যুক্তির চাইতে বিশ্বাস সুন্দর

যুক্তির চাইতে বিশ্বাস সুন্দর: প্রসঙ্গ “অনন্ত”!

মাহমুদ রেজা চৌধুরী
June 14, 2026
9 views
33 mins read

অনেক দার্শনিকরাও বলেন, মানুষের মৃত্যু পরম সুন্দর এক সত্যের রুপ। মৃত্যু তাই ভয়ের কিছু না।‌ মৃত্যুর মতো স্নিগ্ধ ও শান্ত রূপ পৃথিবীতে অন্য কোন কিছুর হতে পারে না। কিন্তু মৃত্যু কেন এত সুন্দর! একটা কারণ হতে পারে, মৃত্যুর পর মানুষ অনন্তের কাছেই যায়। যেখানে তাঁর আর মৃত্যু নাই। জাগতিক কোন কোন কিছুর প্রতিও তার কোন লোভ, হিংসা, স্বার্থপরতা ও লড়াই নাই। “অনন্ত” মানে যার কোন শেষ নাই। এই মহান বিশ্বের এক সৃষ্টিকর্তার যেমন কোন শেষ নেই। তিনি অনন্ত। তাঁর অনন্তের কোন সীমা নেই। তাঁর একক সৃষ্টি এই পৃথিবীর সবকিছু। এই সবকিছুর মধ্যে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি প্রাণী, মানুষ। মানুষের এই পৃথিবীতে একটা শেষ বা মৃত্যু আছে। কিন্তু মৃত্যুর পর তার আর কোন মৃত্যু নাই। কেবল অনন্তই আছে। এই অনন্তের কাছেই মানুষ দায়বদ্ধ। এই অনন্তকে মানুষ অতিক্রম করতে পারে না। কারণ, অনন্ত তো অনন্তই; যার কোন “অন্ত” নাই, অতিক্রম করবে সে কিসের! সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের এখানেও এক বিশেষ সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। এই সৌন্দর্য বা এর নন্দন তত্ত্ব বোঝা খুব যে সহজ, তা না।

জার্মান দার্শনিক কান্টের (১৭২৪-১৮০৪) দর্শনতত্ত্বের বই “ক্রিটিক অব জাজমেন্ট” বইটা নাড়াচাড়া করতে গিয়ে মনে পড়লো এই সত্য। এই বইটাতে সুন্দরনাভূতির এবং সৌন্দর্য বিষয়ক নানান সূত্র আছে। জগৎ জীবনের সৌন্দর্যবোধ এবং শিল্প ও প্রতিভা সম্পর্কে দার্শনিক কান্ট যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, এই বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এই গ্রন্থে পাওয়া যায়। “ক্রিটিক অব পিওর রিজন” বইতে ইমানুয়েল কান্ট আলোচনা করেছেন, তাত্ত্বিক জ্ঞানের মাধ্যমে অধিবিদ্যা তথ্য “ঈশ্বর” ইচ্ছার স্বাধীনতা, আত্মার অমরত্ব প্রকৃতি” সম্পর্কে তত্ত্ব জ্ঞান, সম্ভব নয়। অন্য কথায় বলা যায়, তিনি এখানে অধিবিদ্যার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর “ক্রিটিক অব প্রাকটিকাল রিজন” গ্রন্থে ব্যবহারিক প্রজ্ঞার স্বীকৃতি সত্যরূপে অধিবিদ্যার বিষয়গুলোর অস্তিত্ব স্বীকৃত আছে। জ্ঞান বা চিন্তন এবং ইচ্ছার ক্ষেত্রে একটা পূর্বত: সিদ্ধ উপাদান আছে, ঠিক তেমনি অনুভূতির ক্ষেত্রেও পূর্বত:সিদ্ধ একটা উপাদান আছে। এই অনুভূতি হল সৌন্দর্য এবং সাবলাইমের অনুভূতি এবং প্রকৃতিতে উদ্দেশ্যের অনুভূতি। প্রাকৃতিক জগত কার্যকারণের অনিবার্যতার জগত।

