টেক্কা

Post Views: 10
14 min read

তখন গভীর রাত, শহরতলীর এক নির্জন, সুনসান গলিপথ বেয়ে বেশ প্রায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেটে চলেছেন এক সৌম্যদর্শন বৃদ্ধ! ভদ্রলোকের আনুমানিক বয়স মধ্য ষাটের কোটায়, পরনে চেককাটা আলগা সাদা হাফ শার্ট আর ধূসর বর্ণের টেরিকটের ঢিলে প্যান্ট… চোখে মোটা কালো ফ্রেমের হাই পাওয়ার চশমা এবং মাথার চুল ধবধবে সাদা! ভদ্রলোকের কাঁধে ঝুলছে একটি বেশ পুরোনো শান্তিনিকেতনী থলি, পায়ে কালো রঙের জুতো! রাতের শান্ত নৈঃশব্দতা ক্রমাগত ব্যাহত হচ্ছে চামড়ার জুতোর ক্রমাগত ‘মচ’ ‘মচ’ আওয়াজে। সেই শব্দে কয়েকটি নেড়ি কুকুরের কাঁচা ঘুম ভেঙে গেলো, তারা গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসে আগন্তুকের উদ্দেশ্যে তাদের মৃদু বিরক্তি প্রকাশ করলো! হাঁটতে হাঁটতে বৃদ্ধ মাঝে মধ্যেই তার কব্জিতে বাঁধা রেডিয়ামযুক্ত ইলেক্ট্রনিক হাতঘড়িটার দিকে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন… রাত তো অনেক হলো, একটা বাজতে আর মোটে মিনিট দশেক বাকি!

ভদ্রলোক এবার বুকপকেট থেকে একটি পুরনো আনস্মার্ট মোবাইল হ্যান্ডসেট বার করে চোখের সামনে তুলে ধরে দেখলেন, ব্যাটারির আয়ু শেষ তাই ফোন আপাতত জ্ঞান হারিয়েছে। বৃদ্ধ এবার হতাশভাবে ফোনটাকে আবার জামার বুকপকেটে চালান দিলেন তারপর কাঁধের ঝোলা থেকে একটা ছোট জলের বোতল বার করে কয়েক ঢোঁক জল গলায় ঢেলে নিয়ে, বোতলটাকে ঝোলার ভিতর ঢুকিয়ে নিলেন। অতঃপর আবার খুঁড়িয়ে, খুঁড়িয়ে গলিপথের মুখপানে যাত্রা শুরু করলেন।

গলিপথের পরিশেষে একটা ছোট্ট চায়ের দোকানের সামনে এসে ভদ্রলোক প্রথমে খানিক দম নিলেন তারপর এদিক ওদিক কি যেন খোঁজার চেষ্টা করলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু দেখতে না পেয়ে আনমনে একটা অস্ফুট দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। চায়ের দোকানটার ডালা বন্ধ আর ইংরেজি অক্ষর ওয়াই আকারের রাস্তাটাও এক্কেবারেই জনশূন্য। রাস্তা ভাগ হওয়ার মুখে একাকী বিষন্ন ল্যাম্পপোস্টের মৃদু হলদেটে আলোকরশ্মি রাস্তার উপর এসে পড়েছে।

ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলোয় নিজের ছায়ার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে ভদ্রলোক কিছু একটা চিন্তা করলেন তারপর আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দোকানের সামনে খদ্দেরদের জন্যে পাতা নড়বড়ে কাঠের বেঞ্চটার উপর বসে পড়লেন। কাঁধের ঝোলাটাকে বেশ সাবধানে পাশে নামিয়ে রাখলেন, তারপর ছোট জলের বোতলটা আবার বার করে কয়েক ঢোঁক জল গলায় ঢেলে নিলেন।

হঠাৎ রাত্রির নির্জনতা ভেদ করে শোনা গেলো বাইক ইঞ্জিনের সুতীব্র কটু শব্দ। একটা বাইক তীব্র গতিতে এগিয়ে আসছে… কয়েক সেকন্ডের মধ্যেই বৃদ্ধের চশমার কাঁচের উপর প্রতিফলিত হলো বাইকের হেডলাইটের জোরালো আলো। বাইকটা চায়ের দোকানের এসে ব্রেক কষলো বটে, অথচ ইঞ্জিনের শব্দ থামলো না…। নির্জন রাস্তায় ইঞ্জিনের শব্দ আর হেডলাইটের জোরালো আলোয়, ভদ্রলোকের চোখ ও কান দুটোই ধাঁধিয়ে গেলো।

