিয়ে গাঁথা নিউরন, ঝিনুকের খোলসে খুব যত্নে নিবন্ধিত এক শহরের গল্পের বীজ।
বালুকা বেলায় জীবনের পরন্ত বেলায় অদ্য।
বলতে ইচ্ছে হল সময়ের গদ্য।
রবিবাবু বললেন বিশ্ব ভরা প্রান।
আমরা মেনে নিলাম জেনে নিলাম বুঝে নিলাম
এই প্রান নিয়েই প্রানপন করে জগত সংসারে প্রলয় চলবে
লয় ঠেকাতে।
ঊর্মি তার অবিরাম উন্মাদনা জাগায়
মুহুর্মুহু তর্জনে গভীর থেকে করে মন্থন
চাঁদ সূর্য অগ্নি বায়ু আহ্নিক গতি বার্ষিক গতি সকলি সহজ কথন
সৃষ্টির নিবেদন।
সাড়ে তিন দশক আগে দুটো বাক্স নিয়ে যখন এলাম,
শুরুটাই ছিল এখানে।
মনের মোড়কে পরতে পরতে সুখ অসুখ
উৎসুক উৎকর্ণ সিথানে ও সোপানে।
যাপিত জীবনের গল্প
গদ্য পদ্য জল্প ও কল্প।
ফুরুত ফুরুত করে তুমি উড়ে উড়ে
ঘুরে ঘুরে এসে বস বালুকায় – ওহে সীগাল
বলি তোমায় –
এ শহর এখন আমার জন্মের ঋণ নয়,
ধারন করে বহন করে প্রবাস ত্রিকাল।
বহু দল মত অগনিত ঘটন অঘটন সংগঠন
উৎসবের নগরী সে মেলায় মেলায় যখন তখন।
সংস্কৃতি অগনিত চলমান হেথা হোথা
অপরুপ লেনাদেনা পাশাপাশি পথচলা
নৃজাতি আলিঙ্গনে প্রীতিময় বিহ্বলা।
প্রীতির বালুকায় সৃতিরা উছলায় নিরন্তর
প্রশান্ত মহাসাগর ঘেরা এ নগর প্রান্তর।
যাত্রা পালা নাটক সঙ্গীত অতি-আধুনিক প্রাচ্য প্রতিচ্য
চেনা অচেনা চিরচেনা বহুজনার বহুজানা সকলি বিবেচ্য।
বহু সৈকত চার ঋতুভেদে লীলাময় নিলাময় বহুরূপী অপরুপা
আম জাম লিচু কাঁঠাল ঘরের বাগানে মাটির মায়ায় মধুময়ী স্ব-রুপা।
হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইহুদী আর আর অনামি বেনামী জাতি
বাস করে পাশাপাশি নিজ নিজ বিশ্বাসে সস্থি ও সম্প্রীতি
উৎসবে মিলনের মমতায় শান্তির গীতিই নিতি।
আমার শহর প্রানের হিল্লোলে টইটুম্বুর
সহমর্মিতার নিচ্ছিদ্র অম্বর।
রোজা এলে– মাসভর রাতভর
খাবারের পশরা সাজিয়ে আকাশের নিচে বিশাল বাজার
বৃহদাকার মলগুলোতে ইসলামের শুভেচ্ছা বানী
পোশাকে আবেদনে নিবেদনে হাজার।
উপমহাদেশী বাণিজ্য রমরমা শতেক আকার ও প্রকার।
এ শহর জানে সম্প্রীতির মানে
আনাচে কানাচে সকল স্থানে।
বৈশাখ আসে মেলা রকমের মেলার মালায়,
বিশালতা ছেড়ে ঘরের কোনে মাটির বাসন পাতে
সাজসজ্জার বহু সমারোহ পুরো মাস দিবস রাতে।
ষাট ডলার কেজি ইলিশ খেয়ে বঙ্গমানব বেজায় তৃপ্ত
দুধে ভাতে থাকে বঙ্গসুধীরা, প্রতিভা অঢেল দৃপ্ত।
গানের শিল্পী মানের ভ্রুকুটি, নিত্যই আনাগোনা
বিনোদনময় এই শহরের আনন্দ লেনাদেনা।
আজি এ প্রভাতে রবির আলোকে
দেখি বিস্ময়ে গরাদে অলখে
ঘরমুনিয়া কাকাতুয়া দোহে
শান্তির সুর তালে লয়ে দ্রোহে।
আমার শহরে সাগর পাহাড়ে
দেখি অবিরাম বিস্ময়, নীল পাহাড়ের দিগন্ত বাহারে।
বাংলা ভাষা বাঙ্গালীত্ব ছড়িয়ে আছে এই শহরে
গড়বে সরবে উন্নত শিরে
বহুবরনের মানুষের ভিড়ে।
আমি ছিলাম আমি আছি আমি থাকব
যাপিত জীবন মাতিয়ে চলবো।
সমুখের শান্তি পারাবারে
জীবন তো উৎসব –
উৎসের থেকে শেষের প্রান্তে
যেথায় অনন্ত জাগে
শহরের অন্তরে। উৎসব সেইখানে।
এস সুহৃদ এসো হে বঁধু অন্তর মদিরায়
মনের কোঠরে সৃতির মোড়কে
রইবে শহর আমিময় গভীরে অনন্ত পারে জানি।

মাহমুদা রুনু | সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
তড়িত ও কম্পিঊটার প্রকৌশলী। লেখালেখি ও আবৃত্তি। প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে সিডনি শহরে নিবাস – অর্ধেক জীবন এ শহরেই। এটাই আমার শহর।