কিন্তু ইচ্ছার জগত হল স্বাধীনতার জগত। কান্টের মতে, এই দুই জগতের মধ্যে একটা ঐক্যসূত্র স্থাপনের প্রয়োজন আছে। অন্য কথায় বলা যায়, তাত্ত্বিক দর্শন এবং ব্যবহারিক দর্শনের মধ্যে একটা যোগসূত্র আবিষ্কার করা দরকার। সাধারণভাবে বলতে গেলে মানুষের মনে তিনটা দিক আছে। এইগুলিকে বলা যায় মনের তিনটি মৌলিক ধর্ম। এই তিনটা দিক হলো চিন্তা, অনুভূতি, এবং ইচ্ছা। “অনুভূতি” চিন্তা এবং ইচ্ছার মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে। মানুষের জ্ঞানমূলক তিনটা ক্ষমতাও আছে। যেমন, বুদ্ধি, বিচার শক্তি এবং প্রজ্ঞা। “প্রজ্ঞা”র দ্বারা ইচ্ছাশক্তি বা নৈতিক ব্যাপার নিয়মিত হয়, “বুদ্ধি”র দ্বারা জ্ঞান লাভ হয় আর “বিচার” শক্তির সাথে অনুভূতির সম্পর্ক আছে। এই “বিচার শক্তি” বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার মধ্যে মধ্যস্থতা করে।

“অনন্ত” বিষয়েও কিছু সাধারণ কথা পাঠকের সাথে বিনিময় করার সময় উল্লেখিত কথাগুলি মনে হল যে, এর একটা কানেক্টিভিটি বা যোগসূত্রতা অবশ্যই আছে। যেকোনো দেখা বা দর্শনের পেছনের দর্শন যদি না বুঝি তাহলে সেই দর্শনকেও সম্পূর্ণ বুঝতে পারবো না। অনেক সময় অনেক মানুষকে তার বাইরের আচার-আচরণ থেকে একটা ব্যক্তিগত reading বা “নেরেটিভ” তৈরি করি। এই ব্যক্তিগত জানা এবং নেরেটিভের উপর নিজের ধারণাকে স্থির করে ভালো, মন্দ একটা দর্শন তৈরি করি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে। এই ক্ষেত্রে নিজেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির সীমাবদ্ধ কিছু চিন্তা নিয়ে বা দর্শন নিয়ে কথা বলি। কিন্তু সেই সমস্ত সীমাবদ্ধতার অনন্ত কোথায় বুঝতে চাই না।

কারণ, তখন আমার মধ্যে একটা “ইগো” বাসা বেধে আমাকে বিব্রত করে ও ভ্রান্ত করে ফেলে। সে ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, মানুষ হিসাবে আমাদের সীমাবদ্ধতা। কোন বিষয়েই আমার যেন কোন একটা চূড়ান্ত ধারণাকেই ধরে না রাখি। সক্রেটিসের একটা দর্শন আছে এইরকম, যেমন, “এটা হতে পারে আবার তা নাও হতে পারে”‘! কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই নিজে যা ভাবি সেটাই সঠিক বলে মনে করি। কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক – এর পেছনে একটা অনন্তের প্রশ্ন আছে, দর্শন আছে, ভাবনা আছে। অনেক সময় এই বিষয়টাকেও উপেক্ষা করে যাই।

কিন্তু মানুষের যাপিত জীবনের অধিকাংশ কিন্তু অনন্ত দর্শনের সাথে যুক্ত। উপেক্ষা বা অগ্রাহ্যের সাথে না। এখানে চিন্তার বিষয়, আমার অনেক ব্যাপারেই তার বিচার প্রক্রিয়ার দৃষ্টিভঙ্গিটা কিসের উপর নির্ভর করে! দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট মনে করেন, মানুষের যে কোন বিচার প্রক্রিয়ার সাথে তার নান্দনিক রুচির একটা ধারণা যুক্ত আছে। তাঁর মতে, কিছু বিচার বা অবধারণ শুধু ধারণার ভিত্তিতে হয় না, বা একটা সংক্ষিপ্ত জীবন বোধের উপর ভিত্তি করেও না। এর সাথে ব্যক্তির যুগপৎ রুচি ও ধারণার মধ্যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার সাথে ঐক্যমত্যের স্বীকৃতি থাকে। এটা সৌন্দর্যের বিভিন্ন দৃষ্টান্তের মধ্যে একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য। যেমন অনন্তের ধারণা। মানুষের সৌন্দর্য তার চিন্তার একটা রূপ বটে। এই কারণেও আধুনিক কালের নন্দনতাত্ত্বিকরা কান্টের নন্দনতত্ত্বকে Aesthetic Epistomology বলেও অভিহিত করেন। এই দার্শনিকের চিন্তায় সৌন্দর্যবোধের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের কয়েকটা দিক আছে: যেমন, ক) রুচির অতীন্দ্রিয় গুণ, খ) নিরপেক্ষ এবং নির্ভরশীল সৌন্দর্য, গ) আদর্শ সৌন্দর্যের মতবাদ, ঘ) শিল্প ও প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহ ঙ) রুচি ও প্রতিভার মধ্যে সম্পর্ক, ইত্যাদি।