তিনি লক্ষ্য করলেন বাইকের দুই আরোহীর মধ্যে একজন সিটেই বসে রইলো আর অন্যজন বাইক থেকে নেমে তার দিকে এগিয়ে আসছে… ছেলেটির বয়স আনুমানিক বাইশ থেকে পঁচিশের ভিতরে হবে, পরনে কালো রঙের টাইট গেঞ্জি, নীল জিন্স। ছেলেটির মাথার চুল ছোট ছোট করে কাটা এবং তার মাঝারি চেহারার মধ্যে একপ্রকার উগ্রতা লক্ষ্যনীয়। তীক্ষ্ণ চোখে সে প্রথমে বৃদ্ধকে একবার পুরোদস্তুর জরিফ করে নিল তারপর বৃদ্ধের উদ্দেশ্যে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ছুঁড়ে দিয়ে প্রশ্ন করলো, “কি দাদু! এতো রাত্তিরে… এখানে বসে কি করছো? তোমায় তো এলাকায় আগে কখনো দেখিনি…”!

ঘটনার আকস্মিকতায় বৃদ্ধের হতভম্বতা হয়তো পুরোপুরি কাটেনি। তাই বোধহয় তিনি কোনো উত্তর দিতে পারলেন না।

ছেলেটি আরো খানিকটা এগিয়ে এসে বৃদ্ধের সামনে দাঁড়ালো তারপর জিন্সের পকেট থেকে একটা ভাঁজ করা ছোট ধারালো ছুরি বার করে, সেটাকে বৃদ্ধের মুখের সামনে নাচাতে লাগলো… “বাজারটা আজ মন্দা যাচ্ছিলো অথচ দ্যাখো আমাদের গুড লাক, তোমায় পেয়ে গেলাম… এখন ভালোয় ভালোয়, মালকড়ি যা সঙ্গে আছে, সব এদিকে ট্রান্সফার করে দাও তো।”

বৃদ্ধ কোন উত্তর দিচ্ছেন না দেখে ছেলেটি এবার হাত পেতে আবার বললো, “কি হলো দাদু… মাল ছাড়ো বেকার সময় খাচ্ছো কেন… দাও… দাও…”।

বৃদ্ধ ভদ্রলোক এবার বিনাবাক্যব্যায়ে ধীরে ধীরে তার প্যান্টের পিছনের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা মানিব্যাগ বার করে ছেলেটির দিকে এগিয়ে দিলেন। ছেলেটি এবার ডানহাতে ধরে থাকা ছুরিটাকে নিজের বাঁহাতে চালান করে দিয়ে ডানহাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বৃদ্ধের মানিব্যাগটা হাতে নিলো। তারপর পিছনে ঘুরে, বাইকে বসে থাকা তার সঙ্গীর দিকে এগিয়ে গিয়ে মানিব্যাগটা তার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললো, “একবার চেক করে নে তো আজ কতো ইনকাম হলো…।”

কিন্তু বাইকে বসে থাকা অন্য ছেলেটির চোখমুখ তখন অদ্ভুত ভয়ার্ত, সে তখন চোখ-হাতের ইশারায় কিছু একটার প্রতি তার সঙ্গীর দৃষ্টিআকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। তার দৃষ্টি অনুসরণ করে ছেলেটি পিছনে ঘুরে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো, তাতে ভয়ে ও বিস্ময়ে তার মুখ প্রায় রক্তশূন্য হয়ে গেলো…।

আপাত নিরীহ বৃদ্ধ মানুষটি এখন বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছেন, হাই পাওয়ার চশমার কাঁচ ভেদ করে তার সুকঠিন স্থিরদৃষ্টি ছেলেদুটির উপর নিবদ্ধ… তার হাতে উঁচিয়ে ধরা উদ্যত একটি পিস্তল। মোটরবাইকের হেডলাইটের আলোয় অস্ত্রটির কালো নল যেন আরো চকচক করে উঠছে… আচমকা এমন এক ভয়াবহ পরস্থিতির সম্মুখীন হয়ে দুই ডাকাবুকো ছিনতাইকারীর তখন শোচনীয় অবস্থা… এমন অদ্ভুত বিপদের মোকাবিলা তাদের আগে কখনো করতে হয়নি… লোকটা কি তবে ছদ্মবেশী পুলিশ… গলির মুখে ওদের জন্যে ফাঁদ পেতে বসেছিলো…!

ভদ্রলোক এবার খোঁড়াতে খোঁড়াতে, দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির দিকে এগিয়ে এলেন এবং হঠাৎই সপাটে এক চড় কষিয়ে দিলেন ছেলেটির গালে… নাটকের আকস্মিক পটপরিবর্তনে ছেলেটি আগে থেকেই মানসিকভাবে কাহিল ছিলো তার উপর এই চড়ের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে, সে হাঁটু মুড়ে মাটিতে বসে পড়লো… তার হাত থেকে ছুরি আর মানিব্যাগ দুটোই রাস্তার কোনে ছিটকে পড়লো…।

ভদ্রলোক এবার খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাটিতে পড়ে থাকা ছুরিটার কাছে গেলেন। তারপর সেটাতে মারলেন এক জব্বর লাথি; লাথি খেয়ে ছুরিটা লাট খেতে খেতে রাতের অন্ধকারের অন্তরালে বিলীন হয়ে গেলো… ভদ্রলোক এবার বাইকে বসে থাকা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় আদেশ দিলেন, “বাইকের ইঞ্জিনটা থামা এক্ষুনি কানে বড্ড লাগছে… থামা বলছি !!” বাইক বসে থাকা ছিনতাইকারী চুপচাপ ভদ্রলোকের হুকুম তামিল করলো।

ভদ্রলোক এবার মাটিতে হাঁটু মুড়ে বসে থাকা ছেলেটাকে কঠিনকণ্ঠে হুকুম করলেন, “আমার মানিব্যাগটা মাটি থেকে তুলে হাতে দে।” ছেলেটি কোন কথা না বলে মানিব্যাগটা তুলে নিয়ে বৃদ্ধের হাতে তুলে দিয়ে কাতরকণ্ঠে অনুনয় করতে শুরু করে দিলো, “খুব অন্যায় হয়ে গেছে স্যার…এমন কাজ আর কখনো করবো না স্যার… দয়া করে এবারটার মতন ছেড়ে দিন স্যার… এই শেষবার… নাকখত দিচ্ছি স্যার… আর কোনদিন…।”

ছেলেটিকে মাঝপথে থামিয়ে বৃদ্ধ আবারও হুকুম দিলেন, “কান ধরে গুনে গুনে একশোবার ওঠবোস কর এখানেই… তাহলে এবারের মতন রেহাই দেওয়ার কথা ভেবে দেখতে পারি, নে শুরু কর… আর হ্যাঁ… জোরে জোরে গুনবি… স্টার্ট”। কয়েক মিনিট আগের ছোরাধারী উগ্র ছিনতাইবাজ ছোকরা এবার বাধ্য ছাত্রের মতো মাঝরাস্তায় কান ধরে ওঠবোস করতে শুরু করে দিলো…….!

বেগতিক দেখে বাইকে বসা দ্বিতীয় ছিনতাইকারী হয়তো চম্পট দেওয়ার কথা ভাবছে, এমনটা আন্দাজ করে বোধহয় ভদ্রলোক এবার হাতে ধরা পিস্তলের নল বাইক আরোহীর দিকে উঁচিয়ে ধরলেন। তারপর এগিয়ে গিয়ে সটান বাইকের পিছনের সিটে উঠে বসে পড়ে, পিস্তলের নলটা ছেলেটার কোমরে ঠেসে ধরলেনH ছেলেটা কিছুই বুঝতে পারছে না, তার জন্যে কি অপেক্ষা করছে… এমন সময় পিছন থেকে শীতলকণ্ঠে হুকুম এলো, “নে এবার বাইকের ইঞ্জিন স্টার্ট কর…।“