উল্লেখিত বিষয়ের “দর্শন” না বুঝতে পারলে আমরা আসলে অনন্ত কি, বুঝবো না। আমরা অনেক কিছুর শুরুর ইতিহাস জানি, যেমন মানুষের শুরু জানি। এই ব্যাপারে আমাদের মধ্যে অনেকের ভিন্ন ধারণা থাকতেই পারে মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে। সৃষ্টি যদি হয় মানুষের শুরু তাহলে এর শেষ কোথায়! এর শেষ মানুষের জাগতিক মৃত্যু। যে শুরুর শেষ নাই, তা “অনন্ত”। মানুষের সেই অনন্তের প্রথম প্রবেশদ্বার তার মৃত্যু। মানুষ মৃত্যুর কাছে বন্দী বা বলতে পারি মৃত্যু মানুষের জীবনের অবধারিত সত্য। এর আরেক অর্থ মানুষ তার অস্তিত্বের অনন্তের কাছে মুক্ত, স্বাধীন এবং অনিঃশেষ। সেই অনন্তের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই।

অনেক সময় দেখি, সিংহ তার বুকের দুধ খাওয়াচ্ছে একটা ছোট্ট বকরীর বাচ্চাকে। অনেকে আমরা তার নাম দেই “প্রকৃতির খেয়াল”। যে ভেড়া সিংহের অতীব মুখরোচক খাদ্য, সেই ভেড়ার বাচ্চাকে সিংহ যখন বুকের দুধ খাওয়ায় সেই বাচ্চা তখন সিংহকেই তার মা মনে করে। যখন সে বড় হতে থাকে সে তার মাকে চিনতে পারে এবং তার আত্মীয়-স্বজন তাকে সাহায্য করে তার মাকে চিনতে। এই বাচ্চাটা শুধু শুনে শুনে এবং মহান এক সৃষ্টি কর্তা আল্লাহর অনুভূতি দিয়ে বিশ্বাস করে এটাই তার মা। এই বিশ্বাসের শুরু আছে কিন্তু অন্ত কোথায়! মানুষেরও এমনি অনেক ধারণার বস্তুগত শুরু আছে কিন্তু অন্ত নাই। অনন্ত আছে তার মৃত্যু উত্তর সূচনাতে।

আমাদের বস্তু চোখের দৃষ্টিতে সমুদ্র ও আকাশ অনন্ত। আমাদের মনের কাছে আমাদের “ভাবনা” অনন্ত। অধিকাংশ মানুষের কাছে মানুষের এক সৃষ্টিকর্তাও অনন্ত। এই সত্য গুলি শুধু সত্যই নয়, সুন্দর এবং আমাদের বস্তুগত অনেক দৃষ্টিভঙ্গির অনেক, অনেক ঊর্ধ্বে। অনেক বিজ্ঞানীদের মতে, নিউটনীয় বলবিদ্যা অত্যন্ত নি:সংশয়েই প্রকৃতির ঘটনাবলীকে ব্যাখ্যা করার মতো শক্তিমান। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব স্থান-কাল নির্ভর চতুর্মাত্রিক বিশ্বের দিকনির্দেশনা করে ১৯০৫ সালে। আপেক্ষিক তত্ত্ব নিউটনীয় বিশ্বাসকে অধিকতর যুক্তিযুক্ত কাঠামোতে উন্নীত করে। অনেক ভাববাদী গবেষক অনিয়ন্ত্রিত “হঠাৎ প্রাপ্তি” তুলে ধরে নেন, এতে বোধহয় নিউটনীয় প্রাসাদ ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায়।