“কোথায় যেতে হবে স্যার?” কাঁপা কাঁপা গলায় জানতে চাইলো দ্বিতীয় ছিনতাইবাজ। “রাস্তা আমি বলে দিচ্ছি… তুই চুপচাপ বাইক চালা… কিন্তু খবরদার বেশি চালাকির চেষ্টা করলে কিন্তু… বুঝেছিস তো……?” “হ্যাঁ স্যার… বুঝে গেছি… বলুন কোথায় নিয়ে যাবো…?” বাইক যখন ওয়াই শেপড রাস্তার বাঁদিকের সরনী বেয়ে চলতে শুরু করলো প্রথম ছিনতাইকারীর ‘একশো ওঠবোস’ তখনো শেষ হয়নি… অন্ধকার রাস্তায়, তার ভয়ার্ত কাঁপা কাঁপা কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হচ্ছে “চুয়াল্লিস… পঁয়তাল্লিশ…”।

বাইক ইঞ্জিনের তীব্র শব্দ একসময় রাতের অন্ধকারে মিশে গেলো…।

সুলগ্নার কনুইয়ের মৃদু ঠ্যালা খেয়ে তথাগতর গভীর ঘুম তখন দফা রফা… “ওগো শুনছো… কলিং বেল বাজছে… উঠে একবার দেখবে…?” ঘুমজড়ানো গলায় তথাগত বললো “এতো রাতে আবার কে এলো?” ” সেটা আমি কি করে বলি?” সুলগ্নার ঝাঁঝালো উত্তর, “তুমি উঠে দ্যাখো… কই… ওঠো … যাও।”

অগত্যা তথাগতকে কাঁচুমাচু মুখে বিছানার আরাম ছাড়তে হলো… কলিং বেলটা তখনো শব্দ করে ‘ক্রিং ক্রিং ক্রিং’ বেজেই চলেছে……।

সদর দরজা খুলে তথাগত যাকে দেখতে পেলো, এমন অসময়ে তাকে দোরগোড়ায় দেখতে পাবে, এমন সে ভাবতে পারেনি…। “বাবা… তুমি… এতো রাতে… আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আগামীকাল সকালে আসবে…।” কথাগুলো বলতে বলতে দরজার পাশে সরে দাঁড়িয়ে, তার বাবা অরুণকান্তিকে বাড়ির ভিতরে ঢোকার জায়গা করে দিলো তথাগত।

“আগামীকাল এলে তো বাম্বির জন্মদিনটা মিস করে যেতাম রে… বারোটা বেজে গেছে অনেকক্ষণ … অর্থাৎ বাম্বির জন্মদিন তো শুরু হয়ে গেছে তা আমার নাতিটি কোথায়?…” বলতে বলতে অরুণকান্তি বাড়ির ভিতরে ঢুকলেন। “আপনার আদরের নাতি তো সেই কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বাবা…”। ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে অরুণকান্তির পা ছুঁয়ে প্রণাম করলো সুলগ্না, “তবে দাদু এসে গেছে জানতে পারলে এক্ষুনি উঠে লাফাতে শুরু করবে কিন্তু তুমি এতো রাতে…।”

“বলছি… বলছি… সবকথা বলছি বৌমা… আগে এক কাপ গরম কফির ব্যবস্থা করে ফ্যালো তো… নাহলে শরীরে একদম বল পাচ্ছি না… একটু আগে যা ধকল গেলো…।”

“তুমি বাবাকে নিয়ে বাম্বির রুমে যাও… আমি এক্ষুনি বাবার কফি নিয়ে আসছি…।” বলতে বলতে সুলগ্না দ্রুতপায়ে রান্নাঘরের দিকে হাঁটা দিল…। “বাবার জন্যে কফি যখন করছোই তখন আমাকেও নাহয় এক কাপ দিয়ো…।” স্ত্রীর উদ্দেশ্যে অস্ফুটে কথাগুলো ছুঁড়ে দিলো তথাগত। “বাম্বির জন্যে জন্মদিনের একটা বিশেষ উপহার এনেছি… দ্যাখ তো জিনিসটা কেমন?”