স্বল্পগতিসম্পন্ন কাঠামোতে নিউটনীয় বলবিদ্যা এখনো সমুন্নত। আলোর গতিবেগের (সেকেন্ডে ৩০,০০,০০,০০০ মিটার) কাছাকাছি গতিবেগের বেলাতেই নিউটনীয় হিসাবাদি ভুল উত্তর দিতে শুরু করে। পরবর্তীকালে কোয়ান্টাম তত্ত্ব নতুনতর আরেক জগতের সন্ধান এনে দেয় বিজ্ঞান মানসে। সূক্ষ্মজগতে মাইক্রো ওয়ার্ল্ড, স্থুলজগতের সর্ববিধ নিয়ম রীতিমতো অকেজো হয়ে যায়। “সংশয়বহ সম্ভবনা” সেই জগতের সর্বময় রাজাধিরাজ। পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে মানুষের চিন্তা জগতে এমন ধারা নতুন সংযোজন করেছে, এও সত্যি।

সাম্প্রতিককালের অন্যতম বিজ্ঞানী ডক্টর মোহাম্মদ আতাউল করিম তাঁর এক লেখায় উল্লেখ করেন, “ডারউইনীয় বিবর্তনবাদ এতদিনে একটা প্রায় নিশ্চিত সত্যে উপনীত হয়েছে।“ সিমসনের ভাষায়, “বিবর্তনবাদ একটা সর্বশেষ ও সর্বাত্মক ভাবে প্রমাণিত সত্য, নিছক ধারণা বা অনুমান কিংবা বিকল্প রূপে মেনে নেয়া নয়, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কাজ চালানোর জন্য গড়ে তোলা হয়।“ বিজ্ঞানী, আর এস লালের বক্তব্য অনুযায়ী, ডারউইনের পর থেকে বিবর্তনবাদ ক্রমশ স্বীকৃত অর্জন করে এসেছে। যাইহোক, বিজ্ঞান তার একটা স্বীকৃত সত্যে পৌঁছে গেছে; কিন্তু তাই বলে তার অনুসন্ধানের কাজ শেষ হয় নাই।

তেমনি মানুষের ধর্ম বিশ্বাস তাও একটা স্বীকৃত সত্যে পৌঁছে গেছে। আধ্যাত্মিক অগ্রগতি সীমাহীন ভাবে মানুষের সামনে অবধারিত। বিজ্ঞান যেমন মানুষের একটা মৌলিক প্রয়োজন ব্যক্ত করে; ধর্মও তাই করে। সহজ কথায়, জাগতিক ঘটনাবলী এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েই বিজ্ঞান সন্নিবিষ্ট। কোথায় পরম আদি, ও কোথায় চূড়ান্ত শেষ, এই ব্যাপারে বিজ্ঞান নীরব। আইনস্টাইন বিজ্ঞান এবং ধর্মের যথার্থ যোগসূত্রের প্রতি নির্দেশ দেন। বিজ্ঞান, নিষ্ঠাবান বিজ্ঞানীর ধর্ম হতে পারে।

বৈজ্ঞানিক চিন্তার এই জগতে যিনি সকল অগ্রগতির অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, তিনিই সমগ্র বিশ্ব প্রকৃতিতে অভিব্যক্ত যুক্তি নিষ্ঠার প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় অভিভূত হয়ে পড়েন। উপলব্ধির মধ্য দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত বাসনা কামনা থেকে এক সুদূরপ্রসারী মুক্তি লাভ করেন এবং এইভাবে তিনি বিশ্বপ্রকৃতিতে মুক্ত মহিমাময় যুক্তির প্রতি বিনীত মনোভঙ্গি লাভ করেন, গভীর অতলস্পর্শিতায় যা মানুষের অগম্য। মানুষের চেতনা যে কোন জৈবিক জীবনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। সেই চেতনাই আমাদের বুঝতে, চিনতে এবং অনুধাবন করতে সাহায্য করে অনন্ত বলতে কি বুঝি। অনন্তের কাছে আমাদের সমগ্র জীবন যে বাঁধা পড়ে আছে। সেই অনন্ত আমাদের জাগতিক চোখে দেখা সুন্দরের চাইতেও অনেক বেশি সুন্দর। যেমন আমাদের যুক্তির চাইতেও বিশ্বাস অনেক বেশি সুন্দর। বিশ্বাসে ভক্তি আছে, যুক্তিতে যা কম। আর ভক্তিতেই বিরাজ করে প্রজ্ঞা।

ভক্তিকে অনেকেই আমরা একটা “ভাব দর্শন” মনে করি। যার বিজ্ঞানভিত্তি তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু যদি প্রশ্ন হয়, বিজ্ঞান কি সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আমাদেরকে দিতে পেরেছে? কিন্তু তাই বলে বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করা বা ছোট করার কিছু নাই। পবিত্র কোরআনেও মানুষকে বলা হয়েছে, তুমি আকাশের দিকে দৃষ্টি বিস্তারিত কর, কোথাও তার কোন খুত খুঁজে পাবেনা! এই কথাটিকে কি কোন বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরীতে প্রমাণ করা যাবে? নাকি বিশ্বাস ও অনুসন্ধানে ধরা যাবে? এই অনুসন্ধান অনন্ত। কারণ মানুষের বস্তু জগতের জীবিত কাল খুবই সংক্ষিপ্ত। তাই বলা, বিশ্বাস অনন্ত। কেবল চামড়ার চোখে যা দেখি, তা কিন্তু অনন্ত নয়। সীমিত।

যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করি ও করেন, তাঁদেরকেও বিজ্ঞানকে বুঝতে এবং তার সীমাবদ্ধতাকে বুঝতে কোরআন এবং বিজ্ঞানের সম্পর্কও বোঝা দরকার। তাহলেই “অনন্তকেও” বুঝতে পারব। বিশ্বাসের সাইন্টিফিক কানেক্টিভিটি বুঝতে পারব। মানুষের দেহ যন্ত্রের কলা কৌশল জানতেও যেমন সবার আগে জানতে হয় এনাটমি বা শরীর-বিজ্ঞান কি। সেই সাথে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মত উন্নত মানের পর্যবেক্ষণযন্ত্র ব্যবহার করতে হয়। শুধু তাই নয়, ফিজিওলজি, যাকে বাংলায় বলি দেহবিজ্ঞান, এর অনেক রহস্য আমাদের অজানা। সেই অজানা বিষয়গুলিও আমাদের প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে কোরআনের বিভিন্ন বর্ণনায় জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানেও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই জাগতীক বিজ্ঞানের অনেক অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে। এইসব কারণেও বলা যায় যুক্তির চাইতেও বিশ্বাস শ্রেষ্ঠ যদি সেই বিশ্বাসে প্রজ্ঞা ও এর সঠিক জ্ঞান পদ্ধতি জানা থাকে। অনন্তের বিষয়টা এই চিন্তা, জ্ঞান, ও প্রজ্ঞার বিজ্ঞান বলতে বিশেষ “জ্ঞানের” অন্তর্গত।


মাহমুদ রেজা চৌধুরী  | নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষক। সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করেন। আদি পড়শীতেও লিখতেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

নির্মাতা মানসিকতা
Previous Story

বিদ্রোহী চেতনা থেকে নির্মাতা মানসিকতা: বাংলাদেশের সামনে কি নতুন এক রূপান্তরের প্রয়োজন?

পাঠবিমুখতা
Next Story

“ওরা শুধু স্ক্রলই করে”

Latest from পড়শীর আরশি

পাঠবিমুখতা

“ওরা শুধু স্ক্রলই করে”

বইয়ের বদলে শুধুই স্ক্রলিং? স্মার্টফোনের আগ্রাসন ও তরুণদের পাঠবিমুখতা নিয়ে মিনার মনসুর-এর এক তীক্ষ্ণ ও বাস্তবমুখী বিশ্লেষণ।
নির্মাতা মানসিকতা

বিদ্রোহী চেতনা থেকে নির্মাতা মানসিকতা: বাংলাদেশের সামনে কি নতুন এক রূপান্তরের প্রয়োজন?

ড. মশিউর রহমানের প্রবন্ধে বিদ্রোহী চেতনার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক 'নির্মাতা মানসিকতা' গড়ে তোলার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে।

অনলাইন পত্রিকা “পড়শী” : প্রবাসে এক চিলতে বাংলাদেশ

অনলাইন পত্রিকা "পড়শী" এপ্রিল ২০২৬ এর সংখ্যাটি পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ... পড়শী'র অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লিখেছেন মাকসুদা মাহতাব।

পার্শিয়ানরা টিকে থাকবে

একটা সুপার পাওয়ার তার সমস্ত শক্তি নিয়ে এবং তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলির শক্তি নিয়ে যখন ছোট একটি দেশকে ... ইরানে বর্তমান মার্কিন আগ্রাসন নিয়ে লিখেছেন ড.

জাদুর বাক্সের আগ্রাসনের যুগে একটি পত্রিকার বাঁচামরা

সময় বদলে গেছে। এখন প্রায় প্রত্যেকের হাতেই একটি করে জাদুর বাক্স। সামাজিক মাধ্যমে ... পড়শী'র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে লিখেছেন মিনার মনসুর।