অরুণকান্তি তার কাঁধের শান্তিনিকেতনী ঝোলা থেকে কিছু একটা বার করে তথাগতর হাতে দিলেন…। তথাগত বেশ অবাক হয়ে বললো, “ওরে বাবা, এতো দেখছি একটা পিস্তল, বেশ ওজনও তো আছে দেখছি…।” “উম্ম হু… দেখতে আসলের মতন হলেও, এটা নিছকই একটা খেলনা পিস্তল… লন্ডন থেকে আমার আর্ট ডিরেক্টর বন্ধু রজার পাঠিয়েছে… আর এই জিনিসটা হচ্ছে বাম্বির এবছরের স্পেশাল বার্থডে গিফট…।” হাসতে হাসতে বললেন অরুণকান্তি।

দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী সুলগ্নার দুই বছর বয়স্ক আদরের পুত্র শ্রীমান শুভদীপ ওরফে বাম্বির বেডরুমে বসে, পুত্রবধূ সুলগ্নার বানানো গরম কালো কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে, বেশ হাল্কা মেজাজে, অনেকটা গল্পচ্ছলে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনাটার বিশদ বিবরণ দিচ্ছিলেন চাঁপাডাঙা হাই স্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অরুণকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়। অরুণকান্তির কোলের উপর বসে আদরের নাতি বাম্বি তখন দাদুর থেকে সদ্য পাওয়া উপহার ‘খেলনা পিস্তল’ নিয়ে নাড়াচাড়া করতে অতি ব্যস্ত।

দুষ্কৃতিদের চেহারার বিবরণ শুনে তথাগত বললো, “বাবা, ধারনা এরা আমাদের পাড়ার মানিকজোড় মস্তান নীলু আর বিলু। রাত বিরেতে এমন ছিনতাই-এর ঘটনা আমাদের পাড়ায় আকছার ঘটতে থাকে। আমি কালই দুর্গাপুর থানায় ওদের নামে এফ আই আর করে দিচ্ছি”। ছেলের কথা শুনে হেসে উঠলেন অরুনকান্তি, “সে কালকের কথা কালকেই নাহয় ভাবা যাবে! নতুন কেনা জুতোর দরুন গোড়ালিতে ফস্কা পড়ে যা হয়রানি হলো… সারাটা রাস্তা খুঁড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক্কেবারে বেহাল হয়ে পড়েছিলাম। মাঝরাস্তায় বাস খারাপ হলো তাই দেরি করে নামলাম… রাস্তায় দুটো রিক্সা স্ট্যান্ড পড়লো… কিন্তু এতো রাতে একটাও রিক্সা খুঁজে পেলাম না… হতচ্ছাড়া ফোনটাও বন্ধ হয়ে গেলো… তাই তোদের খবর দেবার সব রাস্তাও বন্ধ ছিলো… ভাগ্যিস ওই নীলু-বিলু অমন কাণ্ডটা ঘটালো… তাই তো বাছাধনদের টেক্কা দিয়ে দাদুভাই এর জন্মদিনের এই বিশেষ উপহারটা আজ রাতেই ওর হাতে তুলে দিতে পারলাম…।”

“দাদু… ও দাদু… বলো না এটা দিয়ে সত্যিকারের গুলি ছোড়া যায়?” পিস্তলটাকে গভীরভাবে পরীক্ষা করতে করতে দাদুর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো নাতি আর বাম্বির এমন গম্ভীর প্রশ্নে তথাগত, সুলগ্না ও স্বয়ং অরুণকান্তি ‘হো-হো’ করে হেসে উঠলেন।

২৪ জুলাই, ২০২৬

দক্ষিণ কলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

চলচ্চিত্র কাহিনীকার। স্ক্রিন রাইটার। শেষ অঙ্ক, মন্দবাসার গল্প, অংশুমান MBA, নির্বাণধামে জোড়া খুন, বাসস্টপ, সরলাক্ষ হোমস।


Previous
Next

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছে বিশ্ববাঙালির প্রিয় পত্রিকা ‘পড়শী’।
নব উদ্যমের এই যাত্রায় আপনার মতো গুণী মানুষের সৃজনশীল লেখা ও সাহচর্য আমাদের কাম্য।

প্রকাশিত সকল লেখা ও মতামতের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের,
এর জন্য ‘পড়শী’ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।